Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

বিপন্ন ব-দ্বীপ, অসহায় মানুষ

delta cover - Copy
Somnath Mukhopadhyay

Somnath Mukhopadhyay

Retired school teacher, Writer
My Other Posts
  • January 22, 2026
  • 7:53 am
  • 4 Comments

খুব সম্প্রতি বিখ্যাত আন্তর্জাতিক গবেষণা পত্রিকা Nature’এর  এক সমীক্ষা রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, পৃথিবীর নদী বদ্বীপগুলো বিশেষ করে ভারতের গঙ্গা – ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ, ব্রাহ্মণী, মহানদী বদ্বীপ, গোদাবরী বদ্বীপ, কাবেরী বদ্বীপ অত্যন্ত বিপজ্জনক হারে নিমজ্জমান। গবেষক বিজ্ঞানীদের মতে যে হারে সমুদ্র জলতলের উচ্চতা বাড়ছে তার তুলনায় দ্রুততর গতিতে ভারতের প্রধান প্রধান নদী বদ্বীপগুলো ডুবে যাচ্ছে। বিষয়টি যে গভীর উদ্বেগের তা বোধহয় বুঝিয়ে বলার অপেক্ষা রাখেনা। কেন এমন হচ্ছে? সমস্যাটি কেবল ভারতের বদ্বীপগুলোতেই সীমাবদ্ধ এমনটাও কিন্তু নয়, সমস্যার ব্যাপ্তি গোটা দুনিয়া জুড়েই ; সমুদ্র জলের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া আজকের সময়ে এক বৈশ্বিক সমস্যার নাম। আসুন, সমস্যার গভীরে ডুব দিয়ে দেখি।

আমরা সবাই জানি যে কোনো নদী তার প্রবাহ পথের অন্তিম পর্বে এসে তার সঙ্গে বয়ে আনা পলি জমা করে সাধারণত গ্রীক অক্ষর ডেল্টা বা বাংলা বর্ণমালার মাত্রাহীন ‘ব’এর মতো এক ভূমিরূপ গঠন করে। নদী বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই বিশেষ ভূমিরূপের পরিচয় ব- দ্বীপ। সমুদ্র উপকূলবর্তী এই বিশেষ ভূমিরূপটি সাধারণভাবে পৃথিবীর অত্যন্ত জনবহুল এলাকা হিসেবেই পরিচিত। সুতরাং সমুদ্রের বেড়ে ওঠা জলতল এই মুহূর্তে বদ্বীপগুলোর অস্তিত্বের বিষয়টিকে এক গভীর প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। Nature পত্রিকার গবেষণামূলক নিবন্ধেও এমন আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে বদ্বীপ বাসীদের জন্য।ভারতের একগুচ্ছ নদী ব-দ্বীপীয় সমভূমির এমন পরিণতি বিষয়টি যে ইতোমধ্যেই অনেকের ঘুম ছোটানোর পক্ষে যে যথেষ্ট তা বোধহয়, দেরীতে হলেও,বুঝতে পারছি আমরা সবাই। মাথায় রাখতে হবে যে সমগ্র দক্ষিণ বঙ্গ সহ পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপের অংশ। সুতরাং ঝুঁকি অনেকাংশে আমাদের‌ও। শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই সত্যি যে, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে যথেচ্ছভাবে ভৌম জল তুলে নেবার ঘটনাকেই বদ্বীপগুলোর দ্রুত গতিতে বসে যাবার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকেরা।

ব-দ্বীপের নিমজ্জন – এক বৈশ্বিক সমস্যা

 এই গবেষণার প্রেক্ষাপটটি সুবিস্তৃত । পৃথিবীর পাঁচটি মহাদেশের ২৯ টি দেশের ৪০ টি নদনদীর ওপর এই গবেষণার কাজ পরিচালনা করা হয়েছে। এমন সমীক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম কেননা এই বদ্বীপীয় সমভূমিগুলোতেই পৃথিবীর ২৩৬ মিলিয়ন মানুষ বসবাস করে। ফলে এই সমস্ত অঞ্চল সমুদ্রের জলের তলায় তলিয়ে গেলে বিপুল সংখ্যক মানুষ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

পরিসংখ্যান বলছে যে বদ্বীপের এলাকাগুলো পৃথিবীর মোট স্থলভাগের মাত্র ১% পরিমিত স্থান দখল করে থাকলেও, এখানে কমবেশি ৩৫০- ৫০০ মিলিয়ন মানুষ বসবাস করে যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬%। পাশাপাশি পৃথিবীর ৩৪টি মেগাসিটির মধ্যে অন্যূন ১০ টি বদ্বীপগুলোতেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

