
দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার পহেলগাঁও সবুজ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বৈসরন উপত্যকায় মঙ্গলবারের জঙ্গিহানায় অন্তত ২৮ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কিছু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিককালের নাশকতার ঘটনা গুলির মধ্যে এই সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ একটি অন্যতম ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ঘটনা। অভয়া মঞ্চ এই ন্যক্কারজনক সন্ত্রাসবাদী কাজকে তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছে এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছে।
অকৃত্রিম আতিথেয়তা আর অতুলনীয় নিসর্গ শোভায় ঘেরা কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রধান উৎস পর্যটন। পর্যটনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এমন কিছু কাশ্মীরের মানুষ চাইতে পারেন না। এই হামলার ফসল কুড়াবে পাকিস্তানের উগ্র ইসলামপন্থী আর ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। নিরীহ পর্যটককে হত্যা করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চায় যে হামলাকারীরা তাদের কোন ধর্ম নেই। সন্ত্রাসের জিগির তুলে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে, নাশকতার দোহাই দিয়ে দাঙ্গার দামামা বাজায় ধর্মীয় মৌলবাদ, যার প্রধান রক্ষক ও পৃষ্ঠপোষক ভারতীয় উপমহাদেশের তিনটি রাষ্ট্র-ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। রাষ্ট্রের মদত ছাড়া কোনো সন্ত্রাসবাদ টিকে থাকতে পারে না।
উপমহাদেশে সাম্প্রতিক ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ভারত-মার্কিন যৌথ সামরিক মহড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই নাশকতা বিশেষ অর্থবহ। বর্তমান ভারতে হিন্দুভোটের মেরুকরণের জন্য ইসলামোফোবিয়া তৈরি করা যেমন জরুরি, মুসলিম ভোটের মেরুকরণের জন্য সংখ্যাগুরুর সাম্প্রদায়িক আস্ফালন ততটাই প্রয়োজনীয়। সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে সব চেয়ে লাভবান হচ্ছে দক্ষিণপন্থী ভোটব্যবসায়ী দলগুলি।
অভয়া মঞ্চ এই ভয়াবহ নাশকতার মূল চক্রীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে মৌলবাদী চক্রান্ত ও বিভেদের রাজনীতিকে পরাজিত করার আবেদন জানাচ্ছে জনগণের কাছে।











সময়োপযোগী বিবৃতির জন্য অভিনন্দন। সমস্ত ধরনের ধর্মীয় মৌলবাদ নিপাত যাক।