Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

‘দ্রোহকালের দলিল’- এ ডাঃ পুণ্যব্রত গুণ এর সাক্ষাৎকার

IMG-20250211-WA0092
Dr. Punyabrata Gun

Dr. Punyabrata Gun

General physician
My Other Posts
  • February 12, 2025
  • 7:35 am
  • No Comments

গত ৬ই ডিসেম্বর ২০২৪, ‘আমরা-এক সচেতন প্রয়াস’-এর পক্ষ থেকে শুভপ্রতিম রায়চৌধুরী, শমীন্দ্র সরকার এবং মোহিত রণদীপ পশ্চিমবঙ্গে জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের সংগঠক এবং অভয়া মঞ্চের অন্যতম আহ্বায়ক ডাঃ পুণ্যব্রত গুণের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার এখানে লিখিত আকারে তুলে ধরা হল।

আমরা : পুণ্য দা, প্রথমেই আপনাকে ধন্যবাদ জানাই আমাদের এই সময়টা দেওয়ার জন্য।

আপনার ছাত্রাবস্থায় ঘটে যাওয়া যে জুনিয়র ডাক্তার আন্দোলন, আপনি তখন জুনিয়র ডাক্তার, সেই আন্দোলনে যতদূর জানি প্রত্যক্ষ ভাবে অংশ নিয়েছিলেন আপনি, সেই আন্দোলনের কারণ কী ছিল?

পুণ্যব্রত গুণ  : ১৯৮৩ সালের অল বেঙ্গল জুনিয়র ডাক্তার ফেডারেশনের যে আন্দোলন সেই আন্দোলনটা যখন শুরু হয় তখন আমি সবেমাত্র ইন্টার্ন, আমি আগষ্ট মাসে ইন্টার্ন হয়েছি, সেপ্টেম্বর অক্টোবর এই সময় থেকে জুনিয়র ডাক্তাররা কর্মবিরতিতে গেছেন।

আমি আন্দোলনে পিছনের সারির সৈনিক ছিলাম, সামনের সারির কেউ ছিলাম না। সেই আন্দোলনেরও একটা প্রেক্ষাপট আছে, আমরা যখন মেডিকেল কলেজে পড়তাম, সেই ১৯৭৭-এর পরেই এমার্জেন্সির অবসান ঘটল, ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতাচ্যুত হলেন, সেই সময় বিভিন্ন জায়গায় বহু স্বাধীন সংগঠন গড়ে ওঠে, কলেজগুলোতেও স্বাধীন সংগঠন গড়ে উঠেছিল। সেরকম মেডিকেল কলেজগুলোতেও স্বাধীন সংগঠন গড়ে ওঠে। মেডিকেল কলেজে ছিল ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। এখনো আছে এবং ১৯৭৭-১৯৮৪ অবধি সাত বছরের পিরিয়ডটা আমরা স্টুডেন্টস ইউনিয়নে ছিলাম। আমরা ছাত্র থাকার সময় এটা মনে করতাম, হাসপাতালে যে পরিষেবাগুলো পাওয়া যায় সেই পরিষেবাগুলো একদমই অপ্রতুল। মানুষকে যদি ঠিকমত পরিষেবা দিতে হয় তাহলে পরিষেবাগুলো বাড়ানো উচিত। প্রকৃত অবস্থা কী সেটা দেখার জন্য ১৯৭৯ সালে একটা আন্দোলন হয় সেটাকে আমরা হসপিটাল মুভমেন্ট বলতাম।

আমরা : আচ্ছা, সেই আন্দোলন কি কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকেই শুরু হয়েছিল?

পুণ্যব্রত গুণ  : সেটা কলকাতা মেডিকেল কলেজেই শুরু হয়েছিল এবং আর.জি. কর মেডিকেল কলেজেও একই ধরনের মুভমেন্ট হয়। সেখানে আমরা স্টুডেন্টস ইউনিয়ন আর ডি.এস.এ.-এর ছেলেমেয়েরা মিলে সার্ভে শুরু করি, একটা এক্সটেনসিভ সার্ভে করেছিলাম। যেখানে আউটডোরে যে পেশেন্টরা আসেন, তাঁরা কতদূর থেকে আসছেন, তাঁদের কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে, কতক্ষণ সময় তাঁরা ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন, তাঁদের যে ওষুধগুলো লেখা হচ্ছে তার কতগুলো ওষুধ তাঁরা হাসপাতালে পাচ্ছেন, ওষুধের জন্য তাঁদের কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে, কোন্ কোন্ পরিষেবা তাঁরা পাচ্ছেন না, ইন্ডোরের কী অবস্থা, ইন্ডোরে একটা বেডে কতজন রোগীকে থাকছে; এই টোটাল একটা সার্ভে করার পর আমরা, ‘৭৯-র আন্দোলন শুরু করি, প্রচারমূলক আন্দোলন ছিল এটা। এই আন্দোলন থেকে আমরা খুব একটা কিছু অ্যাচিভ করেছিলাম সেরকম না। কিন্তু সেই আন্দোলন থেকে আমাদের একটা জানা হয়েছিল যে হসপিটালে অ্যাকচুয়াল অবস্থাটা কী, এগজ্যাক্ট অবস্থাটা কী সেটা আমরা জানতে পেরেছিলাম। এরপর ট্রিগার করে একটা ঘটনা। ১৯৮৩-র শুরুর দিকের একটা ঘটনা। একজন হাউজস্টাফ মারা যান, আমার এগজ্যাক্ট মনে পড়ছে না, সম্ভবত ওটা SSKM-এ, আমারই লেখা আছে, সেটা দেখলে আমিও মনে করতে পারব। একজন হাউসস্টাফের মৃত্যু হয়। সেই মৃত্যু থেকে আন্দোলনটার স্পার্ক হয় এবং এবার যেরকম হয়, এই আন্দোলনেও সেরকম হয়েছে যে যখন মানুষ আন্দোলন শুরু করছে, একটা ছোট আন্দোলন শুরু করছে কম দাবি নিয়ে, শাসকদের পক্ষ থেকে এমন কিছু মন্তব্য করা হল বা এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হল যেগুলো পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলল। আন্দোলন তীব্রতর হল। তো আমাদের যে দাবিগুলো ছিল, তার একটা দাবি ছিল ভাতা বৃদ্ধির দাবি। সে সময় আমার ইন্টার্নশিপ এর ভাতা ছিল সাড়ে চারশো টাকা আর আমি হস্টেলে থাকতাম না বলে হাউজ রেন্ট অ্যালাওয়েন্স ৪৫ টাকা, মানে ৪৯৫ টাকা, হাউজস্টাফরা পেত ৫৫০ টাকা, সিনিয়র হাউজস্টাফ ৬০০ টাকা।