বিজ্ঞানীদের মতে বদ্বীপের প্রচলিত ইকো সিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্র

মানুষের আর্থসামাজিক, বাস্তু তান্ত্রিক এবং শক্তির উৎপাদন সংক্রান্ত ব্যবস্থার ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে। উর্বর মৃত্তিকার কারণে এই সমভূমিতে কৃষি সবথেকে বেশি গুরুত্ব পায়। সাথে সাথে সমুদ্রের নৈকট্য মৎস্য আহরণ, বন্দর স্থাপন, যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রসার ইত্যাদি বিষয়েও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। কিন্তু এতো গুরুত্বপূর্ণ হ‌ওয়া সত্ত্বেও বদ্বীপীয় বাস্তুতন্ত্র আজকের দুনিয়ায় সবথেকে ভঙ্গুর বাস্ত ব্যবস্থাপনার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সমুদ্রের জলতলের সমতলে অবস্থানের কারণেই যে এই আশঙ্কার সৃষ্টি তা সহজেই অনুমেয়।

গাঙ্গেয় বদ্বীপের একেবারে প্রান্ত সীমায় অবস্থিত সুন্দরবন অঞ্চলের মানুষেরা এই মুহূর্তে সবথেকে আশঙ্কিত অবস্থায় রয়েছেন। বদ্বীপীয় সমভূমির গড় উচ্চতা ১- ২ মিটার। এই স্বল্প উচ্চতার ফলে এই অঞ্চলগুলোতে সমুদ্র জলের উচ্চতা বেড়ে যাবার কারণে বানভাসি হবার সম্ভাবনা সবথেকে বেশি। এর সঙ্গে দোসর হিসেবে রয়েছে প্রবল সামুদ্রিক তুফান, ঘূর্ণিঝড়, ভূমির দ্রুতহারে বসে যাওয়া, বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার খামখেয়ালিপনা এবং অন্যান্য জলবায়ু পরিবর্তনের সহযোগী সমস্যা সমূহ। এইসব ঘটনার প্রেক্ষিতে বাড়তে থাকে কৃষিজমির সংকোচন, সমুদ্রের লবণাক্ত জলের আগ্রাসন, মিঠাজলের উৎসগুলোর বিনাশ, আভ্যন্তরীণ মিঠা জলের জলাভূমির লোপাট হয়ে যাওয়া, নদীতে বন্যার সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি। সামগ্রিক পরিস্থিতি যে ক্রমশই জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠতে পারে তা সহজেই বুঝতে পারি সবাই।

গবেষকদের মতে এই বিপর্যয়ের ঘটনায় বদ্বীপের সামগ্রিক পরিস্থিতি ক্রমেই বসবাসের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। জমি হারিয়ে,পেয় জলের জোগানে টান পড়ায় অনন্যোপায় হয়ে বাস্তুচ্যুত মানুষজন বাধ্য হয় দেশান্তরে গমনে। ক্ষীয়মান সম্পদ মানুষের জীবনকে আরও গভীর উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয়। বাড়তে থাকে মানসিক ও সামাজিক টানাপোড়েন। গবেষকদের মতে মতে এইসব কারণেই বদ্বীপের বাস্তুতন্ত্র ইদানিং কালে অত্যন্ত ভঙ্গুর ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সমুদ্র জলতলের উত্থান হারের তুলনায় অনেক দ্রুত নিমজ্জন হার।

ছোটবেলায় করা পাটিগণিতের সেই তেল মাখানো বাঁশে বানরের ওপরে ওঠার গাণিতিক সমস্যার কথা মাথায় এলো – বানর একবারে দুই ফিট করে ওঠে আর তিন ফিট করে নীচে নামে। দেখা গেছে,বদ্বীপের নিমজ্জন হার সমুদ্র জলতলের উত্থান হারের তুলনায় বেশি হ‌ওয়ায় বিপদের আশঙ্কা আরও গম্ভীর হয়ে উঠেছে। গবেষকরা এই কারণে বদ্বীপগুলোর নিমজ্জন হার ও অনুভূমিক বিচ্যুতির মাত্রাকে মাথায় রেখে তাদের প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন –

  • যে সব বদ্বীপের জনসংখ্যা ৩০ লক্ষ বা তার চেয়ে বেশি।
  • ঐতিহাসিক ভাবে চিহ্নিত নিমজ্জমান বদ্বীপ সমূহ।
  • অপেক্ষাকৃত কম জনবসতিপূর্ণ অথচ বাস্তু তান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বদ্বীপ সমূহ।

বিশেষজ্ঞরা ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ের তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন সমীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত বদ্বীপের অর্ধেক সংখ্যক বদ্বীপ‌ই বছর পিছু ৩ মিলিমিটার হারে বসে যাচ্ছে। সমীক্ষিত ৪০ টি বদ্বীপের মধ্যে ১৩ টির ক্ষেত্রে সমুদ্র জলের উচ্চতা বৃদ্ধির হারের তুলনায় ( ৪ মিলিমিটার প্রতি বছর ) নিমজ্জন হার বেশি। এই বদ্বীপের মধ্যে রয়েছে নীল নদ , পো, ভিশ্চুলা,সেহান, ভারতের ব্রাহ্মণী,মহানদী, গোদাবরীর বদ্বীপ সহ আরও ছয় ছয়টি বদ্বীপ যেগুলো আন্তর্জাতিক স্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সমীক্ষায় আরও জানা গিয়েছে যে, বদ্বীপগুলোর গড়পড়তা ৩৫% এলাকাই ডুবে যাচ্ছে এবং ৪০ টির মধ্যে ৩৮ টি বদ্বীপেই এই প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। ভারতের ব্রাহ্মণী, মহানদী ও গঙ্গা – ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের ৯০% এলাকাই এই বিপর্যয়ের শিকার হতে চলেছে। আমাদের কাছে এ এক বড়ো আশঙ্কার সংবাদ।

ওড়িশার মানুষজনের কাছে খুব বড়ো চিন্তার বিষয় হলো এই যে, মহানদী ও ব্রাহ্মণী নদীর বদ্বীপ দুটি সবথেকে দ্রুত গতিতে বসে যাচ্ছে। বছরে ৫ মিলিমিটার হারে ব্রাহ্মণী বদ্বীপের ৭৭% এলাকা এবং মহানদী বদ্বীপের ৬৯% এলাকা ডুবে যাচ্ছে নোনা জলের তলায়। নিবিড় পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে আর‌ও কিছু উদ্বেগের তথ্য। গবেষকরা হিসেব করে জানিয়েছেন যে, সমস্ত বদ্বীপ এলাকার ৪৬০,৩৭০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা এই মুহূর্তে অবনমনের আওতায়। হিসেব অনুযায়ী পৃথিবীর সমস্ত বদ্বীপ এলাকার বাসযোগ্য ভূমির ৬৫% এবং সমীক্ষিত ৪০ টি বদ্বীপ এলাকার ৫৪% ভূমিই ডুবে যাচ্ছে একটু একটু করে।

বড়ো বদ্বীপেরা ডুবছে তাড়াতাড়ি!

পৃথিবীর বড়ো বদ্বীপেরা ডুবছে অপেক্ষাকৃত দ্রুত গতিতে। উঠে আসা তথ্য থেকে জানা গেছে এমন‌ই পিলে চমকানো খবর। হিসেব মতো পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ আকারের বদ্বীপ – গঙ্গা – ব্রহ্মপুত্র নদের বদ্বীপ, নীল নদের বদ্বীপ, মেকং, ইয়াংসি, আমাজন, ইরাবতী ও মিসিসিপির বদ্বীপেরা সম্মিলিতভাবে নিমজ্জমান বদ্বীপের ৫৭% এলাকা দখল করে আছে যার ক্ষেত্রীয় পরিসর ২৬৫,০০০ বর্গ কিলোমিটার। সমীক্ষার অন্তর্ভুক্ত চারটি ভারতীয় নদী বদ্বীপের এলাকা স্থানীয় সমুদ্র জলতলের উত্থান হারের তুলনায় অনেক বেশি দ্রুততার সঙ্গে ডুবে যাচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় কলকাতার অস্তিত্বের সামনে বড়ো প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। সমস্যাটির যেহেতু বৈশ্বিক চরিত্র রয়েছে তাই বলা যায় কলকাতার সঙ্গে এক পংক্তিতে দাঁড়িয়ে আছে আলেকজান্দ্রিয়া,ব্যাঙ্কক, ঢাকা এবং সাংহাই এর মতো জনবহুল জনপদগুলো। বলাবাহুল্য যে প্লাবিত হলে এইসব মহানগরীর বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হবে, বাস্তহারা হতে হবে বহুসংখ্যক মানুষকে, জীবন ও জীবিকার ওপর পড়বে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিক্রিয়া।

মাটির গভীরে থাকা জলের উত্তোলন এর জন্য দায়ী!

