(এক)
সময়ের সঙ্গেসঙ্গে মানুষ কী সভ্য হচ্ছে? নাকি অসভ্যতা বাড়ছে? কোনদিকে চলছে ‘সভ্যতা’? এটাই বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুশ্চিন্তার বিষয়।
আগে ‘বহিরাগত’ আর ‘অনুপ্রবেশকারী’ শব্দদুটো কখনও শোনাই যেতো না। এখন রাজনীতির যাঁতাকলে পড়ে যখনতখন এই শব্দদুটো শোনা যাচ্ছে! এক দেশ থেকে অন্য দেশে, এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে, এক জেলা থেকে অন্য জেলায়, এক থানা থেকে অন্য থানায়, কিংবা হয়তো এক পাড়া থেকে অন্য পাড়ায় কেউ গেলেও রাজনৈতিক মাতব্বররা নিজেদের ইচ্ছেখুশি মতো যাকে-তাকে বলে বসেন হয় ‘অনুপ্রবেশকারী’ অথবা ‘বহিরাগত’! কোথা থেকে মানুষের স্বাভাবিক গতিবিধির উপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি হলো? কে জারি করলো? মানুষ চাইলে, জাপানে রাত কাটানোর পরে ভারতবর্ষে এসে প্রাতঃরাশ সেরে, দুপুরে ব্রিটেনে মধ্যাহ্নভোজ করে রাতের খাবার ওয়াশিংটনে গিয়ে খেতেই পারেন। তাঁর এইরকম অবাধ চলাচলে কোনও প্রাকৃতিক বাধা নেই। যে হাজারো নিয়মকানুনের বাধা তাঁকে ডিঙোতে হবে অথবা যে বাধা তাঁকে ঘর ছেড়ে বেরোতেই দেবে না, তা তথাকথিত ‘সভ্য’ মানুষের তৈরি। পৃথিবীটা প্রত্যেক মানুষের জন্য। সকলের সবসময়ে সবজায়গায় যাতায়াতের অধিকার তাঁর প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক অধিকার।
বিশ্বমানবতার শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির, / জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর / আপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরী / বসুধারে রাখে নাই খণ্ড ক্ষুদ্র করি’ – এমন ভারতবর্ষ তথা পৃথিবীই চাই। রবীন্দ্রনাথের অভূতপূর্ব সৃষ্টি বিশ্বভারতী এই আদর্শ মেনেই চলতো। বিশাল উন্মুক্ত প্রান্তরের মাঝে এখানে ওখানে বিভিন্ন বিভাগগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতো। কোনও পাঁচিল, ফেন্সিং, বেড়া কিছুই ছিলো না। সকলের মধ্যে বাধাহীন যাতায়াতের ও যোগাযোগের মুক্তাঙ্গন। এটাই ষাটের দশকের শুরুতে শান্তিনিকেতনে আমার দেখা বিশ্বভারতী। পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথের বিশ্বভারতী ‘আধুনিক’ হয়েছে! বেড়া, লোহার ফেন্সিং, পাঁচিল, এইসবের ঘেরাটোপ তৈরি হয়েছে। এমনকি, বর্তমান শতাব্দীর শুরুতে পুরো বিশ্বভারতীকেই পাঁচিল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে! বিভিন্ন জায়গায় বসেছে ‘সিকিউরিটি গার্ড’। ঢুকতে গেলেই ‘পারমিশন’ লাগে! বহির্জগতের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতার এক লজ্জাজনক উদাহরণ। রবীন্দ্রচেতনার উপর অসভ্যতার নির্লজ্জ দাপট। রবীন্দ্র-বিরোধী চিন্তাভাবনার মূল উৎস এই কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ। তার কোনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত মানুষের পিঠেও অনিবার্যভাবে সেঁটে দেওয়া হয় ‘বহিরাগত’ তকমা! একবার না, বারবার।
এই ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব অনেক রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদেরও বেশ পছন্দের। মুক্ত ও খোলামেলা পৃথিবী ক্রমশই রাজা-বাদশা প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী ইত্যাদির কবলে পড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। সবজায়গাতেই জারি হয়েছে সুকুমার রায়ের ‘একুশে আইন’! ‘কেউ যদি যায় পিছলে প’ড়ে, / প্যায়দা এসে পাকড়ে ধরে, / কাজির কাছে হয় বিচার – / একুশ টাকা দণ্ড তার।’ প্যায়দারাই সবকিছুর রক্ষাকর্তা। বিএসএফ (ভারত), বিজিবি (বাংলাদেশ), পিআর (পাকিস্তান), পিএলএ (চীন), এফএসবি (রাশিয়া), বিএফ (ব্রিটেন), ইউএসবিপি (মার্কিন)… নানা দেশে নানা নাম, নানা পোষাক। কিন্তু সকলেরই মূল কাজ একই– বাইরের পৃথিবী থেকে নিজের ‘দেশ’কে রক্ষা করা। অর্থাৎ অখণ্ড বিশ্বকে আরও খণ্ডখণ্ড করে রাখা। কেউ যেনো চট করে ঢুকতে বা বেরোতে না পারে।
এরই নাম নাকি ‘সভ্যতা’!
