
আমাদের মতো ক্রান্তীয় মণ্ডলীর দেশে ঋতু পর্যায়ের বদল মানেই হলো শরীর স্বাস্থ্যের ভারসাম্যের বদল। সেই হিসেবে গরমকাল তার যাবতীয় রোগব্যাধির পসরা নিয়ে ইতিমধ্যেই হাজির হয়েছে শুধু নয়,প্রবল পরাক্রমে রীতিমতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আমাদের প্রতিবেশের বহু সংখ্যক মানুষ আজ তাপদাহ বা হাইপারথার্মিয়ার শিকার। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় তাপ জনিত শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টিকে হাইপারথার্মিয়া হিসেবে বিবেচনা করেন চিকিৎসকরা।
মানুষের দেহযন্ত্রটি এক আশ্চর্য মেশিন। দিন মানের তাপমাত্রা যেমন আমাদের শরীরকে গরম করে, আমরা শারীরিকভাবে তেতে উঠি। কোনো কিছুই অতিরিক্ত হয়ে যাওয়া ভালো নয়। এই অবস্থা থেকে দেহটিকে রক্ষা করতে শরীর যন্ত্রের একান্ত নিজস্ব ব্যবস্থা রয়েছে যা স্বেদ বা ঘাম নামে পরিচিত। শরীর তেতে ওঠার সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করছে টের পেতেই শরীরের ঘর্ম গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় ঘর্ম বিন্দু। ত্বকের ওপর জমা এই ঘাম বাষ্পীভূত হলে তা শরীরের তাপমাত্রাকে সংকটমান অতিক্রম করার হাত থেকে রক্ষা করে। তবে কখনো কখনো অসহনীয় তাপীয় অবস্থার কারণে কিংবা শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপের মাত্রা অতিরিক্ত হলে এই স্বয়ংক্রিয় ভারসাম্য রক্ষার ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়ে। আমাদের শরীর তাপদাহের শিকার হয়। আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি।

দ্রুততার সঙ্গে চিকিৎসা শুরু করতে হয় না হলে এর থেকে হিট স্ট্রোক হতে পারে। যারফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায় , কথা বার্তায় অসংলগ্নতা ধরা পড়ে, কথা জড়িয়ে যায়।
এক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা শুরু না হলে রোগীর প্রাণহানি ঘটতে পারে। অনেক সময় কঠোর পরিশ্রমের ফলে এই অবস্থা হতে পারে অথবা অসহনীয় গরমের মধ্যে থাকার জন্যও হিট স্ট্রোক হতে পারে।
সব শেষে বলবো হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে দ্রুত সুচিকিৎসার সহায়তা নিতে হবে। দেখছি দেখবো জাতীয় ঢিলেমি দেখানো চলবে না।
পরিমিত পরিস্রুত জল পান করুন।
হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। গাঢ় রঙের পোশাক বর্জনীয়।
দীর্ঘ সময়ের জন্য বাইরে থাকার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত পরিশ্রমের কাজ করবেন না।
মনে রাখতে হবে আপনিই হলেন আপনার শরীরের প্রধান তত্বাবধায়ক।
ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন।
জুন ০৬,২০২৬














সুপরামর্শ ।ধন্যবাদ লেখককে।
Absolutely correct. Need to take care of ourselves. Summer is getting tougher to tackle every year ! Climate change has affected the sub continent badly !
প্রতীক্ষিত ও প্রত্যাশিত নিবন্ধ। খুব সহজ করে বলা।
Hyperthermia at the worst can cause rhabdomyolysis followed by many issues including acute kidney injury which is devastating. Salt and electrolytes loss should be put into attention and avoided while sweating by taking electrolytes and proper hydration to avoid AKI due to loss of fluids- this will to some extent reduce risk of kidney failure. To prevent rhabdomyolysis increase in temperature should be avoided. Very difficult for people working outside.
মত প্রকাশের জন্য সকলকেই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। যে দুঃসহ গরমের মধ্যে এক শ্রেণির মানুষদের কাজ করতে হয়, মূলতঃ তাদের কথা ভেবেই এই আলোচনাটি করা। আমার সঙ্গে প্রতিদিন যে সব মানুষের কথা হয় তাদের প্রত্যেককেই এ ব্যাপারে সচেতন করার চেষ্টা করি। তবে সকলেরই এক কথা — না বেরিয়েই বা করার কি আছে বলেন? সকলেই জীবন ও জীবিকার তাগিদে এই অসহনীয় অবস্থাকে মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে। আমিও এই বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি করার কথা ভাবছিলাম। দীর্ঘমেয়াদি তাপদাহ সেই সুযোগ করে দিয়েছে। এজন্য তাকে অস্বীকার করি কী করে?
তাপদাহ এড়িয়ে সকলেই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন – এইটুকুই প্রার্থনা। হাইপো আর হাইপারের ধোঁয়াশা আশাকরি কেটে গেছে। ধন্যবাদ।