দুনিয়া জুড়ে এতো বড় একটা ঘটনা ঘটতে চলেছে অথচ মানুষের দিকে একবারও আঙ্গুল তোলা হবে না, এমনটা হয় নাকি? দুনিয়া জুড়ে জলবায়ুর পরিবর্তন বৃষ্টিপাতের শৃঙ্খলায় বদল এনেছে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাবার কারনে আমরা আরও বেশি করে মাটির নিচে থাকা ভৌম জলের ওপর ভরসা করতে বাধ্য হচ্ছি। অপরিমিতভাবে জল তুলে নেবার ফলে মাটির গভীরে তৈরি হয়েছে বড়ো বড়ো শূন্য পরিসর। জল ও মাটির স্থিতাবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। জল সরে যাওয়ার ফলে মাটির কণাগুলো কাছাকাছি চলে এসে মাটিকে সংবদ্ধ করে তুলেছে। কংক্রিটের মেঝের মধ্য দিয়ে বৃষ্টির জল ঢুকতে না পারার ফলে জল তুলে নেবার পর তা আর পরিপূরিত হচ্ছে না। ভূমিভাগ বাধ্য হয়ে বসে যাচ্ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন যে মানুষের কাজকর্মের প্রয়োজনে ভৌমজলের অবাধ নিষ্কাশনের ফলেই বদ্বীপের অবনতি এক গভীর পরিবেশ সমস্যার সৃষ্টি করেছে।

বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে আসার কারণে নদীর প্রবহন মাত্রা কমে আসছে,যার ফলে বদ্বীপের গঠন তথা সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া অনেকটাই শ্লথ হয়ে গেছে।মহানদী এবং কাবানি বদ্বীপের অংশে ভৌম জলের উত্তোলন এবং নদী বাঁধের কারণে পলি জমা কমেছে। এক্ষেত্রে মানুষের ক্রিয়াকলাপকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সমস্যাটি অবশ্যই বৈশ্বিক। আর ভারতবর্ষ‌ও আজ সেই সমস্যার শিকার।বাড়ছে বিপদের আশঙ্কা, অথচ আমরা অপ্রস্তুত  

শিয়রে শমন,অথচ আমাদের এখনও হুঁশ নেই। মাঝেমাঝেই মনে হয় দুনিয়ার সব বিপর্যয়ের পেছনেই কি আমরা মানুষেরা দায়ী? আসলে মানুষ হিসেবে আমদের ক্রিয়াকলাপ প্রকৃতির রাজত্বের পরিবর্তনকে তরান্বিত করছে, উস্কে দিচ্ছে প্রকৃতিকে। আর তাই নিত্যনতুন বিপর্যয়ের প্রকোপ বেড়ে চলেছে। গবেষকরা ভারতীয় বদ্বীপগুলোকে চিহ্নিত করেছেন “ Unprepared divers “ হিসেবে – বিপর্যয়ের ইঙ্গিত পেয়েও আমরা এখনও অপ্রস্তুত।এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুঝবার মতো প্রস্তুতি কোথায়? আমাদের সদিচ্ছা, সচেতনতা এবং সাধনের সংকট। এগুলো ছাড়া একালে লড়াই অসম্ভব।

এমন প্রত্যাসন্ন বিপর্যয়ের কারণে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সমাজের একেবারে নীচু তলায় থাকা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষেরা। অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণেই এইসব মানুষেরা বদ্বীপের একেবারে সমুদ্র প্রান্তিক এলাকায় বসবাস করতে বাধ্য হন। উথলে ওঠা সমুদ্র সবার আগে গ্রাস করবে এই মানুষগুলোকে,অথচ তারা আশু বিপদ সম্পর্কে একদমই ওয়াকিবহাল নন। আমাদের সুন্দরবন অঞ্চলের মানুষেরা এমন‌ই বিপুল বিপদের শঙ্কা নিয়েই দিনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন।

ঘনায়মান বিপদের অন্ধকারে বাসভূমি ডুবছে, মানুষ ডুবছে। আমরা কি এখনও ঘুমিয়ে কাটাবো?

