আর জি করের সেই অভিশপ্ত রাত আজও বাংলার মানুষের স্মৃতিতে রক্তক্ষরণের মতো জীবন্ত। সময় কেটে যায়, কিন্তু কিছু ক্ষত সময়ও মুছতে পারে না। আমরা ভুলিনি। আমরা ভুলব না।
বিচারের নামে দীর্ঘ টালবাহানা, তদন্তের অসংখ্য অসংগতি আর বারবার সত্যিকে আড়াল করার চেষ্টার মাঝেও আজকের দিনটা আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
আর জি কর এর ঘটনার তিন কুচক্রী আই পি এস, বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখার্জি এবং অভিষেক গুপ্তর সাসপেনশন কোনো সাধারণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়। এটা রাজপথে দিনের পর দিন লড়াই করা হাজার হাজার মানুষের চাপের ফল, এটা প্রতিবাদের শক্তি যাকে সরকার মান্যতা দিল।
প্রথম দিন থেকেই আমরা বলেছিলাম, অভয়ার হত্যা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে অনেক গুলো স্তরে, তথ্যপ্রমাণ লোপাট, তদন্তের গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়া এবং জনমানসে বিভ্রান্তি তৈরি করার যে অভিযোগগুলো আমরা বারবার করেছিলাম আজ প্রমাণ হল সেগুলো কোনো কল্পনা / রটনা ছিল না।
প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, যিনি ১৪ই আগস্টের নক্কারজনক ভাঙচুরের পর শান্ত গলায় প্রেস কনফারেন্স করে বলেছিলেন, “গুজবের কারণেই এই ভাঙচুর, এটার জন্যে মিডিয়া দায়ী”। লালবাজারে নিজের পদত্যাগপত্র নেওয়ার আগে সারারাত রাস্তায় ব্যারিকেডের সামনে বসিয়ে রাখেন জুনিয়র ডাক্তার ও আন্দোলনরত জনতাকে। অবশ্য পদত্যাগ এর নামে তাকে প্রাক্তন পুলিশমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য এস টি এফ এর প্রধান করে দেন, যাতে তার স্নেহছায়া থেকে বঞ্চিত না হতে হয়।
প্রাক্তন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখার্জি, যিনি অভিক দে-কে “ফিঙ্গারপ্রিন্ট এক্সপার্ট” বলে প্রেস কনফারেন্স করে সমস্ত ষড়যন্ত্রকে প্রকাশ্যে আড়াল করার চেষ্টা করেন। অনশন মঞ্চে জল, বায়ো টয়লেটের ন্যূনতম মানবিক ব্যবস্থাও পৌঁছতে না দেওয়ার পিছনে তার ভূমিকা কী ছিল তাও মানুষ ভোলেনি।
আর তৎকালীন ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্ত, যাঁর বিরুদ্ধে শোকস্তব্ধ পরিবারের কাছে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। যে ঘটনা থেকে মানুষের মনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গভীর সন্দেহ গাঢ় হয়।
কিন্তু এটুকুতে লড়াই শেষ নয়। এই সাসপেনশন হিমশৈলের চূড়ামাত্র। যারা সত্যিকে চাপা দিতে চেয়েছে, যারা অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছে, তাদের প্রত্যেকের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা শুধু বিভাগীয় ব্যবস্থা নয়, উপযুক্ত আইনি শাস্তি চাই। প্রতিটি আন্দোলনকারী মানুষের সত্য জানার অধিকার আছে। এবং সেই সত্য যত দ্রুত সম্ভব সকলের সামনে সম্পূর্ণভাবে উন্মোচিত হোক, সেটাই আজ বাংলার মানুষের দাবি।
নবগঠিত সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। এই পদক্ষেপ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের আন্দোলনকারী মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির এক নৈতিক জয়।
সাসপেনশন দিয়ে শুরু। যেন এখানে শেষ না হয়। সত্যের শেষ দরজায় পৌঁছানো পর্যন্ত লড়াই চলবে।











