এর শেষ না দেখে ছাড়বেন না। এটা শুধুমাত্র একজন On Duty মহিলা ও ডাক্তারি ছাত্রীর পাশবিক ধর্ষণ ও হত্যার বিষয় নয়। ভুলে যাবেন না এটা একটা প্রাতিষ্ঠানিক হত্যা, যার প্রমাণ লোপাটের জন্য Health administration ও পুরো state machinary নখ দাঁত বের করেছে। সারা বিশ্বেও সম্ভবত এরকম কোন নজির নেই। এর শেষ দেখা দরকার, স্বাস্থ্যকর্মী (হ্যাঁ, ডাক্তারেরও প্রথম পরিচয় একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে)-দের সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের অধিকার বজায় রাখার জন্য।
প্রথমটার কথা এখন সবাই জানে, মহামান্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ছত্রছায়ায় হেল্থ সিণ্ডিকেট কীভাবে চলে আর তার মাথাগুলি কারা- Flow chart এর মধ্যে তা এরমধ্যেই সামনে চলে এসেছে। আর জি করের ভূতপূর্ব প্রিন্সিপালের কর্মপদ্ধতি তার একটা নমুনা মাত্র। এদের বৃত্ত অনেকগুলি-স্বাস্থ্যভবন, স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়, হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড বা চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা মেডিকাল কাউন্সিল। পার্মানেন্ট রিক্রুটমেন্ট প্রায় নেই, চুক্তিভিত্তিক বন্ডের পিজিটিদের exploit করে হাসপাতালগুলি চলছে। নতুন তৈরি মেডিকাল কলেজগুলিতে পড়াশুনোর মান তলানিতে, সেখানেও দাপিয়ে বেড়ায় অর্ধশিক্ষিত অসভ্য একদল ছাত্র, যারা জানে তারা যা কিছু করতে পারে, কারণ সিন্ডিকেটের মাথারা তাদের আশ্রয়( এদেরই দেখা যায় মেডিকাল কাউন্সিলের নির্বাচনে ব্যালট জাল করতে অথবা প্রৌঢ় চিকিৎসক-অধ্যাপককে অশ্রাব্য গালিগালাজ করতে)।এই ক’বছরে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ভেঙ্গে পড়েছে; সামগ্রিকভাবে ডাক্তারি পড়ুয়াদের মধ্যে এধরণের দুর্বৃত্তায়ন এবং রাস্তার কাঁচা পলিটিক্স আগে এই রাজ্য দেখেনি। ২০১১-র পর স্কুল শিক্ষা, উচ্চ শিক্ষার যে অন্তর্জলি যাত্রা রাজ্যের মানুষের দেখেছে, স্বাস্থ্যশিক্ষা তার সঙ্গে সহমরণে গেছে।তফাত শুধু এই, সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টা এখন সবে পৌঁছতে শুরু করেছে।
এই হত্যা একটি রাজনৈতিক হত্যা। এর পেছনে যেটা চাপা পড়ে আছে তা হল পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি, কোটি কোটি টাকার নয়ছয়- আরজিকরের ভূতপূর্ব প্রিন্সিপালের দুর্নীতি তার একটা সামান্য অংশ। আমরা জানিনা, তিলোত্তমা বোধ হয় সেটাই জেনে ফেলেছিলেন, তাই তাঁকে মেরে ফেলা হল কীনা। এই দুর্নীতির বেনিফিসিয়ারি হাতে গোনা কিছু লোক, আর ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যের খেটে খাওয়া মানুষ, যাঁরা সরকারি হাসপাতালে পরিষেবা নেন। শুরুটা হয়েছিল সুলভ মূল্যের ওষুধ দোকান(এখানকার ওষুধের মান ঠিক কী রকম, যে কোন স্বাস্থ্যকর্মীকে জিগ্যেস করে দেখতে পারেন) আর নতুন মেডিকাল কলেজ বা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরি করার নামে পাঁচতারা বিল্ডিং তৈরির মধ্য দিয়ে। এখন সেটা সর্বস্তরে;-আউটডোর ফার্মেসির ওষুধ, ইন্ডোরের ইঞ্জেকশান, অপারেশানের যন্ত্রপাতি, ল্যাবরেটরির সাপ্লাই সর্বত্র এই অভিযোগ, যার কিছু নমুনা প্রাক্তন ডেপুটি সুপারের অভিযোগনামায় উঠে এসেছে। শিক্ষা দুর্নীতির টাকার পাহাড় তো রাজ্যবাসী দেখেছে (শিক্ষাক্ষেত্রে আর কত টাকার লেনদেন হয়?), তাহলে স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অঙ্কটা কী হতে পারে আন্দাজ করে নিন।
অভয়ার খুনের তদন্ত ও বিচার এই দুটি বিষয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, কারণ অপরাধীরা সম্ভবত আলাদা নয়। খুব দরকার এই সিন্ডিকেটের মাথাগুলোকে ছেঁচে দেওয়া, যাতে এরা আর মাথা তুলতে না পারে। দরকার স্বাস্থ্যের এই দুর্নীতির ফয়সালা হওয়া, যা শাসকদলের প্রত্যক্ষ অনুমোদনে ঘটেছে, বিনিময়ে কোটি কোটি টাকা পার্টিফান্ডে ঢুকেছে বলে অভিযোগ।যার ফলে প্রত্যক্ষভাবে প্রতারিত হয়েছে সাধারণ মানুষ।
তাই, এসো রাত দখল কর। এর শেষ দেখে ছাড়তে হবে। এটা গণতন্ত্রের শেষ লড়াই। সংবিধানের নামে শপথ নাও।
গণতন্ত্রের দুটি স্তম্ভ ইতিমধ্যেই বিক্রিত।তৃতীয় স্তম্ভের সঙ্গে যে বোঝাপড়া করে নেওয়া যায়, ক্ষমতা আর পয়সার জোরে, তার নজিরও আমরা কখনও কখনও দেখেছি। এ লড়াই গণতন্ত্রের শেষ কাঠামোটুকু বাঁচানোর লড়াই, ন্যূনতম নাগরিক অধিকারগুলি আদায়ের দাবিতে।ধর্ষিতা মেয়েদের রেট বেঁধে দিয়ে যে বুড়ো সাপ অসীম ঔদ্ধত্যে ফোঁস করার জন্য উত্তেজিত করে, তার বিষদাঁতগুলো ভেঙ্গে দেওয়ার কাজটা বাকি।
…দেখা হবে রাস্তায়।
ডাঃ নিরাকার মিশ্র









