গতকালের নারীদের ক্রিকেটের বিশ্বকাপে ভারতের মেয়েদের স্তব্ধ করে দেওয়া জয় বহু হেডলাইনের জন্ম দিয়েছে “মেয়েদের রাতদখল” লিখে। “অভয়া” ধর্ষিতা, মৃতা এবং বিচারহীন থেকেও কী আবার “মেয়েদের রাতদখল”-এর ছাপ (trace) রাখল গণস্মৃতিতে? ইতিহাসের ঘটনা বুঝি এভাবেই স্মৃতিতে ফিরে ফিরে আসে।
নতুন চিনের প্রধান স্থপতি মাও জে দং বলেছিলেন – “নারী তুমি অর্ধেক আকাশ”। এর ঢের আগে আমাদের কাজী নজরুল ইসলাম প্রায় হুবহু একই কথা বলেছিলেন। গতকাল আমাদের মেয়েরা “অর্ধেক আকাশ” দখল করেছে। কিন্তু আমাদের মতো “বাবু মশাই”দের কী এসে যায়? মনে পড়ছে বাঙালির “দাদাগিরি”র আইকন সৌরভ গাঙ্গুলির কথা? মনে পড়ছে একসময় ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বেসর্বা শ্রীনিবাসনের উক্তি? এই মেয়েরা, তোরা বলতে পেরেছিস –
“বেঁধেছ বেশ করেছ
কী এমন মস্ত ক্ষতি
…
বাবুদের লজ্জা হল?” (শঙ্খ ঘোষ)
আমাদের আরেকটু পেছনে যেতে হবে যে আজ! স্মরণীয়কালের মধ্যে রূপ কানওয়ার, হাথরাসের মেয়েটি (একটি উদাহরণ মাত্র), বাংলার “অভয়া”, দিল্লির “নির্ভয়া”, সনি সরি, রাশি রাশি মেয়ে ভ্রূণহত্যা… এ তালিকা শেষ হবার নয়।
এর মধ্যে তোরা জিতে নিলি ক্রিকেটবিশ্বের সেরা সম্মান। মেয়েরাও পারে – ছেলেদের সঙ্গে টক্কর দিয়ে ব্যাট চালাতে পারে, হাতের জাদুতে বল করতে পারে, গ্রাঊন্ড ফিল্ডিং-য়ে ছেলেদের টক্কর দিতে পারে, গভীর রাতে স্টেডিয়ামের উজ্জ্বল আলোয় অলৌকিক ক্যাচ ধরতে পারে। জেতার পরে আবেগে কাঁদতে পারে।
আমরা তো বায়োলজিক্যাল কারণে দৈহিক শক্তিতে ছেলে আর মেয়েদের মধ্যে বিভাজন আছে। কিন্তু সক্ষমতায়? দাঁত চেপে শেষ অব্দি লড়ায়ের ময়দানে? মাঠের ভেতরে শারীরিক ক্ষিপ্রতায়? এক থ্রোয়ে উইকেট ভেঙে দেবার সময়?
না! আমি কোন ফারাক দেখিনি। আমার আজ বলতে লজ্জা হচ্ছে – এই ম্যাচটি ছাড়া মেয়েদের ক্রিকেটের কোন ম্যাচ অদ্যাবধি আমি দেখি নি। কিন্তু প্রথম দর্শনেই “মেয়েদের ক্রিকেটের” প্রেমে মজে গেলাম। “অহো কী দেখিলাম!” এবার বলার সময় এসেছে –
“একটু মশাই নড়ুন
ভিতর থেকে নড়ুন
চাপ সৃষ্টি করুন
চাপ সৃষ্টি করুন।” (শঙ্খ ঘোষ)
আরও কিছু কথা
মুনাফাগন্ধী ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবার, আশা করা যায়, মেয়েদের ক্রিকেটের জন্য অর্থ নিয়োগ করবে। কারণ বুঝে গেছে, ছেলে বা মেয়ে যাদের ক্রিকেটই হোক না কেন, জয়ীদের জন্য দর্শকের অভাব হয় না। হাজার কোটি টাকার থলি নিয়ে স্পনসররা এগিয়ে আসে। “মন কি বাত”-এ নারী শক্তির জয়গাথা রচনা হবে। কিন্তু “রাত সাড়ে বারোটার পরে বেরোয় কেন?” – এ কথার জবাব মিলবে কী? নিয়তির পরিহাসে গতরাতে রাত সাড়ে বারোটাতেই যে খেলা শেষ হল!
