সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে নীচের এই ছবিটা পেলাম।
শোন ভাই সেদিনের চারানার ধর্মের কারবারি।
তোর বাবাদের হেডঅফিসে এই সেই যেদিন থেকে জাতীয় পতাকা ওড়াতে শিখেছিস, তার অনেক আগে থেকেই মেডিকেল কলেজের রাজনৈতিক স্টেকহোল্ডার মোটামুটি ডিএসএই। তুই জানিসও না ২০০৭ এর ভরা সিপিএম জমানায় ডিএসএর মুভমেন্টের ইতিহাস। তুই শুনিসই নি ২০১১ এ তৃণমূলের প্রবল হাওয়ার মাঝে মেডিকেল কলেজের অ্যাড ব্লকের সামনের পিচে ডিএসএর মাটি কামড়ে পড়ে থাকার দিনগুলোর কথা। তুই ভাবতেও পারিস না ২০১৮ র ভরা তৃণমূলের বাজারে, যখন তোদের এখনকার নেতারা সেই জমানার দাঁত- নখ বের করেই তৃণমূল করছে আর তুই মমতা ব্যানার্জীর নামে একটা ফেসবুক পোস্ট করতে গেলে প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলছিস, তখন এই ডিএসএই কুড়ি দিনের ভুখা পেটের আগুন ঝরিয়ে মেডিকেল কলেজের বুকে আবীর উড়িয়েছিল… সেই ছবি বেরিয়েছিল আনন্দবাজারের প্রথম পাতায়, দেখে নিস ভাইটি…
২০০৭, ১১, ১৮ তে ইউনিয়নে ডিএসএ ছিল না ভাই। মাথার ওপর কোনও রাজনৈতিক দলের হাত ছিল না। তাও মেডিকেল কলেজের বুকে ডেমোক্রেটিক অক্সিজেনটা ডিএসএর প্লান্ট থেকেই সাপ্লাই হত। আজ যখন এই পোস্টটা সারকুলেট করাচ্ছিস তখন অবশ্য মেডিকেল কলেজের স্টুডেন্ট ইউনিয়নে অ্যাবসোলিউট মেজরিটিতে ডিএসএই। উঁহু, ভোট চুরি করে করতে হয়নি, ডেমোক্রেটিক ম্যান্ডেটেই…
একটা কলেজ ক্যাম্পাসের অক্সিজেন লাগে জানিস তো ভাই! রাজনৈতিক সচেতনতা লাগে৷ ডিএসএ ছিল বলে মেডিকেল কলেজের বাতাসে অক্সিজেন ছিল, রাজনীতির চোরা আগুন ছিল, সচেতনতা ছিল। আছে। সেই রাজনীতির মধ্যে সবকিছু ঠিক ছিল না (যেমন কোনও “নীতি”তেই থাকে না), কিন্তু ক্যাম্পাসে কোনওদিন অরাজনৈতিক শরশয্যা তৈরি হয়নি।
আর এর পাশাপাশি, তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরাও কেউ শান্তিতে ছিল না কোনওদিন। অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও জানত কিছু “বাজে ছেলেপিলে আছে যারা সবসময় ঝামেলা করে। টুক করে একটা নোটিশ দিয়ে হস্টেলটায় তৃণমূলের পার্টি অফিস বানিয়ে ফেলা যাবে না।” যায়ও নি…
ডিএসএ অরাজনীতির ধান্দাবাজি আর দলবদলের সুবিধেবাদটা কোনওদিন করেনি বলেই, মেডিকেল কলেজের রাজনৈতিক ক্যাম্পাসকে বাঁচিয়ে রেখেছিল বলেই, যখন রাজনীতির প্রয়োজন হয়েছে তখন গোটা মেডিকেল কলেজ ঝাঁপিয়ে পড়েছে, লিড করেছে।
তুই ২০০৭, ১১, ১৮ না দেখলেও অভয়া আন্দোলন দেখেছিস নিশ্চই? সেই ইস্পাতের মত শাণিত দিনে মমতা ব্যানার্জী যখন বলছেন “উৎসবে ফিরুন” আর তাঁর বাড়ির সামনে বৃষ্টিতে ভিজে জুনিয়র ডাক্তাররা দাঁড়িয়ে আছে, মনে পড়ে সেই ভাইরাল ছবি? সেই মানুষগুলোর মধ্যে একদম সামনের সারিতে যে মুখগুলো ছিল তারা মেডিকেল কলেজের ভেতর বিরুদ্ধ ছাত্ররাজনীতির, কিন্তু তার বাইরে তারা সামগ্রিকতায় “রাজনৈতিক”। কাঁধে কাঁধ মেলানো বন্ধু। তাই তারা একটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে গলা তোলার, মেরুদন্ড সোজা রাখার সেই সাহস পেয়েছিল, সেই সাহস ছড়িয়ে দিয়েছিল সবার মধ্যে… আজ মমতা ব্যানার্জী আর তার দোর্দন্ডপ্রতাপ দল ফুরিয়ে গেছে, যারা বলেছিল “ক্ষমতায় আসলে এক মাসের মধ্যে অভয়ার বিচার দেব” তাদের চোখের সামনে দিয়ে এই সেদিন বেইল পেয়েছে সন্দীপ ঘোষ। মেডিকেল কলেজের সেই ছেলেমেয়েগুলো কিন্তু রাত্রে ঘুমোতে যাওয়ার আগে আয়নায় নিজেদের দিকে তাকাতে পারে এখনও। রাজনৈতিক বলেই। তুই, তোরা পারিস কিনা জানাস।
শোন ভাই সেদিনের আটানার অনড় চাড্ডি, ডিএসএকে নিয়ে, মেডিকেল কলেজকে নিয়ে পোস্ট করার আগে একদিন মেডিকেল কলেজে আয় বরং। অধিকার নিয়ে কথা হোক, প্রতিনিধিত্ব নিয়ে কথা হোক, স্টেকহোল্ডার নিয়েও হোক। সবার মতামত। সবার অধিকার। ইত্যাদি প্রভৃতি… যেগুলো তুই বা তোরা, নিজেরাই সারাদেশ জুড়ে করছিস না, করতে দিচ্ছিস না, ডিএসএ, মেডিকেল কলেজ তোকে সেই স্পেসটুকু, বাতাসটুকু দেবে এটা হলফ করেই বলতে পারি৷
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করা না যাক, এ শিশুকে এ বিশ্বের বাসযোগ্য করার কাজটা মেডিকেল কলেজের বাতাস এখনও করতে জানে।












