যাই বলুন না কেন,ডাক্তার ও সিস্টার এক নিঃশ্বাসে উচ্চারিত হলেও মর্যাদার আসন দুজনের সমান করে দেয় নি আমাদের অবিবেচক সমাজ। আমরা বেশি জানি ওদের চেয়ে এই মনোভাব প্রায় সব ডাক্তারের মধ্যে কাজ করে। আমার সব ডাক্তার বন্ধু বান্ধবীদের কাছে একটাই অনুরোধ যে এই মনোভাব ঝেড়ে ফেলুন। আমার আপনার হাসপাতালের ইনফেকশন কন্ট্রোল নার্স কিন্তু ওই হাত ধোয়া বা পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট পরা খোলার বিষয়টা সহ বহু কিছু আমার আপনার চেয়ে বেশি ভালো জানেন। এটা আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, ওয়েল ডকুমেন্টেড ফ্যাক্ট। তাই সেই আইসিএন যদি কোনো কিছু শেখাতে আসেন তাহলে নিজের ইগো সরিয়ে রেখে শিখে নিন। সেই বিদ্যে আপনাকে বাঁচাবে। আর ডাক্তার যদি তার কথা মন দিয়ে শোনে সেই দেখে গ্রূপ ডি কর্মচারীও মন দিয়ে ওই আইসিএন দিদির কথা শুনবে।
পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যদপ্তর তো বটে, কোনো দপ্তরেই এই নার্সিং স্টাফদের চেয়ে বেশি ডিসিপ্লিন্ড ডেডিকেটেড ক্যাডার আমি গোটা চাকরি জীবনে দেখিনি। হাসপাতালে রুগী তো বটেই, আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদেরও ক’জনের প্রাণ বাঁচবে বা বাঁচবে না তার অনেকটাই নির্ভর করবে আমরা সেই ডিসিপ্লিন ডেডিকেশনকে কতটা দাম দিলাম, মর্যাদা দিলাম।
চীনের উহানের এক হাসপাতালে নিজের চুল থেকে ইনফেকশন ছড়াতে পারে বলে নিজেকে, সহকর্মীকে বাঁচাতে একদল সিস্টার মাথার চুল কামিয়ে নেড়া হয়েছিলেন কোভিড মহামারির সময়। ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল এর এই উত্তরাধিকার বহনকারীদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা স্যালুট।
হ্যাপি নার্সেস ডে।










