এই অদ্ভুত নামের আপাতদৃষ্টিতে রাজনৈতিক আনুগত্য এবং পৃষ্ঠপোষকতাহীন দলটির সূচনা অল্প কিছুদিন আগে। আমেরিকার বস্টনের ছাত্র অভিজিৎ দীপকে এর সূচনা করেন। কারণ? এর ভিত্তিতে ছিল ভারতের সুপ্রিম কোর্টের মহামান্য প্রধান বিচারপতি মে মাসে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার সময়ে বিচার বিভাগকে সমাজমাধ্যমে নিশানা করা নিয়ে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেছিলেন – “ককরোচের (আরশোলা) মতো কিছু তরুণ রয়েছে, যারা চাকরি পায় না, কোনও পেশায় নেই। তারা সমাজমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে যায়। কেউ আরটিআই কর্মী, সমাজকর্মী হয়ে যায়, তারা সবাইকে আক্রমণ করা শুরু করে।”
এর সঙ্গে যুক্ত হল NEET-UG পরীক্ষার লক্ষ লক্ষ বা কোটি টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অন্তত ১৩ জন (কোন কোন হিসেবে ২১ জন) মেধাবী ছাত্রের একের পরে এক আত্মহত্যা – ঘোর অনিশ্চয়তার বোঝা বহন করতে না পেরে। এদের সঙ্গে তাদের পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনও যুক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে সংখ্যাটি বিপুল।
বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ২২ জুলাই, ২০২৬-এ দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে দাবি করেছেন – মোদী জমানায় ১২৫টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষাখাতে বাজেট ১.৪ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু নিট-এর পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য বছরে তাঁদের পরিবার ১.৩২ লক্ষ কোটি টাকা নিজের পকেট থেকে খরচ করে। (সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা ২৩ জুলাই ২০২৬)
ছবি অনেক সময় শব্দের চেয়ে বেশি কথা বলে। অনেক ইঙ্গিত বহন করে। কয়েকটি ছবি এখানে ব্যবহার করা যায়।
(পুলিশের আক্রমণ – টিয়ার গ্যাস এবং লাঠি চার্জ)
(পুলিশের ব্যবহার করা পেলেট গানের ক্ষত)
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই ঘটনা এবং পুলিশের আক্রমণ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর হয়েছে। নিউ ইয়রক টাইমস-এর ২০ জুলাই, ২০২৬-এ প্রকাশিত একটি খবরের শিরোনাম “Police in India Use Tear Gas and Batons on Crowds Protesting Exam Scandal”। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে – “Young people angry about frequent leaks of college entrance tests present one of the biggest challenges in years to Prime Minister Narendra Modi.” আরও বলা হয়েছে – “A smiling Mr. Modi, who arrived to open a session of the Parliament, tried to project an image of calm. He did not address the protesters’ demands directly, even as security forces struggled to hold back the crowds spilling onto the roads leading to the building.”
গার্ডিয়ান সংবাদপত্রের ২১ জুলাই ২০২৬-এর একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম “India’s Cockroach movement protesters show no sign of backing down”। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে – “Thousands of people again on the streets of Delhi calling for education reforms despite police violence on Monday.”
২২ জুলাই, ২০২৬ হিন্দুস্তান টাইমস-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম “Wangchuk claims govt assured talks on Pradhan’s resignation demand would be considered.” এই প্রতিবেদন অনুযায়ী – “Climate activist Sonam Wangchuk on Wednesday claimed that union ministers JP Nadda and Jitendra Singh met him and assured that the government would “positively consider” a Parliament discussion to ensure accountability over paper leaks, which would include the consideration of union education minister Dharmendra Pradhan’s resignation.”
(সোনাম ওয়াংচুককে টেনে হিঁচড়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে)
শেষের কথা
এই আন্দোলোন বিস্তৃতি লাভ করছে সন্দেহ নেই। সরকার বাধ্য হয়েছে যন্তর মন্তর-এ এসে আন্দোলনকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে। এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী যুবক-যবতীদের বয়স ১৮ থেকে ৩০-এর মধ্যে। এরা ভারতের বর্তমান জনসংখ্যার প্রায় ৪০%। ফলে সামাজিকভাবে, আগামী লোকসভা নির্বাচন মাথায় রাখলে, এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব থাকবে। শাসক দলের কাছে উদ্বেগের কারণ হবে। এই আন্দোলন থেকে পরিষ্কার হচ্ছে যে, আমাদের শিক্ষায়তনগুলো (উচ্চ বা নিম্ন যাই হোক না কেন) ছাত্রছাত্রীদের আকাঙ্খা এবং স্বপ্ন থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে – এদের মধ্যে সেরকম কোন সংযোগ নেই।
দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষার আবহ তৈরির জন্য এরকম আন্দোলন এর আগে আমাদের জানা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে ঘটেনি। আমরা যদি একে সবাই মিলে বাঁচিয়ে রাখতে পারি, তাহলে কিছু সংস্কারের সম্ভাবনা আছে। নাহলে আবার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে থাকতে হবে বহুদিন।
এর একটি ইঙ্গিত এর মধ্যেই পাওয়া গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের মহামান্য প্রধান বিচারপতি এই কেস নিয়ে মন্তব্য করেছেন – সুপ্রিম কোর্টের শোনার সময় নেই, কোর্টের সময় যেন নষ্ট করা না হয়।
বিচারের ভার ভারতের মানুষের। ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচন করা জনশক্তির।


