ভাতাবৃদ্ধির দাবি একটা দাবি হিসেবে থাকল। আসল যে দাবিগুলো থাকল সেগুলো হল, ২৪ ঘন্টা এক্সরে, ইসিজি ও প্যাথলজির দাবি, ওষুধপত্র যাতে ঠিকমত পাওয়া যায় তার দাবি, যেগুলো শূন্য পদ সেসব শূন্য পদ যাতে পূরণ করা হয় সেই দাবি এবং এই আন্দোলনই প্রথম এই স্লোগান নিয়ে আসে, ‘স্বাস্থ্য কোনো ভিক্ষা নয়; স্বাস্থ্য আমার অধিকার’।  এই স্লোগান এই আন্দোলন থেকেই, মানে অল বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফেডারেশন-এর আন্দোলন থেকে উঠে আসে। যে স্লোগান, এখনো এই চল্লিশ বছর পরেও আমাদের স্লোগান।

আমার একটা বই আছে, ‘পা মিলিয়ে পথ চলা’ তাতে এই লেখাটা আছে।

আমরা : আচ্ছা, সে সময়ের আন্দোলনের সাথে আজকের আর.জি.কর আন্দোলনের মধ্যে সাযুজ্য কী কী রয়েছে? আর, তফাৎ ই বা কী কী?

পুণ্যব্রত গুণ  : এটা বিশাল একটা বিষয়! সাদৃশ্যের জায়গা হচ্ছে, আমাদের আন্দোলন জনস্বাস্থ্যের দাবি নিয়েছিল, মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত, এই আন্দোলনও এমন কোনো দাবি নেই যেগুলো জুনিয়র ডাক্তাররা নিজেদের জন্য করছে, তারা যে সুরক্ষার দাবি তুলেছে সেটা চিকিৎসাকর্মী, স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা। তারা এও বলেছে এই সুরক্ষা কেবল সিসিটিভি, নিরাপত্তা রক্ষী বা লাইট লাগিয়ে হবে না, কারণ হাসপাতালে যে আক্রমণের ঘটনাগুলো ঘটে সেগুলো তো আর ধর্ষণ বা হত্যাকান্ড হয় না যেটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘটে সেটা হল রোগীর পরিজনদের মারধোর। কারণ, রোগীকে নিয়ে যখন আমরা হাসপাতালে যাই তখন আমাদের কতগুলো প্রত্যাশা থাকে, যেমন হাসপাতালে সবকিছু পাওয়া যাবে, বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়া যাবে, বিনামূল্যে পরীক্ষা -নিরীক্ষা হবে, এম্বুলেন্স পাওয়া যাবে—কিন্তু সেগুলো যখন আমরা পাইনা তখন ক্ষুব্ধ হই, তখন সামনে আমাদের সরকার থাকে না, স্বাস্থ্য সচিবও থাকেন না, স্বাস্থ্যমন্ত্রীও থাকেন না। তখন যাঁদের তাঁরা সামনে পান, তাঁদের ওপরেই আক্রমণ করেন। তাই সিনিয়র ডাক্তারদের সংগঠন আগে থেকে, জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠনও পরিষ্কারভাবে এই আন্দোলন থেকেই বলছে চিকিৎসাকর্মী-স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা আসলে মানুষের স্বাস্থ্যের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত, অধিকার ছাড়া সুরক্ষা হতে পারে না।

এই দুটি হচ্ছে মিলের জায়গা, আমাদের তবু ভাতার ডিমান্ড ছিল, এদের ক্ষেত্রে নেই সেটা, এখন এরা যা ভাতা পায় তাতে দরকারও নেই। এটা হচ্ছে এক নম্বর।

বৈসাদৃশ্য হচ্ছে যে আমাদের আন্দোলনের সময় ১৯৮৩-র আন্দোলন যখন শুরু হয়, সে সময় ডাক্তাররা অর্গানইজড্ ছিল, স্টুডেন্টরা অর্গানাইজড্ ছিল, আমাদের কলেজগুলোতে হাউজস্টাফ  ইনটার্ন এসোসিয়েশন (HIA), সব জায়গায় ছাত্র সংসদে ইলেকশন হত, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা থাকত। কিন্তু, এবারের আন্দোলনে ইলেকটেড স্টুডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ শুধুমাত্র কলকাতা মেডিকল কলেজে আছে।  এন আর এস মেডিকেল কলেজে আছে, তবে তা সাম ফর্ম অফ সিলেকশন-এর মাধ্যমে।

রেসিডেন্ট ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন ফাংশানিং এবং স্ট্রং অবস্থায় শুধুমাত্র কলকাতা মেডিকল কলেজে আছে, অন্য কলেজগুলোতে নেই, এরকম একটা পরিস্থিতিতে আন্দোলনটা শুরু হচ্ছে আর মেডিকাল কলেজে যেমন এম সি ডি এস এ আছে সেরকম অন্য কলেজে নেই, অন্য কলেজে ছড়িয়ে ছিটিয়ে এস এফ আই আছে, এস এফ আই-এর দু’ জন তিন জন চার জন করে ছোট ছোট ইউনিট আছে। আর জি কর মেডিকেল কলেজে ডি এস ও  আছে, তিন জন-চার জনের, এস এস কে এম-এ ডি এস ও আছে আর বাকি জায়গায় যারা নিজেদেরকে ‘অ্যাপলিটিকাল’ বলে, সেরকমই, বেশিরভাগ অভীক দে, বিরূপাক্ষ তাদের যে বাহিনী তারাই ছাত্রদলের উপর ছড়ি ঘুরিয়ে এসেছে।

এই আন্দোলন যখন শুরু হয় সারা রাজ্যে, তাতে মেডিকল কলেজ একটা বড় জায়গা নেয় এবং মেডিকল কলেজে যারা ডি এস এ করত তারা অনেকে পিজি করার জন্য অন্যান্য জায়গায় আছে, কেউ এস এস কে এম-এ, কেউ অন্য ইনস্টিটিউশনে আছে সেখানে তারা সংগঠকের ভূমিকা নিচ্ছে, বাকিটা অনেকটাই বড়ো MASS (জনতা), যেরকম ৪০/৪১ বছর আগে সংগঠিত MASS ছিল, এটা সেই  অর্থে সংগঠিত MASS নয়। মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বেড়েছে, আগে ছিল ৭ টা, সবটাই সরকারি। এখন হয়েছে ৩৫টা মেডিকেল কলেজ তার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুবিধাটা এখন নেই আগের মত, আগে সাতটা কলেজের চারটে কলেজ কলকাতার, আর একটা বর্ধমান, আর একটা বাঁকুড়া, আর একটা নর্থ বেঙ্গল সেই প্রতিনিধিদের নিয়ে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত। এখন ছাত্রসংখ্যা বেড়েছে, আগে আমাদের সময় স্টুডেন্ট স্ট্রেংথ ছিল ৭৫০, আমাদের সময়, এমনকি ২০০৭ অবধি তাই ছিল,  এখন সেটা ৫ হাজারের ওপর এদেরকে নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া জটিল হয়ে গেছে।

