৪ মার্চ, ২০২৫
আজ সংবাদমাধ্যম থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে ওষুধের গুণমান নির্ণয়ের কেন্দ্রীয় সংস্থা Central Drug Standard Control Organization(CDSCO)-এর রিপোর্টে গোটা দেশ জুড়ে ৯৩ টি ওষুধকে ব্যবহারের জন্য বিপদজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হল পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্যালসের রিঙ্গার ল্যাকটেট।
কয়েক সপ্তাহ আগে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে এই বিষাক্ত স্যালাইন ব্যবহারের পর দুই প্রসূতির মৃত্যু ঘটে। আমরা যখন সেই মর্মান্তিক ঘটনার পিছনে পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্যালসের রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলি তখন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী তড়িঘড়ি মূল কারণকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ‘চিকিৎসায় গাফিলতি’র তত্ত্ব আনেন এবং নয়জন জুনিয়র ডাক্তারকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বহিষ্কার করেন। পরে রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন ল্যাবরেটরি থেকে পরীক্ষার পর সেই স্যালাইনকে নিরাপদ বলেও ঘোষণা করা হয়! অথচ আজ CDSCO-এর রিপোর্টে ওই রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনের একাধিক নমুনায় ব্যাকটেরিয়াল এন্ডোটক্সিনের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বস্তুত এই ঘটনার আগেও বিভিন্ন সময়ে ওয়ার্ডে এবং ও.টি-তে ওই স্যালাইন ব্যবহারের পর রোগীদের অপ্রত্যাশিত ভাবে জ্বর আসা, কাঁপুনি, শ্বাসকষ্ট এইসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আমরা একাধিকবার লক্ষ করেছি এবং সেসময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো সদর্থক পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। যেখানে অনেক আগেই পরীক্ষা করে এই কোম্পানির স্যালাইনকে বাতিল করার নির্দেশ দেওয়ার কথা ছিল, সেজায়গায় রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ উদাসীন থেকে সেসব বিষাক্ত সামগ্রী দিনের পর দিন সরকারি হাসপাতালগুলিতে ব্যবহার করার ছাড়পত্র দিয়ে গেছে।
তাই মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের দুর্ভাগ্যজনক প্রসূতি-মৃত্যুর ঘটনায় জুনিয়র ডাক্তারদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোকে আমরা আরও একবার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং রাজ্য প্রশাসনকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাইছি :
“বিষ-স্যালাইন দায় কার?
জবাব দাও সরকার।”
ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়ার ডক্টরস ফ্রন্ট










