Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

চরক-সংহিতা-র অভ্যন্তরে – সূত্রস্থান ১-৩০ অধ্যায়

Oplus_16908288
Dr. Jayanta Bhattacharya

Dr. Jayanta Bhattacharya

General physician
My Other Posts
  • May 12, 2025
  • 8:24 am
  • 2 Comments

(পাঠকদের সুবিধের জন্য এ লেখাটির ১ম অংশের লিংক দেওয়া থাকলো – https://thedoctorsdialogue.com/ino-the-depth-of-charak-samhita-1/)

শুরুর কথা

আমরা আগের সংখ্যায় আয়ুর্বেদের প্রধান ভিত্তি “ত্রিদোষতত্ত্ব” নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। এবং, মিউলেনবেল্ডের গবেষণা অনুসরণ করে, দেখিয়েছিলাম আয়ুর্বেদ রচনা্র প্রথম যুগে রক্তও খুব সম্ভবত বায়ু-পিত্ত-কফ ছাড়া ৪র্থ ক্যাটিগরি হিসেবে গৃহীত ছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন শতাব্দিতে সংস্কারকর্তাদের হাতে পড়ে টেক্সটগুলোর পুনর্লিখন এবং পরিমার্জনা হয়েছে এবং ধীরে ধীরে রক্ত নির্বাসিত হয়েছে ত্রি-দোষতত্ত্ব থেকে। কারণ খুব স্পষ্ট নয়্। তবে বরেণ্য নৃতাত্ত্বিক ফ্রান্সিস যিমারম্যান তাঁর একটি প্রবন্ধে[1] রক্ত-মোক্ষণ (blood-letting) নিয়ে যে পর্যবেক্ষণ রেখেছেন সেখানে এর কিছুটা উত্তর পাওয়া সম্ভব, হয়তো বা।

যিমারম্যান দেখিয়েছেন যে, শুধু এটুকু আমাদের মাথায় রাখলে চলবেনা যে সুশ্রুত-সংহিতা এবং চরক-সংহিতা-র দৃঢ়বদ্ধ টেক্সট হিসেবে স্বীকৃতি পেতে ১০ থেকে ১৫ শতাব্দী লেগেছে এবং মধ্যযুগের বিভিন্ন ভাষ্য এতে যুক্ত হয়েছে, পুনঃপুন সংস্কার হয়েছে। এর সাথে এটাও মাথায় রাখতে হবে এত দীর্ঘ সময়কালে সমষ্টিগত চিন্তার জগতে প্রচুর ভাঙ্গাচোরা এবং পরিবর্তন ঘটেছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী – “এধরনের পরিবর্তনের আরও মূলগত একটি উদাহরণ হচ্ছে পঞ্চকর্ম – পাঁচটি চিকিৎসা – এই শব্দটি। “পাঁচটি চিকিৎসা”-কে কোষ্ঠ বা দেহ পরিষ্কার করার জাতিবাচক বা জেনেরিক নাম হিসেবে দেখা পঞ্চকর্ম-এ আদিতে সম্ভবত শোধন বা পরিশুদ্ধ করার চিকিৎসার সাথে সমার্থক ছিল, কারণ দুটি ক্যাটেগরিতেই অন্তর্ভুক্ত ছিল বমনোদ্রেককারক, রেচক, জোরালো এনেমা, এবং errhines বা নাক দিয়ে প্রবেশ করানো ওষুধ যা শ্লেষ্মা তৈরি করে। পঞ্চম প্রক্রিয়া ছিল রক্তমোক্ষণ (bloodletting)। যেহেতু সময়ের সাথে রক্তমোক্ষণ অপ্রচলিত এবং অব্যবহৃত হয়ে যায় ফলে একে বাদ দিয়ে নিয়ে আসা হয় তেলের এনেমা। এই টেকনিক্যাল পরিবর্তনগুলো এবং শব্দার্থের পরিবর্তন ঘটালো চিকিৎসার দর্শনের ক্ষেত্রে আরও মূলগত পরিবর্তন – অপারেশনের চিকিৎ্সা থেকে অধিকতর মৃদু পদ্ধতি।”

শল্য চিকিৎসার মৌলিক সমাধি সম্পূর্ণ হল। কিছু বিশেষ শল্য চিকিৎসা বেঁচে রইলো নীচু জাতের মাঝে পারিবারিক, পরম্পরাগত বৃত্তি হিসেবে।

এ বিষয়ে আমরা পরবর্তী সময়ে আলোচনা করব। এখানে শুধু এটুকু উল্লেখ করা যায় – বাগভট-এর অষ্টাঙ্গহৃদয় সংহিতা-য় দোষসমূহ কীভাবে আমাদের পরিচিত পরিভাষায় chain reaction-এর মতো শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া শুরু করে তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ রয়েছে। অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে দোষসমূহ দূষ্য (ক্ষতিকর) হয়, এরা দেহের “রস” এবং অন্যান্য ধাতু-কে দুষ্ট করে, পরবর্তীতে “দোষ” এবং “ধাতু” উভয়েই “মল’-কে দুষ্ট করে, দুষ্ট মল. আবার “মলযানসমূহ” (channels) – দুটি চ্যানেল নীচে, ৭টি মস্তকে, ঘামের চ্যানেল – একত্রে দুষ্ট হয় এবং এগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত রোগের সৃষ্টি হয়। (সূঃ ১১.৩৪১/২-৩৬)[2]

চরক-সংহিতা-র বিমানস্থান-এ রয়েছে – “শরীরের যতরকমের লক্ষ্য ও অলক্ষ্য অবকাশ অর্থাৎ গমনপথ (?channels) আছে তাদের নাম এরকম – স্রোতঃ (এরও ইংরেজি চ্যানেল করা হয়েছে), শিরা (মনিয়ের-উইলিয়ামস-এর A Sanskrit English Dictionary অনুযায়ী এর অর্থ করা হয়েছে – “any tubular vessel of the body, a nerve, vein , artery, tendon, &c.”[3] এ কারণে শিরা-র ইংরেজি অর্থ vein করা কার্যত বর্তমানের প্রেক্ষাপট থেকে অতীতকে নিজেদের মতো করে ব্যবহার করার মতো। আয়ুর্বেদে এবং অন্যান্য ভারতীয় মেডিক্যাল লিটারেচারের একটি গুরুতর সমস্যা হচ্ছে, একই শব্দ প্রেক্ষিত ভেদে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বহন করে। এদেরকে নির্দিষ্ট একটি অর্থে বেঁধে ফেলার প্রয়াস জ্ঞানতাত্ত্বিক অর্থে ভুল। এ নিয়ে পরবর্তী বিস্তৃত আলোচনা করা হবে।), ধমনী (একে ইংরেজিতে vein বলা হয়েছে। যদিও A Sanskrit English Dictionary অনুযায়ী এর কোন একক অর্থ পাওয়া যায়না – “a pipe or tube, (esp.) a canal of the human body, any tubular vessel, as a vein, nerve, vessels starting from the heart or from the navel are supposed to carry the rasa or chyle through the body, the throat, neck”.[4] আবার সেই শব্দার্থের সমস্যা), রসায়নী (lymphatic channels)[5], রসবাহিনী, নাড়ী, পথ, মার্গ, শরীরছিদ্র, সংবৃতাসংবৃত (যা নালীর একপ্রান্ত খোলা, অন্যপ্রান্ত বন্ধ), স্থান, আশয়, আলয় ও নিকেত। শরীরধাতুসমূহ স্বস্থানস্থ ও স্বমার্গগত (অর্থাৎ স্বাভাবিক অবস্থায়) থাকলেও, স্রোতঃসমুহের প্রকোপে তারাও প্রকোপগ্রস্ত হয়। কোন একটি স্রোতঃ প্রকুপিত হলেও অপর স্রোতঃ প্রকুপিত হয়। স্রোতঃ দূষিত হয়ে অপর স্রোতঃ এবং ধাতু দূষিত হয়ে অন্য ধাতুকে প্রকুপিত করে। বায়ু পিত্ত ও শ্লেষ্মা, এরাই দোষস্বভাব বশত সমুদয় স্রোতঃ এবং সমস্ত ধাতুকে দূষিত করে থাকে।” (বিঃ ৫.৯)

আমরা দোষস্বভাব শব্দটি নজর করব। স্বভাব অর্থে আয়ুর্বেদে প্রকৃতিগত চরিত্র (nature) বোঝায়। যদিও উপরের শ্লোকটিতে বলা আছে স্রোতঃও কুপিত হলে অন্য ধাতু ও স্রোতঃ-কে কুপিত করতে পারে, কিন্তু উপসংহারে বলা হল যে, “বায়ু পিত্ত ও শ্লেষ্মা, এরাই দোষস্বভাব বশত সমুদয় স্রোতঃ এবং সমস্ত ধাতুকে দূষিত করে থাকে”। এ বিষয়ে মিউলেনবেল্ডের পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য – “it adds as an afterthought that actually the three doṣas are the causes of these corrupted states by reason of their inherent nature (svabhâva). This is clearly nothing but a petitio principii (a logical fallacy in which a premise is assumed to be true without warrant or in which what is to be proved is implicitly taken for granted) and is not helpful at all in elucidating the character of the düṣanatva of dhâtus and channels.”[6]

তাঁর এ প্রবন্ধের শেষে সিদ্ধান্ত হিসেবে মিউলেনবেল্ড জানাচ্ছেন – “My own conclusion is that, if the Saṃhitās do indeed presuppose a characteristic distinguishing a doṣa from other constituents of the body, in particular the dhätus, it is the combination of ārambhakatva and prakṛtyārambhakatva. This conclusion does not imply that the term dosa can be employed with respect to väta, pitta and kapha only, since ärambhakatva and even prakṛtyärambhakatva can be applied to blood as well, which of course brings up the problem of whether blood too might not have been regarded as a doṣa.”[7]

যদিও আমার জানা পণ্ডিত ও স্কলারদের মধ্যে সমধর্মী বিষয় (ত্রি-দোষ) নিয়ে শার্ঙ্গধর-সংহিতা-কে কেউ আলোচনায় আনেন নি – এমনকি মিউলেনবেল্ড, য়ুজাস্তিক, যিস্ক বা রাহুল পিটার দাসও – কিন্তু আমার মনে হয়েছে শার্ঙ্গধর-সংহিতা-র (রচনাকাল ১২শ-১৩শ শতাব্দি) প্রাসঙ্গিক অংশটুকু এখানে আলোচিত হওয়া দরকার। চরক-সংহিতা সংকলিত হবার অনেক পরে রচিত হওয়া সত্বেও এ গ্রন্থে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রয়েছে। শার্ঙ্গধর-এর ব্যাখ্যায় – “ধাতবস্তন্মলা দোষা নাশয়ন্ত্যসমাস্তনুম্ । সমাঃ সুখায় বিজ্ঞেয়া বলায়োপচয়ায় চ ।।” (পূর্বার্ধঃ প্রথমোধ্যায়ঃ – ৫.৪৯)

