মুম্বই বিমানবন্দরের ব্যস্ত টার্মিনাল। চারদিকের হইচইয়ের মধ্যে হঠাৎই মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন প্রায় ৬০ বছর বয়সী এক যাত্রী। শ্বাস বন্ধ, নাড়ির স্পন্দন নেই। আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ল ভিড়। ঠিক তখনই সামনে এগিয়ে এলেন হাওড়ার এক তরুণী চিকিৎসক, অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট দীপ্তশ্রী রায়।
তিনি নিজে তখন কলকাতায় ফেরার জন্য বোর্ডিং লাইনে। সময় নষ্ট না করে ভিড় সরিয়ে রোগীর অবস্থার মূল্যায়ন করে শুরু করলেন CPR। মুম্বইয়েরই আরেকজন অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট এসে যোগ দেন লড়াইয়ে। তখনও নেই অক্সিজেন, নেই সাকশন, নেই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি, তবু থেমে থাকেননি তাঁরা।
২০ মিনিটের নিরবচ্ছিন্ন CPR, এয়ারওয়ে ম্যানেজমেন্ট, অ্যাড্রেনালিন ও ডিফিব্রিলেশন শেষে অবশেষে মিলল আশার আলো। রোগীর শরীরে ধরা পড়ল ক্ষীণ স্পন্দন। খুলে গেল চোখ। বুক উঠানামা শুরু হতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন সবাই। পরবর্তী চিকিৎসার জন্য তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় মুম্বইয়ের একটি হাসপাতালে।
দীপ্তশ্রী জানিয়েছেন, “ওঁর আগে থেকেই হৃদরোগের ইতিহাস ছিল। CPR-এর পর পালস ফিরে আসতেই বুঝেছিলাম, আমাদের লড়াই বিফলে যায়নি।”
Midnapore Medical College থেকে স্নাতক এবং Calcutta National Medical College and Hospital-এর প্রাক্তন পোস্টগ্র্যাজুয়েট দীপ্তশ্রী সম্প্রতি পর্যন্ত কাজ করেছেন Manipal Hospital EM Bypass-এ।
আমরা অভিনন্দন জানাই এই তরুণী চিকিৎসককে, যিনি নিজের পেশাগত দক্ষতা ও মানবিকতার জোরে একটি জীবন বাঁচালেন। এই লড়াই আমাদের সকলের কাছে এক অনুপ্রেরণা।












