৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ নৈহাটিতে আর.জি.কর হাসপাতালে ট্রেনি ডাক্তারের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সুবিচার পাওয়ার আশায় ৮-১০ টি স্কুলের প্রাক্তনীরা মিলে একটা মিছিলে সামিল হয়। নৈহাটি গঙ্গা তীরবর্তী স্বপ্নবীথি উদ্যানের পাশ থেকে।
যথেষ্ট শান্তিপূর্ণভাবে এই মিছিল শুরু হয়েছিল, কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ বাদ থেকে হঠাৎই মিছিলের ওপর এক হামলা শুরু হয়। মিছিলে জাস্টিস চাওয়া, ধর্ষক ও হত্যাকারীর শাস্তি চাওয়া বাদে কোনরকম স্লোগান ছিল না। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতিদের বক্তব্য এখানে রাজনৈতিক দলের হয়ে স্লোগান দেওয়া হয়।
যদিও অনেকেরই নজরে পড়েছে, প্রথম থেকেই মিছিলে শাসকদলের বেশকিছু লোকজন প্রাক্তনী হিসেবে মিছিলে পা মিলিয়ে ছিল, কিন্তু গোলমাল শুরু হওয়ার সাথে সাথে তারা তাদের নিজেদের অবস্থান প্রদর্শন করতে শুরু করে। তখন তাদের কাছে মিছিলের থেকেও মূল আকর্ষণ হয়ে যায় মিছিল ভন্ডুল করার সদিচ্ছা।
শাসকদলের পক্ষ থেকে প্রচুর পুরুষ,মহিলা উভয়ই, শিক্ষক এবং প্রাক্তনীদের ভয়ংকর ভাবে মারধর করে। নৈহাটি পৌরসভার চেয়ারম্যান, শাসক দলের আরও বিভিন্ন কর্মী, সর্বোপরি পুলিশ প্রশাসন সবাই দাঁড়িয়ে থেকে এই নক্কারজনক ঘটনা উপভোগ করেন।
দীর্ঘ সময় ধরে এই গোলমাল চলতে থাকে। যে জায়গায় গোলমাল হয়েছে সেখানের রাস্তার আলো বন্ধ করে দেওয়া হয় যাতে কোনরকম কোন ছবি তোলা সম্ভব না হয়, কিন্তু তা সত্ত্বেও যারা ছবি তোলার চেষ্টা করেছে বা ভিডিও করেছে তাদের ফোন ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সমস্ত ঘটনা স্বচক্ষে দাঁড়িয়ে দেখেছে এবং তারপরে থানায় এফ.আই.আর করতে গেলে তা জমা নেয়নি। থানার ভেতরে থাকাকালীন পুলিশের সামনেই শাসক দলের লোক যারা আহত হয়েছে তাদের আবার মারধর করে এবং শেষ অব্দি কোনরকম এফ. আই. আর নেয় নি। এমনকি আহত ছাত্র-ছাত্রীদের নৈহাটি সদর হসপিটালে নিয়ে গেলেও সেখানে এডমিশন করানো সম্ভব হয়নি, শাসকদলের লোকজন সেখানে আটকেছে।
অবশেষে আহত ছাত্র-ছাত্রীদের গোলঘর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করার ব্যবস্থা হয়েছে। স্বভাবতই এরপর বড় প্রশ্ন আসছে শাসকদের কিসের এত ভয়? শুধুমাত্র সুবিচারের দাবিতে মিছিলের ওপর এত বড় হামলা করার কি কারণ?