উপরোক্ত শ্লোকের বাংলা করলে হবে – “ধাতু ধাতুমল ও দোষ, এরা অসম হলে শরীরকে নাশ করে, সম হলে সুখ, বল ও পুষ্টি প্রদান করে থাকে।” “ধাতু ধাতুমল ও দোষ, এরা অসম হলে শরীরকে নাশ করে” এ অংশটি ভালো করে অনুধাবন করলে বোঝা যাবে, চরক এবং বাগভট-এর ত্রি-দোষ তত্ত্ব নিয়ে যে ধারণা এর আগে আলোচিত হয়েছে, তার সাথে এ ধারণার পার্থক্য এখানে যে ধাতু, ধাতুমল ও দোষ এই তিনটিকেই রোগের উৎপত্তির কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

সূত্রস্থান-এর অধ্যায় সমূহ – সারসংক্ষেপ

 পূর্বেই যেমন বলা হয়েছে, আমি এক্ষেত্রে মিউলেনবেল্ডের করা সারসংক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় প্রবৃত্ত হব। প্রয়োজনে কোন কোন স্থানে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা যুক্ত হবে।

১ম অধ্যায়ের শিরোনাম “দীর্ঘজীবিতীয় অধ্যায়”। মিউলেনবেল্ডের বক্তব্য “most heterogeneous of the whole saṃhitā in its composition.”[8] প্রথম ৩০টি শ্লোক আয়ুর্বেদের দৈবী উৎস নিয়ে সবিস্তার আলোচনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা পূর্বে আলোকপাত করেছি। এরপরে দার্শনিক প্রশ্ন আলোচিত হয়েছে। আলোচিত হয়েছে পুরুষ নিয়ে যিনি হচ্ছেন ত্রিদণ্ড-এর সংযোগ – সত্ত্ব (মানস), আত্মন ও শরীর। (১.৪৬-৪৭) পরে শ্লোকে (১.৪৮) দ্রব্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মিউলেনবেল্ড দেখিয়েছেন, বৈশেষিক দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে দ্রব্য-এর ৯টি ভাগ করা হয়েছে – ৫টি মহাভূত, আত্মন, মানস, কাল (স্ময়) এবং দিশ (স্থান)।[9] গুণ এবং কর্ম, এই দুটি বর্গ আলোচিত হয়েছে পরের শ্লোকে। (১.৪৯) “Samavāya is defined as the relation of inseparable inherence (অপৃথগভাব), as in the case of earth and other substances … Caraka describes it … on the Vaiśeṣkasūtras…”[10] এরপরে অধ্যায়ের আলোচিতব্য বিষয়ের ধরন মেডিক্যাল থিওরি হয়ে ওঠে। ধাতুসাম্য (equilibrium of dhātus) – শরীরের উপাদানসমূহের সাম্য উপযুক্ত ক্রিয়া-র মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়। (১.৫৩) পরবর্তীতে ঔষধিয় দ্রব্যের ৩টি ভাগ করা হয়েছে – দোষপ্রশমন, ধাতুপ্রদূষণ, এবং স্বস্থবৃত্তি(কর)। (১.৬৭)

২য় অধ্যায়ের শিরোনাম “অপামার্গতণ্ডুলীয় অধ্যায়”। এরকম নামের কারণ হচ্ছে অপামার্গ (Achyranthes aspera) বৃক্ষ এক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে। তণ্ডুল শব্দের অর্থ “নিস্তুষ ধান বা বীজ”। অর্থাৎ অপামার্গের dehusked বীজ নিয়ে এ অধ্যায়ের আলোচনার শুরু। মিউলেনবেল্ডের সারসংক্ষেপ এরকম – আলোচিত হয়েছে বিভিন্ন ওষধি নিয়ে যা বমন ক্রিয়া (emesis) এবং বিরেচন (purgation) ক্রিয়ার জন্য কার্যকরী। (সূঃ ১.১-১৬) দু’ধরনের চিকিৎসা যদি একসঙ্গে করা যায় তাহলে এ চিকিৎসা “শোধন”-এর (evacuation) সমতুল্য এবং “from part of the complex procedure called paṅcakarma (পঞ্চকর্ম) elaborately described in the Siddhisthāna. Many of the substances of this part of chapter two are already mentioned in Ca.Sū. 1.74cd-119.”[11]

তিনি আরও বলছেন, ওষধি অপামার্গ ২য় অধায়ের শুরুতেই এসেছে। কারণ – “it is the main drug used in evacuation of the head.”[12] এরপরে বলেছেন – বমনকারী ওষুধের মধ্যে মদন (২.৭) প্রধান, বিরেচকের মধ্যে ত্রিবৃৎ (Operculina turpethum Linn.) (২.৯) প্রধান ওষুধ।

(বাঁদিকে, অপামার্গ গাছ ও বীজ এবং ডানদিকে, ত্রিবৃৎ গাছের ছবি)

এই অধ্যায়ের ২য় অংশে ২৮ রকমের “যবাগূ” (medicinal gruels)-এর বর্ণনা করা হয়েছে (২.১৭-৩৪), যেগুলো পঞ্চকর্মের পরে খাদ্যবিধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে যদি পঞ্চকর্ম সঠিকভাবে না করা হয়। উল্লেখ করা দরকার যে ২৮ রকমের যবাগূ তৈরির প্রকরণ বিস্তৃতভাবে বিবৃত হয়েছে।

সংযোজন – মদন ফল-কে (Randia dumetorum) প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হছে, কারণ এ ফলের কোন ক্ষতিকারক দিক নেই

(মদনফল – Randia dumetorum)

বমন, বিরেচন ও শোধন ক্রিয়ার পরে বলা হয়েছে – “বায়ু, পিত্ত কফজনিত দোষসমূহ উপস্থিত হলে রোগিকে স্নেহ ও স্বেদ প্রদান পূর্বক দেশ, কাল ও মাত্রা বিবেচনা করে পঞ্চকর্মের অনুষ্ঠান করবে। মাত্রা ও কালকে অবলম্বন করেই যুক্তির প্রবর্তনা হয় এবং যুক্তির ওপরেই সমুদয় সিদ্ধি নির্ভর করে। একারণে দ্রবজ্ঞ ভিষক্ অপেক্ষা যুক্তিজ্ঞ ভিষক্ই শ্রেষ্ঠ।” (সূঃ ২.১৬)

এর আগে যে আমরা দেখেছি, কীভাবে আয়ুর্বেদের যুক্তিব্যপাযশ্রয় ভেষজ-এ উত্তরণ হয়েছিল, তারই আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল উপরোক্ত শ্লোকটি। এমনকি একথাও বলা হয়েছে – “বরাহ মাংসের ক্কাথে যবাগূসিদ্ধ পান করলে তা অত্যন্ত পুষ্টিকারক।” (সূঃ ২.১৭.১১) ব্রাহ্মণ্যধর্মে আরেকটি ঘোরতরভাবে নিষিদ্ধ মাংসও সম্ভবত চিকিৎসার স্বার্থে এবং রোগির মঙ্গলচিন্তা প্রাধান্যকারী জায়গায় রেখে ধর্ম-নির্লিপ্ত, মুক্তমনা আয়ুর্বেদের চিকিৎসকেরা রোগির আরোগ্যের জন্য রোগির পথ্য হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন – “গোমাংসের যুষ দাড়িম (ডালিম) ইত্যাদি রসের দ্বারা অম্লীকৃত করে পান করলে বিষমজ্বর নষ্ট হয়।” (সূঃ ২.১৭.২৩)

অপামার্গ এবং অন্যন্য ফলের বীজ ও আরও অনেক প্রয়োজনীয় দ্রব্যের সমাহার শিরোবিরেচনে প্রয়োগ করা হয়। এতে যেসব রোগ থেকে মুক্তি ঘটে সেগুলো হল – শিরগৌরব (মাথাভার), শিরঃশূল (মাথাব্যথা), পীনস (a group of nasal disorders, often translated as “catarrh” or “rhinorrhea”), অর্ধাভেদক (আধকপালে), ক্রিমিরোগ (parasitical diseases), অপস্মার (epilepsy বা স্মৃতিভ্রংশ), ঘ্রাণনাশ (anosmia), প্রমোহক (মূর্ছারোগ)। (সূঃ ২.৩-৬)

৩য় অধ্যায়ের শিরোনাম আরগ্বধীয় অধ্যায়। এই অধ্যায়ের নামও একটি উদ্ভিদের নাম দিয়েই শুরু হয়েছে – আরগ্বধ বা বাংলায় সোঁদাল (Cassia fistula) বা সোনালী ঝরনা নামেও পরিচিত।

(সোঁদাল – Cassia fistula)

মিউলেনবেল্ড এ অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ করেছেন এভাবে – “চূর্ণপ্রদেহ তৈরির ৩২টি উপায়ের কথা বর্ণিত হয়েছে। চূর্ণপ্রদেহ বহিঃপরিমার্জন তথা বহিরঙ্গের শোধনের জন্য ব্যবহার করা হয়। গুঁড়ো ওষুধকে চূর্ণ বলে এবং যেসব রোগাক্রান্ত অঞ্চলকে পূর্বে তেল দিয়ে তৈলাক্ত করে রাখা হয়, সে অঞ্চলের ওপরে এই চূর্ণ ছড়িয়ে দিয়ে কিছুক্ষণ মালিশ করা হয়।”[13]

সংযোজন – আরগ্বধ সহ বিভিন্ন পদার্থের সংযোগে যে চূর্ণসমূহ তৈরি হয় (৩২ প্রকার) তাকে ৬ ধরনের বিভাগে বা ফর্মুলায় বিভক্ত করা হয়েছে। ব্যবহারের আগে ৬টি গোত্রের বিভিন্ন চূর্ণকে ষাঁড়ের পিত্ত এবং সর্ষে তেল মিশিয়ে প্রলেপ হিসেবে তৈরি করা হয়। এই প্রলেপের সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের ত্বকের অসুখের চিকিৎসার জন্য, যেমন একাধিক ধরনের কুষ্ঠ, নতুন করে তৈরি হওয়া শ্বেতি (leucoderma), নতুন কিলাস (?alopecia), অপচী (keloids), দদ্রু (ringworm), ভগন্দর (fistula-in-ano), ইন্দ্রলুপ্ত (টাক), পামা (scabies?) ইত্যাদির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এবং এসব রোগ অচিরে বিনষ্ট হয়। (৩.৩-৭)

৪র্থ অধ্যায়ের শিরোনাম “ষড়বিরেচনশতাশ্রিতীয় অধ্যায়”। ৬০০ রকমের বিরেচক ওষুধ আছে। উদ্ভিদের ৬টি আলাদা অংশ বিরেচনের জন্য কার্যকরী, ক্কাথ (decoction) তৈরির ক্ষেত্রে ৫ রকমের ওষুধের প্রয়োজন, ৫ ধরনের কষায়যোনি (৫ রকমের স্বাদ), কষায়কল্পনা (pharmaceutical processes) ৫ প্রকার। এবং ৫০০ প্রকার মহাকষায় (decoctions)। (৪.৩) চরক-সংহিতা-র “কল্পস্থান”-এ অবশ্য ৬০০ বিরেচনের কথা বিস্তৃতভাবে বলা হয়েছে।

২য় অধ্যায়ে মদন ফল-এর গুরুত্ব বিশেষভাবে বলা হয়েছিল। ১৩৩ রকমের বিরেচক মদন ফল দিয়ে প্রস্তুত করা হয়। (৪.৪) উদ্ভিদের ৬টি আলাদা আলাদা অংশ বিরেচনের জন্য উপযুক্ত – আঠা (latex), মূল, ছাল, পাতা, ফুল এবং ফল। (৪.৫) এর মধ্যে অম্ল কষায় অনুপযুক্ত, অন্য ৫টি ব্যবহারের অনুকূল।

কষায়যোনি ৫ রকমের স্বাদ অনুযায়ী বিভক্ত – মধুর কষায়, অম্ল কষায়, কটু কষায়, তিক্ত কষায় এবং কষায় কষায় (astringent)। (৪.৬) মিউলেনবেল্ড বলছেন – “The definitions of these types are given in some interpolated verses.”[14] মিউলেনবেল্ড কী প্রক্ষিপ্ত শ্লোকের অস্তিত্বের প্রতি আমাদের নজর আকর্ষন করলেন?

