এই বাংলায় থেকেও ধুলো ঝড়ের সামনে পড়েনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যিই দুষ্কর। কালবৈশাখীর ঝড়ের সঙ্গী হিসেবে আসা ধুলোঝড়ের সামলে নেবার অভিজ্ঞতা আমাদের সকলের স্মৃতিতেই ধরা আছে। গরমের আভাস পেতে না পেতেই বিজ্ঞানীরা আগাম সতর্কতা জারি করছেন এই বলে আসন্ন গ্রীষ্মকালে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে এই ধুলোঝড়ের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সম্ভাবনা রয়েছে। কোন্ ঘটনার প্রেক্ষিতে এমন কথা বলছেন বিজ্ঞানীরা?
খুব সম্প্রতি ইজরায়েলের বিস্তির্ণ এলাকা ধুলো ঝড়ের দরুণ ধুলোর গালিচার আস্তরণে ঢাকা পড়েছিল। ঘটনার তীব্রতা দেখে হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের জনৈক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন যে পৃথিবীর জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে আগামীদিনে এমন ঘটনা বারংবার ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। ধুলোঝড়কালীন পরিস্থিতি সেদিন এতোটাই গম্ভীর হয়েছিল যে ইজরায়েলের দুই প্রসিদ্ধ নগরী তেল আবিব ও জেরুজালেমের নাম দুনিয়ার দূষণ সূচকের একেবারে শীর্ষে স্থান পায়। Assaf Hochman, হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ সাইন্স ইনস্টিটিউটের জলবায়ু, চরম আবহিক পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাস সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ, জানিয়েছেন যে এমন ভয়ঙ্কর ধুলোঝড়ের সুদূর লিবিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল। আসলে বছরের এই বিশেষ সময়ে উত্তর আফ্রিকার বিস্তৃত এলাকা জুড়ে নিম্ন চাপের সৃষ্টি হয় যা ভূমধ্যসাগরের উপকূল বরাবর ক্রমশ পূর্ব দিকে সরে যায়। এই শুকনো বাতাসের দাপটে ওখান থেকে বিপুল পরিমাণ ধুলোবালিছাই ২০০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে ইজরায়েলের বিস্তীর্ণ অংশে। 

এই মুহূর্তে Hochman সাহেব ও Earth Institute এ কর্মরত তাঁর সহযোগী গবেষকরা জীবাশ্ম জ্বালানির নিরন্তর দহনের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের নিঃসরণ কীভাবে বাড়ছে এবং তার অনিবার্য প্রতিক্রিয়া হিসেবে স্বাভাবিক ঋতুপর্যায়ের ছন্দ কতটা হারিয়ে গেছে সেই বিষয়ে গবেষণা করছেন। তাঁদের মতে এই ব্যাপারটাকে মেনে নিতেই হবে যে এরফলে স্বাভাবিক শীত কালের দৈর্ঘ্য যত দ্রুত কমে যাচ্ছে ততই বাড়ছে গ্রীষ্মের সময়কালের দাপট। এটাই এখন একালের নিয়ম হতে চলেছে এবং আমাদের এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে যুঝতে হচ্ছে পরিবেশ পরিস্থিতির সঙ্গে।
ফেব্রুয়ারি ২২. ২০২৬