প্রত্যেকটা কলেজে এখন General Body Meeting হচ্ছে, সেটা কেন্দ্রীয়ভাবে PANGB-তে পরিণত হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, সেই সিদ্ধান্ত কলেজে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সবার মতামত নেওয়ার জন্য।  আগে রেজিমেন্টেড ছিল।  ছত্রিশগড়ে এরকম ৩০০ মুখিয়াকে নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় মিটিং হত, এজেন্ডাগুলো নিয়ে আলোচনা হত, কাজের জায়গা থেকে রেইজিং ও ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্করদের প্রতিনিধি দুজন করে, মহিলা প্রতিনিধি, মহল্লা প্রতিনিধি এরকম করে ৩০০জন মিলে যে সিদ্ধান্তে আসত পরদিন কাজে গিয়ে কাজ শুরুর আধ ঘন্টা আগে সেটা নিয়ে আলোচনা করত, মতের অমিল হলে আবার সব মুখিয়ারা আলোচনায় বসত।

ওই আন্দোলন আর এই আন্দোলনে সিনিয়র ডাক্তারদের ভূমিকা অন্যরকম আন্দোলনের শুরুতে হেলথ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ছিল সরকারি সিনিয়র ডাক্তারদের একমাত্র অ্যাসোসিয়েশন, আর ছিল আই এম এ। সরকারকে শেষ অবধি যখন ‘বো ডাউন’ করতে হয়, সরকার তখন সিনিয়র ডাক্তারদের সংগঠনকে ভাঙবার একটা উদ্যোগ নেয়, যাতে ভবিষ্যতে এরকম আন্দোলন এতদূর না যায়, আগেই ট্যাকল করা যায়। তখন ওরা ট্রান্সফার পোস্টিং -এর লাঠি ও গাজর ব্যবহার করে অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টরস তৈরি করে,  জুনিয়র ডাক্তারদেরও জুনিয়ার ডক্টর কাউন্সিল অফ একশন তৈরি করে। এবার আন্দোলনে সিনিয়র ডাক্তাররা ইউনাইটেড ছিল, সিনিয়র ডাক্তারদের ৫টা সংগঠন, ঘটনাক্রমে যে দুটো সংগঠন আগের আন্দোলনের ক্ষেত্রে বিরোধী ছিল তারাও এখন একসঙ্গে, আলফাবেটিকালি বলতে গেলে অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টরস, ডক্টরস অফ ডেমোক্রেসি, হেলথ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, এছাড়াও আমার দুটো সংগঠন শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগ, ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম এই ৫ টা সংগঠন ২০১৭ থেকে একসঙ্গে আছে, ২০১৮ ও ২০২২-এও ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেল কাউন্সিলের হয়ে ইলেকশনে আমরা একসঙ্গে লড়েছি।

এ বাদেও আর দুটো সংগঠন আমাদের এই আন্দোলনে সঙ্গে আছে, যারা মাঝে মাঝে থাকে মাঝে মাঝে ঘুমিয়ে পরে, সেটা হল ডোপা (ডক্টর্স ফর পেশেন্ট), মূলত প্রাইভেট হসপিটালের ডাক্তারদের সংগঠন, প্রদেশ কংগ্রেসের মেডিকেল সেল, এই সাতটা সংগঠন আন্দোলনের শুরু থেকে নিঃশর্ত ভাবে সঙ্গে আছে।

কর্মবিরতির সময় সরকার যে হাতিয়ার ব্যবহার করে সেটা হল মানুষকে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া, কর্মবিরতির সময় হাউজস্টাফদের কাজ সিনিয়র ডাক্তাররা, ডিপার্টমেন্টাল হেড যাঁরা, তাঁরা করেছেন, ব্লাড টানা, রিকুইজিশন লেখা, পুরো আউটডোর নিজেরা সামলানো যার ফলে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আমরা পুরোপুরি ভাঙতে দিইনি, সরকার এই পয়েন্টে জনসাধারণকে দিয়ে জুনিয়র ডাক্তারদের বিরোধিতা করাতে সক্ষম হয়নি।

আমরা : একটা সিলেবাসের বাইরের প্রশ্ন করি, সরকার প্রচার করেছে যে হাসপাতাল পরিষেবা ভেঙে পড়ছে, এবং আমাদের ‘বামপন্থী’ বহু বন্ধু এই প্রচারটা অনেক বেশি করে করেছেন!

পুণ্যব্রত গুণ  : যে বন্ধুরা করেছেন তারা বামপন্থী নেই, তৃণমূলের খাতায় নাম লিখিয়েছেন।

তাঁদের মধ্যে একজন ২০০৯ থেকেই নাম লিখিয়েছেন তৃণমূলে এবং কেন মমতা ব্যানার্জীকে সমর্থন করা উচিত সেটা নিয়ে আমাদের সঙ্গে তাঁর বারবার মতপার্থক্য হয়েছে, কোনও সময় সংগঠন থেকে বেরিয়েছেন, কোনো সময় ঢুকেছেন, এবার যে বেরিয়েছেন, সেটাই হয়তো চূড়ান্ত! বাইরেই থাকবেন।

আমরা : শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগ কি শুধু ডাক্তারদের সংগঠন? নাকি ডাক্তারদের সঙ্গে অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরাও আছেন?

পুণ্যব্রত গুণ : আমরা যখন কানোরিয়ায় কাজ শুরু করি, সেটা ত্রিশ বছর আগে ১৯৯৫ সালে, আমরা সাধারণত আলাদাভাবে সংগঠন করি না, তারপরে কিছু সমস্যা হয়, ইউনিয়নের মধ্যবিত্ত নেতৃত্বের সঙ্গে, প্রথমে প্রফুল্লদা, তারপরে কুশলদা, শেষ পর্যায়ে পূর্ণেন্দুদা, সে-সময় ওরা আমাদের disown করে, আমরা নাকি মালিকের দালাল! ১৯৯৮-এ, তখন আমরা চেঙ্গাইলের কাজ টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করি, আমাদের আরো যা যা কাজ করার ইচ্ছে সেগুলোর কথা ভেবে আমরা তখন সোসাইটি ফর্ম করি। শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগ হচ্ছে জনস্বাস্থ্য আন্দোলনে যুক্ত চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের মঞ্চ।

আমরা : তখনকার বাম শাসকদের ভূমিকা ও এখনকার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের শাসকদের ভূমিকাও দেখেছেন, মূলগত ভাবে কী পার্থক্য চোখে পড়ে?