কষায়কল্পনা-র ৫টি প্রকার হল – স্বরস (freshly expressed juice), কল্ক (paste), শৃত (decoction), শীত (cold infusion) এবং ফান্ট (hot infusion)। (৪.৭) মিউলেনবেল্ডের ব্যাখ্যানুযায়ী এদের এরকম ভাগ করা হয়েছে “according to their decrease in strength”[15]।

এই অধ্যায় সম্পর্কে বলতে গিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ – “The groups begin with medicinal substances which are jīvanīya (vitalizing) and end with those which are vayaḥsthāpana (preserving youthful vigour), thus stressing the rasāyana aspect of āyurveda. The arrangement, names and actions of fifty groups are remarakable in several respectes and suggest that Sū.4 may represent an old part of the Carakasaṃhitā.”[16]

এই পর্যবেক্ষণটি আমাদের কাছে মূল্যবান একারণে যে অন্য আয়ুর্বেদ-বিশেষজ্ঞ বা সংস্কৃত স্কলারের লেখায় অনেক সংস্কারের পরেও কীভাবে চরক-সংহিতা-র প্রাচীন অংশের ছাপ দেখা যেতে পারে, একথা কেউ বলেননি। এবং এই অংশটুকুর মাঝে কীভাবে রসায়ন (তথা অ্যালকেমি)-এর অংশ আয়ুর্বেদে শ্লোকের ভাঁজে ঢুকে আছে, এই ব্যাখ্যাও আমরা ভেবে দেখিনি।

৪র্থ অধ্যায়ের বিষয়ে মিউলেনবেল্ড আরও কিছু দিকের প্রতি নজর আকর্ষণ করেছেন – (১) বৃহৎ অর্থে বিরেচন-এর কথা বলা হলেও, মাত্র ১০টি ওষুধ কার্যত বিরেচনের ক্ষেত্রে কাজ করে। (২) কিছু “গ্রুপের” ওষুধ রোগের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবার কথা বলা হলেও চরক-সংহিতা-য় নির্দিষ্টভাবে পৃথক গোত্রের অসুখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।[17]

৫ম অধ্যায়ের শিরোনাম “মাত্রাশিতীয়” অধ্যায়”। এই অধ্যায়ে দৈনিক জীবনচর্যা কেমন হওয়া বিধেয় এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। অধ্যায়টি শুরুর একেবারে গোড়ার দিকে বলা হয়েছে – “মাত্রাশী স্যাত্ । আহারমাত্রা পুনরগ্নিবলাপেক্ষিণী।।” (৫.৩) বাংলায় হবে – মিতাহারী হওয়া উচিত। আহারের মাত্রা আবার অগ্নিবল সাপেক্ষ।

মিউলেনবেল্ডের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী লঘু এবং গুরু আহার্যদ্রব্য যা দেহের অগ্নিবলে-এর (হজমের ক্ষমতা) ওপরে নির্ভরশীল, এ বিষয়ে আলোচিত হয়েছে। (৫.৩-১৩) উদাহরণ হিসেবে বলা যায় – “রোগের ফলে কৃশ পশুর মাংস, কুর্চিকা (solid dairy products, particularly cheese, made by fermenting curd), কিলাট (food preparation, specifically the solid part of curd without whey), শূকরমাংস, গোমাংস ও মহিষমাংস, মৎস্য, দধি, মাষকলাই ও যবক (শূধান্য বিশেষ), এই সকল দ্রব্য গুরুপাকহেতু নিত্য ভোজন করবে না।।“ (৫.১০-১১)

এরপরে অঞ্জন (collyria) ব্যবহারের বিভিন্ন বিধি বলা হয়েছে। (৫.১৪-২০কখ)।

পরবর্তীতে দৈনিক নিয়মানুযায়ী এবং বিভিন্ন চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ধূমপানের বিভিন্ন বিধি বিবৃত হয়েছে – মাথাভার, মাথার বেদনা, পীনস (a group of nasal disorders, often translated as “catarrh” or “rhinorrhea”), আধকপালে, কর্ণশূল, অক্ষিশূল, কাশ, হিক্কা, শ্বাস, গলগ্রহ (গলার অসুবিধে), দন্তদৌর্বল্য, কর্ণ, নাসা ও অক্ষি থেকে দোষজস্রাব, মুখ ও নাকের দুর্গন্ধ, দাঁতের ব্যথা, অরুচি, হনুগ্রহ (চোয়ালধরা), মন্যাগ্রহ (torticollis),  কণ্ডু (চুলকানি) ইত্যাদি রোগ ধূমপান করলে প্রশমিত হয়। (৫.২৭-৩২)

এরপরে এসেছে “অণুতৈল”-র ব্যবহারবিধি নিয়ে আলোচনা। (৫.৫৬-৭১) এসেছে দাঁত পরিষ্কার করার (দন্তপবন) বিভিন্ন প্রয়োজন ও ব্যবহারবিধি। (৫.৭১-৭৪) গণ্ডূস (gargle) নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। (৫.৭৮-৮০)। আলোচনা করা হয়েছে মাথায় তেল দিয়ে ঘষার (মূর্ধতৈলনিষেবণ) উপযোগিতা, (৫.৮১-৮৩) কানে তেল দেওয়ার (কর্ণতপাণ) অভ্যেস (৫.৮৪), সমগ্র দেহে তৈলমর্দনের (স্নেহাভ্যঙ্গেন) উপযোগিতা (৫.৮৫-৯২), শরীরে তেল মাখানোর অভ্যাস (শারীরপরিমার্জন) নিয়ে আলোচনা (৫.৯৩), এছাড়া পরিচ্ছন্ন বস্ত্র পরিধান (৫.৯৫), সুগন্ধী দ্রব্যের, মালা এবং অলঙ্কারের ব্যবহার (৫.৯৬-৯৭), কেশ ও নখ কাটা (৫.৯৯), পা ও মলদ্বার, মূত্রদ্বার, যোনিদ্বার প্রভৃতির হাইজিন রক্ষা করার কথা (৫.৯৮), এবং পাদুকা, ছাতা ও লাঠি ব্যবহারের উপযোগিতা নিয়ে আলোচনা। (৫.১০০-১০২)

৬ষ্ঠ অধ্যায়ের শিরোনাম “তস্যাশিতীয় অধ্যায়”। ৫ম অধ্যায়ে যেমন দৈনিক জীবনচর্যাবিধির ওপরে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, এই অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে ঋতুচর্যা – ভিন্ন ভিন্ন ঋতুর উপযোগী চেষ্টা এবং আহার ইত্যাদির বিষয়ে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হল ঋতুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুস্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। (৬.৩) আমরা আমাদের আলোচনায় যে ৬ ঋতু ও তাদের সন্ধিকাল নিয়ে আলোচনা করেছি, এখানে সে বিষয়ই বিস্তারে আলোচিত হয়েছে। আলোচিত হয়েছে বিসর্গ (বায়ু নাতিরুক্ষভাবে প্রবাহিত হয়) ও আদান (আগ্নেয়কাল) নিয়ে। (৬.৫-৮) হেমন্ত ঋতুর বৈশিষ্ট্য ও স্বাস্যরক্ষাবিধি নিয়ে আলোচনা (৬.৯-১৮), শিশিরকালের বৈশিষ্ট্য ও স্বাস্থ্যরক্ষাবিধি নিয়ে আলোচনা (৬.১৯-২১), বসন্ত (৬.২২-২৬), গ্রীষ্ম (৬.২৭-৩২), বর্ষা (৬.৩৩-৪০), এবং শারদ ঋতুর বৈশিষ্ট্য ও স্বাস্থ্যরক্ষাবিধি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে (৬.৪১-৪৮)। পরবর্তীতে ওকসাত্ম্য (রোগির আবাসস্থল কোথায় তার ওপরে নির্ভর করে খাদ্যগ্রহণ এবং আচরণবিধির নির্ধারণ) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে – যে ঋতুতে যেরকম চেষ্টা ও আহার করা উচিত তাকে ঋতুসাত্ম্য  আহার বিহার বলে। (৬.৪৯-৫০)

৭ম অধ্যায়ের শিরোনাম “ন বেগান্ ধারণীয়”। এ অধ্যায়ে শরীরের যেসমস্ত তাগিদ স্বাভাবিক সেসবকে অবদমিত রাখার কুফল বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে – বুদ্ধিমান ব্যক্তি মল, মূত্র, শুক্র, অধোবায়ু, বমি, ক্ষরতু (হাঁচি), উদ্গার, জৃম্ভা (হাঁই তোলা), খিদে, পিপাসা, অশ্রু, নিদ্রা, কিংবা শ্রমজনিত নিশ্বাসের (মোট ১৩টি) বেগ ধারণ করবেন না।” কারণ এসব বেগ ধারণ করলে বিভিন্ন রোগের উৎপত্তি হয়। সেসব রোগের চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। (৭.৩-২৫) এরপরে কিছু বেগ ধারণ করার কথা বলা হয়েছে – লোভ, শোক, ভয়, ক্রোধ, দ্বেষ, মান, নির্লজ্জতা, ঈর্ষা, অত্যাশক্তি এবং পরধন বিষয়ে স্পৃহা – কারণ এগুলো নৈতিকভাবে অনুচিত। (৭.২৬-৩০) কয়েকটি শ্লোকে ব্যায়াম-এর সঠিক ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। (৭.৩১-৩৩) আবার অতিরিক্ত ব্যায়াম-এর (হাস্য, ভাষণ, পথ পর্যটন, গ্রাম্যধর্ম (স্ত্রীসংসর্গ) এবং রাত্রিজাগরণ – অপকারিতা নিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (৭.৩৪-৩৫) খারাপ অভ্যাস থেকে মুক্ত থাকার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। (৭.৩৬-৩৮)

