২৩ জানুয়ারী, ২০২৬
জেলায় জেলায়, কলকাতার রাস্তায় বারেবারে আমরা হাজার হাজার মহিলাদের দেখতে পাচ্ছি দাবি আদায়ের আন্দোলনে, প্রতিটি গ্রাম শহরে যাদের ছাড়া বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে ভূমিষ্ঠ হওয়ার অপেক্ষায় থাকা শিশু, নবজাতক, নানা বয়সের শিশু এবং মাদের। আরও কত অজস্র কাজ যে এই আশা দিদিরা করে থাকেন তা ভাবাই যায় না। Covid এর সময়ে ভয়ে যখন কেউ বেরোত না, এই আশা দিদিরা চালিয়ে গেছেন তাদের কাজ।টিকা দেওয়া, বাচ্চারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছে কিনা, গর্ভবতী মেয়েরা সঠিক পরিষেবা পাচ্ছে কিনা, সব দেখার দায়িত্ব তাদের। অথচ তাদের দেখার দায়িত্ব সরকার নেবে না। ৫২৫০ টাকায় বর্তমান সময়ে কিভাবে সংসার চলে? যে রোজ এলাকার সব বাচ্চা দুধ পেল কিনা তার খবর রাখে তার নিজের বাড়ির বাচ্চা হয়তো দুধ পায় না। কে খবর রাখে তাদের?
কোটি কোটি টাকা খরচ করে মন্দির মসজিদ তৈরি হচ্ছে, বিধায়ক মন্ত্রীদের ভাতা কয়েক গুণ লাফিয়ে বাড়ছে। অথচ রোজ যারা প্রাণপাত করে একেবারে গোড়ার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রেখেছে তাদের মাইনে বাড়াতে সরকারের খুব কষ্ট হচ্ছে। যে কোনো একজন মন্ত্রী বা বিধায়ক, যিনি কিনা সমাজের কাজ করবেন বলে মন্ত্রী/বিধায়ক হয়েছেন, তাকে ৫২৫০ টাকা মাইনে দিয়ে বলা হোক সংসার চালান।পারবেন কিনা দেখা জরুরী।
অর্ধেক আকাশের এই অবহেলা সমাজ মেনে নেবে না। এই অবজ্ঞা অবহেলার মধ্যেই হয়ত লুকিয়ে আছে নারী নির্যাতনের বীজ।
অন্তত ১৫০০০ টাকা মাসিক আয়ের ব্যবস্থা সহ বাকি সব কটি দাবি যা অত্যন্ত যৌক্তিক, অবিলম্বে সরকারকে পূরণ করতে হবে। রাজ্যের সরকার দেশের সরকার কেউই এই দায় অস্বীকার করতে পারে না। প্রাপ্য অর্থ চেয়ে,অধিকার চেয়ে, পুলিশের মার খেতে হচ্ছে এই আশাকর্মীদের। এ লজ্জা রাখবো কোথায় আমরা? সমাজবিরোধীরা শাস্তি পায় না,আদর পায় এ রাজ্যে। আর আশা দিদিরা পায় লাঠির বাড়ি। ছিঃ।
তবে শাসক সাবধান। আশা দিদিরা রাজ্যবাসীকে শেখাচ্ছেন কি ভাবে আন্দোলন করতে হয়। কুর্নিশ তাদের। তাদের এই লড়াইয়ে পাশে থেকে, আমরা গর্বিত হতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি “কোনো অন্যায় দেখেও আপনি যদি নিরপেক্ষ থাকেন তাহলে আপনি অত্যাচারীর দলে।” তাই আমরা আশাকর্মীদের সঙ্গে স্বর মিলিয়ে বলতে চাই “অধিকার কেড়ে নিতে হয়” তা নেবই আমরা।










