এমনিতে ডাক্তারদের অনেকেই ফোন করেন সেকেন্ড ওপিনিয়নের জন্যে। সেটা যে আমাদের সব সময় খুব একটা ভালো লাগে তা না তবে ওই আর কী, করতেই হয় টুকটাক। এসব করতে গিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র শেখাও হয় মাঝে সাঝে। একবার তখন সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি আমাকে কেউ একজন হার্টের ডাক্তার দেখিয়ে প্রেসক্রিপশন পাঠিয়ে বলেছিলেন দেখে দিতে। তখন আমার ওই নিয়ে জ্ঞান মোটামুটি হাঁটুতে।
তা সে যাই হোক, আজ তখন আউটডোর প্রায় শেষের দিকে,উঠে পড়েছি বেরিয়ে যাবো। তখন দেখি একজন এসে দাঁড়িয়ে আছেন খুব কাঁচুমাচু মুখ করে দরজার বাইরে। বললাম দেখাবেন? জানা গেলো SSKM এরই স্টাফ।
– আসুন আসুন, বলুন কী সমস্যা?
– ইয়ে না মানে একটা ভালো এন্টিবায়োটিক লিখে দিলে ভালো হয়।
– কী মানে এন্টিবায়োটিক কেন হঠাৎ?
– মানে ওই একটা ভালো ওষুধ।
– কার? কী হয়েছে?
– এই যে আমার বউয়ের।
– কী হয়েছে?
– রক্ত কমে গেছে, ঘুম আসছে না। ডাক্তার দেখালাম এই মাত্র, তিনটে বড়ি দিলেন কিন্তু এন্টিবায়োটিক নেই। আপনি একটা ভালো এন্টিবায়োটিক লিখে দিন ঘুমের জন্যে!
দেখলাম ঘুমের ওষুধও দেওয়া আছে, সত্যিই হিমোগ্লোবিন কম, আজকেরই প্রেস্ক্রিপশন!
– এন্টিবায়োটিক ঘুমের ওষুধ নয়, যে ওষুধ দেওয়া হয়েছে ওগুলোই খাওয়ান, আবার দরকার হলে আসবেন।
এর পরেরটা আর জানি না। হয়তো আমার কথা রেখেছেন। হয়তো নয়, কোন ওষুধের দোকান থেকে এন্টিবায়োটিক কিনে নিয়ে, ভালো ওষুধ খাওয়াচ্ছেন! কে জানে?! কিন্ত এই ডাক্তারের প্রেস্ক্রিপশন ছাড়াই হুটহাট এন্টিবায়োটিক দেওয়া বন্ধ না হলে আমাদের শান্তির ঘুম আর বেশিদিন থাকবে না এটুকুই..