পরের অংশে গর্ভাবস্থা থেকেই একজন ব্যক্তির প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। (৭.৩৯-৪১) আলোচনা রয়েছে শরীরের বিভিন্ন দ্বার (orifices) নিয়ে – অধোদেশে ২টি দ্বার (লিঙ্গ ও গুহ্যদ্বার), মস্তকে ৭টি দ্বার (২টি চক্ষু, ২টি কর্ণ, ২টি নাসিকা, এবং ১টি মুখ), এবং বহুসংখ্যক স্বেদনির্গমন দ্বার আছে যাদেরকে মলযান বা মলমার্গ বলে। (৭.৩৯-৪৩) এরপরে নিজ (বায়ু, পিত্ত ও কফজনিত) এবং আগন্তু রোগ (ভূত, বিষ, বায়ু, অগ্নি ও অভিঘাত ইত্যাদি থেকে উৎপন্ন) নিয়ে আলোচনা এবং এগুলোর চিকিৎসার বর্ণনা রয়েছে। (৭.৪৪-৪৫) এরপরে কোন ধরনের ব্যক্তির সংসরগ পরিত্যাগ করা উচিত এবং কোন ধরনের মানুষের সাথে সংসর্গ রাখা উচিত, এ বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। (৭.৫৬-৫৯) দধি ভোজনের বিধিনিষেধ বলা হয়েছে। (৭.৬১-৬২)

৮ম অধ্যায়ের শিরোনাম “ইন্দ্রিয়োপক্রমণীয় অধায়”। এ অধ্যায়ের উপজীব্য হচ্ছে ৫টি ইন্দ্রিয়, ৫টি ইন্দ্রিয়দ্রব্য (ইন্দ্রিয়গণের উপকরণ), ৫টি স্থানে ইন্দ্রিয়ের অধিষ্ঠান, ৫ রকমের ইন্দ্রিয়ার্থ অর্থাৎ ইন্দ্রিয়ের বিষয়, এবং ৫ প্রকার ইন্দ্রিয়বুদ্ধি। এছাড়াও মন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। (৮.৩-১৭) এরপরে অসংখ্য হিন্দু ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন নিয়ে আলোচনা রয়েছে। (৮.১৮-২৯)

এখানে ৫ সংখ্যার ব্যবহার লক্ষণীয়। হয়তো বা সাংখ্য দর্শনের প্রভাব থাকতে পারে।

পরবর্তীতে যাদের সঙ্গে “সহবাস” করতে বারণ করা হয়েছে তারা হল – অধার্মিক ও রাজবিদ্বিষ্ট লোক, উন্মত্ত, পতিত, ভ্রুণঘাতী, ক্ষুদ্রাশয় এবং দুষ্টলোক। এখানে বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় রাজবিদ্বিষ্ট এবং ভ্রুণঘাতী শব্দদুটি। মিউলেনবেল্ডের ব্যাখ্যায় – “explained by Cakra (Cakrapanidatta) as a garbhaghātaka, i.e., someone who kills an embryo or foetus, thus inducing an abortion.”[18] গর্ভপাতের বিরোধিতা সম্ভবত পৃথিবীর সমস্ত ধর্মীয় অনুশাসন এবং চিকিৎসাশাস্ত্রে পাওয়া যাবে। ২১শ শতকেও আমেরিকার স্বৈরতন্ত্রী সরকার সে পথেই হাঁটছে।

এরপরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শ্লোকে বলা হচ্ছে – “রাত্রিকাল দেবালয়ে, চৈত্যস্থানে, চত্বরে, চতুষ্পথে, উপবনে, শ্মশানে, এবং বধ্যভূমিতে যাপন করবে না।” (৮.১৯)

সম্ভবত “চৈত্যস্থানে” শব্দটি বোঝায় যে বৌদ্ধদের ওপরে ব্রাহ্মণ্যবাদের আধিপত্য নির্দিষ্টভাবে নির্ণায়ক চেহারা নিয়েছে।

৯ম অধ্যায়ের শিরোনাম “খুড্ডাকচতুষ্পাদ অধ্যায়”। এর আগেও বলা হয়েছে খুড্ড অর্থে অল্প বা ছোট বোঝায়। একথা থেকে “খুড়া” বা “খুল্লতাত” শব্দটি চালু হয়েছে। এই অধ্যায়ে চিকিৎসার ৪টি স্তম্ভের ওপরে বিশেষ আলোকপাত করা হয়েছে – “ভিষক (চিকিৎসক), দ্রব্য (ওষধি), পরিচারক ও রোগি – এই পাদচতুষ্টয় যথাযথ গুণসম্পন্ন হলে রোগ আরোগ্য হয়ে থাকে।” (৯.৩) বলা হয়েছে – “ভিষক বা বৈদ্যের এই চারটি গুণ আবশ্যক – শাস্ত্রে নির্মলজ্ঞান, অনেক চিকিৎসক ও অনেক রোগি দেখে বহুদর্শী হওয়া, চিকিৎসার কাজে দক্ষতা এবং আত্মপবিত্রতা রক্ষা।” (৯.৬)

সহস্রাধিক বছর পরেও একথাগুলো আজও সমানভাবে সত্যি। এতটাই মনো্যোগী, যত্নবান ও নিষ্ঠাবান ছিলেন সেসময়ের চিকিৎসক সম্প্রদায়, ভাবলে আশ্চর্য হতে হয়। কেবলমাত্র অনুপুঙ্খ পর্যবেক্ষণ, একটি যুক্তি-আশ্রয়ী চিন্তাকাঠামোর অনুসরণ এবং বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাধারা সম্পর্কে মুক্তমনা পাঠ ছিল এদের একমাত্র সম্বল, কোনরকম আধুনিক প্রযুক্তি বা উন্নত কোন পদ্ধতি এদের কাছে ছিলনা।

১০ম অধ্যায়ের শিরোনাম “মহাচতুষ্পাদ অধ্যায়” – আগের অধ্যায়ের প্রসারিত অংশ বলা যায়। অধ্যায়ের গোড়াতে আত্রেয় পুনর্বসু এবং মৈত্রেয়-র মধ্যে যুক্তি সম্মত বিতর্ক চলে। সাধ্য (যে রোগ চিকিৎসায় সাড়া দেয় ও সারে) এবং অসাধ্য (চিকিৎসায় সাড়া দেয়না ও সারেনা) রোগের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে আলোচনা হয়। (১০.৩-৮) সাধ্য রোগের ২টি ভাগ – সুখসাধ্য (সহজেই সারে) এবং কৃচ্ছ্রসাধ্য (সহজে সারেনা)। এদের আবার বিভিন্ন উপভাগ আছে। (১০.৯-২০)

১১শ অধ্যায়ের শিরোনাম “তিস্রৈষণীয় অধ্যায়”। আমরা পূর্বে এই অধ্যায় নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা করেছি (https://thedoctorsdialogue.com/ayurvedic-texts-1/)।

১২শ অধ্যায়ের শিরোনাম “বাতকলালীয় অধ্যায়”। এই অধ্যায়ের বিশিষ্টতা হচ্ছে, বিভিন্ন ঋষিদের মধ্যে কথোপকথন – “cosmic element” হিসেবে বাত-র (বায়ু) ভালো এবং খারাপ দিক নিয়ে আলোচনা। যে যে বিষয়গুলো তাদের আলোচনায় ছিল সেগুলো এরকম – বাত-র ঔকর্ষ, যেসব উপাদান একে কুপিত করে এবং প্রশমন ঘটায়। (১২.৩) মিউলেনবেল্ডের কথায় – “the way in which these factors affect the incorporeal (asaṃghātaban) and unsteady (anabasthita) vāta, the action of vāta uside and inside the body.”[19]

অন্যত্র বিশদে বাখ্যা করা হল – “শরীরচর (বহমান) অকুপিত স্বাভাবিক বায়ু শরীরের অভ্যন্তরের যন্ত্রসমূহের ধারক। বায়ু প্রাণ, অপান, সমান, উদান ও ব্যান – এই পাঁচ রকমের … এরা শারীরিক ধাতুসমূহের দৃঢ়তা সম্পাদনকারী; শরীরের অঙ্গসকলের সংযোজন কারক … পরন্তু বায়ু প্রকুপিত হলে শরীর নানারকম রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয়।” (১০.৮-৯)

সারসংক্ষেপ হিসেবে বলা হল – “বায়ুর ৬টি গুণ, ২টি কারণ – বায়ুর প্রকোপন ও প্রশমন, বায়ুর ৪ রকমের বিবিধ কাজ, কফ ও পিত্তের পৃথক পৃথক কাজ, মহর্ষিগণের মত এবং পুনর্বসু ঋষির মত – এসমস্ত বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে।” (১০.১৬-১৭)

১৩শ অধ্যায়ের শিরোনাম “স্নেহাধ্যায়”। এই অধ্যায়ের মূল উপজীব্য অগ্নিবেশের প্রশ্নের প্রত্যুত্তরে পুনর্বসুর ব্যাখ্যা “about oleation therapy (sneha), a type of treatment related to paňcakarma, and especially important in counteracting disturbances of vata.”[20]

স্নেহের বিচরণ (প্রবিচরণা) ২৪ প্রকার। (১৩.২৩-২৫) স্নেহযুক্ত প্রস্তুত হওয়া মোট দ্রব্যের সংখ্যা ৬৪। (১৩.১৩.২৭-২৮) যেসব রোগির প্রধান মাত্রা, মধ্যম মাত্রা এবং হ্রস্ব মাত্রার প্রয়োজন হয়, সেসমস্ত কিছু বর্ণিত হয়েছে। (১৩.২৯-৪০) বয়সসাপেক্ষে রোগিদের ভিন্ন ভিন্ন মত্রার স্নেহ (ঘি, তেল, মাংসের চর্বি কিংবা মজ্জা) দ্বারা চিকিৎসা করা হয়। (১৩.৪১-৫০)

সর্বশেষে বলা হয়েছে, আগে স্নেহ দিয়ে চিকিৎসা করা হবে, তারপরে স্বেদন (ঘর্মাক্ত করা) হবে। এরপরের ধাপ হল সংশোধন। (১৩.৯৯)

১৪শ অধ্যায়ের শিরোনাম “স্বেদাধ্যায়”। অধ্যায়ের শিরোনামেই বোঝা যায় যে,  যে প্রকারে স্বেদন (sudation বা ত্বক দিয়ে নিঃসরণ) ঘটানোর ফলে স্বেদসাধ্য বায়ু ও কফঘটিত রোগসমূহ নিবারিত হয় সেসমস্ত বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। (১৪.৩-৫) ১৩ ধরনের স্বেদন-এর কথা বলা হয়েছে। (১৪.৪১) একটি উল্লেখযোগ্য শ্লোক হচ্ছে – “রোগির শয্যানুরূপ প্রমাণ বিশিষ্ট একটি বৃহৎ পিতলের পাত্রে গোরু গাধা এবং অন্যান্য প্রাণীর বিষ্ঠা দগ্ধ করতে হবে। পরে পাত্রটি সন্তপ্ত হলে সেখান থেকে আগুন উঠিয়ে ফেলে তার ওপরে শয্যা তৈরি করে রোগিকে ঘৃত তৈল ইত্যাদি মাখিয়ে আবৃতগাত্রে শোয়াতে হবে। রোগি কোন ক্লেশ ছাড়াই স্বেদ গ্রহণ করতে থাকবে। এভাবে স্বেদ প্রগ করার নাম হোলাক (heap of heated dung) স্বেদ। (১৪.৬১-৬২) আরেকটি উল্লেখযোগ্য শ্লোক হল – “আগুনের সাথে সম্বন্ধ শূণ্য হলেও এই ১০টিতে স্বেদের উৎপাদন হয় – ব্যায়াম, উষ্ণগৃহে থাকা, মোটা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা, ক্ষুধা, অতিরিক্ত মদ্যপান, ভয়, ক্রোধ, উপনাহ (পুলটিশ), যুদ্ধ এবং আতপ (সূর্য্য)।” (১৪.৬৪)