(দুই)
সারা পৃথিবী জুড়ে প্রযুক্তির অকল্পনীয় অগ্রগতি ঘটে চলেছে। ‘সভ্যতা এগিয়ে চলেছে’! কোটিকোটি মানুষের পকেটে রয়েছে আস্ত একেকটা কম্পিউটার, অর্থাৎ স্মার্টফোন। মহাকাশের চাঁদ-মঙ্গল সবই আজ মানুষের হাতের মুঠোয়। রোবটের যাকিছু আশ্চর্যজনক কাজকর্ম, তা আগে ভাবাই যেতো না। এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) মানুষের জ্ঞানভাণ্ডারকে অকল্পনীয়ভাবে বাড়িয়ে চলেছে। ‘জানি না’ – একথা আর বলার সুযোগই থাকছে না; ‘জানতে চাই’ কিনা, সেটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে মূল কথা।
কিন্তু মানবসমাজে যাকিছু আজও মূল অভিশাপ, দারিদ্র্য অপুষ্টি বস্ত্রহীনতা গৃহহীনতা নিরক্ষরতা কর্মহীনতা ইত্যাদি, তা বেড়েই চলেছে! প্রযুক্তি সেব্যাপারে একেবারেই খোঁড়া! ‘আজাদি কা অমৃত্ মহোৎসব’ পালন করা ভারতবর্ষে লক্ষলক্ষ মানুষ আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন! ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর মাটিতে মানুষে-মানুষে সন্দেহ অবিশ্বাস ঘৃণা সংঘাত হত্যাকাণ্ড ক্রমেই বেড়ে উঠছে! ‘প্রযুক্তি’ কাজে লাগছে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের স্বার্থে – তাদের সম্পদ ও ক্ষমতা বৃদ্ধির কাজে! নানা দেশের রাষ্ট্রপ্রভুদের মর্জিমাফিক যুদ্ধ-ধ্বংস-লুঠ-হত্যার কাজে! বিশ্বের কয়েকশো কোটি শ্রমজীবী মানুষের কাছে ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’র কোনও অস্তিত্বই নেই। সেসব তাঁদের কাছে ‘না হোমে, না যজ্ঞে’। এ কেমন ‘সভ্যতা’? কাদের সভ্যতা?
তাছাড়া, প্রতিটি উন্নত দেশের ভাঁড়ারে লক্ষলক্ষ কোটিকোটি টাকা খরচে বিপুল পরিমাণে মারণাস্ত্র জমা করা হয়েছে। ‘সভ্য’ দেশের শাসকরা একটি ক্ষুধার্ত শিশুর মুখে দুধ বা খাবার পৌঁছে দিতে পারেন না। কিন্তু শতশত ক্ষেপনাস্ত্র তৈরি করতে পারেন! যা দিয়ে শতসহস্র শিশু-নারী-বৃদ্ধকে তাঁরা হত্যা করেন! বাসগৃহ ইস্কুল হাসপাতাল উপাসনালয় গবেষণাগার কারখানা কৃষিজমি, বন্দর… ইচ্ছেমতো সবকিছুই ধ্বংস করেন! যুগযুগ ধরে সমাজে ইঁট-কাঠ-পাথর-সিমেন্ট-কাচের যাকিছু গড়ে উঠেছে, মুহূর্ত মধ্যে তা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়! আস্ত একটা শহর আর তার লক্ষলক্ষ বাসিন্দা মুহূর্তে শেষ হয়ে যায়! এমনই ‘সভ্যতার জয়যাত্রা’! সবকিছু সৃষ্টি করে মানুষের শ্রম, আর তা নিমেষেই ধ্বংস করে দেয় প্রযুক্তি গবেষকের মেধা!
একে বলা হবে ‘সভ্যতা’? অসভ্যতা তাহলে কাকে বলা হবে!
