এটা কি সত্যিই ঘটনা যে সরকারি হাসপাতালে ‘আধার কার্ড’ ছাড়া ভর্তি করা যাবে না?
যদিও এটা ঘটনা যে সমস্যাটির উদ্ভব খুব ইদানীং(very recent) কালের নয়।
‘অভয়া আন্দোলন’র সময়ে আমাদের এক বন্ধু ডাঃ সুশীল রায়বর্মন একটি মিছিল শেষে রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। তাকে কাছেই আর জি কর মেডিকেল কলেজে পথচলা মানুষ নিয়ে আসেন। জানতে পেয়ে ডাক্তার জ্যোতিরূপ গোস্বামী ও পরে আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় চিকিৎসকরা এমার্জেন্সিতে পৌঁছে যান। কিন্তু, সেই একই ঝামেলা, আধার কার্ড ছাড়া ভর্তি হবেনা, আর ভর্তি না হলে পরবর্তী পরীক্ষা সম্ভব নয়। বাড়ির লোকের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ ছিল না, কারণ তার নিকট আত্মীয়ের contact number বা ঠিকানা কোনোটাই জানা ছিল না। ফলে, যথেষ্ট সময় নষ্ট হয়।
এখানে প্রশ্ন এই সময় নষ্টের মূল্য কে দেবে, যখন বহু ক্ষেত্রেই এমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্টে প্রতিটি মুহূর্ত অতীব মূল্যবান। সাধারণ ভাবে এখানে সুপার যা বলেছেন, হাসপাতালের তরফে তাই বলা হয়, ভর্তি না হলেও চিকিৎসা শুরু করা হয়েছিল’। ঠিকই, অক্সিজেন চালু করা হয়ে থাকে, আর খুব বেশি হলে একটা I V fluid ! সত্যি করে বলতে গেলে, এতে হয়তো আইন বাঁচতে পারে, কিন্তু সত্যিকারের জরুরি রোগীর ক্ষেত্রে তা মোটেই যথেষ্ট নয়।
একটা জিনিস পরিষ্কার করা দরকার, অন্তত সরকারি পরিষেবায় জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার সকলের আছে, আধার কার্ড থাকুক না থাকুক। আর আধার কার্ড পকেটে করে কেউ ঘুরে বেড়ায় না, বেড়ানোর কথাও নয়। অনেক সময়েই তো পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় মানুষকে এমার্জেন্সিতে নিয়ে আসে। আমাদের সময়ে তাদের চিকিৎসা নিয়ে সমস্যা ছিল না, টিকিটে ‘Unknown’ লেখা থাকলেও। এখন কী হয় জানিনা।
এটাও জানিনা ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও এই নিয়ম চালু আছে কিনা। এটা কি বিগত তৃণমূল সরকারের সৃষ্টি, না সারা ভারতব্যাপী রয়েছে? তাহলে, বিদেশী ট্যুরিস্ট এদেশে হঠাৎ অসুস্থ হলে, সরকারি জায়গায় চিকিৎসা পাবে না?
বুঝতে পারছি না এ কী করে সম্ভব? এটা কোন্ জমানায় শুরু হয়েছে বা কেন হয়েছে তার থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হলো কবে কতো তাড়াতাড়ি এই বিকট নিয়মের অবসান হবে ! এটা ভীষণ জরুরি!! ডাক্তার সুশীল রায়বর্মনের পরিবার আর জি করে ভর্তি না করে বেসরকারি পরিষেবায় চলে গিয়েছিল’। কিন্তু, সেটা তো সকলের পক্ষে সম্ভব নয়, উচিত তো নয়ই। অন্তত, অতি মূল্যবান সময় অপচয়ের নিরিখে…..
স্বাস্থ্যসচিব বা স্বাস্থ্যমন্ত্রী কি কোনো পদক্ষেপ নেবেন?











