এই যে বয়ানটা, অমুককে ভোট দিয়ে লাভ নেই, তাহলে তমুক জিতবে, এটার মতো ভাটের কথা কমই শোনা যায়।
আপনার যেহেতু কোনও অলৌকিক দিব্যজ্ঞান নেই, এবং যেহেতু আপনি জ্যোতিষী নন, সেহেতু কে জিতবে – জনগণের বিরক্তি কার প্রতি বা আমজনতার ঝোঁক কোন দিকে – সেসব আপনি জানেন না। মানে, জানা সম্ভবই নয়।
মনে রাখুন, এবারে অমুক দলই জিতবে এই কথাটা যারা বারবার বলছেন, তাঁরা হয় নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে কথাটা বলছেন, অথবা কথাটা তাঁদের wishful thinking. হ্যাঁ, কারও না কারও wishful thinking কখনও না কখনও মিলে যায় – কিন্তু সেটা কাকতালীয় ব্যাপার। কাজেই, ও কথায় প্রভাবিত হওয়ার মানে হয় না।
সুতরাং, যে দল জিতলে, বা যে প্রার্থী জিতলে ভালো হয় বলে আপনি মনে করেন – এমনও হতে পারে যে আপনি কাউকেই খুব পছন্দ করেন না, কিন্তু একজনকে কম অপছন্দ করেন (নোটা-য় দেওয়ার আমি বিশেষ যুক্তি দেখি না) – সবমিলিয়ে, যে কারণেই হোক, আপনার চোখে আপনার বিধানসভা কেন্দ্রের যোগ্যতম প্রার্থী যিনি – ভোট তাঁকে এবং তাঁদের দলকে দিন।
আপনার ক্ষমতা সীমিত। আপনি যদি আমার মতোই সীমিত বুদ্ধির মানুষ হন, তাহলে আপনার বুদ্ধির দৌড়ও সীমিত।
আকাশে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার, রাস্তায় সাঁজোয়া গাড়ির সারি আপনি দেখেছেন কিনা জানি না – ফেসবুকে এসব কথা প্রচুর শুনলেও আমি এসব দেখতে পাইনি। তবে একটি বিশেষ দলের সমর্থনে যেভাবে নির্বাচন কমিশন উঠেপড়ে লেগেছে, সেটা এমনকি দৃষ্টিহীনেরও চোখে পড়া উচিত। তবে আমরা তো প্রতি ভোটের আগেই একটি বিশেষ দলের পক্ষে বাইকবাহিনীর দাপাদাপি, সাদা কিংবা কালো এসইউভি-র আনাগোনা দেখতে অভ্যস্ত – কাজেই নতুন করে কোনও কিছুই আর চোখে লাগে না। রাজ্যের প্রশাসন আর পুলিশের ভূমিকা বছরভরই বিশেষ রাজনৈতিক দলের অনুসারী – ক্ষেত্রবিশেষে পুলিশ বা প্রশাসক তো সংশ্লিষ্ট দলের কর্মীর চাইতেও গভীরভাবে দলের প্রতি দায়বদ্ধ – সুতরাং কেন্দ্রের সরকার কেন্দ্রীয় প্রশাসনকে দলীয় স্বার্থে ভোটে জেতার জন্য ব্যবহার করছে, তা দেখে আর অবাক হই না। কেননা জানি, সুযোগ পাওয়ামাত্র রাজ্যের সরকারও…
কয়েক লক্ষ বৈধ ভোটার বাদ। আপনার আমার মতোই মানুষ তাঁরা। ভোট হচ্ছে এই মানুষগুলোকে স্রেফ দর্শক করে রেখে। এর তুল্য অন্যায় ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে খুব বেশী হয়নি (আদৌ কখনও হয়েছে কি!)। আবার এ-ও সত্য যে একটি রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোটে প্রায় অর্ধেক আসন একটি দল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতছে, গণতন্ত্রের নামে এমন প্রহসনও সাম্প্রতিক অতীতে বড় একটা দেখা যায়নি।
আর দুইদলের মধ্যে চমৎকার স্যুইং ডোর – এপাশ থেকে ওপাশে যাতায়াতের অবাধ সুযোগ – ধরছি ধরছি করেও কিছুতেই চোর না ধরে পরোক্ষ সাপোর্ট – এসব তো আছেই।
কিন্তু অত কথায় কাজ নেই।
মোদ্দা কথা হলো, অমুককে ঠেকাতে তমুককে, বা তমুক উচ্চমার্গের আদর্শের কথা মাথায় রেখে অমুককে ভোট দেবেন না।
আপনি যদি আমার মতো স্বল্পবুদ্ধির সামান্য মানুষ হন, তাহলে নিজের ভোটটা নিজের পছন্দের দল/প্রার্থীকে দিন।
এবং তার চাইতেও বড় কথা, পছন্দের দলকে ভোট দিলেন পছন্দ করেন বলেই – এটুকু স্বীকার করার মতো সৎসাহস রাখুন। আমি তমুক বর্তমান/আসন্ন বিপদের ভয়াবহতা থেকে রাজ্যকে মুক্ত করার মহান দায়ের অনুভূতির কারণে, অপছন্দ সত্ত্বেও, অমুক দলকে ভোট দিলাম – এসব কথা ভাববেনও না, বলবেনও না, প্লিজ। এসব কথাকেই ভাবের ঘরে চুরি করা বলে। বা আমাদের মতো অশিষ্ট লোকেরা বলে – ঢ্যামনামো।