(তিন)
মানুষ বেঁচে থাকার পথে যাকিছু কষ্ট, তা ক্রমশ কমে আসবে। তাঁর মনোজগতে অবাঞ্ছিত লোভ লালসা হিংসা ইত্যাদি যাকিছু বহমান রয়েছে, তা ক্রমশ দূর হতে থাকবে। সংস্কৃতিগত ভাবে সে যাকিছুই উপভোগ করতে চাইবে, তা করার পথে কোনও বাধা থাকবে না। যেসব মানবিক গুণাবলীকে সে শ্রদ্ধা করে, সমাজে তা ক্রমশই ছড়িয়ে পড়বে – বেড়ে উঠবে।
এরকম সমাজকেই ‘সভ্য’ বলা যাবে।
কিন্তু আমরা কী দেখছি? যাকিছু অবাঞ্ছিত তা-ই বেড়ে উঠছে! চারিদিকে, সারা পৃথিবী জুড়েই। এবং সরাসরি তা বাড়িয়ে তুলছে যাঁরা সমাজের মোড়ল-মাতব্বর-’সরকার’, তাঁরাই। বিশ্বজোড়া কোটিকোটি সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষ এইসব সামাজিক অধঃপতনের নেহাতই অসহায় দর্শক মাত্র। শতশত কোটি মানুষ একেবারেই ‘উলুখাগড়া’, তাঁদের শুধু প্রাণ-ই যায়! মাঝেমধ্যেই কিছু প্রতিবাদ তাঁরা জানায়; সভা-মিছিল করে; নিজেদের পবিত্র ক্রোধ উগড়ে দেয়। কিন্তু এইসব সভ্যতা-বিরোধী ঘটনাবলীকে তা বিন্দুমাত্র প্রভাবিত করতে পারে না। গত কয়েকবছর ধরে আমরা পৃথিবীজুড়ে নানা ‘সভ্য’ দেশের বর্বরতা দেখেই চলেছি! রুশ-ইউক্রেন, ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন, মার্কিন-ইরান … শতসহস্র মানুষের লাশ রক্ত আর ধ্বংসের তাণ্ডবলীলা চলছে। বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার মানুষ তার প্রতিবাদ করছেন। আর প্রতিটি যুদ্ধবাজ আগ্রাসী দেশই বোঝাতে চাইছে, ‘মানবসভ্যতা’ রক্ষার জন্যই নাকি তাদের পক্ষ থেকে এই চরম অসভ্যতার আয়োজন! এখনও পর্যন্ত এই যুদ্ধগুলোর জন্য যে অকল্পনীয় অর্থ খরচ করা হয়েছে, তা-দিয়ে পৃথিবীর বুক থেকে মানুষের খাদ্যাভাব আর শিশুমৃত্যুর ভয়াবহ চিত্র হয়তো সম্পূর্ণ মুছে ফেলা যেতো!
অতো দূরে না গিয়ে, আমাদের কান ঝালাপালা করা ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্ওয়াস’ নীতির দিকে একটু তাকালেই বোঝা যেতে পারে, কেমন এই সভ্যতাপূর্ণ ‘বাণী’-র কাজ চলছে। একটা উদাহরণ –
গত ৭ এপ্রিল ২০২৬, ওড়িশার রায়গড়া জেলার কান্তামল গ্রামে ভোররাতে পুলিশ ঢোকে। ইলেকট্রিক লাইন কেটে দেয়। আদিবাসীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাণ্ডব চালায়। ভাঙচুর শুরু করে। কী দোষ আদিবাসীদের? তাঁরা তাঁদের দীর্ঘকালের বাসভূমি জমি-জল-জঙ্গল-খনিজ রক্ষা করতে চাইছিলো। প্রথমে আরজেডি ও পরে বিজেপি সরকার, পুরো অঞ্চলটাই তুলে দিতে চাইছে লুঠেরা কোম্পানির হাতে। যে কোম্পানি ব্যাপক পরিবেশ দূষণ, অবৈধ খনিজ লুন্ঠন, আর আর্থিক বেনিয়মের দায়ে ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত। রায়গড়া ও কালাহাণ্ডি অঞ্চলে সিজিমালি পাহাড়ের ১৫৪৯ হেক্টরের বেশি জমি ৫০ বছরের জন্য এই লুঠেরা ‘মেসার্স বেদান্ত লিমিটেড কোম্পানি’র হাতে লিজে তুলে দিয়েছে সরকার। বক্সাইট খননের জন্য। গোয়ায় অবৈধ খনিজ চুরি, ওড়িশায় বেআইনি ছাই ফেলা ইত্যাদি অভিযোগ ইতিমধ্যেই রয়েছে এদের বিরুদ্ধে। ৭১.১৬ কোটি টাকা জরিমানাও হয়েছে এদের। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কর্পোরেট জালিয়াতি আর অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। কালাহাণ্ডি জেলার ৮টি আর রায়গড়া জেলার ১০টি গ্রাম এই অঞ্চলের মধ্যে পড়ে, যেখানে আদিবাসী ও দলিত সম্প্রদায়ের বাস। তাঁরা নিজেদের বাসভূমি থেকে উৎখাত হয়ে, অন্ধকারে হারিয়ে যেতে চান না। তাই এঁরা স্বাভাবিক ও মানবিক প্রতিবাদ করেছেন। ‘সভ্য’ পুলিশ গুলি চালিয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৭০ জন।
‘সবকা বিনাশ’ যেসব সরকারপক্ষের কর্মসূচি, তাঁরা থামবেন কেনো! ‘সভ্যতা’ মানেই তো দাঁড়িয়েছে এইরকম জনবিরোধী অসভ্যতা! তা হোক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অথবা ইজরায়েল বা রাশিয়া কিম্বা ভারতবর্ষ, – জনবিরোধী অসভ্যতার পথকেই সকলে বেছে নিয়েছেন ‘সভ্যতা’ রক্ষা করার জন্যে!
