(এই চিঠিটি দেওয়া হয়েছে ৩০ জুলাই ২০২৬-এ)
রায়গঞ্জের নামী স্কুল সারদা বিদ্যা মন্দির (বাংলা মিডিয়াম) স্কুলের তরফে এই চিঠিটি দেওয়া হয়েছে – “বিদ্যালয়ের আচার্য-আচার্যা, প্রাক্তন ভাই-বোন, অভিভাবক-অভিভাবিকাবৃন্দ, মাতৃভারতী এবং পরিচালনা সমিতির সদস্যা তথা বিদ্যালয়ের পরিবারের” সবাইকে।
সারদা বিদ্যা মন্দির একটি স্কুল-চেইন, যেমন বিভিন্ন কর্পোরেট হোটেল, রেস্তরাঁ, হাসপাতাল ইত্যাদির পরিচালনায় পৃথিবীর তথা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্তৃত – এর শাখা রয়েছে। আরএসএস পরিচালিত বিদ্যা ভারতী সংগঠনের একটি সামাজিক শিক্ষার জগতের উদ্যোগ। রায়গঞ্জের সারদা বিদ্যা মন্দির-এর পরিচয় হিসেবে বন্ধনীর মধ্যে লেখা রয়েছে (বিদ্যা ভারতী পূর্ব ক্ষেত্র, ২৬৫৬)। এর থেকে বোঝা যায় সারদা বিদ্যা মন্দির নামে পরিচিত কয়েক হাজার স্কুলের মধ্যে এর ক্রমাংক/স্থানাংক ২৬৫৬।
এর জন্য সারদা বিদ্যা মন্দির-এর করণীয় কী? “তার প্রতিবাদ স্বরূপ রাষ্ট্রের কল্যাণে উত্তরবঙ্গ হিন্দু জাগরণ মঞ্চের ব্যবস্থাপনায় আজ একটি বিশেষ কার্যক্রম রাষ্ট্ররক্ষা পদযাত্রা-র আয়োজন করা হয়েছে।” শুরুতেই যাদের উদ্দেশ্যে চিঠিটি লেখা হয়েছে তারা সবাই উপস্থিত থেকে “এই কার্যক্রমকে সাফল্যমণ্ডিত করে তুলব, এই আশা রাখছি।”
নমস্কার সহ চিঠির প্রেরক হলেন (১) সম্পাদক, মনোরঞ্জন পাল এবং (২) প্রধান আচার্য, চিত্তরঞ্জন মণ্ডল। সময় বিকেল ৫টা।
কতকগুলো প্রশ্ন চলে আসে এই চিঠির প্রেক্ষিতে –
(১) কোন বিদ্যামন্দির তথা স্কুল কী এরকম চিঠি স্কুলের সঙ্গে যুক্ত সবার কাছে পাঠাতে পারে?
(২) “রাষ্ট্ররক্ষা পদযাত্রা” বিদ্যা মন্দির নিজেরা সংগঠিত করছেন না, করছে “হিন্দু জাগরণ মঞ্চের ব্যবস্থাপনায়”। এখানে প্রশ্ন উঠবে স্কুল কী কোন প্রতিবাদ সংগঠিত বাইরের কোন সংগঠনকে দিতে পারে? এভাবে তথাকথিত outsourcing করা যায়? তাহলে তো যে কোন স্কুল যে কোন সময়ে তাদের কোন প্রতিবাদ সভা সংগঠিত করার ভার যে কাউকে দিতে – ডান, বাম, মধ্য যেই হোক না কেন।
(৩) সরাসরি CJP-র আন্দোলনকে ব্যাপক অরাজকতা, দেশ বিরোধী নারা (শব্দটি খেয়াল করুন, বাংলা নয়, হিন্দী)) এবং হিন্দু ধর্ম তথা হিন্দু দেব্দেবীর অপমান করার জন্য দায়ী করা হচ্ছে। কিন্তু মুশকিল হল, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী CJP-র আন্দোলন চলাকালীন এ অভিযোগগুলো আনেন নি। মহামান্য সুপ্রিম কোর্টও আদৌ এ ধরনের কোন প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন নি। ব্যতিক্রম রাষ্ট্রের মদতপুষ্ট বিভিন্ন আইটি সেলের ভিত্তিহীন, মিথ্যে অপপ্রচার।
(৪) CJP-র মূল শক্তি প্রধানত ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী ছাতছাত্রী যুবকযুবতীরা। এরা বর্তমান ভারতের ভোটদাতাদের প্রায় ৪০-৪৫%। ফলে ২০২৯-এর নির্বাচনে এই ভোট হারানোর এবং গদি হারানোর ভয় তো থাকেই। এজন্য নজিরবিহীনভাবে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেনদ্র প্রধানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপাতত আন্দোলনের রোষ স্তিমিত করার জন্য, গদি ও মুখ রক্ষার জন্য।
(৫) কিন্তু CJP-র আন্দোলন কী রাষ্ট্র তথা দেশ ভাঙার জন্য এতটাই শক্তিশালী যে “রাষ্ট্ররক্ষা পদযাত্রা” পদযাত্রা সংগঠিত করতে হচ্ছে? আর যদি সেটা না হয়, তাহলে এটাও তো অন্যভাবে “দেশভক্তি”র নামে ছাত্রছাত্রী সহ তাদের পরিবারকে ভুলভাবে প্ররোচিত করার একটি মাধ্যম। ভারতীয় সংবিধান কী এরকম প্ররোচনা কে স্থান দেয়? এ ঘটনার তো – কেউ চাইলে – একটি আইনি দিকও রয়েছে।
(৬) সারদা বিদ্যা মন্দিরে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছাড়াও অন্য ধর্মের শিশু-কিশোররা পড়ে। তাদের কাছে হিন্দু জাগরণ কী অর্থ বহন করে? বরনচ ভারতীয় সংবিধানের ২৫(১) অনুচ্ছেদে বলয়া হয়েছে – “Subject to public order, morality and health and to the other provisions of this Part, all persons are equally entitled to freedom of conscience and the right freely to profess, practise and propagate religion.” সংবিধান বিশষজ্ঞদের মতে “Article 26 guarantees rights of religious denominations or their sections. In other words, Article 26 protects collective freedom of religion.”
সমাজের সাধারণ মানুষের, তার দল মত ধর্ম যাই হোক না কেন, এই গভীর মতাদর্শগত প্রচারের মোকাবিলা করা দরকার। তার আগে বিষয়টি জানতে হবে, বুঝতে হবে।