পুণ্যব্রত গুণ : শাসকরা শাসকই, আমরা যারা প্রতিবাদী মানুষ তারা প্রতিবাদী-ই, সমুদ্র সেনগুপ্ত বলে একজন আছেন, নর্থ ২৪ পরগনার সি এম ও এইচ, সমুদ্রের এটা নিয়ে একটা লেখা আছে তখনকার আর এখনকার শাসক নিয়ে।

বামফ্রন্ট অনেক অর্গানইজড ছিল, তার ফলে ওরা যখন আক্রমণগুলো নামাতো তা মমতা ব্যানার্জীর বাহিনীর মত না। সে সময়ে দুর্নীতি ছিলনা একথা বলা যায় না, কিন্তু এখন দুর্নীতি যেভাবে সর্বব্যাপী ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে, সে চেহারা অবশ্যই ছিলনা এবং অভয়ার মত ঘটনা বামফ্রন্টের সময় হওয়াটা অস্বাভাবিক ছিল।

আমরা : বামফ্রন্টের সময় দুর্নীতি তো ছিল কিন্তু তার চরিত্রগত তফাৎ কী ছিল?

পুণ্যব্রত গুণ : এটা আমিও বিস্তারিত ভাবিনি সেভাবে। আমার যা পজিশন এ বিষয়ে খুব বেশি কথা বলাটা মুশকিল কারণ আমি জয়েন্ট প্ল্যাটফর্মের কনভেনর, অনেকগুলো দিক ভাবার প্রয়োজন হয়।

আমরা : তাহলে সে-সময় কি অভয়ার মত ঘটনা হতো না?

পুণ্যব্রত গুণ : হতোই না, তা বলব না। কিন্তু যেভাবে এখন হল সেভাবে হয়ত হত না। আরেকটা কথা হচ্ছে মানুষের যে ইনভল্ভমেন্ট আগের আন্দোলনে আমরা দেখেছি এই আন্দোলনে তা অনেক গুণ বেশি। ইনফ্যাক্ট আমি আমার লাইফটাইমে যে দুটো আন্দোলন দেখেছি বা অংশগ্রহণ করেছি, একটা ভিলাই-এ, আর একটা নন্দীগ্রাম জেনোসাইডের পরের যে আন্দোলন। অভয়ার হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে তার থেকে অনেক গুণ বেশি মানুষের ইনভলভমেন্ট, এক্ষেত্রে কিন্তু মমতাই মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে দিয়েছেন! ঘটনার পরেই রাতের সাথী প্রকল্প এবং মেয়েরা রাতে কাজ করতে পারবে না বা বাইরে বেরোলে কাউকে নিয়ে বেরোবে এসব নিদানের প্রতিবাদেই মেয়েরা রাস্তায় নামল। ১৪ই আগষ্ট আর জি কর মেডিকেল কলেজে হামলা করে মানুষকে আরো খেপিয়ে দিল এবং আমাদের সময় মূলত বামপন্থী, বামপন্থী বলতে লেফট ফ্রন্ট বাদে যে সমর্থকরা বুদ্ধিজীবীরা আমাদের সঙ্গে ছিলেন, আমাদের শিবিরের ইউনিয়ন হতো, আমাদের কর্মসূচিতে অন্যরাও এসেছেন, কিন্তু ওগুলো আমাদের জমায়েত, আমাদের মিছিল হয়েই আটকে থেকেছে। এখানে হয়েছে অসংখ্য মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জমায়েত, অজস্র মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত মিছিল! সাধারণ মানুষ দলহীন মানুষ অনেক বেশি অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁদের বৃহত্তম অংশের মানুষ অরাজনৈতিক নন, আমরা তাঁদের অদলীয় বা নন-পার্টিজান বলছি।

আমরা : একটা অভিযোগ এই আন্দোলনে উঠে এল যে, সরকারি হাসপাতালে ভেজাল ওষুধ, স্যালাইন এবং ব্যবহৃত চিকিৎসা সরঞ্জামের পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে, এই অভিযোগের বাস্তবতা কতটা?

পুণ্যব্রত গুণ : এটার বাস্তবতা আছে। আর্থিক দুর্নীতি মামলা যার তদন্ত সিবিআই করছে, দুর্নীতির সেই ডকুমেন্টগুলো আমরা স্বাস্থ্য দফতরে গতবছর সেপ্টেম্বরে দিয়েছিলাম, আখতার আলী দিয়েছিলেন জুলাই মাসে, তো এ-গুলোর ডেফিনিটলি সারবত্তা আছে। কেবল এটা আর জি কর মেডিকেল কলেজেই নয়, অন্যান্য জায়গাতেও হচ্ছে।

তবে ‘জেনেরিক’ নামের ওষুধ সম্পর্কে কিছু মানুষ অভিযোগ আনছেন যে এটাই খারাপ, সেই মতের সঙ্গে আমাদের সংগঠন সহমত নয়, ব্র্যান্ডেড কোম্পানির ওষুধ হলেও ভেজালই হত এই দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার দৌলতে।

সরকারি হাসপাতলে যাঁরা যান, তাঁরা মূলত গরিব মানুষ, না-হলে মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষই বেশি সংখ্যায় যান। কিন্তু এভাবে যদি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভেজাল ওষুধ দেওয়া হয়, স্যালাইন দেওয়া এবং ব্যবহৃত সরঞ্জাম দেওয়া হয় তাহলে বিপুল সংখ্যক গরিব মানুষ যাঁরা সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল তাঁদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়। এই বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব নিয়ে আলোচনায় সেরকম ভাবে উঠে আসেনি।

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে দুর্নীতিগুলোর একমাত্র সলিউশন হচ্ছে ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার। আমার গরুর রচনা বলতে পারো, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অধিকাংশ সমস্যার সমাধান আমার মতে ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার। যার মানে সরকার সমস্ত নাগরিকের স্বাস্থ্য রক্ষার দায়িত্ব নেবে।

আমরা : স্বাস্থ্যক্ষেত্রে দুর্নীতি কীভাবে হয়? চাল বেচাকেনা বা টুথপেস্ট বেচাকেনার সঙ্গে ওষুধ বেচাকেনা বা প্যাথলজি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে নিশ্চয়ই তফাৎ আছে?

পুণ্যব্রত গুণ : ফারাক আছে। চাল কিনতে গেলে তুমি নিজেই চালটা বাছাই করো, তোমার পকেটে যা পয়সা আছে সেই পয়সা অনুযায়ী তুমি কেনো, পেস্টও তাই, হয়তো বিজ্ঞাপন দ্বারা তুমি প্রভাবিত হও। কিন্তু ওষুধ বা পরীক্ষা নিরীক্ষার ক্ষেত্রে ক্রেতা এবং বিক্রেতা ওষুধের দোকানদার বা ল্যাবরেটরির মালিক এবং যে রোগী তার মাঝখানে একটা স্তর আছে সেটা হচ্ছে চিকিৎসক। এবার চিকিৎসক যদি অসৎ হয়, তবে গন্ডগোল হবে। আর, চিকিৎসক সৎ হবে না অসৎ হবে, সেটা কার হাতে? আমার হাতে? যে সিস্টেমে বিচারপতি, পুলিশের বড়ো কর্তারা, রাজনেতারা, শিক্ষকরা সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত! সেখানে আমরা চাইব, ডাক্তাররা ধোয়া তুলসীপাতা হবে! হবে না।

