ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৫
মাসাধিক সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসক সমাজ এবং রাজ্যের জনসাধারণ তাকিয়ে ছিলেন ধনধান্যে প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিতব্য একটি চিকিৎসক সভার দিকে। ২০২৪ এর আগস্ট মাস থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যে স্বাস্থ্য দপ্তর দ্বারা গঠিত গ্রিভেন্স রিড্রাসাল সেল আয়োজিত এই সভায় ২০০০ চিকিৎসক থাকবেন এবং থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী এমনটাই কথা ছিল, এমনটাই হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিবের নির্দেশে মেডিকেল কলেজগুলির অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ এবং জেলাগুলির মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সহায়তায় গ্রিভেন্স রিড্রাসাল সেল- এর সদস্যরা জায়গায় জায়গায় সভা করেছেন, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নর্থ বেঙ্গল লবির বিরোধিতা করেছেন, এবং চিকিৎসকদের ক্ষোভ নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। চিকিৎসকরা আশা করছিলেন চলমান আন্দোলন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নিয়ে যে প্রশ্নগুলি তুলে এনেছে, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে দুর্নীতি, মেডিকেল শিক্ষায় দুর্নীতি, কলেজে হাসপাতালে হুমকির সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে শূন্য পদ, শূন্য পদে নিয়োগ, পোস্টিং এবং ট্রান্সফারে স্বচ্ছতা, ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেল কাউন্সিল- ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড- ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অফ হেলথ সায়েন্সেস কে নিয়ে নানা প্রশ্ন– মুখ্যমন্ত্রী সব প্রশ্নের না হোক কিছু প্রশ্নের অন্তত জবাব দেবেন, সমস্যার সুরাহা হবে।
আমরা আশাহত। জ্বলন্ত প্রশ্নগুলোর কোন উত্তর পাওয়া গেল না। সুরক্ষার প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী বললেন ভাই বোনকে সুরক্ষা দেবে অর্থাৎ পুরুষ সহকর্মীর ওপর দায়িত্ব মহিলা সহকর্মীর সুরক্ষা। নবান্ন সভা ঘরে বলা হয়েছিল সারা রাজ্যে সেন্ট্রাল রেফারেল সিস্টেম চালু হবে, এখনো কেন তা চালু হয়নি তার জবাব পাওয়া গেল না। স্টেট লেভেল টাস্ক ফোর্স এখনো কেন নিষ্ক্রিয় তা বলা হলো না। স্বাস্থ্য সচিব সহ যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী সময় চেয়েছিলেন, কেন সেগুলি হলো না তিনি বললেন না। মার্চ মাসে মেডিকেল কলেজ গুলিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, তার জন্য কি কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা অনুচ্চারিত থেকে গেল। বরং যা চাওয়া হয়নি তা পাওয়া গেল মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায়।
জুনিয়র ডাক্তারদের ভাতা বাড়বে মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে। এই ভাতার বৃদ্ধিকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু মনে রাখবেন আমাদের রাজ্যে জুনিয়র ডাক্তারদের ভাতা অনেক রাজ্যের তুলনায় কম, তা সত্বেও তাদের আন্দোলনের দাবির মধ্যে ভাতা বৃদ্ধি ছিল না, দাবি ছিল বিভিন্ন দুর্নীতির বিরুদ্ধে হুমকি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার। সে প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী কোন কথাই বলেননি। রাজ্যের বাজেট ঘোষণা ইতিমধ্যে হয়ে গেছে, তখন এই ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাব ছিল না। আমাদের জানা নেই কোন খাত থেকে টাকা নিয়ে এই টাকা দেওয়া হবে। মেডিকেল ছাত্র-ছাত্রীদের বিনোদন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ২ কোটি টাকা ঘোষণা করা হয়েছে, সব মিলিয়ে ২ কোটি টাকা নাকি কলেজ পিছু ২ কোটি টাকা এখনো জানা নেই। যাই হোক না কেন কলেজে যখন এই টাকা পৌঁছবে তখন কাদের মাধ্যমে তা কাজে লাগানো হবে? অতীত অভিজ্ঞতা বলে কলেজগুলিতে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ না থাকলে হুমকি সংস্কৃতির ধারক বাহকরা এই ধরনের অর্থ নিয়ে নয় ছয় করে।
আমাদের মনে হয় এই ঘোষনাগুলি মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকেই করতে পারতেন। তার জন্য বিপুল পরিমাণে অর্থ খরচ করে ২০০০ চিকিৎসককে কলকাতায় নিয়ে আসার কোন প্রয়োজন ছিল না।
জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরস পরিষ্কারভাবে জানাতে চায় পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসকরা যে প্রশ্নগুলি তুলে, যে দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন সেগুলির সমাধান না করে কেবল জুনিয়র ডাক্তারদের ভাতা বাড়িয়ে সিনিয়র জুনিয়রদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা যাবে না।
অভয়ার ন্যায় বিচার, রাজ্যের দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং ভয়ের রাজনীতি থেকে মুক্তি না পাওয়া অব্দি। আন্দোলন চলবে।
পুণ্যব্রত গুণ
হীরালাল কোনার
যুগ্ম আহ্বায়ক