এ অধ্যায়ের শেষে স্বেদন-এর পরে চিকিৎসার নিয়মাবলি সম্পর্কে বলা হয়েছে। (১৪.৬৭)

১৫শ অধ্যায়ের শিরোনাম “উপকল্পনীয় অধ্যায়”। এই অধায়ে ধনী ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য প্রাক-আধুনিক হাসপাতালের (infirmary) চিত্র ও প্রয়োজন বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে –“প্রচুর উপকরণ সামগ্রী সম্পন্ন রাজা কিংবা রাজতুল্য কোন ধনবান ব্যক্তিকে বমন ও বিরেচনের ওষুধ পান করাতে ইচ্ছে করলে ওষুধ সেবনের আগে বিপুল দ্রব্য সামগ্রীর আয়োজন রাখা বৈদ্যের কর্তব্য।” (১৫.৩)

আমি অন্যত্র আলোচনা করেছি (“প্রাচীন ও প্রাক-আধুনিক ভারতে হাসপাতালের নানা চেহারা— চরক-সংহিতা ও অন্যান্য” – https://www.4numberplatform.com/?p=38535)। একারণে এখানে এ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনায় যাচ্ছিনা।

১৬শ অধ্যায়ের শিরোনাম “চিকিৎসাপ্রাভৃতীয় অধ্যায়”। এই অধ্যায়টি আগের ধারাবাহিকতা বা বিস্তৃতি। উপযুক্ত, অনুপযুক্ত এবং বমন ও বিরেচনের সাহায্যে অতিরিক্ত চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় বর্ণিত হয়েছে। (১৬.৫-১১) পরবর্তীতে বলা হয়েছে, যে রোগি দোষ-এ পরিপূর্ণ তার ক্ষেত্রে সংশোধন ওষুধ সেবন উপকারী। (১৬.১৩-১৬) সংশোধন-এর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের বর্ণনা রয়ছে। (১৬.১৭-২১)

অগ্নিবেশ-এর প্রশ্নের উত্তরে আত্রেয় জানান যে, একজন চিকিৎসকের কর্তব্য হল ধাতুসমূহের সাম্য রক্ষা করা। (১৬.২৯-৩৮)

১৭শ অধ্যায়ের শিরোনাম “কিয়ন্তঃ শিরসীয় অধ্যায়”। কিয়ন্তঃ শিরসীয়-র অর্থ হল কতকগুলি শিরোরোগ সম্বন্ধীয়। যদিও শিরোরোগ ছাড়াও অন্য রোগ নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে – “It has been seen that there are altogether five diseases of head. The diseases of the thorax are also five in number; of diseases, again, that generated by inequalities in respect of the measre or quantity of wind, bile and phlegm and the other constituent elements of the body, the number is two and sixty (দোষের পরিমাণ ও প্রকারভেদে রোগসমূহ বাষট্টি প্রকার). The kinds of deterioration or los are eight and ten in number. There are altogether seven kinds of eruptions and abscesses due to diabetic affections. Of what are called faults (দোষ), the courses or tracks are three in number, of these I shall speak in detail.”[21] (১৭.৫-৭)

এরপরে মধুমেহর (ডায়াবেটিস) কারণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। চিকিৎসা নাহলে ৭ রকমের দারুণ পিড়কা (boils) জন্মে। সেই ৭ প্রকার পিড়কার নাম – শরাবিকা, কচ্ছপিকা, জালিনী, সর্ষপী, অলজী, বিনতা ও বিদ্রহি। (১৭.৭৮-৮৯)

এর আগে বলা হয়েছে – “শরীরে ওজ-র ক্ষয় হয় ওজোহীন ব্যক্তি অকারণ ভীত, দুর্বল এবং সর্বদা উদ্বেগে থাকে … হৃদয়ে যে শুদ্ধ ঈষৎ পীতবর্ণ রক্ত আছে, তাকে ওজোধাতু বলে। এই ওজোনাশে শরীরের নাশ হয়ে থাকে।”[22] (১৭.৭৩-৭৫)

এখানে এসে আমরা শব্দার্থের ক্ষেত্রে একটি বিপত্তির সম্মুখীন হলাম – ওজ কী? এর শব্দার্থ নিয়ে পণ্ডিতেরা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। রাহুল পিটার দাস তাঁর সুবৃহৎ গ্রন্থে মতামত দিয়েছেন যে অনেকসংখ্যক প্রাচীন authority-র মতে “the ultimate essence left over after the formation of semen, the last of the seven elements of the chain of alimentary transformation, but it is as a rule not termed an “element (ধাতু)” in medical texts.”[23]

মিউলেনবেল্ড বলেছেন – “The vital fluid arises first in the body of bodily beings; it arises with the colour of ghee, the taste of honey and smell of parched grain.”[24]

ওজস্ “bodily strength, vigour, energy, ability power, vitality” ইত্যাকার বিভিন্ন অর্থে বোঝা হয়।[25] ওজ-র ২টি ভাগ করা হয় – পর এবং অপর। পর ওজ হৃদয়ে থাকে এবং ৮ বিন্দু দিয়ে তৈরি, অপর ওজ সমগ্র দেহে প্রবাহমান এবং এক অঞ্জলি পরিমাপের। যদিও এ ধারণার ব্যাপারে মিলেনবেল্ড সংশয় প্রকাশ করেছেন। উল্লেখযোগ্য, মিউলেনবেল্ড অন্যত্র আজকের প্রেক্ষিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন – “Ojas represents an archaic idea, concretizing and visualizing an abstract vital force as a material substance, a dravya, a fluid with a fixed number of qualities (guṇas). Will it remain alive and flourish in a culture that rejects reification of abstract concepts?”[26] তিনি বলছেন – “The medical classics handle ojas in a way both similar and dissimilar to the Vedic ideas about it. Unfortunately, documentation on the intermediate stages is virtually absent. Speculations only can fill up this gap in the “fossil record.””[27]

মিউলেনবেল্ড দেখিয়েছেন যে ওজ-কে ধাতু-র সারাৎসার হিসেবেও গণ্য করা হয়।[28] বর্তমান সময়ে ওজ-কে আধুনিক মেডিসিনের চোখ দিয়ে দেখার সমস্যাকে সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি – “Ayurvedists of our age resort to Western medicine for the rescue of ojas, and, as to be expected, this request is granted with a vengeance. The medical events of our times demonstrate that ayurvedic practice cannot equal the successes of modern medicine in fighting infectious diseases.”[29]

প্রসঙ্গত, সুরেন্দ্রনাথ দাসগুপ্ত প্রাচীন টেক্সটের সাপেক্ষে পর্যালোচনা করে ওজ-কে ধাতুর গোত্রে রেখেছেন। তাঁর অভিমত অনুযায়ী, “ধাতু” শব্দটি এসেছে √ধা অর্থে ধারণ করা root থেকে। ধাতু শরীরকে ধারণ করে, যেমন রস, রক্ত, মাংস, মেদ, অস্থি, মজ্জা, শুক্র, এবং সর্বশেষ প্রাণদায়ী ওজ।[30]

১৭শ অধ্যায়ের শেষে বলা হয়েছে – “শিরোরোগ, হৃদরোগ, দোষসমূহের পরিমাণ ও বিকল্পজনিত রোগ, ক্ষয়রোগ, পিড়কা (suppurative lesion or a pus-filled lesion), এবং দোষসমূহের গতি – এই সমস্ত বৈদ্যগণের জ্ঞানার্থ এবং সাধারণের হিতের তত্ত্বদর্শী ভগবান পুনর্বসু ঋষি এই কিয়ন্তঃ শিরসীয় অধ্যায়ে উপদেশ দিয়েছেন।” (১৭.১২০-১২১)

১৮শ অধ্যায়ের শিরোনাম “ত্রিশোথীয় অধ্যায়”। এই অধ্যায়ে বিভিন্ন ধরনের শোথ (swellings) সম্বন্ধে বর্ণনা করা হয়েছে। কিছু শোথ-এর উৎপত্তি দেহের অভ্যন্তরে (নিজ), এবং কিছু শোথ-এর উৎপত্তি বাইরের কারণে (আগন্তু)। (১৮.৩) এরপরে এদের উদ্ভবের কারণ এবং উপসর্গাবলী ব্যাখ্যা করা হয়েছে। (১৮.৪-১৫) পরে এসেছে কীভাবে চিকিৎসা ও পরিচর্যা করা হবে। (১৮.১৬-১৭) বলা হয়েছে – “স্ত্রীলোকেরই হোক, আর পুরুষের হোক, শোথ যদি গুহ্যদেশে (perenium) জন্মে পরে সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে একে দুঃসাধ্য বলে জানবে। যে শোথে অনেক উপদ্রব প্রকাশ পায় তাকেও কষ্টসাধ্য বলে জানতে হবে।” এরপরে শোথ-এর জটিলতা ব্যাখ্যা করে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন শোথ-এর একটি লম্বা তালিকা দেওয়া হয়েছে। (১৮.১৯-৩৬) সে তালিকা এরকম – উপজিহ্বিকা (জিহ্বামূলে), গলগণ্ডিকা (কণ্ঠনালীতে), গলগণ্ড (গলদেশের বাইরের দিকে), গলগ্রহ (গলার মধ্যে), বিসর্প (ত্বকের ওপরে রক্তবর্ণ), পীড়কা (ত্বকে ও রক্তে অবস্থান করে এবং ত্বকের ওপরে রকবর্ণা), তিলকা (black moles), পিপ্লব (port wine moles), ব্যঙ্গ (red moles), নীলিকা (blue moles), শঙ্খক (in both the temples), কর্ণমূলশোথ (কর্ণমূলে), প্লীহাবৃদ্ধি, গুল্ম (সাধারণভাবে একে টিউমার হিসেবে দেখা হলেও এর অবস্থান হল “as a granthi (lump) between hridaya (cardiac region) and basti (pelvic region)”[31]), বৃদ্ধি (কুচকিতে উৎপত্তি, অণ্ডকোষে গমন), উদর (ত্বক ও মাংসকে আশ্রয় করে), আনাহ (constipation), অধিমাংস (an abnormal or excessive growth of tissue, particularly muscle tissue, at a specific location in the body) অর্বুদ (refers to a tumor, particularly a malignant one, and is often correlated with cancer), এবং রোহিণি (a disease of throat which commonly affects the children)।

শেষ ৩টি অসুখের সম্ভাব্য ইংরেজি ব্যাখ্যা আমি দিয়েছি বটে, কিন্তু আমিই যথেষ্ট নিশ্চিত নই এই ব্যাখ্যা সম্পর্কে।