কাজেই আমাকে এমন একটা সিস্টেম করতে হবে যেখানে রোগীর সঙ্গে ডাক্তারের পয়সার আদান-প্রদান থাকবে না, সেটা হচ্ছে ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ারের সিস্টেম। এই সিস্টেম প্রথম এসেছিলো ১১২ বছর আগে নরওয়েতে। ১৯১২ সালে নরওয়ে সরকার নরওয়ের নাগরিকদের স্বাস্থ্য রক্ষার দায়িত্ব নেয়। আবার বড় দেশ যদি ধরি, সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯১৭ সালে বিপ্লব করেছে, কিন্তু এই সিস্টেম আনতে আরো কুড়ি বছর লেগে গেছে।

১৯৩৭-এ এসে সমস্ত নাগরিকের স্বাস্থ্য রক্ষার দায়িত্ব নেয় সোভিয়েত সমাজতন্ত্র। তারপর ১৯৪৮ সালে ইউনাইটেড কিংডম National Health Scheme শুরু করে। NHS এর বিল যখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী পার্লামেন্টে নিয়ে আসেন, তখন হাউজ অফ লর্ডস্-এ লর্ডসরা প্রস্তাব তোলে যে সরকার গরিবদের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিক, আমরা আমাদের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নেবো। তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী Aneurin Bevan, তিনি বলেছিলেন, পাশাপাশি যদি দুটো সিস্টেম থাকে তাহলে ক্ষমতাশালীদের সিস্টেম যেটা, সেটা গরিবদের সিস্টেমকে শুষে খাবে। এখনকার NHS দেখে অনেকে অনেক সমালোচনা করতে পারেন যে NHS-এ এই এই পরিষেবা পাওয়া যায় না! ওগুলো পাওয়া যায় না ঠিকই, কিন্তু যেগুলো পাওয়া যায় সেগুলোও আমাদের দেশে পাওয়া যায় না।

NHS-এর আজকের খারাপের অবস্থার কারণ হচ্ছে মার্গারেট থ্যাচারের সময় থেকে বিকাশের জন্য টাকা না দেওয়া, ফান্ড কমিয়ে দেওয়া।

চিনে ১৯৫০ থেকে, কিউবাতে ১৯৬০ থেকে ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার সিস্টেম রয়েছে। পৃথিবীর ৪০% দেশে ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার আছে। ১৯৭৮ সালে আলমাআটায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার-র ডাকা কনফারেন্সে ‘২০০০ সালের মধ্যে হেলথ ফর অল’ স্লোগান দেওয়া হয় । আমাদের দেশের সরকারও মেনে নিয়েছিল, ২০০০ সালের মধ্যে সবার জন্য স্বাস্থ্য’ ঘোষণাপত্র। বাস্তবে তা দেওয়া হয়নি।

আমার জন্ম ১৯৬০ সালে, আমিও জন্মেছি মেডিকেল কলেজে, আমার ভাইও জন্মেছে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আমি যখন ছাত্র ছিলাম বা ডাক্তার হয়েছি সত্তর দশকের শেষের দিকে, আশির দশকের প্রথমে তখন মেডিকেল কলেজের পরিষেবা আজকের তুলনায় মনে হবে অসামান্য! ওই সময় মেডিকেল কলেজেগুলোই ছিল সেন্টার অফ একসেলেন্স।

প্রাইভেট নার্সিংহোম ছিল তিনটি বেলভিউ, উডল্যান্ড, ক্যালকাটা হসপিটাল। নব্বই দশকের শুরু থেকে যে আই এম এফ ও বিশ্ব ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া শুরু করল সরকার, তখন থেকে গোলযোগ শুরু হতে লাগল। যত দিন গেছে, সরকারের ভূমিকা কমেছে। বেসরকারি পুঁজি লুঠতরাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১০ সালে প্ল্যানিং কমিশন উচ্চ স্তরীয় বিশেষজ্ঞ দল তৈরি করে ‘হাই লেভেল এক্সপার্ট গ্রুপ ফর ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ’, তার চেয়ারপার্সন ছিলেন কে. এস. শ্রীনাথ রেড্ডি। তাঁরা ২০১১-তে রেকমেন্ডেশন সে সময়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী গুলাম নবী আজাদকে দেন এবং প্ল্যানিং কমিশনকেও দেন।