তথ্যসূত্র : Nature পত্রিকা ও Down to Earth পত্রিকা।

জানুয়ারি ২০, ২০২৬

PrevPreviousডা পবিত্র গোস্বামী।। পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত কর্মচারী সমিতি সমূহের যৌথ কমিটির দ্বাদশ সম্মেলন।
Nextঘুমের ভেতর ভাতের গন্ধ পাই: নাদিরা আজাদের কবিতা গুচ্ছNext
5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
4 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Sugata Bhattacharjee
Sugata Bhattacharjee
1 month ago

সত্যিই এক গভীর বিপদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। ভৌমজল এর ব্যবহার আইন করে বন্ধ করা উচিত। বহু বহুতল, আবাসন এর জল এর যোগান এখন এভাবেই হচ্ছে, শুধুমাত্র আমাদের সুবিধার জন্যে।

0
Reply
Somnath Mukhopadhyay
Somnath Mukhopadhyay
Reply to  Sugata Bhattacharjee
1 month ago

আইন কানুন সব আছে,মানার মানুষ নেই।

0
Reply
Diyali Chattaraj
Diyali Chattaraj
1 month ago

যথার্থই ভীষণ গুরুতর পরিস্থিতি। দুঃখের বিষয় হলো আমরা আদৌ কতোটা আঁচ করতে পারছি এর দায়ভার!!

0
Reply
Somnath Mukhopadhyay
Somnath Mukhopadhyay
Reply to  Diyali Chattaraj
1 month ago

এই বিষয়ে আগেও লিখেছি তবে দুনিয়াজুড়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির বিষয়টি সত্যিই ভয়ঙ্কর চিন্তার। এইসব বিষয়কে নিয়ে আমাদের ভাবনার সময় নেই। সুন্দরবন অঞ্চলের মানুষেরা এই সমস্যার প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী। ফলে তাঁরা কিছুটা ওয়াকিবহাল। শহুরে লোকজন এসব নিয়ে বিন্দুমাত্র সচেতন নন। এসব খবরের পাঠক ক‌ই ?

0
Reply

সম্পর্কিত পোস্ট

কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি প্রদান।। ৯ মার্চ ২০২৬

March 12, 2026 No Comments

ভালোলাগা এক অভিজ্ঞতা

March 12, 2026 No Comments

গতকাল রাত এগারোটা পঞ্চাশে দিল্লি স্টেশন থেকে উঠেছিলাম ‘ত্রিপুরা সুন্দরী’ ট্রেনে। গন্তব্য: নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন। পাঁচজন আমরা আসছি। আজ রাত ( ১০/০৩/’২৬) এগারোটা নাগাদ নিউ

এক রূপকথার‌ই গাঁয়ে….

March 12, 2026 4 Comments

শোনো এক গাঁয়ের কথা শোনাই শোনো রূপকথা নয় সে নয়।…… এমন এক গাঁয়ের কথা পড়ে আমার অবশ্য রূপকথা বলেই মনে হয়েছিল। আর মনে হবে নাই

প্রতিবাদের আওয়াজ হাওড়ার আমতায়

March 11, 2026 No Comments

অভয়ার খুন ও ধর্ষণ এর খবর জানার পর আর জি কর হাসপাতাল থেকে শুরু করে, সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র ছুঁয়ে মানুষের আর্তনাদ ঘরে

আমরা অপেক্ষা করছি ন্যায়বিচারের

March 11, 2026 No Comments

মার্চ ১০, ২০২৬ ১৯ মাস ধরে লড়াই চলছে। অভয়ার ন্যায়বিচারের জন্য, মেয়েদের সুরক্ষার পক্ষে, দুর্নীতির বিপক্ষে। রাজপথ থেকে আলপথ, থানা থেকে স্বাস্থ্যভবন, লালবাজার, সিবিআই কোনো

সাম্প্রতিক পোস্ট

কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি প্রদান।। ৯ মার্চ ২০২৬

Abhaya Mancha March 12, 2026

ভালোলাগা এক অভিজ্ঞতা

Sukalyan Bhattacharya March 12, 2026

এক রূপকথার‌ই গাঁয়ে….

Somnath Mukhopadhyay March 12, 2026

প্রতিবাদের আওয়াজ হাওড়ার আমতায়

Biswajit Mitra March 11, 2026

আমরা অপেক্ষা করছি ন্যায়বিচারের

Abhaya Mancha March 11, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

612870
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]