কিন্তু আমাদের গণমানসিকতায় প্রতিদিনের রাস্তায়, কর্মক্ষেত্রে, বাড়িতে এবং সমগ্র দেশ জুড়ে মেয়েদের/নারীদের সম্পর্কে মনোজগৎ পাল্টাবে কী? উত্তর এখনো জানি না – সময় দেবে, কালের গতি দেবে।
“বারেবারেই কী এমন হবে –
হয়তো তখন খুলে দেখবে মুঠো –
প্রকাণ্ড নীল সেই আকাশটা
কখন গেছে উপে।
যখন অনেক বড় হবে
আমার মেয়ে পুপে।।”
(“পুপে”, সুভাষ মুখোপাধ্যায়)
তবে এটা জানি হরমনপ্রিত, দীপ্তি, শেফালি, রিচারা এক আগুন জ্বালিয়ে গেল, ছেলেদের রাজত্ব থেকে আগুন চুরি করে আনলো – বাড়িয়ে বললে প্রমিথিউসের মতো কী? যাই হোক না কেন, আমাদের আবেগে ভাসিয়ে দিল। অন্তত কিছুদিন আবেগে ভাসতে থাকাটাই এখন আমাদের সম্বল – আমাদের অবলম্বন।













সমতার মঞ্চে আজ আবার প্রমাণ হলো, প্রতিভার কোনো লিঙ্গ নেই।
লেখকের দারুণ উপস্থাপনা, আন্তরিক অভিনন্দন।
It’s just not the cricket but beyond.Neglect to any being is broken by an instance. Now it’s time for all to pay a return gift to them at large.
খুব চমৎকার লেখা। কিন্তু সৌরভ তা বলেনি। ওর একটা অংশ কেটে ভাইরাল করেছে। সৌরভ কে রাজনীতির স্বীকার করা হয়েছে। বা কিছুটা হয়ে গেছে ও। গতকাল 4 নভেম্বর এবিপি আনন্দ এই কারনে পুরো অংশটা দেখিয়েছে। কারন ইন্টারভিউ টা এবিপি আনন্দের মুম্বাইতে মেরিন ড্রাইভের সামনে বহু ব্যাক্তিত্বের সামনে ছিল। সৌরভ বলেছিল ওর কন্যা ক্রিকেট খেলবে না ও নানান দিকে মাথা ঘামায় ক্রিকেট দেখতো না IPLদেখতো শুধু তাও এখন দেখে না। এটা ভুললে চলবে না যখন ভারতীয় টিমে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বার বার হারছে তখন সৌরভ ই জিততে শিখিয়ে ছিল ভারতীয় দল ওর হাতে গড়া। প্রশাসক হয়ে ও বিরাট কে সরিয়ে রোহিত কে ক্যাপ্টেন করার সুফল আজ মানুষ বুঝতে। যখন ভারত টি20 বিশ্বকাপ জয় করে। আসলে সামাজিক মাধ্যম মানুষের কাছে ফ্র্যান্কৈনস্টাইন। মিথ্যা, মোহ, লোভে মনুষত্বকে ধ্বংস করার সুপরিকল্পিত প্রয়াস। যদিও ডিজিটাল বিপ্লব কে অস্বীকার করা যায় না।এর পর আসছেartificial intelligent মানুষ কে কর্মহীন করার শুরুয়াত।
খুব তীক্ষ্ণ সংবেদনে লেখা। স্বল্প পরিসরে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ-চেতনার মূলে আঘাত করা হয়েছে।