বলা হয়েছিল প্রত্যেকের একটা করে হেলথ কার্ড হবে, ধরো তুমি শ্রীরামপুর থেকে কলকাতা এলে সেখান থেকে আসার পথে তোমার পা মুচকে গেল তুমি সেই কার্ড নিয়ে হাসপাতালে গেলে ফ্রিতে চিকিৎসা হয়ে গেল বা তুমি কলকাতা আসার পর তোমার চেষ্ট পেইন শুরু হয়ে গেল হয়ত অ্যাঞ্জিওপ্লাষ্টি বা অ্যাঞ্জিওগ্রাম করতে হবে, সেই সমস্তটা ওই কার্ডে হবে। এটা দেশের যারা নাগরিক, অল ওভার দ্য কান্ট্রি, যার নাম দিয়েছিল হেলথ এনটাইটেলমেন্ট কার্ড, তার মধ্যে সব পরিষেবা পাওয়া যাবে না। তুমি যদি তোমার পেটের চর্বি কমাতে চাও তার টাকাটা সরকার দেবে না কিংবা কেউ টাকে চুল বসাতে চায় তার টাকাও সরকার দেবে না। কিন্তু প্রাইমারি, সেকেন্ডারি এবং টারশিয়ারি কোন্ লেভেলে কী কী অত্যাবশ্যক পরিষেবা পাওয়া যাবে তার জন্য একটা তালিকা তৈরি হবে, তা স্টেট লেভেলে ভ্যারী করতে পারে। কিন্তু, ওরা যেগুলোর জন্য তীব্রভাবে আপত্তি জানিয়েছিল তা হলো, ইউজার ফি, দু টাকা করে টিকিটের দাম, পরীক্ষা বাবদ কিছু পয়সা নেওয়া। এটা নিয়ে একটা স্টাডি আছে, সেই স্টাডি করেছিল, যার নাম তুমি বলতে বলতে বললে না, সে ছিল ডাঃ সিদ্ধার্থ গুপ্ত আর জে.এন.ইউ.-এর একজন ইকনমিকসের অধ্যাপিকা। তারা মিলে একটা স্টাডি করেছিল। দেখা গেছিল ইউজার ফি শুরু হওয়ার পর থেকে সরকারি পরিষেবা, গরিব মানুষের অ্যাকসেস করা, কমে গেছে। তো এই কমিটিও ইউজার ফি-র বিরোধিতা করে। দ্বিতীয় বিষয় হলো, স্বাস্থ্য বিমা। এক্ষেত্রে সরকার প্রিমিয়াম দিয়ে দেয়। এই ধরনের বিমা ব্যবস্থার বিরোধিতা করে এই কমিটি। কমিটির রিপোর্ট আমাদের হাতে আসে ২০১৩ তে। আমাদের কিছু আলাপ আলোচনা হয়। একটা আলোচনা শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালে হয়েছিল। তারপর অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস্-এ হয়, হওয়ার পর আমরা ঠিক করি এটা নিয়ে আমরা মানুষের মধ্যে প্রচার করতে যাব, আমরা অলরেডি সেটাকে টাস্ক হিসেবে নিই, কারণ এর আগেও আমরা ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ারের কথা বললেও যেভাবে এখানে একদম ফর্মুলেটেড ওয়েতে তা এসেছে তা আমাদের কাছে ছিল না। ওদের মূল বক্তব্য হচ্ছে, সরকারকে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়াতে হবে, ২০১০-এ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় ছিল জিডিবি-র ৪.১%.. এই ১.৪% খরচ করত সরকার, বাকিটা ছিল রোগীর আউট অফ পকেট একসপেন্স। ওরা হিসেব করে দেখেছিল, ২০১৭-র মধ্যে যদি এটাকে বাড়িয়ে ২.৫ % করা হয়, ২০২২-এর মধ্যে ৩% করা হয়, তাহলে তা দিয়েই এসেনসিয়াল প্রাইমারি সেকেন্ডারী ও টারশিয়ারি সমস্ত সার্ভিসগুলোই দেওয়া সম্ভব। যেখানে সরকারি পরিকাঠামো নেই, সেখানে ওরা সাজেস্ট করে, বেসরকারি জায়গায় থেকে এগুলো কেনা হবে। সেটাও রোগী কিনবে না। এখন যেমন কোনো সরকারি হাসপাতালে কিছু না থাকলে বলে দেয় যে এটা আমাদের এখানে হবে না, অন্য জায়গায় পয়সায় কুলালে করলে, না-হলে করলে না। একটা অটোনমাস কমিটি থাকবে, যারা বেসরকারি জায়গা থেকে সার্ভিসটা কিনবে। এই রিপোর্টের বিশেষত্বের দিকটি হলো, এটা শুধুমাত্র হেলথ সার্ভিসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, সোশ্যাল ডিটারমিনেন্টস অফ হেলথ, এগ্রিকালচার, ওয়াটার সাপ্লাই, এডুকেশন সবগুলো নিয়েই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ছিল এতে। আমরা শ্রীনাথ রেড্ডি কমিটির সুপারিশ ও ২০১২-তে প্রকাশিত প্ল্যানিং কমিশনের যে প্ল্যান ডকুমেন্ট সেটা নিয়ে মানুষের মধ্যে যাওয়া শুরু করি, শুরুতে অনেকে ছিল। আস্তে আস্তে রিঅ্যালাইনড হতে থাকে।

২০১৩ এর ৭ই এপ্রিল আমরা একটা মিট করি সেখানে কিছুজন তাঁদের কতগুলো অস্বস্তির কথা বলেন, কালধ্বনির সম্পাদক প্রশান্ত দা, ডাঃ শোভন পান্ডা এঁদের মনে হতে থাকে আমরা পলিটিকাল কিছু তৈরি করতে যাচ্ছি, তো ওঁরা বেরিয়ে আসেন। জয়াদি আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে আসেননি, কিন্তু প্রথম থেকেই তিনি ততটা সক্রিয় ছিলেন না। আমরা এই বিষয়ে কথোপকথন চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। অনেকগুলো সংগঠন নিয়ে ২০১৫-র আগস্টে অল ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ ফর অল ক্যাম্পেন কমিটি নামে প্রায় ৫০টা অর্গানাইজেশন, কৃষক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন, বিজ্ঞান সংগঠন যৌথভাবে যে জেলাগুলোতে আমাদের কন্ট্যাক্ট আছে সেখানে আমরা ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ারের মূল ধারণাটা নিয়ে যাওয়া শুরু করি। ২০১৬-র জানুয়ারি মাসে একটা কনভেনশন হয়, শ্রীনাথ রেড্ডি, ডাঃ অরুণ সিং, বিনায়কদা এসেছিলেন। সেখান থেকে আবার ক্যাম্পেনটা চালিয়ে নিয়ে যাই, ২০১৭-তে আমরা উদ্যোগ নিই, দিল্লি এইমসে একটা কনফারেন্স করি এবং এইমসের যে রেসিডেন্ট ডক্টরস এসোসিয়েশন এবং স্টুডেন্টস ইউনিয়ন, তাঁরাও ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ারকে তাঁদের গোল হিসেবে নেন এবং ওঁরা ক্যাম্পেন শুরু করেন। উত্তরের কোনও রাজ্যে আমরা বলতে গেলে যে প্রভাব পড়ে, ওরা বললে তার প্রভাব ডেফিনিটলি ভালো পড়ে। ২০১৭-তে আমাদের এনগেজমেন্ট, আমার বা শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগের এনগেজমেন্ট ডাক্তারদের সংগঠন, ডাক্তারদের আন্দোলনে বাড়ে। এর আগে ডাক্তারদের সংগঠন আমি তো করিনি, এখানে আমরা একই বিষয়ে গুরুত্ব দিই। প্রথমে যখন আমরা একসঙ্গ চলা শুরু করি তখন লোকজনের ধারণা ছিল যে মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে হবে মুখ্যমন্ত্রী একটা কড়া স্টেটমেন্ট দেবেন এবং হাসপাতালে হিংসা বন্ধ হয়ে যাবে। তখন আমরা যেটা বলি আসলে তা হচ্ছে ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার। এটা এনিসিয়ালি অনেকে বুঝতে পারেন। ২০১৮-তে গিয়ে বাকি সংগঠনগুলো ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ারের পক্ষে কথা বলতে থাকে, এমনকি ২০১৯ এর ইলেকশনের আগে আমাদের জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরস্ থেকে ‘ডক্টরস্ ম্যানিফেস্টো’ আমরা বার করেছিলাম সেখানেও আমরা ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার এবং স্বাস্থ্য খাতে জিডিপি-র ৫% বরাদ্দ দাবি করেছিলাম।

পাশাপাশি আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্যসাথী এগুলো আসলে কিছুই না, এগুলোতে সরকার যে টাকাটা দেয়, সেটা হচ্ছে হসপিটালে খরচ, আমাদের দেশে স্বাস্থ্যের জন্য প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ খরচ হচ্ছে আউটডোর কেয়ার, ডাক্তার দেখানো, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ কেনা, তার কোনোটাই এরা বহন করে না এবং ইনডোর কেয়ারেরও পুরোটা বহন করে না।

আমরা : আরও কয়েকটা ছোট ছোট প্রশ্ন।

একটা হচ্ছে অভয়ার বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে আন্দোলনকারীদের তরফ থেকে কী কী প্রস্তাব রয়েছে আর এই বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য কি কোনো উদ্যোগ নেওয়া যায়?

