মেধাভিত্তিক কাউন্সেলিং উপেক্ষা করে বেআইনি ভাবে ডা: অনিকেত মাহাতোর পোস্টিং পরিবর্তন মামলায় সুপ্রিম থাপ্পড় খেল রাজ্য সরকার!
ডা. অনিকেত মাহাতোকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আজকের রায় এই রাজ্যের অপদার্থ, প্রতিহিংসাপরায়ণ, ক্ষমতালোভী প্রশাসনের গালে একেবারে জোরালো, জ্বলন্ত চপেটাঘাত যা ঐতিহাসিক হয়ে থাকবে!
‘অভয়া’ আন্দোলনে ন্যায় বিচারের দাবিতে সত্যের পাশে দাঁড়ানোর অপরাধে, হ্যাঁ সত্যের পাশে দাঁড়ানোই এই সরকারের চোখে অপরাধ! একজন সৎ চিকিৎসককে হেনস্তা, অপমান, প্রতিহিংসা দিয়ে কোণঠাসা করার নোংরা খেলা চালিয়েছে রাজ্য! সিঙ্গেল বেঞ্চে হার, ডিভিশন বেঞ্চে হার, তারপরও জনতার রক্ত ঘাম ঝরানো ট্যাক্সের টাকা উড়িয়ে ভুয়ো যুক্তি সাজিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে সবচেয়ে অপমানজনক চড় খেল এই স্বার্থপর, নির্লজ্জ সরকার!
আর আজ সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, হাইকোর্টের রায় বহাল। ডা: অনিকেত মাহাতোর আরজি কর মেডিকেল কলেজে পোস্টিং দিতে হবেই। দুই সপ্তাহের মধ্যেই। তাহলে এবার রাজ্যের পালানোর সব দরজা বন্ধ।
এখন প্রশ্ন, জনগণের টাকা পুড়িয়ে এত নাটক, এত প্রতিহিংসা, এত কাদা ছোড়া, লাভ কী হলো? কার মুখে আজ কালো কালি লেপে গেল? প্রশাসনের গায়ে কি লজ্জা বলে কিছু আছে? নাকি লজ্জা আগেই বিক্রি হয়ে গেছে?
আদালতকে বারবার চ্যালেঞ্জ, আর সত্যকে মাটির নিচে চাপা দেওয়ার অমানবিক চেষ্টা… এই নৈতিক পচনের দায় কার? এই প্রশাসনিক লজ্জাহীনতার দায় কে নেবে? এটা এতটাই লজ্জার যে সামান্য একটা পোস্টিং এর মামলার জন্য রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনতে হয়।
রাজ্যের পক্ষে আজ সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়েছিলেন সিনিয়র এডভোকেট কপিল সিব্বাল। যার একবার কোর্ট অ্যাপিয়ারেন্সের গড় ফি প্রায় ১০ থেকে ১৬ লাখ। কী এমন লড়াই লড়ছিল রাজ্য সরকার যে দুই মিনিট বিচারকের ধমক খাওয়ার জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করে এমন হেভিওয়েট আইনজীবীকে দাঁড় করাতে হলো? এই টাকা কোথা থেকে আসছে? সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করছে রাজ্য সরকার?
আর স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম, অভয়া আন্দোলনের সময় স্বাস্থ্য ভবনের অজস্র দুর্নীতি ফাঁস হয়েছিল যা সরাসরি আপনার মদতে ঘটেছে। সেই ক্ষোভে আন্দোলনকারীদের বেছে বেছে অনৈতিকভাবে পোস্টিং পরিবর্তন করা হয়েছে, মেধাভিত্তিক কাউন্সেলিংকে অবজ্ঞা করে।আবার সেই নিয়ে কথা বলতে গেলে ঔদ্ধত্য ভরে বলেছিলেন যে ‘ সরকার চাইলে যা খুশি করতে পারে ‘ আজ এত গুলো থাপ্পড় এর পরেও আপনার আই আই টি মস্তিষ্কে ঢুকেছে তো যে নিয়মের উর্ধ্বে কেউ নয়? এমনকি সরকার ও? অবশ্য মনে হয়না এতগুলো চপেটাঘাত খেয়েও সামান্য লজ্জাবোধ ও হয়েছে, যদি হতো, যদি ন্যূনতম আত্মসম্মান থাকতো তাহলে মাথা নীচু করে আজ ই পদত্যাগ করতেন।
আর দু টাকার আইটি সেলের অশিক্ষিত ভাইটিরা, যারা কমেন্ট বক্সে এসে ঘেউ ঘেউ করবেন যে “চাকরি করতে হলে যেখানে খুশি পোস্টিং দিতে পারে সরকার”, তাদের বলব বিচারকদের ফেসবুক প্রোফাইল খুঁজে বার করুন, ওখানে গিয়ে আপনাদের অমূল্য মন্তব্য করে আসুন।
সবশেষে বলার, আজকের এই জয় ব্যক্তি অনিকেত মাহাতো বা ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের নয়, অভয়া আন্দোলনে প্রথম দিন থেকে যারা আপোসহীন ভাবে রয়েছেন তাদের সকলের সম্মিলিত জয় আজকের সুপ্রিম কোর্টের এই রায়। প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে ঋজু মেরুদন্ডের সাহসিকতার লড়াই, নিজেকে সর্বশক্তিমান ভেবে বসে থাকা দুর্নীতিপরায়ণ সরকারের বিরুদ্ধে আপাত-দুর্বল সাধারণ মানুষের অসম লড়াই, সর্বোপরি অভয়ার ন্যায়বিচারের লড়াই চলবে শেষতক!










