৯ই ফেব্রুয়ারি, ১৮ টা মাস পেরোলো।
৯ই আগষ্ট কর্মক্ষেত্রে কর্মরতা অবস্থায় নারকীয়ভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারানো মেয়ের জন্মদিন আজ। আমরা যারা আজও মাটি আঁকড়ে পড়ে আছি রাস্তায়, দাবি জানাচ্ছি ন্যায়বিচারের, We Demand Justice চিৎকারে এই বধির ব্যবস্থার মমর্ভেদ করতে চাইছি, প্রথম দিন থেকেই আমরা অঙ্গীকার নিয়েছি সব রাগ হতাশা ক্ষোভ কে প্রতিবাদের ভাষায় পরিণত করার। কলকাতা পুলিশ বা সিবিআই এর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। কিন্তু শেষ ভরসা হিসেবে যে বিচারব্যবস্থায় আমরা আস্থা রেখে চলেছি, তার চলনেও কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষেরা স্বস্তি পাচ্ছি না খুব একটা।
সুপ্রিম কোর্ট থেকে স্থানান্তরিত হয়ে এখন এই মামলা কলকাতা হাইকোর্টের বিচারাধীন। শিয়ালদা ট্রায়াল কোর্টে এখনও সিবিআই কোনো সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করতে পারে নি। অন্যদিকে কলকাতা হাইকোর্টে সিবিআই এর তদন্তে অসন্তুষ্ট অভয়ার বাবা – মা তদন্তের বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন। সবরকম ভাবে সেই লড়াই এর পাশে আছি আমরা প্রথম থেকেই। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হল
গত নভেম্বর থেকে ৩৫ বার হাইকোর্টে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরেও একবারও শুনানি হয়ে ওঠেনি অভয়া মামলার। এই অযৌক্তিক বিলম্ব ও দীর্ঘসূত্রিতার প্রতিবাদে আজ ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের জমায়েত, ধর্মতলায় ডোরিনা ক্রসিং এ।
*সেই জমায়েত থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ৩০০ জন এরও বেশি মহিলা জুনিয়র ডাক্তারদের সই সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেওয়া হল কলকাতা হাইকোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছে।*
অভয়া বিচার না পেলে যে এরকম ঘটনা ঘটতেই থাকবে এবং তার শিকার কাল অন্য কেউ হবে এবং অপরাধীরা আরও সাহস পাবে- এই বাস্তবতা টুকু মনে রাখলেই বোধ হয় এই দীর্ঘসূত্রিতা এড়ানো যেতে পারে। আজ এই কর্মসূচিতে যেভাবে জুনিয়র ডাক্তার, মেডিকেল পড়ুয়া, স্বাস্থ্যকর্মী সহ সাধারণ মানুষেরা পা মেলালেন, রাজপথ মুখরিত হলো সকলের দৃপ্ত স্লোগানে তাতে এটুকু স্পষ্ট যে এত গুলো মাস কেটে গেলেও অভয়ার ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা সাধারণ মানুষের বুকের ভিতর জ্বলছে অহর্নিশ।
আইনি লড়াই যেমন চলবে, রাজপথের লড়াইও চলতে থাকবে। যাতে শতসহস্র মানুষের ক্ষোভ গর্জন হয়ে পৌঁছে যায় সরকারের কাছে, তদন্তকারী সংস্থাগুলোর যাচ্ছে আর সর্বোপরি এই বিচারব্যবস্থার কাছে, যাতে ন্যায়বিচার দেওয়ার দায়িত্বে যে প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেন। এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের আস্থার ভিত্তি যাতে এতটা ভঙ্গুর না হয়ে যায় যে সেটা এই গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে হবে বিচারব্যবস্থাকেই।