এরপরে শোথ রোগের ২টি ভাগ করা হয়েছে – মৃদু এবং দারুণ (গুরুতর)। (১৮.৩৭-৪৭)

১৯শ অধ্যায়ের শিরোনাম “অষ্টোদরীয় অধ্যায়”। এখানে রোগসমূহকে ৮ থেকে ২ এবং ১ ধরনের ভাগে ভাগ করা হয়েছে (মোট ৪৮ প্রকারের) – উদর রোগ ৮ প্রকার, মূত্রাঘাত রোগ ৮ প্রকার, স্তন্যদোষ ৮ প্রকার, শুক্রদোষ ৮ প্রকার, কুষ্ঠরোগ ৭ প্রকার, পিড়কা ৭ প্রকার, বিসর্প ৭ প্রকার, ৬ প্রকারের ভাগের মধ্যে পড়ছেঃ অতিসার, উদাবর্ত, ৫ প্রকারের রোগঃ গুল্ম, প্লীহা, কাস, শ্বাস, হিক্কা (ছর্দি), তৃষ্ণা, বমন, অরুচি (ভক্তানাশন), শিরোরোগ, হৃদরোগ, পাণ্ডুরোগ, উন্মাদরোগ, অপস্মার (? স্মৃতিভ্রংশ), ৪ প্রকার রোগঃ অক্ষিরোগ, কর্ণরোগ, প্রতিস্যায় (rhinitis or a condition of nasal inflammation and congestion, often associated with upper respiratory infections), মুখরোগ, গ্রহণীদোষ (a digestive disorder characterized by impaired digestive function and malabsorption), মদ (নেশাগ্রস্ত?), মূর্চ্ছারোগ, শোষরোগ (a state of emaciation or wasting away of the body), এবং ক্লৈব্যরোগ … ইত্যাদি। (১৯.৩)

১ প্রকার রোগের নমুনা হল – ঊরুস্তম্ভ (আমাশ্রিত ত্রিদোষজনিত, a condition characterized by painful, numb, and immobile thighs), এবং সন্যাসরোগ (a grave medical condition characterized by coma, syncope, or a state of unconsciousness)। এছাড়া একটি গুরুতর রোগ হল মহাগদ (a group of diseases considered difficult or incurable, often due to complications or poor prognosis)। (১৯.৩.৪৩-৪৫)) মিউলেনবেল্ড বলেছেন মহাগদ-র আরেক নাম অতত্ত্বাভিনিবেশ।[32]

এছাড়াও ২০ ধরনের কৃমি-র (parasites) (১৯.৩.৪৬), ২০ ধরনের প্রমেহ-র (প্র+মেহ, বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস অর্থে) (১৯.৩.৪৭), এবং ২০ ধরনের যোনিব্যাপদ-এর (the diseases of complete reproductive system as well as the diseases of the genital organs of woman) (১৯.৩.৪৮) বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। মিউলেনবেল্ড বলছেন – “Some diseases are not mentioned in the list, aśmarī, kṣatakṣīṇa and madātraya are absent. Remarkable is the classification of āyāma and gṛdhrasī, separate from the vāta diseases to which they belong, and of kāmalā, seprate from pāṇḍuroga.”[33]

এই অধ্যায়ের শেষে বলা হয়েছে – “নিজ রোগসমূহ বায়ু, পিত্ত ও কফ ছাড়া অন্য কোন কারণে সমুদ্ভুত হয়না।” (১৯.৫-৬) এবং, সর্বোপরি, নিজ ও আগন্তু ব্যাধির মধ্যে সম্পর্ক বিবৃত হয়েছে। (১৯.৭)

২০শ অধ্যায়ের শিরোনাম “মহারোগাধ্যায়”। শুরুতে নিজ ও আগন্তু রোগের ব্যাখ্যা করা হয়েছে। (২০.৩-৭), পরবর্তীতে রোগসমূহের প্রধান আশ্রয়স্থান-এর বর্ণনা রয়েছে। (২০.৮) এই অধ্যায়ের বৃহদংশ নানাত্মজ রোগ সম্পর্কে ব্যয় করা হয়েছে। নানাত্মজ এবং সামান্যজ রোগের বৈপরীত্য ব্যাখ্যাত হয়েছে। সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বায়ুজনিত রোগের সংখ্যা ৮০, এছাড়াও অসংখ্য বায়ুজনিত রোগ রয়েছে। (২০.১১) পিত্তজনিত রোগের সংখ্যা ৪০। (২০.১৪) এর মধ্যে একটি রোগ নজরে আসার মতো – কক্ষ (herpes zoster)। কফজনিত রোগের সংখ্যা ২০। (২০.১৭)

আমরা মোট ১৪০ রকমের বায়ু, পিত্ত ও কফজনিত রোগের পৃথক বর্ণনা থেকে বিরত থাকলাম।

২১শ অধ্যায়ের শিরোনাম “অষ্টনিন্তীয় অধ্যায়”। গোড়াতেই বলা হয়েছে – “শরীর সম্বন্ধে ৮ প্রকার পুরুষ নিন্দিত। যেমন – অতিশয় দীর্ঘ, অতিশয় ক্ষুদ্র, অতিশয় লোমযুক্ত, একেবারে লোমরহিত, অতিশয় গৌরবর্ণ, অতিশয় কৃষ্ণবর্ণ, অতিশয় স্থুল এবং অতিশয় কৃশ। (২১.৩)

এখানে একটি মধ্যপন্থার ইঙ্গিত আছে। এটা কী আয়ুর্বেদের ওপরে শ্রমণদের বা বৌদ্ধধর্মের প্রভাব? উত্তর জানা নেই।

পরবর্তী অংশে অধ্যায়ের মূল আলোচনার বিষয় অতিশয় স্থুল এবং অতিশয় কৃশ-দের নিয়ে। (২১.৪-৩৪) এই অধ্যায়ের দ্বিতীয়াংশে নিদ্রা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, বিশেষ করে দিবানিদ্রার বিষয়ে, লাভজনক বা ক্ষতিকর এ বিষয়ে। রাত্রিকালে এবং দিবাভাগে নিদ্রার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। (২১.৩৫-৫৭) নিদ্রার ৬ ধরনের কারণ আলোচিত হয়েছে – তমসজনিত, কফজনিত, মানসিক ও শারীরিক অবসাদহেতু, আগন্তুজ কারণে, রাত্রিস্বভাবপ্রভবা অর্থাৎ রাত্রি স্বভাবের কারণে। (২১.৫৮-৫৯)

২২শ অধ্যায়ের শিরোনাম “লঙ্ঘনবৃংহনীয় অধ্যায়”। আত্রেয় তার সর্বোত্তম শিষ্যদেরকে (অগ্নিবেশ সহ) বলেছিলেন যে, যে ব্যক্তি লঙ্ঘন (দেহের পক্ষে লঘুকর), বৃংহণ (যা কিছু শরীরকে পুষ্ট করে), রুক্ষণ (যার সাহায্যে শরীরের রুক্ষতা, কর্কশতা, ও বিষদতা সম্পাদিত হয়), স্নেহন (শরীরের স্নিগ্ধতা, মৃদুতা ও ক্লেদত্ব সম্পাদিত হয়, স্বেদন (শরীরে স্বেদ জন্মায়), এবং স্তম্ভন (গতিমান, চঞ্চল ও দ্রব পদার্থের গতিরোধ হয়) ক্রিয়ার প্রয়োগ, সময় বুঝে করতে জানেন, তিনিই যথার্থ চিকিৎসক। (২২.৩-৫)

এরপরে চিকিৎসার ৬টি মৌলিক ধরনকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। (২২.৪৪)

২৩শ অধ্যায়ের শিরোনাম “সন্তর্পণীয় অধ্যায়”। এ অধ্যায়ের আলোচনার মূল বিষয় হচ্ছে – পুষ্টি (সন্তর্পণ) এবং ক্ষয় (অপতর্পণ) নিয়ে – “এই সন্তর্পণীয় অধ্যায়ে সন্তর্পণ এবং অপতর্পণ জনিত রোগসমূহ এবং তাদের ওষুধ সেবন বর্ণিত হয়েছ।” (২৩.৪০)

২৪শ অধ্যায়ের শিরোনাম “বিধিশোণিতীয় অধ্যায়”। শুদ্ধ রক্তের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। (২৪.৩-৪) বলা হয়েছে রক্তের দোষ-গ্রস্ত হবার কারণ, (২৪.৫-১০) এবং দূষিত রক্তের ফলে কী কী অসুখ ঘটে। (২৪.১১-১৬) সাধারণভাবে চিকিৎসা করলে যসব রোগ সারেনা তাদেরকে রক্তজ রোগ বলে বুঝতে হবে। (২৪.১৭) এরপরে বাত, পিত্ত ও কফ-এর সম্মিলিত যোগে রক্তের দূষিত হওয়া এবং প্রতিটি দোষ-এর একসঙ্গে বিবরণ দেওয়া হয়েছে। (২৪.২০-২১) শুদ্ধ রক্তের চারিত্র্যলক্ষণ বর্ণিত হয়েছে (২৪.২২), রক্তমোক্ষণ-এর নিয়মবিধি এবং তৎপরবর্তী চিকিৎসার বিবরণ দেওয়া হয়েছে (২৪.১৯-২৪)।

অধ্যায়ের শেষে মদ, মূর্ছা ও সন্ন্যাস রোগের চিকিৎসা করার বিবরণ আছে (২৪.৫৪-৫৮)।

২৫শ অধ্যায়ের শিরোনাম “যজ্জপুরুষীয় অধ্যায়”। অধ্যায়ের শুরুতে আত্মা, ইন্দ্রিয়, মন ও ইন্দ্রিয়ার্থের সমষ্টিস্বরূপ পুরুষ-এর উৎপত্তি (প্রাগুৎপত্তি) এবং রোগের বিষয় নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয় (২৫.৪)  অধ্যায়ের মধ্যবর্তী অংশের পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনায় যাচ্ছিনা। অধ্যায়ের শেষাংশে “fremneted pharmaceutical preparation” (আসব) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ৮টি ভাগে বিভক্ত ৮৪ রকমের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা রয়েছে – ধান্য থেকে ৬ রকম, ফল থেকে ২৬ রকম, মূল থেকে ১১ রকম, (বৃক্ষের) সার থেকে ২০ রকম, ফুল থেকে ১০ রকম, কাণ্ড থেকে ৪ রকম, পাতা থেকে ২ রকম, ত্বক বা ছাল (bark) থেকে ৪ রকম এবং শর্করা থেকে ১ রকম। আসব-র ব্যবহারবিধি আলোচিত হয়েছে। (২৫.৪৮-৫০)।

২৬শ অধ্যায়ের শিরোনাম “আত্রেয় ভদ্রকাপ্যেয়”। আত্রেয়, ভদ্রকাপ্য প্রভৃতি ঋষিরা চৈত্ররথ বনে মিলিত হয়েছিলেন। তাঁরা সেখানে রসের দ্বারা আহার বিষয় নিশ্চয় করার জন্য উপযুক্ত আলোচনা শুরু করলেন (২৬.৩-৪)

