জিতলে যে ছেলেটাকে মারবে বলে তাক করে রেখেছিলে,
জেতার পরে তাকে তুমি ছুঁতেও পারলে না।
কারণ চোখের পলক ফেলার আগেই সে
তোমার পতাকা তোমার আবির আর তোমার নেতাকে নিয়ে নিয়েছে,
তুমি আর সে মিলে এখন সেই বোকাটাকে মারছো,
যে তার দলের ভরাডুবিতেও প্রতীকে অটুট,
ছুরিটা আমূল বিঁধে মরে যাওয়ার আগে
সে শেষ থুতুটা ছুঁড়ে রেখে গেছে তোমাদের দিকে।
লাশটার দিকে না তাকিয়ে তুমি আর তোমার নতুন বন্ধু মিলিয়ে যাচ্ছো মানুষের ভিড়ে,
সেই সব মানুষের মাঝে ,
যারা দিনের সুস্পষ্ট আলোয় কিচ্ছু দেখেনি, শোনেনি.. এমন কী মোবাইলে ভিডিওও তোলেনি।
এরপর নিয়মমাফিক পুলিশের আসা .. হাসপাতাল.. মর্গ.. বাড়ির লোকের কান্না লুকানো..
অবশেষে একটা মালা-ঝোলানো হাসিমুখ ফটো এবং যে প্রতীকের জন্য সে প্রাণ দিলো,
তাদের নেতাদের বেমালুম ভুলে যাওয়া তাকে।
চেনা দেশ ।
চেনা প্রদেশ।
চেনা স্ক্রিপ্ট ।
ভোটে সংখ্যাগুরু প্রতীকটিও চেনা,
যদিও এই কাহিনীতে সে-ই একমাত্র আপেক্ষিক।
ছেলেটা এখন প্রায়ই মাঝরাতে তোমার স্বপ্নে আসে।
তোমায় ক্যালেন্ডারে দেখায় একটা তারিখ ।
কিছুই পড়তে না পাড়লেও সালটা যে আগামীর তা তুমি বুঝতে পারো,
স্বপ্নে হাত পা ছোঁড়ো তুমি ,
ছেলেটার হাত লম্বা ,
আরো লম্বা,
আরো আরো লম্বা হয়ে
তোমায় টানতে থাকে ক্রমে তার দিক।
তোমার ঘুম ভেঙে যায়।
বিছানা ঘামে ভেজা, গলা শুকিয়ে কাঠ,
হৃৎযন্ত্রের গতি একশোর ওপরে..
তোমার ভয় করে, ভীষণ ভয় করে..
যা দেখেছো , স্বপ্ন তো ঠিক?
ঘড়িটা আগামীর দিকে ঠেলতে থাকে তোমাকে।
সে ডাকছে তোমায় শোনো..
টিক টক টিক টক টিক।