পুণ্যব্রত গুণ : আমাদের দেশের যে বিচারপ্রক্রিয়া তা দীর্ঘ, এটা সত্যি। তা কারুর অজানা নেই, ব্যক্তিগতভাবে আমায় যদি প্রশ্ন করো, পুলিশ-মিলিটারি-আইনব্যবস্থা এরা সবসময় ব্যবস্থাটাকে টিকিয়ে রাখতেই চেষ্টা করে। যখন এরা মানুষের পক্ষে কোনও রায় দেয়, তা সাধারণত চাপে পড়ে দেয়। চাপ ছাড়া, ‘জজ খুব ভালো, সেজন্য সে রায় দিয়ে দিল’। চন্দ্রচুড়ের বাবা তো ভালো ছিলেন, ভালো ভালো রায় দিতেন! তো জুনিয়র চন্দ্রচুড় অতটা ভালো রায় দিলেন না! এই ভাবনা থেকে বেরোনো দরকার। প্রতিটি রায়ের পিছনে বহুবিধ কারণ থাকে। তাতে প্রচলিত আইন, বিভিন্ন রায়, দেশের সংবিধান, আইনজীবীর দক্ষতা ও নৈপুণ্য এবং শাসকের মনোভাব সবেরই ভূমিকা থাকে।

আমার মনে হয়, বিচারে সময় লাগবে, বিচার সুপ্রিম কোর্টে বা হাইকোর্টে হবে না, হবে লোয়ার কোর্টে। আমরা শুনেছি ১২৮ জন সাক্ষীর তালিকা তৈরি হয়েছে, সপ্তাহে ৫ দিন করেও যদি শুনানি হয়, তাহলেও এটা লম্বা সময় লাগবে। কিন্তু, সিবিআই ঠিকমত তদন্ত করবে কিনা, এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন! কারণ সিবিআই-এর হাতে এরকম অনেকগুলো বড় বড় মামলার কথা শুনেছি আমরা, যাতে অশ্বডিম্ব প্রসব হয়েছে। তাই সিবিআই ঠিকমত তদন্ত করবে কিনা ও কোর্ট দ্রুততার সঙ্গে শুনানি করবে কিনা সেটা নিশ্চিত করার জন্য রাস্তার যে আন্দোলন সেটাকে চালিয়ে যেতে হবে।

আন্দোলনটা চালিয়ে যেতে হবে, এখন শোনা যাচ্ছে, আন্দোলন স্তিমিত হয়ে গেছে। এটা সরকার বলছে, বিরোধীরাও বলছে এবং সাধারণ মানুষও অনেকে বলছেন। কিন্তু কমিটেড লোকদের একজোট করে আন্দোলনের ধারাটাকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়া এটা আমাদের কাজ, সেই জায়গা থেকেই আমরা অভয়া মঞ্চ বলে একটা মঞ্চ তৈরি করেছি। আমাদের আন্দোলনে বিভিন্ন পেশার অসংখ্য মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে যোগদান করেছেন। তাঁদের সংগঠিত করা জরুরি। এই প্রস্তাব প্রথম আসে ঘটনার ৭ দিনের মধ্যেই সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে। কিন্তু, যে সংগঠন বিজেপির গলায় গলা মেলায়, তাঁদের সঙ্গে যাওয়ার কোনও কারণ-ই নেই। আন্দোলনের মধ্যে অনেকগুলো নাগরিক সংগঠন যেমন যোগ দিয়েছে, তেমনি ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান এবং মহামেডানের সমর্থকেরা, শিল্পীদের বিভিন্ন সংগঠন, মেয়েদের বিভিন্ন সংগঠন প্রবল ভাবে আন্দোলনে থেকেছেন। তাঁদের সবাইকে নিয়ে আমরা পয়লা অক্টোবর একটা মিছিলের ডাক দিয়েছিলাম, যেটা কলেজ স্কোয়ার থেকে আকাদেমি অবধি, ৮ কিমি দূরত্বের পথ, তাতে প্রচুর মানুষ আসেন। তারপর ১৪ দিন বাদে ‘দ্রোহের কার্নিভাল’ হয়। যাঁরা ১৪ আগস্ট রাত দখল করেছিলেন, তাঁরা সহ আরও বহু সংগঠন এবং মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে আসেন। তখন আমাদের মনে হয়, একটা ফর্ম দেওয়া উচিত, আলাপ-আলোচনা শুরু হয়। আমরা অভয়া মঞ্চ গঠনের উদ্যোগ নিই। শুরুর দিনে ছিল ৮০ টা সংগঠন, পরে ১১৩-তে এসে দাঁড়ায়।

আমরা এখন অভয়া মঞ্চের মাধ্যমে ডাক দিচ্ছি নাগরিক আন্দোলনের। শেষ যে মিছিলটা হল সেই মিছিলে জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট ও অভয়া মঞ্চের ডাকেই একদিনের মধ্যে বহু মানুষ জড়ো হয়েছেন। এখন বিভিন্ন জেলাগুলোতেও অভয়া মঞ্চ তৈরি হচ্ছে, অভয়া মঞ্চের শাখা নয়, কিন্তু এই নামেই।

চেষ্টা করছি বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠন যাতে পারস্পরিক দূরত্ব সত্ত্বেও এই ইস্যুতে সঙ্ঘবদ্ধ অবস্থান নিতে পারে।

আমরা : আর জি কর আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ছুঁতমার্গ কি আন্দোলনকে দুর্বল করে তুলেছে বা তুলবে বলে মনে হয়?

পুণ্যব্রত গুণ : বিজেপি সম্পর্কে অবশ্যই সচেতন দূরত্ব আমরা রেখে চলবো, কিন্তু বেশিরভাগ বামপন্থী সংগঠন এবং নাগরিক অধিকার, নারী অধিকার এবং প্রান্তিক যৌনতার অধিকার নিয়ে যাঁরা কাজ করে চলেছেন, তাঁদের সবার সঙ্গে আমরা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার চেষ্টা করছি।

আমরা : বিভিন্ন মত ও পথের হলেও এঁদের প্রত্যেকের মূল লক্ষ্যটা তো এক্ষেত্রে একই…

পুণ্যব্রত গুণ : এক্ষেত্রে সবাই এক জায়গায় রয়েছেন এটা ঠিকই, তবে পরস্পরের মতাদর্শগত দূরত্ব এবং সংকীর্ণ স্বার্থের সংঘাত সামাল দিয়ে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা আমাদের সবার কাছেই একটা চ্যালেঞ্জ। আমরা চেষ্টা করছি সেই ঐক্যবদ্ধ সুরটা ধরে রাখতে।

আমরা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় উদ্যোগ নিচ্ছি। উত্তরবঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। সবাই মিলে ভাগ করে নিচ্ছি যোগাযোগ গড়ে তোলার দায়িত্ব।

আমরা : একটা বিষয় লক্ষ্য করছি আমরা, মিডিয়া এখন বাংলাদেশ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এক শ্রেণির মিডিয়া আর জি করের ঘটনা মানুষের মন থেকে ভুলিয়ে দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা করছে। কীভাবে বড় মিডিয়াগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়? এই বিষয়ে কোনও ভাবনা চিন্তা?