ভদ্রকাপ্য রস ১ প্রকার বললেও আত্রেয় পুনর্বসু সিদ্ধান্ত জানান যে, ৬ রকমের স্বাদ আছে – মধুর, অম্ল, লবণ, কটু, তিক্ত ও কষায়। নেমি, কাঙ্কায়ন প্রভৃতি ঋষিরা বলেন স্বাদ অপরিমেয়। (২৬.৩-৮)

দ্রব্য, দেশ ও কাল-এর প্রভাবের কারণে স্বাদের ৬৩ রকমের প্রকার ভেদ কল্পনা করা যেতে পারে। সফল চিকিৎসা নির্ভর করে বিশেষ ধরনের স্বাদের সঙ্গে ওষুধের সঠিক প্রয়োগের ওপরে (২৬.১৪-২৮)

২৭শ অধ্যায়ের শিরোনাম “অন্যপান অধ্যায়”। খাদ্য এবং পানীয়ের বিভাগ যেভাবে করা হয়েছে – (১) শূকধান্য, (২) শমিধান্য, (৩) মাংস, (৪) শাক, (৫) ফল, (৬) হরিত (salads), (৭) মদ্য, (৮) অম্বু (জল), (৯) গোরস (দুধ এবং দুগ্ধজাত খাদ্য), (১০) ইক্ষুবিকার (আখ থেকে তৈরি হওয়া বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য), (১১) কৃতন্নবর্গ, (১২) আহারযোগি বর্গ (২৭.৫-৭)

বিভিন্ন ধরনের ধানঃ

(১) শূকধান্য, (২) শমীধান্য, (৩) রক্তশালি, (৪) মহাশালি, (৫) কলম, (৬) শকুন, (৭) দীর্ঘশুক, (৮) গৌর, (৯) পাণ্ডু, (১০) অঙ্গুল, (১১) সুগন্ধিক, (১২) লোহবালা, (১৩) শালিক, (১৪) প্রমোদক, (১৫) পতঙ্গ ও (১৬) তপনীয় ধান্য এবং অন্যান্য যেসব হিতুকর শালিধান্য আছে তারাও বিভিন্ন রোগে উপকারী। বলা হয়েছে, উল্লিখিত দান্যসমূহের মধ্যে রক্তশালি ধান্য সর্বশ্রেষ্ঠ। এছাড়াও উল্লেখ করা হয়েছে (১৭) যবক, (১৮) হারন, (১৯) পাংশু, (২০) বাপ্য ও (২১) নৈষধক প্রভৃতি ধান। অন্যান্য ধান হল – (২২) বরক, (২৩) উদ্দালক, (২৪) চীন, (২৫) শারদ, (২৬), উজ্জ্বল, (২৭) দর্দ্দুর, (২৮) গন্ধল, (২৯) কুরুবিন্দ, (৩০) ব্রীহি, (৩১) পাটল বা আশু, (৩২) কোরদূর, (৩৩) শ্যামাক, (৩৪) হস্তিশ্যামাক, (৩৫) নীবার, (৩৬) তোয়াপর্ণী, (৩৭) গবেধুক, (৩৮) প্রশাতিকা, (৩৯) জলশ্যামাক, (৪০) লৌহিতানু, (৪১) প্রিয়ঙ্গু, (৪২) মুকুন্দ, (৪৩) ঝিণ্টি, (৪৪) গর্মূটি, (৪৫) চরুকা, (৪৬) বরক, (৪৭) শিবির, (৪৮) উৎকট এবং (৪৯) জূর্ণা প্রভৃতি ধান।(২৭.১৪-১৮) এছাড়াও রয়েছে ষষ্ঠিকা প্রভৃতি ধান।

ইচ্ছে করেই আমি এই সুবিশাল তালিকা দিলাম শুধু এটুকু নজরে আনার জন্য যে আজ থেকে সহস্রাধিক বছর আগে কত সংখ্যক ধান (তাদের ভিন্ন ভিন্ন উপযোগিতা সমেত) পাওয়া যেত। বিশেষ করে সবুজ বিপ্লব-এর পরে এখন হাতে গোণা কয়েকটি ধানে এসে দাঁড়িয়েছে। যে যত্ন নিয়ে সেসময়ের প্রতিটি ধানের খুঁটিনাটি চিকিৎসকেরা চিকিৎসার জন্য লিপিবদ্ধ করেছেন, তা একই সঙ্গে শ্রদ্ধা ও বিস্ময়ের জন্ম দেয়। প্রকৃতির ব্যাপারে কতটা মনোযোগী ছিলেন তাঁরা। একইরকম বর্ণনা ডাল, যব, শাক-সব্জী এবং অন্যান্য খাদ্যবস্তু নিয়ে রয়েছে। আমি সেখানে প্রবেশ করছিনা।  

মাংসের অংশে আজকের “নিরামিষ” ভারতের প্রোজেক্টের ক্ষেত্রে একটি subversion বলা যায়। প্রথম ভাগে রাখা হয়েছে প্রসহ প্রাণিদের – যারা তাদের খাদ্য ছিনিয়ে খায়, দ্বিতীয়ভাগে রয়েছে ভূমিশয় – যারা মাটিতে গর্ত করে থাকে, তৃতীয় ভাগে আনূপ – যারা জলাভূমিতে থাকে, চতুর্থ ভাগে বারিশয় – যারা জলে থাকে (এখানে আরেকটি ভাগ আছে জলচর – যারা ডাঙ্গায় জন্মে জলে বাস করে), পঞ্চম ভাগে বিষ্কির – যারা খাবার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে খায়, ষষ্ঠ ভাগে জাঙ্গলমার্গ – যেসব পশু জঙ্গলে বাস করে, সপ্তম ভাগে প্রতুদ – যেসব প্রাণী খাবার দ্রব্য ঠোঁট দিয়ে খুঁটে খায়। (২৮.৩৫-৫৫)  জলচর-কে ধরে মোট ৮ প্রকার বিভিন্ন গোত্রের প্রাণী রয়েছে। এই প্রতিটি ভাগের মধ্যে প্রচুর সংখ্যক প্রাণী ও পাখির কথা বিস্তৃতভাবে আলোচিত হয়েছে।

যেসব মাংস বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক বিবেচচনায় ত্রিদোষজনিত রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে উপযোগী মোটের ওপরে সেগুলো হলঃ

ছাগ ও মেষ মাংস (২৭.৬১-৬২) ময়ূরের মাংস, হাঁসের ও মুরগীর মাংস, তিত্তিরি, কপিঞ্জল ও লাব পাখীর মাংস, গোসাপের মাংস, সজারুর মাংস, পায়রার (গৃহবাসী ও বনবাসী) মাংস, শুক পাখীর মাংস, খরগোশের মাংস, চটক পাখীর (চড়ুই) মাংস, এণ হরিণের (black buck) মাংস, গো মাংস, কচ্ছপ মাংস, বরাহ ও শূকরের মাংস, মহিষের মাংস, গণ্ডারের মাংস ইত্যাদি (২৭.৬৩-৮৭)। এ অংশের শেষে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে – “শরীরপোষকের মধ্যে মাংসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ অন্য কোন খাদ্য নয়।”

“ইতি মাংসবর্গ” প্রকৃত অর্থেই আজকের যুগে চালু এবং রাষ্ট্রের promote করা আয়ুর্বেদের একটি প্রতিকল্প বা বিদ্যমান ন্যারেটিভের subversion। এখানে নিরামিষ হবার কোন বিধি নেই, সমস্ত ধরনের মাংসকে খাদ্য হিসেবে, পথ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। প্রবল ব্রাহ্মণ্যবাদী আধিপত্য সত্ত্বেও আয়ুর্বেদের বহুমতে বিশ্বাসী মুক্তমনা চিকিৎসকেরা একে অস্বীকার চিকিৎসার প্রয়োজনানুযায়ী নিজেদের টেক্সট ও খাদ্যবিধি তৈরি করেছেন।

এরপরে প্রতিটি খাদ্যের আলাদা করে বিশদ বর্ণনা এবং ব্যবহার ও খাদ্যবিধি নিয়ে নির্দেশ দেওয়া আছে। এই অধ্যায়ের শেষে বলা হচ্ছে – “যে ব্যক্তি প্রত্যহ অন্তরগ্নিকে (ভেতরের বিপাক ক্রিয়া) পথ্যদ্রব্য দ্বারা আহুতি প্রদান করেন এবং এভাবে আহিতাগ্নি হয়ে (যে ব্যক্তি যজ্ঞ করেন) ব্রহ্মমন্ত্র যপ ও যথাশক্তি দান করেন, সেই মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী ও যথাসাত্ম্য পান ভোজনাসক্ত ব্যক্তিকে ইহজন্মে কোন রোগে আক্রান্ত হতে হয় না … সেই হিতসেবী ব্যক্তি ছত্রিশ হাজার রাত্রি যাবৎ অর্থাৎ শত বৎসর পর্যন্ত অনাতুর থাকিয়া (রোগাক্রান্ত না হয়ে) সাধুসম্মত জীবনলাভে অধিকারী হন।” (২৭.৩৪৬-৩৪৮)

২৮শ অধ্যায়ের শিরোনাম “বিবিধাশিতপীতীয় অধ্যায়”। এই অধ্যায়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে – ৪ রকমের খাদ্য গ্রহণ থেকে শরীরে যেসব বিপাকীয় উপাদান তৈরি হয় সে বিষয়ে (২৮.৩-৫), আলোচনা হয়েছে স্বাস্থ্যকর ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য ছাড়াও যেসব কারণের জন্য রোগের প্রকাশ, তীব্রতা এবং গতিপ্রবাহ নির্ভর করে, (২৮.৬-৭), এখানে একটি শ্লোকে বলা হয়েছে – “কাল-বিপর্যয়, প্রজ্ঞাপরাধ (intellectual errors/offence against wisdom), পরিণাম এবং শব্দস্পর্শরূপরসগন্ধের অসাত্ম্যতা প্রকৃতি ও রোগের কারণ” (২৮.৭), যখন দোষ-সমূহ ৭টি ধাতু-কে প্রভাবিত করে (২৮.৯-১৯), ইন্দ্রিয়-কে প্রভাবিত করে (২৮.২০), স্নায়ু (ligaments), সিরা (vessels), কাণ্ডরা (tendons)-কে প্রভাবিত করে (২৮.২১), এবং মল-কে প্রভাবিত করে (২৮.২২), উদ্ভুত এসব রোগের চিকিৎসা নিয়ে (২৮.২৩-৩০), কোষ্ঠ (trunk) থেকে শাখা-য় (peripheral parts) কীভাবে দোষ প্রবাহিত হয়, এবং এর বিপরীতমুখী চিত্রও (২৮.৩১-৩৩), যারা প্রাজ্ঞ এবং যারা অজ্ঞ তাদের ক্ষেত্রে খাদ্যগ্রহণের ফলে ব্যবহারের কী পার্থক্য ঘটে সে বিষয়ে (২৮.৩৪-৪৪)।

