বেশ কয়েক বছর আগে এক ২৫ বৈশাখে সদ্য সিংহাসনে আসীন এক উদ্ধত দর্পিত রাষ্ট্রনায়কের কলকাতা সফর আমার মনে যে তীব্র প্রতিবাদী ক্রোধ জাগিয়েছিল, সেটা একটা কবিতায় প্রকাশ করার চেষ্টা করেছিলাম। আজ আবার সেই কথা মনে পড়ল, চারপাশের যুদ্ধবাজ সাম্প্রদায়িক আস্ফালন দেখে । এই কবিতার প্রেক্ষাপট রচনা করেছে গুজরাট, মুম্বাই এর দাঙ্গা, বুদ্ধ পূর্ণিমার রাতে পোখরানে আণবিক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাষ্ট্রের উল্লাস।
“…While lying unborn in my mother’s thigh, I heard the doleful cries of my mother and other women of the Bhrigu race who were then being exterminated by the Kshatriyas. …It was then this wrath filled my soul! My mother and the other women of our race, each in an advanced stage of pregnancy, and my father, while terribly alarmed, found not in all the worlds a single protector!…The fire of myu wrath…is ready to consume the world”
মাতৃ জঠরস্থ পরশুরামের ক্রোধাগ্নি, মহাভারত, চিত্ররথ পর্ব
উড়িয়ে গৈরিক ধ্বজা অভ্রভেদী রথে
ওই যে তিনি, পুরুষোত্তম , একরোখা রাজপথে
দেখতে পাচ্ছি তাঁর উজ্জ্বল উষ্ণীসে সুমহান প্রাচীন
প্রভাত-সূর্য, ওই তাঁর রথচক্রে গুঁড়িয়ে গেল
অধর্মের প্রাকার; বিজাতীয় বিষাক্ত আগাছা দলিত
মথিত, তীব্র কটু ঘ্রাণ অবশ করছে সমস্ত ইন্দ্রিয়
প্রগতির দুন্দুভি বাজে,
আবাহন শাঁখে,
সিগনালে বন্দী সুরে, পঁচিশে বৈশাখে!
আকাশ ছুয়েছে দর্পিত কিরীট, জ্যোতির্মন্ডলি গ্রাস করে নিচ্ছে সকল নক্ষত্রের দীপ্তি, ওই যে
সপ্তর্ষিগণ একে একে লীন হলেন তাঁর অগ্নিময় অবয়বে, মুছে গেলেন কালপুরুষ, ধ্রুব, অরুন্ধতী
বিগত বৈশাখী পূর্নিমায় তাঁর আণবিক তেজে ভস্ম হয়েছিল মৈত্রেয়-করুণার কানন,
আর বাউল-কবির জন্মতিথি তো আজ বেছে নিয়েছেন ইচ্ছে করেই,
দোতারার মরমিয়া সুর ছিন্নভিন্ন রথচক্রের ঘর্ঘরে
চরণে প্রনত জাতি, এক দেহে লীন
পথপার্শ্বে কৃপাপ্রার্থী বাম ও দক্ষিণ
অশ্বক্ষুরধুলি কুন্ডলী পাকিয়ে উঠে দৃষ্টি
আচ্ছন্ন করে, ফাঁকে ফাঁকে বিদ্যুত – বহ্নির ঝলকে দেখা যায় দাউ -দাউ জ্বলন্ত আকাশ, সংক্ষুব্ধ নীহারিকার
করাল গ্রাসে নিক্ষিপ্ত জাত ও অজাত নারী-পুরুষ,
যাদের বিনাশ পূর্ব-নির্দিষ্ট।
কম্পমান শিখার আবছায়ায়
ভেসে উঠেই মিলিয়ে গেল শূলবিদ্ধ পূর্বজার ভ্রুণ
ধর্ষিতা পিতামহীর দগ্ধ শরীর, পিতৃপুরুষের ছিন্নভিন্ন
অসহায় শব ; লোলুপ লেলিহান অগ্নির তাড়নায়
গহন অরণ্য থেকে ছুটে বেরোনো মানুষ, খান্ডব-উল্লাসে
তাদের ঘিরে ফেলছে হিংস্র সশস্ত্র শ্বাপদ-বাহিনী।
আর্তস্বর ক্ষীণ হয়ে এলো প্রলয়পয়োধীজলের কল্লোলে
বিস্মৃতির ত্রিকালপ্লাবী তরঙ্গ, সম্মোহনী বাষ্পের মত
সুষুপ্তির প্রগাঢ় মেঘ ঢাকলো চেতনাকে। তারপর ঢেউহীন
নিস্পন্দ সমুদ্র। মৃত-মীনাক্ষী আকাশ। দৈবকণ্ঠে ওম শান্তি।
দিকশুন্য প্রাণশূন্য এ ভুবনে কোথায় ধরাবো
জাতিস্মর ক্রোধের দহন, সজীব উন্মাদ ঘৃণা
সলিলে ডোবালে বাড়বাগ্নি হয়ে মাথা ফোঁসে
আকাশে ভাসালে ফেটে পড়ে বজ্রগর্ভ মেঘের আক্রোশে
ধরিত্রীর সহিষ্ণু বুকেও তোলে কম্পন নাগিনীর রোষে।
ক্রোধের আঁচ থেকে ওম ধার নেবে গর্ভিণী সময়, সতর্ক মশাল জ্বেলে বিজন দ্বীপে, থাকব অতন্দ্র প্রহরায়
যেখানে দগ্ধ অতীত পুনর্জন্ম চায়
নাড়ি ছিঁড়ে বেরোবে
এক আগ্নেয় সত্তায়।












এত ভালো লাগলো তোমার এই তথ্য সমৃদ্ধ লেখা পড়ে। তোমার লেখা আরো চাই ।
Thank you Nandita di