পুণ্যব্রত গুণ : মিডিয়া হাউসগুলো বড় বা ছোট যাই বলি না কেন, বেশিরভাগই কারোর না কারোর নিয়ন্ত্রণে চলে। এক্ষেত্রে অবশ্যই স্বাধীন মিডিয়াগুলো ব্যতিক্রম। যারা আমাদের সমর্থনে খবর করছে তাদেরও নিয়ন্ত্রণ আছে। কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করবো এবং এই বাহিনীটা আমরা তৈরি করার চেষ্টা করছি, কে সিপিএম কে নকশালপন্থী ইরেসপেক্টিভ অফ দ্যাট। অভয়া মঞ্চের মধ্যে যে সংগঠনগুলো আছে তাদের নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ আমরা নিয়মিত ভাবেই নিয়ে চলেছি। কোনও উদ্যোগ নিলেই, প্রেসের লোককে ডেকে এনে খবর করে দেওয়া আমাদের কাজের স্টাইল নয়, আমরা ধারাবাহিক ভাবে কাজটা করতে থাকব যখন খবর হওয়ার মত হবে, তখন খবরের কাগজ খবর করবে।

আমরা : আরেকটা প্রশ্ন বা অভিযোগ যেটা বারবার উঠছে, এ আন্দোলন মূলত ডাক্তারদের আন্দোলন, শহুরে এলিট ক্লাসের মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ…..

পুণ্যব্রত গুণ : অভিযোগ না, এর মধ্যে সত্যতাও আছে। এলিট ক্লাস না হলেও শহুরে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, কিছু নিম্নবিত্ত মানুষও আছেন। গ্রামের মানুষের কাছে এখনও সেভাবে পৌঁছোতে পারিনি আমরা। কিন্তু, আমরা যখন গ্রামে যাচ্ছি বা প্রান্তিক জায়গায় যাচ্ছি তখন আমাদের কথাবার্তাগুলোয় মানুষের সমর্থন পাচ্ছি। আমরা শাসকের কাছে থ্রেট হয়ে উঠতে পারব তখনি যখন আমরা প্রান্তিক মানুষদের কাছে পৌঁছোতে পারব। সেজন্য আমরা একটা বড় প্রোগ্রাম নিয়েছি সেটা কবে করা যাবে, কীভাবে করা যাবে, সেটা নিয়ে এখন প্ল্যানিং প্রস্তুতি বাকি আছে, জয়নগর থেকে জয়গাঁও। যেসব জায়গাগুলোতে নারী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে, সেই সব জায়গাকে ধরে আশেপাশের মেডিকেল কলেজগুলোকে নিয়ে প্রায় দু’ হাজার কিলোমিটার পথ আমরা অতিক্রম করবো প্রতিবাদী জাঠা নিয়ে। শেষে বড় জমায়েতের ভাবনা রয়েছে। তবে পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কথাবার্তা চলছে।

আমার যেটা মনে হয়, এই আন্দোলনে মানুষের সাড়া দেওয়ার প্রধান জায়গা হল থ্রেট কালচার, ভয়ের পরিবেশ, এটা নিয়ে মানুষ উত্যক্ত হয়ে আছেন, তাঁরা তাঁদের মুখ খোলবার জায়গা হিসেবে আন্দোলনটা পেয়েছেন, তাঁরা তাঁদের বিতৃষ্ণা প্রকাশ করছেন সরকার সম্বন্ধে।

আমরা : এক দু’ বছরের মধ্যে যদি অভয়ার ওপর নির্যাতন ও হত্যার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যায়, তাহলে কি এই আন্দোলন থেমে যাবে?

পুণ্যব্রত গুণ : এটা শুধু অভয়ার জন্য নয়, আর যাতে অভয়া…২…৩…৪…না হয়, তার জন্য। আমরা যারা সংগঠক তারা থামিয়ে দেওয়ার কোনো জায়গায় নেই এবং মূল দশ দফা দাবির ভিত্ততে টেনে নিয়ে যাবো এই আন্দোলন। যত দিন না সব দাবি আদায় হয়।

PrevPreviousঅভয়া মঞ্চকে শ্রমজীবী ভাষার কিছু প্রশ্ন এবং আহ্বায়কদের উত্তর ৩
Nextরাজারহাট গৌরাঙ্গ নগরে অভয়া মঞ্চ, বৃহত্তর বিধাননগরNext
4.5 2 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট

কলেজ নির্বাচনের স্মৃতি

April 15, 2026 No Comments

সালটা ২০১১, আমরা মেডিক্যাল কলেজে তখন সদ্য পা দিয়েছি। গল্পটা শুরু হয়েছিল তারও আগে, রেজাল্ট বেরোনোর পরপরই। বিভিন্ন দাদা দিদিরা বাড়ি বয়ে একদম ভর্তির সমস্ত

এসো হে বৈশাখ…এসো বাংলায়

April 15, 2026 No Comments

SIR এবং আমাদের পশ্চিমবঙ্গের মানুষ

April 15, 2026 3 Comments

ভোটের দোরগোড়ায় পশ্চিমবঙ্গবাসী। ইতিমধ্যে SIR তথা Special Intensive Revision (বিশেষ নিবিড় সংশোধন)-এর কল্যাণে এবং প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সহজ কথায়,

What Does it Mean to Be a Revolutionary Doctor Today? (Part 3)

April 14, 2026 1 Comment

Micro-Institutions in Practice: A Workers’ Health Model In the earlier parts, I tried to touch upon the dilemmas faced by young professionals and the broader

।।অভয়া আন্দোলন দ্রোহের দলিলঃ একটি প্রতিবেদন।।

April 14, 2026 No Comments

ডাঃ পুণ্যব্রত  গুণ সম্পাদিত “অভয়া আন্দোলন দ্রোহের দলিল” বা ডক্টরস ডায়লগ সংকলন এক কথায় এই দশকের প্রতিষ্ঠান বিরোধী গণ আন্দোলনের যে ধারাবাহিকতা বা দুর্নীতিপরায়ণ শাসকের

সাম্প্রতিক পোস্ট

কলেজ নির্বাচনের স্মৃতি

Dr. Subhanshu Pal April 15, 2026

এসো হে বৈশাখ…এসো বাংলায়

Abhaya Mancha April 15, 2026

SIR এবং আমাদের পশ্চিমবঙ্গের মানুষ

Dr. Jayanta Bhattacharya April 15, 2026

What Does it Mean to Be a Revolutionary Doctor Today? (Part 3)

Dr. Avani Unni April 14, 2026

।।অভয়া আন্দোলন দ্রোহের দলিলঃ একটি প্রতিবেদন।।

Shila Chakraborty April 14, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

617799
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]