২৫ অক্টোবর ২০২৬
শারদোৎসব বাঙ্গালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনোৎসব। বহু শতাব্দী ধরে ভিন্ন ধর্মের ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থান বাংলার সংস্কৃতির যে সমৃদ্ধ সমন্বয়বাদী চরিত্র গড়ে তুলেছিল তাকে মূল থেকে উৎপাটন করে সনাতনী পুজোর নামে বিদ্বেষ আর ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা হল ২০২৬ এর দুর্গাপুজোয়। রাজ্যজুড়ে বাম গণতান্ত্রিক সংগঠনের বুকস্টল ভাঙ্গা, বই ধ্বংস করা এবং চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু – এই বছরের শারদোৎসবকে বিষাদের অন্ধকারে আচ্ছন্ন করল।
পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনীর অনুপস্থিতি এবং সরকার পরিবর্তনের পর নব গঠিত পূজা পরিচালন সমিতির চরম অনভিজ্ঞতা গত ১৭ অক্টোবর চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার জন্য সম্পূর্ণ ভাবে দায়ী। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সিতে কর্মরত সমস্ত জুনিয়র ডাক্তাররা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ‘স্টেবল’ করে, ভর্তি করার কাগজপত্র তৈরি হয়ে যাওয়ার পরে খোদ উপরমহল থেকে রোগীর পরিবারের কাছে প্রস্তাব আসে সরকারি খরচে প্রথম শ্রেণির বেসরকারি হাসপাতাল এপোলো তে চিকিৎসা করানোর। স্বাভাবিক ভাবেই এই অপশন অনেকে নেন। প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে এই প্রস্তাব কার্যত মেনে নেয় যে এশিয়ার প্রাচীনতম এবং ভারতবর্ষের ইতিহাসের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী মেডিক্যাল কলেজে উন্নতমানের চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। চিকিৎসক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একাধিকবার হাসপাতাল পরিদর্শনের পরেও ইমার্জেন্সির সমস্যাগুলির সমাধান হয়নি। সরকারি পরিকাঠামোর উন্নতি না করে বেসরকারি হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া কোন স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। ২০২৪ এর অভয়া আন্দোলনে জুনিয়র ডাক্তারদের অন্যতম দাবি ছিল সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নতি। অভয়া আন্দোলনের সরকারবিরোধী ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় এলেও অভয়ার বিচার যেমন এক পা ও এগোয়নি, হাসপাতাল পরিকাঠামোরও এক বিন্দু উন্নতি হয়নি।
জুনিয়র ডাক্তাররা সমস্ত রোগীর চিকিৎসা সম্পূর্ণ করে সাংবাদিক বৈঠক করে এই পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলি তুলে ধরেন। ইমার্জেন্সিতে জরুরি ওষুধ, ABG মেশিন এবং পর্যাপ্ত ট্রমা কেয়ারের ব্যবস্থা নেই- যখন এই ঘাটতিগুলির কথা জুনিয়র ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন, তখন তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক দিক থেকে রাজনীতি করার অভিযোগ করা হয়। কেন রাজ্যের অন্যতম প্রধান সরকারি টার্শিয়ারি হাসপাতাল থেকে আহতদের কর্পোরেট হাসপাতালে পাঠাতে হল, সেই প্রশ্নও তোলেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যভবনে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে কার্যত জুনিয়র ডাক্তার এবং ইন্টার্নদের সার্ভিসরুল অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবার হুমকি দেন।
আমরা অভয়া মঞ্চের পক্ষ থেকে জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি হুমকি ও প্রতিহিংসামূলক আচরণের তীব্র নিন্দা করছি। যে তরুণ ডাক্তাররা অক্লান্ত পরিশ্রম করে রোগিদের প্রতি দায়বদ্ধতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এবং রোগিদের স্বার্থে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল অবস্থাকে সামনে নিয়ে এসে সরকারি রোষের শিকার হয়েছেন তাঁদের প্রতি সংহতি জানাচ্ছি।