(চার)
সমাজে রাজনৈতিক মাতব্বরদের কীরকম ‘সভ্য’ মানসিকতা? তা খানিকটা বোঝা যেতে পারে প্রধান প্রধান প্রধান মাতব্বরদের আচার-ব্যবহার কথা-বার্তা থেকে। আমাদের ছোটবেলায় কমিউনিস্ট ও কংগ্রেস নেতা-নেত্রীদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখেছি। পরবর্তীকালে দলগত সংঘর্ষ আর খুনোখুনিও কম দেখিনি। কিন্তু রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কহীন, একেবারেই ব্যক্তিগত স্তরে এমন নীচু মানের কথাবার্তা ও গালাগালি নেতা-নেত্রীরা চালাচালি করতে পারেন, তা ভাবাই যেতো না! মোড়লদের এইরকম রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা অনেকটাই সমাজে মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের প্রমাণ। তা নাহলে, মাতব্বররা সহস পায় কী করে এতো কুৎসিত আচরণ করতে; সাধারণ মানুষও ক্রোধে ফেটে পড়েন না কেনো সঙ্গেসঙ্গে?
বাংলায় তথা ভারতবর্ষে সব সরকারই ‘সংসদীয় গণতান্ত্রিক পথে নির্বাচিত’। কেউই অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন নি। কিন্তু আমরা, নিদেনপক্ষে পশ্চিমবাংলায়, এই ‘নির্বাচিত’ সরকারগুলির কী চরিত্র দেখছি? কথায় বলে, ‘ভাত দেবার মুরোদ নেই কিল মারার গোঁসাই’। গত ৭৪ বছরে কোনও নির্বাচিত সরকারই সাধারণ মানুষের খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থানের মূল সমস্যা দূর করতে পারেনি। সকলের শিক্ষা-স্বাস্থ্য-চিকিৎসার ব্যবস্থাও করতে পারেনি। কিন্তু নিরুপায় মানুষ প্রতিবাদ-প্রতিরোধের রাস্তায় হাঁটলেই তাঁদের পিটিয়ে ঠাণ্ডা করেছে। এব্যাপারে কংগ্রেস ’বামপন্থী’ তৃণমূল কংগ্রেস, সকলেই নিজেদের ‘গোঁসাই সরকার’ প্রমাণ করেছেন। বর্তমানের বিজেপি সরকারও একই রাস্তায় হাঁটতে শুরু করেছেন! মুখ্যমন্ত্রীর উগ্র-ইসলামবিরোধী কথাবার্তা আর কাজকর্মে সেই সম্ভাবনাই জোরদার হয়ে উঠছে। ‘সনাতনী / হিন্দু’ সমাজের জন্য কোন মধুমাখা ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে, তা সময়-ই বলবে।
প্রকৃত সভ্য কোনও সরকার কখনোই ধর্ষকদের রক্ষা এবং ধর্ষিতাদের অপমান করতে পারে না; জালিয়াতদের রক্ষা এবং সর্বশান্ত মানুষকে প্রতারিত করতে পারে না। ‘আইন’-এর দোহাই দিয়ে, কোনও সভ্য সরকার অসহায়-অপ্রস্তুত মানুষের উপর চরম আঘাত হানতে পারে না। নারী শিশু বৃদ্ধদের বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়ে, একমুহুর্তে তাদের রাস্তায় বের করে দিতে পারে না। বেশিরভাগ ভিন্ন ধর্মের মানুষ বাস করেন বলে সেই এলাকায় সরকারি কাজ হবে না, এটা সর্বোচ্চ পদের কোনও প্রশাসনিক কর্তা বলতে পারেন না। এটা চরম অসভ্যতার নজির। সরকার ‘নির্বাচিত’ নাকি ‘মনোনীত’, এসব কেতাবি তর্কের বিষয় এটা না। সরকার মানবিক নাকি অমানবিক, এটাই মূল কথা। ‘প্রতিশ্রুতি’ দিয়ে তার বিচার কখনোই হবে না, বরং বিচার হবে তাদের ‘কাজ’ দিয়ে।
ঘরপোড়া গরু, সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরাবেই ।।