২৯শ অধায়ের শিরোনাম “দশপ্রাণাতনীয় অধ্যায়”। এই অধ্যায়ের শুরুতে বর্ণনা করা হয়েছে বিভিন্ন প্রাণ বায়ু-র (প্রাণা) ১০টি স্থান (আয়তন) নিয়ে – শঙ্খ (temples), ৩টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ (মর্মত্রয় – হৃদয় (heart), বস্তি (bladder), এবং মস্তক), কণ্ঠ (throat), রক্ত, শুক্র, ওজ, এবং গুদ (anorectal region) (২৯.৩-৪)।

বলা হুয়েছে – “চিকিৎসক সমুদয় দুই প্রকার। তাদের মধ্যে একপ্রকার প্রানাভিসর এবং রোগহন্তা। দ্বিতীয় প্রকার অভিসর (রোগ বাড়িয়ে তোলে) এবং প্রাণের হন্তা। (২৯.৫) এরপরে এদের বর্ণনা করা হয়েছে (২৯.৫-১৩)।

শেষে বলা হয়েছে – “প্রকৃত শাস্ত্রজ্ঞ, কার্যদক্ষ, শুদ্ধাচারী, কর্মকুশল, কৃতকর্মা এবং জিতেন্দ্রিয় চিকিৎসকই নিত্য নমস্কারপাত্র।” (২৯.১২-১৩)

৩০শ অধ্যায়ের শিরোনাম “অর্থে দশ মহামূলীয় অধ্যায়”। এই অধ্যায়ে হৃদ্, হৃদয়, এবং মহাফলা ও মহামূলা নামে পরিচিত ১০টি মহাধমনী (great vessels) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আরও আলোচিত হয়েছে – ওজ কীভাবে এই নালীগুলিতে (ধমনী, স্রোত এবং সিরা) পরিবাহিত হয় এবং এরা ফুলে ওঠে (ধমনা, inflatedness), পুষ্টিদায়ী বস্তু নিঃসরিত হয় (স্রবণা), কার্য করতে থাকে (সরণ) এবং হৃদ্-কে কীভাবে রক্ষা করা যায়। (৩০.৩-১৫)

এখানে নির্দিষ্ট শ্লোকটি হল – “সমস্ত দেহের সর্বস্থলেই ওজোবহ ধমনীসকল (vessels) বিস্তৃত আছে। ওজো ধতু দ্বারা প্রীনিত হয় (pulsate) হয় বলেই প্রাণিসকল জীবন ধারণ করছে। এদের অভাব হলে প্রাণিদের প্রাণ থাকতে পারে না। গর্ভের সার ওজো ধাতু।” (৩০.৯-১১)

এখানে দুটি বিষয় বিবেচ্য – (১) পূর্বে আলোচিত ওজ শব্দের শব্দার্থ নিয়ে ভিন্নধর্মী ব্যাখ্যার বিপত্তি, এবং (২) ওজ-কে ধাতু হিসেবে দেখা। এ বিষয়েও পূর্বে আলোচনা হয়েছে।

আয়ুর্বেদের অধ্যয়ন-সংক্রান্ত (৩০.১৬-১৯), আয়ুর্বেদের সাথে বেদের, বিশেষ করে অথর্ববেদ-এর, সম্পর্ক (৩০.২০-২১), আয়ুর্বেদ এবং আয়ু-র সজ্ঞা (৩০.২২-২৩), আয়ুর্বেদের বিষয়সন্ধান ও এর অনাদিত্ব (৩০.২-২৭), আয়ুর্বেদের অষ্টাঙ্গ বিভাগ, চিকিৎসকেরা নিজেদের মধ্যে কোন কোন বিষয়ে আলোচনা করবেন (৩০.২৮.৩০) – এই সমস্ত বিষয়ও এ অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে।

এক্ষেত্রে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে – “আয়ুর্বেদ অষ্টাঙ্গে বিভক্ত – কায়-চিকিৎসা (বর্তমান পরিভাষায় internal medicine-এর তুল্য বলা যেতে পারে), শালাক্য (a branch of medicine dealing with diseases of supraclavicular region), শল্যহর্তৃক (the extraction of foreign bodies), বিষ-গর-বৈরোধিকা-প্রশমন (the treatment of intoxication)), ভূতবিদ্যা (demonology), কৌমারভৃত্য (the treatment of women during pregnancy, delivery and the puerperium, coupled with pediatrics), রসায়ন (the science of longevity) এবং বাজীকরণ (the science concerned with aphrodisiacs)। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য এই তিন জাতি অষ্টাঙ্গ আয়ুর্বেদের অধ্যয়নকর্তা। অথবা সাধারণতঃ ধর্ম, অর্থ এবং কাম প্রতিগ্রহের জন্য সকলেই আয়ুর্বেদ অধ্যয়ন করতে পারেন।” (৩০.২৮-২৯) এর অর্থ কী যে কেউ আয়ুর্বেদ অধ্যয়ন করতে পারবে? আয়ুর্বেদের ইতিহাস তো সেরকম সাক্ষ্য দেয়না। তবে ব্যতিক্রম রয়েছে। এ বিষয়ে পরের অধ্যায়ে আলোচনা করব।

আয়ুর্বেদের একার্থবোধক শব্দ হল – সাখাবিদ্যা, সূত্রজ্ঞান, শাস্ত্রলক্ষণ এবং তন্ত্র। (৩০.৩১) এর আগে বলা হয়েছে – “অধ্যাত্মবিৎ, ধর্ম্পথস্থ, ধর্মপ্রকাশক প্রভৃতির এবং মাতা, পিতা, ভ্রাতা, বন্ধু ও গুরুজনের রোগের আরোগ্য বিষয়ে যথাযোগ্য যত্ন করা … এই সমস্ত কাজের দ্বারা আয়ুর্বেদ থেকে ধর্মলাভ হয়। কোন রাজা বা ধনী লোকের কাছ থেকে চিকিৎসার ফলে যা কিছু সুখোপহার বা অর্থ প্রাপ্ত হওয়া যায় … এটাই আয়ুর্বেদের ফলে অর্থ লাভ। এবং চিকিৎসা দ্বারা পণ্ডিতদের কাছে যে সমাদর পাওয়া যায়, যশস্বী লোকের শরেণ্য হওয়া যায় … এই হল আয়ুর্বেদজনিত কামলাভ।” (৩০.২৯)

এরপরে আয়ুর্বেদের বিষয়সূচি দেওয়া হয়েছে (পূর্বালোচিত) (৩০.৩৩-৬৮) সব শেষে বলা হচ্ছে – “ইতি অগ্নিবেশকৃত ও চরকপ্রতিসংস্কৃত তন্ত্রের অর্থে দশমহামূলীয় নামক ত্রিংশ অধ্যায়।” (৩০.৯০)

শেষ কথা

মিউলেনবেল্ডের মতানুযায়ী, সূত্রস্থান সমগ্র সংহিতা-র মধ্যে সবচেয়ে heterodox – এর গঠনের ক্ষেত্রে। এবং একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সমগ্র সংহিতার প্রবেশদ্বার হিসেবে। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আলোচনায় রেখে সমগ্র সূত্রস্থান-কে সুদীর্ঘ পরিসরে ধরার চেষ্টা করা হল।

___________________________

[1] Francis Zimmermann, “Terminological Problems in the Process of Editing and Traslating Sanskrit Medical Texts”, in Approaches to Traditional Chinese Medical Literature, ed. Paul U. Unschuld, 1989, pp. 141-151.

[2] K. R. Krishnamurthy, Aṣṭāṅga hṛdayam, (Text, English Translation, Notes and Appendix Indices), vol. 1. 2009, p. 163.

[3] M. Monier-Williams, A Sanskrit English Dictionary, 2002, p. 1217.

[4] Ibid, p. 510.

ও শর্মা ও দাস তাঁদের অনুবাদে রসায়নীর ইংরেজি lymphatic channel করেছেন। কিন্তু ইংরেজিতে প্রিয়ব্রত শর্মা কিংবা বাংলা অনুবাদে (ব্রজেন্দ্রচন্দ্র নাগ সম্পাদিত চরক-সংহিতা-য়) এর কোন ইংরেজি প্রতিশব্দ দেওয়া হয়নি। সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ হল, চরক-সংহিতা যখন সংকলিত হয়েহে সেসময়ে যেহেতু শবব্যবচ্ছেদ (dissection) একেবারেই চালু ছিলনা (আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরে করব), ফলত lymphatics-এর জ্ঞান বা ধারণা থাকা অবাস্তব একটি বিষয়। মিউলেনবেল্ড স্রোতঃ-র ইংরেজি channels করেছেন। কিন্তু অন্য সংস্কৃত পরিভাষাগুলোর কোন ইংরেজি রূপান্তর করেন নি।

[6] Meulenbeld, “The Characteristic of a Doṣa”, JEAS 1992, (2): 1-5. Quotation on p. 2.

[7] Ibid, p. 5.

[8] Meulenbeld, HIML, IA, p. 9.

[9] Ibid, p. 11.

[10] Ibid, p. 11.

[11] Meulenbeld, HIML, IA, . 12.

[12] Ibid.

[13] Meulenbeld, HIML, IA, p. 12-13.

[14] Ibid, p. 13.

[15] প্রাগুক্ত, পৃঃ ১৩।

[16] প্রাগুক্ত, পৃঃ ১৩।

[17] প্রাগুক্ত, পৃঃ ১৩।

[18] Meulenbeld, HIML, IA, p. 14.

[19] Meulenbeld, HIML, IA, p. 16. Also see an important paper – Kenneth G. Zysk, “The bodily winds in ancient India revisited”, Journal of the Royal Anthropological Institute (N.S.), 2007, S105-S115.

[20] Meulenbeld, HIML, IA, p. 16.

[21] Caraka-Saṃhitā, trans. A. Chandra Kaviratna and P. Sharma, revised 2nd edn., 1996, vol. 1, p. 125.

[22] আমরা এরকম অনুবাদ পাচ্ছি পূর্বোল্লেখিত ব্রজেন্দ্রচন্দ্র নাগ সম্পাদিত চরক-সংহিতা-র প্রথম খণ্ডে। কিন্তু প্রিয়ব্রত শর্মা এর অনুবাদ করেছেন – “The substance of white or red, slightly yellowish colour which resides in heart is known as ojas.” Caraka-Saṃhitā, vol. 1, p. 120. শর্মা এবং দাস-ও সমধর্মী অনুবাদ করেছেন।

[23] R. P. Das, The Oriign of the Life of a Human Being: Conception and the Female According to Ancient Indian Medical and Sexological Literaure, 2003, p. 530.

[24] Meulenbeld, The Mādhavanidāna, With ‘Madhukoṣa’, the Commentary by Vijayarakṣita and Ṥrīkaṇṭhadatta (Chapters 1-10), 2008, p. 451.

[25] Monier-Williams, A Sanskrit English Dictionary, p. 235.

[26] Meulenbeld, “The Woes of Ojas in the Modern World”, in Modern and Global Ayurveda: Pluralism and Paradigms, ed. Dagmar Wujastyk and Frederick M. Smith, 2008, pp. 157-175. Quotation on p. 158.

[27] Ibid, p. 160.

[28] