“মজনু শা ঘোড়া থেকে আহত হয়ে পড়ে গেলেন, বুকে হেঁটে গৃহস্থের ঘরে গিয়ে দরজায় ঘা দিলেন, তারা দেখেই দোর বন্ধ করে দিল। … যাদের জন্য মজনু শা সব ত্যাগ করেছেন, তারা আজ মজনু শার মুখের ওপর দ্বার রুদ্ধ করে দিল।” (`সন্ন্যাসীর তরবারি’, উৎপল দত্ত)
আর জি কর হাসপাতালের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পর কেটে গিয়েছে অনেকগুলো মাস। দধীচির মতো সেই মৃত্যুর অভিঘাত বজ্র হেনেছিল শুকনো শাখায়, আগুনের দীপ্তিতে আলোকিত হয়েছিল মাঠ-পাথার, রাজপথ থেকে আলপথ। তখন মিছিলের দুধার থেকে আরো অনেক মানুষের স্বতস্ফুর্ত কণ্ঠ যোগ দিত শ্লোগানে। চলমান মিছিলের জন্য থেমে যাওয়া বাস-ট্রামের জানলায় চোখে পড়ত অগুনতি প্রতিবাদী মুখ। রাষ্ট্রের রক্তচক্ষু, শাসনের হুহুঙ্কারকে অগ্রাহ্য করে সে এক অতুল স্পর্ধার উন্নত শির! যেকোনো ক্রান্তিলগ্নের প্রাক্কালে মুখ বুজে মেনে নেয়া মানুষের সটান মাথা তোলা সমাজদেহে নতুন ভ্রুণের প্রথম আগমন-বার্তা জানায়।
“সে ওপরে উঠতে থাকে … ওপরে ওঠা কিন্তু রেওয়াজ নয়, বাপ-ঠাকুরদার আমল থেকে এমন ঘটনা ঘটে নি কখনো। “ (`তীর’ – উৎপল দত্ত)
শাসক-শাসিতের, রাষ্ট্র ও নাগরিকের অভ্যস্ত হায়ারার্কি উল্টিয়ে দেয়ার এই প্রবণতা, নিম্নবর্গের ইতিহাস-সমাজতাত্বিকদের পরিভাষায় `inversion’ (Elementary Aspects of Peasant Insurgency in Colonial India– রণজিৎ গুহ), তার নিদর্শন আমরা দেখলাম উৎসবে ফেরার সরকারি ফতোয়ার বিরুদ্ধে দ্রোহের কার্নিভাল, জনতার চার্জশীট এবং মুখ্যমন্ত্রীর সামনা-সামনি নবীন চিকিৎসকদের সাহসী পাঞ্জা-কষার মধ্যে।
কিন্তু জোয়ারের কাল চিরস্থায়ী নয়। তরঙ্গশীর্ষ থেকে জল একদিন নামতে আরম্ভ করল, মিটিং মিছিলের জনসমাগম কমতে লাগল একটু একটু করে। সেটা হয়তো সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল না। যেকোনো আন্দোলনেরই জোয়ার-ভাঁটা আসে। কিন্তু মিছিলে হাঁটতে হাঁটতে অনুভব করতে পারলাম, কোথাও যেন তাল কেটে যাচ্ছে। এ শুধু সংখ্যার হিসেবে নয়, মিছিলের সাথে আশপাশের পথচারী, দোকানদার, বাড়িঘরের ছাদ বা জানলায় দাঁড়ানো কৌতূহলী মানুষজনের আগের মতো চোখে চোখে বিদ্যুৎ বিনিময় আর নেই, সেখানে যেন কিছুটা নিস্পৃহ অবসাদ। অবশ্যই ভাঁটার টান নিরবচ্ছিন্ন নয়, মাঝে মাঝে সৈকতে আছড়ে পড়া দু-একটি বড় ঢেউয়ে পুরোনো নির্ঘোষের ঈষৎ অনুরণন শুনতে পেয়েছি। তার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ অভয়ার জন্মদিনের মৌন মিছিল।
তবু সব কিছুই নিজে থেকে আবার আগের জায়গায় ফিরে যাবে, স্বাভাবিক নিয়মেই আমরা আবার আন্দোলনকে উজান গাঙে বইয়ে নিতে পারবো, এরকম আত্মশ্লাঘা থাকলে তা হবে সম্পূর্ণ ভ্রান্ত এবং বিপজ্জনক। বরং আজকের মুহূর্ত আত্মজিজ্ঞাসার: সময়ের কোন বাঁকে, কি কি কারণে অর্গলমুক্ত স্রোতের কোনো কোনো ধারা হয়তো পথ হারিয়েছে, চাপা পড়েছে বালুরাশির নিচে?
এই কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই হাতে এলো সুপরিচিত প্রাবন্ধিক অধ্যাপক শুভময় মৈত্রর আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত অভয়া আন্দোলনের বিশ্লেষণ (`গর্ব এবং সুবিধাবাদ’, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ )। লেখাটির মূল সুর বিষাদ ও নৈরাশ্যের, তিনি শুরুই করেছেন একথা বলে : “ আর জি কর কান্ডকে ঘিরে তৈরী হয়েছিল যে প্রতিরোধ, তার কি কোনো রেশই অবশিষ্ট নেই ? ” তিনি আপাতভাবে এর উত্তর খুঁজেছেন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সুবিধাবাদী দোলাচল এবং আন্দোলনের তথাকথিত অরাজনৈতিক চেহারার মধ্যে। তাঁর সংশয় এবং প্রশ্নের গুরুত্ব সম্মন্ধে সম্পূর্ণ সহমত হলেও তাঁর হতাশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে বোধহয় নিজেকে মেলাতে পারছি না। এ প্রসঙ্গে ঢোকার আগে আরেকবার ফিরে যাওয়া যাক `সন্ন্যাসীর তরবারি’ র কাছে :
“এবার ইংরেজরা ধান বিলোচ্ছে। টাকা বিলোচ্ছে। … রেনেল, এটা রেনেলের কাজ। এর আগে ওরা দুহাতে কাটতে কাটতে এসেছে আর আমরা জনমানসের আরো গভীরে প্রবেশ করেছি। এবার রেনেলের চাল — বড় ভীষণ চাল — চাল বিলিয়ে সে আমাদের নির্মূল করতে চায়, জনতার মন থেকে আমাদের উচ্ছেদ করতে চায়।”
অভয়া আন্দোলনের গোড়া থেকে রাষ্ট্র যেমন একদিকে আসল অপরাধীদের আড়াল করতে সবরকম কৌশল ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে, পাশাপাশি পদে পদে প্রতিবাদের কন্ঠরোধ করার জন্য পুলিশ-প্রশাসন এবং দলীয় সংগঠনকে পূর্ণ ব্যবহার করতে দ্বিধা করে নি। কিন্তু একটা ব্যাপার বিশেষভাবে লক্ষণীয়: কয়েক দশক আগের জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনকে যেভাবে পুলিশি লাঠির আঘাতে পিষ্ট করা হয়েছিল, বর্তমান সরকার সেই তুলনায় সরাসরি বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছুটা সংযত থেকেছে। এই সংযম কোন মহানুভবতা থেকে নয়, বরং এক বিচক্ষণ কূটকৌশল। মিছিল মিটিংয়ের অনুমতি না দিয়ে বারবার শেষ মুহূর্তে আন্দোলনকারীদের আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য করা, ব্যক্তিগত পর্যায়ে পুলিশি ভীতিপ্রদর্শন, মিথ্যা মামলা , কুৎসা, অপপ্রচার কোনোটাতেই একটুও ঘাটতি ছিল না বা এখনো নেই। কিন্তু সরকারি দমননীতি কোথাও একটা সূক্ষ্ম লক্ষ্মণরেখা অতিক্রম করে নি, শিকারী বেড়ালের মতো থাবার ফাঁকে নখের ঝিলিক দেখিয়েও শেষ মুহূর্তে গুটিয়ে ফেলেছে।
তর্ক উঠতে পারে, ডিজিটাল যুগে, মোবাইল ক্যামেরার নজরদারিতে পুরোনো কায়দায় সশস্ত্র বাহিনী লেলিয়ে দেয়া, তাও খোদ রাজধানীর বুকে, তত সহজ নয়। একই সঙ্গে সরকার হয়তো উদ্যত জনরোষের ভয়েও পিছু হটেছে। এহেন ভাবনায় আংশিক সত্য থাকলেও পুলিশি আচরণের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। আসলে `সন্ন্যাসীর তরবারি’ র হেস্টিংস আর রেনেলের মতোই স্বৈরাচারী সাম্রাজ্যবাদী শাসকের দুই মুখ: প্রয়োজনমতো কখনো আগ্রাসী, হিংস্র পেশী-প্রদর্শন, আবার কখনো আপাত-কল্যাণের মোহজাল বিস্তার করে হেজিমনি বজায় রাখা। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এই দান-খয়রাতির রাজনীতিতে বিশেষভাবে সিদ্ধহস্ত। অভয়া কাণ্ডের প্রথম পর্বে ডাক্তারদের কর্মবিরতির ফলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা-পরিষেবা পেতে অসুবিধার ভিত্তিহীন অভিযোগ ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তিনি বিরাট শোরগোল তুলেছিলেন। উদ্দেশ্য একদিকে আন্দোলনকারীদের গণশত্রু বলে দাগিয়ে দেয়া আর অন্যদিকে নিজের তথা সরকারের জনদরদী ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা। দলীয় কৌশলেও স্পষ্টত দুটি ধারা দেখা গেল, কুনাল ঘোষ প্রমুখ নেতার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে লাগাতার বিষোদগারের বিপ্রতীপে অভিষেক ব্যানার্জীর ডায়মন্ড হারবারে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য শিবির আয়োজন। সেই সাথে অসংখ্য সরকারি দাক্ষিণ্যের প্রকল্প তো ছিলই, যা আপাত জনমুখিতার এক মায়া তৈরী করে। মাঝে উৎসবে ফেরার উদ্ধত আহ্বানকে প্রতিবাদী জনতার দৃঢ়তা অনেকাংশে চুপ করিয়ে দিতে পারলেও, শীতের মরশুমে বিবিধ সরকারি মেলা আর দু হাত ঢেলে জনতোষিণী অনুদান বিতরণ মানুষের ক্ষোভকে কিছুটা হলেও বিপথে চালিত করতে সফল হল। সম্প্রতি চিকিৎসকদের এক পাল্টা সরকারপন্থী সংগঠন গড়ে তুলে তার পতাকার নিচে সবাইকে টেনে আনার চেষ্টা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে জনতার অভিভাবকের মূর্তিতে পুনর্স্থাপিত করতে চান, যা কিছু `ছোটোখাটো’ ত্রুটিবিচ্যুতি , অন্যায়-অবিচার-দুর্নীতি র উর্দ্ধে তিনি, তিনি ই কেবল পারবেন সে সবের সমাধান করতে। এমনকি, আন্দোলনের চাপে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যেটুকু বাহ্যিক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে তাও তিনি সুযোগ পেলেই নিজের কৃতিত্ব বলে আত্মসাৎ করবেন। ঠিক যেভাবে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম উত্তর কালে তাঁর উল্কাসম উত্থানের পথে তিনি জনতার ক্ষোভ ও প্রতিবাদের আগুনকে আত্মসাৎ করে নিজেকে বাংলার মুখ করে তুলতে সফল হয়েছিলেন।
সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম পর্বের সঙ্গে অভয়া আন্দোলনের তুলনা অধ্যাপক মৈত্রের লেখাতেও এসেছে। গণবিক্ষোভের প্রতিবাদী এবং পরিবর্তনকামী রূপ সেদিনও আমরা দেখেছিলাম। নতুন সমাজের আকাঙ্খার চিহ্ন ছিল সময়ের সর্বাঙ্গে। কিন্তু সেই নতুনকে সময়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ করার জন্য ধাত্রীর ভূমিকা যে বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর, তাঁদের নানা দোলাচল ও বিভ্রান্তির ফাঁক দিয়ে তৃণমূল নেত্রী আন্দোলনের রাশ স্বহস্তে নিয়ে নিয়েছিলেন। তবে অধ্যাপক মৈত্রের সঙ্গে আমি একমত নই যে, ` মধ্যবিত্তের স্ববিরোধলাঞ্ছিত মনঃপরিসর ‘ থেকেই বিক্ষোভ-বিদ্রোহের আগুন জনসমাজে ব্যাপ্ত হয়েছিল। বরং উল্টোটাই, তলদেশের তপ্ত লাভা এই ঘটনাবলীর পথ ধরে আত্মপ্রকাশ করেছিল বলেই সচেতন বুদ্ধিজীবী আর সুযোগসন্ধানী বিরোধী দলনেত্রী উভয়েই নিজেদের দৃষ্টিকোণ ও অবস্থান থেকে এই আগুনের আঁচ ব্যবহার করেছিলেন। আসলে অধ্যাপক মৈত্রের মত তৎকালীন সরকার ও বামদলের অনেকেরই সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের আন্দোলনকে নিছক প্ররোচনা বা অপপ্রচারের ফল হিসেবে ভাবার পল্লবগ্রাহী ভ্রান্তি ছিল এবং এখনো আছে। তাঁরা ভুলে যান, গণমানসের গভীরে বাম চেতনার যে শেকড় ভূমিসংস্কার ও আরো নানা আন্দোলনের মাধ্যমে প্রোথিত হয়েছিল, সংসদীয় গণতন্ত্র এবং আমলাতন্ত্রের সঙ্গে দীর্ঘ সহবাস তার ভিত আলগা করে দিয়েছিলো বহুদিন। নিচতলার সাথে সংযোগের সজীব মাধ্যম ক্ষীণ হয়ে যাওয়ার ফলে দুর্বল ভিতের খবর আর ওপরে পৌঁছায় নি। তা না হলে এক আঘাতে ক্ষমতা হারানো শুধু নয়, গ্রামবাংলার একদা দুর্জয় দলীয় সংগঠন এভাবে তাসের ঘরের মতো বিধ্বস্ত, প্রায় নির্মূল হতো না।
সরকারি বামশক্তির জনবিচ্ছিন্নতার সুযোগ ব্যবহার করে তৃনমুল নেত্রী নিজেকে সাম্যবাদী স্বপ্নের সওদাগর হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। অবশ্যই কোন মৌলিক বা প্রকৃত বামপন্থী কর্মসূচি নয়, মূলত বাম সমাজতান্ত্রিক ধারার কিছু বাহ্যিক চিহ্ন ও শ্লোগানকে ভিত্তি করে। ওপর থেকে চাপিয়ে দেয়া শিল্পায়নের ফলে জমি থেকে উৎখাত হওয়ার আশঙ্কায় ত্রস্ত কৃষকদের কাছে `মা-মাটি-মানুষ’ এর মত শ্লোগান স্বভাবতই আপন হয়ে উঠেছিল। ক্ষমতা দখলের পরেও তৃণমূল সরকার এই বহিরঙ্গের ছদ্ম-বাম কর্মসূচির ওপর জোর দিল। সাম্যবাদের বিজয়-রথ রুখতে একদা পশ্চিম ইউরোপে যেরকম `ওয়েলফেয়ার স্টেট ‘ এর উদ্ভব হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ক্ষুদ্র পরিসরে এ যেন তার এক খণ্ডিত পুনরাবৃত্তি । উদারীকরণ ও বেসরকারিকরণের চাপে দমবন্ধ সাধারণ মানুষকে কিছুটা আপাত-স্বস্তি দিয়ে সেফটি ভালভের কাজ করা এর একমাত্র উদ্দেশ্য, ছোটোখাটো অনুদান দিয়ে তাদের ভুলিয়ে রাখা যাতে অধিকারের ধারণা, শ্রেণীসংগ্রামের চেতনা ক্রমশ দুর্বল হয়ে যায়। বস্তুত পশ্চিমবঙ্গে সরকারি বামদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমে উঠলেও সাধারণভাবে বাম ভাবধারার প্রতি একধরণের শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস একেবারে মুছে যায় নি। তাই খোলাখুলি গর্বিত ধনতন্ত্রের বা দক্ষিনপন্থার অশ্বমেধের ঘোড়া চালিয়ে দিলে তা এখানে মুখ থুবড়ে পড়তো। তৃণমূল সেই জায়গাটা সুকৌশলে দক্ষিনপন্থার প্রচ্ছন্ন সমর্থনে দখল করে নিল। আর সেই অভিযানে সামিল হলেন বামপন্থী বুদ্ধিজীবীদের বেশ বড় এবং প্রভাবশালী অংশ। প্রাথমিক ভাবে এঁদের অনেকেই সম্ভবত সরকারি বামপন্থার বিপ্রতীপে উন্নততর, আরো মানবিক বাম রাজনীতির মুখ দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাজনীতির পালাবদল ঘটলে সম্মোহনী নীল রঙে রাজ্যের দিগবিদিক ছেয়ে গেল, ছদ্ম-কল্যাণের প্রকল্প দিয়ে শুধু সাধারণ মানুষকে নয়, অনেক প্রাজ্ঞ বুদ্ধিজীবীকেও মন্ত্রমুগ্ধ, বশীভূত করে।
ক্ষণস্থায়ী ফাল্গুনী স্বপ্ন থেকে জেগে, এ শহর
সাদা-নীল, নীল মানে নরকের গন্ধক-শিখার মত
জ্বলন্ত আকাশ, সাদা মানে রক্তাল্পতা, নিরম্বু মেঘের
দগ্ধ প্রান্তরের মত সময় অসাড় পড়ে থাকে
কেউ কেউ এই মায়াজাল কেটে বেরোতে পারলেন, নতুন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জাগ্রত প্রতিবাদের ধ্বনি তুলে রাজপথে নামলেন। কিন্তু আরো অনেকেই ক্ষমতার বশম্বদ হতে দ্বিধা করলেন না। তাঁদের সবাই যে শুধু ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধার জন্য এ কাজ করলেন এমনটা মনে হয় না। সদ্যপ্রয়াত প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের মত কারো কারো কাছে হয়তো শেষ পর্যন্ত তৃণমূলী মোহ-আবরণ অটুট থেকে গেছিল। যথাযথ রাজনৈতিক দূরদৃষ্টির অভাবে তাঁরা আপাত-কল্যাণের বামপন্থী ভানকে শ্রেণী-চেতনার কষ্টিপাথরে যাচাই করে নিতে পারেন নি। এই বৌদ্ধিক পল্লবগ্রাহিতার অসুখ যে কত গভীরে ছড়িয়েছে তার প্রমাণ পাই অধ্যাপক মৈত্রের মতো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ভূমিসংস্কার আর তৃণমূলী অনুদান-কর্মসূচির তুলনায়। বামফ্রন্টের গোড়ার দিকের গৌরবময় ভূমি-সংস্কারের পিছনে ছিল তেভাগা-তেলেঙ্গানার সুদীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস, দরিদ্র কৃষকের শ্রেণীচেতনা জাগ্রত করে প্রাপ্য অধিকারের জন্য সংগ্রামের অর্জন। তৃণমূলের অনুদান প্রকল্পের মধ্যে এই চেতনার বীজ নেই, বরং বিনিময়ে আনুগত্য আদায়ের শর্ত রয়েছে।
“চাষীরই ধন চাষীকে দিচ্ছে, করুণা করে নয় …নিজের ধন ফিরে পেয়ে মানুষ মনে করছে ভিক্ষা পেলাম।” (‘সন্ন্যাসীর তরবারি’)
একদা গরিবি হটাও বা ব্যাঙ্ক জাতীয়করণের আপাত-সমাজতান্ত্রিক ধাপ্পায় বিভ্রান্ত হয়ে কোন কোন বামপন্থী দল যেভাবে ইন্দিরা গান্ধীকে সমর্থন করেছিলেন, ভূমিসংস্কার আর স্বাস্থ্যসাথী-কন্যাশ্রী-যুবশ্রী ইত্যাদিকে এক বন্ধনীতে ফেলে বামপন্থী বলে দাগিয়ে দেয়ার মধ্যে সেই ঐতিহাসিক বিচ্যুতির পুনরাবৃত্তি দেখতে পেলাম।
অধ্যাপক মৈত্রের লেখায় সব মিলিয়ে ফুটে উঠেছে নৈরাশ্যের এক ধূসর ক্যানভাস। দিগ্ভ্রান্ত এমনকি বহুলাংশে সুবিধাবাদী মধ্যবিত্তের দ্বিধাদীর্ণ ভূমিকায় তিনি আন্দোলনের গতিমুখ নিয়ে সংশয়াপন্ন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পে জনপ্রিয় কবিয়ালের দুঃখ-কষ্ট-বঞ্চনার গান মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে শ্রোতারা যে প্রশ্ন করেছিল, আমাদের সে কথাই মনে হয় :
“তা তো বুঝলাম, সর্বনাশ তো হচ্ছে, কি করি তার উপায় বল। বাঁচি কিসে বাতলে দাও। ” (‘গায়েন’, উত্তরকালের গল্পসংগ্রহ)
এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরী, কারণ অন্যথায় শকুনের মত চুপিসারে অপেক্ষায় থাকা গৈরিক ফ্যাসিবাদ ঠিক সময়ে জনতার ধূমায়িত ক্ষোভকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করবে। সে প্রক্রিয়া রাজ্য-কেন্দ্র আঁতাতের মাধ্যমে শুরু হয়ে গেছে, যদিও আপাতত অন্তঃসলিলা।
সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের মত তলদেশ থেকে না এসে এক অর্থে অভয়া আন্দোলনের পাবকশিখা বজ্রের মত ওপর থেকে নেমে এসেছিল। কিন্তু আগুন কোথা থেকে এলো তাতে যায় আসে না কিছু, আসল কথা সে উত্তাপ মাটির গভীরে, সুপ্ত বীজের বুকে পৌঁছল কিনা। আন্দোলনের দীর্ঘমেয়াদি শক্তি ও সাফল্যের চাবিকাঠি সেখানেই। মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী শ্রেণীকেই ভগীরথের ভূমিকায় প্রতিবাদী চেতনার মুক্তধারাকে বাহিত করতে হবে বিস্তীর্ণ প্রান্তরের ছোট বড় নদীনালার শুকনো খাত জুড়ে। এ এক দিনের চটজলদি কাজ নয়। ওপর থেকে পুঁথিগত পাণ্ডিত্য বা তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ চাপিয়ে দিয়ে নেতৃত্ব দিলে চলবে না, মস্তিষ্কের সাথে মেলাতে হবে সজীব হৃদয় আর বাস্তবকে চেনার ক্ষমতা। সাধারণ খেটে -খাওয়া কৃষক-শ্রমিক-নিম্নবিত্ত মানুষের প্রাত্যহিকতার সাথে নিজেদের যুক্ত করে, তাঁদের জীবন ও অভিজ্ঞতা থেকে সরাসরি জ্ঞান আহরণ করে, তবেই তাঁদের রাজনীতির সঠিক দিশা দেখানো সম্ভব হবে। এ পথেই গ্রামশি কথিত সজীব বুদ্ধিজীবী (organic intellectual ) র সৃষ্টি হবে, যাঁরা রক্তবাহী ধমনীর মত ব্যাপ্ত সমাজদেহ আর বৌদ্ধিক-রাজনৈতিক নেতৃত্বের মস্তিষ্কের মধ্যে সেতুবন্ধন করতে পারবেন। নতুন দিনের স্বপ্ন আর আদর্শকে সমাজমানসের গভীরে আবার স্বমহিমায় প্রোজ্জ্বল করে তুলতে পারবেন।
বাম বুদ্ধিজীবীর এই সদর্থক ভূমিকায় প্রত্যাবর্তনের কোনো আশার বাণী অধ্যাপক মৈত্র শোনাতে পারেন নি। তাঁকে দোষ দেয়া যায় না, দলীয় রাজনীতির অন্তর্দ্বন্দ্বজর্জর ক্ষয়রোগের চেহারা তো তাঁর অপরিচিত নয়। তাঁর পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত না হয়েও পারা যায় না :
“সি পি এম নেতৃত্ব সাধারণভাবে রাজ্য বা দেশে ক্ষমতায় থাকার তুলনায় নিজেদের আঞ্চলিক কমিটিতে চেয়ার ধরে রাখায় বেশি উদগ্রীব। … দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে ব্যবস্থা পরিবর্তনের কোনো দিশা সেখানে নেই। “
তবে অভয়া আন্দোলনে দলীয় পতাকার অনুপস্থিতিকে অরাজনৈতিক বলে চিহ্নিত করার ভুল অনেকের মত অধ্যাপক মৈত্রও করেছেন। সরাসরি না বললেও তাঁর লেখার সুরে স্পষ্ট, আরো অনেকের মতোই একে তিনি আন্দোলনের দুর্বলতা বলেই মনে করেন। আসলে কিন্তু এটাই এ আন্দোলনের শক্তি। নাগরিক মঞ্চ এবং গণসংগঠন সাম্যবাদী সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং অন্যতম মূল স্তম্ভ। প্রত্যক্ষ দলীয় রাজনীতির পরিপূরক হিসেবে তো বটেই, গণসংগঠন দলের স্বাধীন বিবেকের ভূমিকায় থাকলে মানুষের থেকে দলের বিছিন্ন হয়ে পড়ার ভয় কমে। রাজনৈতিক দল সরাসরি সংগ্রামের উদ্যত বর্শামুখ, কিন্তু প্রাত্যহিক জীবনচর্যার গভীরে নতুন সমাজের স্বপ্নকে বুনে দেয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলির অনলস কর্মকান্ড। এই স্বপ্ন নির্মাণ ছাড়া সমাজ বদলের সংগ্রাম দিশা খুঁজে পেতে, সফল হতে পারে না। অতীতে গণনাট্য সংঘ কিভাবে বামপন্থী রাজনীতির জনভিত্তি তৈরি করেছিল সে ইতিহাস বহুল আলোচিত। দুঃখের বিষয়, রাজ্য এবং জাতীয় স্তরে দলীয় নেতৃত্ব বারবার গণসংগঠনের সমান্তরাল স্বাধীন সত্তাকে শেকল পরিয়ে রাখতে চেয়েছেন, তার ফলে গণসংগঠনগুলো দুর্বলতর হতে হতে গুরুত্ব হারিয়েছে। দলও হারিয়েছে জনতার নাড়ির সঙ্গে যোগাযোগের মূল্যবান সেতু। এমন একটা অবস্থা এসেছে যে, দলীয় পতাকার বাইরে মুক্ত অথচ সহমর্মী সংগঠনের রাজনৈতিক ভূমিকা অনেকাংশে বিস্মৃত।
অথচ প্রত্যক্ষ দলীয় রাজনীতির বৃত্তের বাইরে শ্রমিক সংগঠনের গৌরবময় দৃষ্টান্ত চোখের সামনেই ছিল। নব্বইয়ের দশকের গোড়ায়, সবে সোভিয়েত বিপ্লবের সৌধ ভেঙে পড়েছে, স্বদেশে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মধ্যে সূচিত হয়েছে ফ্যাসিবাদের উত্থান। স্বপ্নভঙ্গের সেই শূন্য প্রহরে সহসা এক দমকা বাতাসে একটি নাম ভেসে এসেছিল। দল্লী-রাজহরার শহীদ নেতা শঙ্কর গুহনিয়োগীর আদর্শে অনুপ্রাণিত কানোরিয়া চটকলের আন্দোলনের খবর সদ্য-তরুণ প্রজন্মের বুকে এক নতুন আশার সুর হয়ে বেজে উঠেছিল।
আমার ইচ্ছে বজ্র-মেঘে লাফিয়ে বেড়ায়
বাঁধন-হারা, লাগাম-ছেঁড়া অশ্বক্ষুরে
ইচ্ছে আমার ঘূর্ণি তোলে কানোরিয়ায়
স্বল্পস্থায়ী হলেও বিশ্বজুড়ে বামপন্থার পরাজয়ের সেই সংকটকালে এ রাজ্যের পটভূমিকায় কানোরিয়ার আন্দোলন নিয়ে এসেছিল আলোর ঠিকানা।
দহনের কাল, পুড়ে যাচ্ছে সব
ভণ্ডামির মুখোশ ছিঁড়ে রক্তিম উৎসব
ছত্রিশগড়ের অনিঃশেষ চিতা
স্ফুলিঙ্গের বার্তা পাঠিয়েছে, উদ্ভিন্ন সবিতা
প্রত্যক্ষ করছে ভস্মশয্যা থেকে ফিনিক্সের উথান
আগুনের পাখি দু ডানায় ওম মেখে উড়ে যাবে
দুঃখের বিষয়, নানা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও অন্যান্য কারণে সংগ্রামের স্বপ্ন সেদিন উড়াল দিতে পারে নি। অনেকগুলো দশক পেরিয়ে, আজ ঘটেছে এক অপূর্ব সমাপতন। শঙ্কর গুহনিয়োগীর উত্তরাধিকার বহন করে, কানোরিয়ার অভিজ্ঞতা-সঞ্জাত গণসংগঠন `শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগ ‘ অভয়া আন্দোলনের অন্যতম অগ্রণী সহযোদ্ধার ভূমিকায়। এই সংগঠন শহর ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত গ্রাম-মফস্বলে দৃঢ় শেকড় বিস্তার করেছে। এই দৃষ্টান্ত অভয়া আন্দোলনের সাফল্যের অভিমুখের এক স্পষ্ট দিশা দেয়। গুহনিয়োগীর `সংঘর্ষ ও নির্মাণ ‘ সংগ্রামের পাশাপাশি আরব্ধ সমাজের স্বপ্নকে আংশিক ভাবে বাস্তবে রূপ দেয়ার কথা বলে। জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এই তত্বের সার্থক প্রয়োগ করে চলেছে শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলি। অভয়া আন্দোলন যেহেতু চিকিৎসকদের কেন্দ্র করে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মাফিয়াচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান দিয়ে শুরু হয়েছিল, এটা প্রত্যাশিত যে বৃহত্তর সমাজে এই আন্দোলনকে নিয়ে যাওয়ার প্রথম ধাপ হতে পারে শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগের মডেলে বহু `অভয়া-ক্লিনিক’। মানুষের কাছে গিয়ে, তাঁদের মধ্যে কাজ করে, তাঁদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে এ ধরণের উদ্যোগ বিশেষ ভূমিকা নিতে পারে। শুধু স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেই নয়, শিক্ষা ও সংস্কৃতির অন্যান্য পরিসরেও অভয়া ক্লিনিক গুলোর পরিপূরক ও সহযোগী গণসংগঠন গড়ে তুলতে হবে, যারা সমান্তরাল ভাবে ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে পারবে। মানুষের মধ্যে গঠনমূলক কাজের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, খাদ্য, নারীর নিরাপত্তা ইত্যাদি সব বিষয়ে নিজেদের অধিকার সম্মন্ধে মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে। গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং সরকারি বিদ্যালয়ের দুর্নীতি ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে স্থানীয় ও রাজ্যস্তরে প্রতিরোধ সংগঠিত করতে হবে। অভয়া ক্লিনিক গুলোয় চিকিৎসা-পরিষেবার পাশাপাশি অভয়ার বিচারের নিয়মিত খবর ও আলোচনার মাধ্যমে মানুষের কাছে সরকারি ষড়যন্ত্রের চেহারা তুলে ধরতে হবে। গ্রামবাংলা জুড়ে, মাটির কাছাকছি গণসংগঠনের মাধ্যমে এভাবে অভয়া আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে পারলে তবেই সরকারের জনদরদী মুখোশ ছিঁড়ে ফেলা সম্ভব।
সেই সঙ্গে গৈরিক ফ্যাসিবাদের ধারক আর এস এস যেভাবে সংগোপনে গ্রামে গ্রামে বিষ ছড়াচ্ছে তার বিরুদ্ধেও স্থানীয় স্তরে এই গণসংগঠন গুলো শক্ত প্রতিরোধ তৈরী করতে পারবে। মানুষকে ভয়, ভ্রান্তি বা নৈরাশ্যের কবল থেকে টেনে আনতে পারবে সংগ্রামমুখর পথে।
অভয়ার ঘটনা এক পচাগলা ব্যবস্থা র রোগলক্ষণ মাত্র, শুধু তাঁর বিচারের দাবি বা এমনকি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আবদ্ধ থাকলে সাফল্য আসবে না। এমনকি শুধু তৃণমূল সরকারকে নির্বাচনে উৎখাত করার মধ্যেও নয় , জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরের আগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদ ও নতুন শক্তিতে হিংস্র ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মুক্ত সাম্যবাদী স্বপ্নের যুগোপযোগী নতুন ন্যারেটিভ গড়ে তুলতে হবে। অনেক ওঠাপড়া সত্ত্বেও অভয়া আন্দোলনের বহুস্বর এক বৃহত্তর বাম -প্রগতিশীল ঐক্যের সম্ভাবনা জাগিয়েছে। আশা করি সঠিক দিশায় গণভিত্তি নির্মাণের পথে এই আন্দোলন এগিয়ে যাবে। কেন্দ্র-রাজ্যের শকুনি-কুটিল পাশা উল্টে দিয়ে গ্রামে-শহরে যুগপৎ তুলবে ঝড়।
সেই থেকে
পল গোণা, শেকড়ে শেকড়ে স্বপ্ন-সন্ধান
চাঁদের পাণ্ডুর গালে আশার কমলা আভা,
শিথিল শয়ান ছেড়ে সময় গা ঝাড়া দেয়
উন্মুখ সৃষ্টির বেদনায় কাঁপে মাটির রোমকূপ
ভয়ের চাঁদোয়া ছিঁড়ে ভুঁইফোড় বর্শার মতন
মাথা তোলে কৃষ্ণচূড়া, লালে লাল আবীর গুলাল
কাফির তীব্র তানে অকাল বসন্ত আসে, মুক্তির বোধন।
(উদ্ধৃতি চিহ্ন বিহীন কবিতাংশ গুলি লেখকের বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে পূর্বপ্রকাশিত ও অপ্রকাশিত কবিতা থেকে গৃহীত )










বেশ বড় লেখা, সবটা পড়তে আর হৃদয়ঙ্গম করতে একটু সময় লাগল। অভয়া আন্দোলন নিয়ে যে ইতিবাচক একটা মনোভাব রয়েছে লেখায় তাতে আশ্বস্থ হলাম। আন্দোলনে জোয়ার আসবে আবার, এই নতুন ভোরের আশা আমাদের মনে থাকুক।
দেবাশিস গোস্বামীর তীব্র, কাব্যময় লেখাটি পড়ে, সার্বিক ভাবে অভয়া -আন্দোলনের গতি -প্রকৃতির, আশা ও নৈরাশ্যের বিষয়টি অবগত হলাম। কতদিন পর উৎপল দত্তকে নতুন করে পেলাম, পেলাম দেবাশিস এর নিজের লেখা কবিতার আলোর টুকরো। এই লেখা পড়ে আমার মতো বৃদ্ধর বুকেও কী ব্যথা, কী আশা যেন ভাষা খুঁজে পায়!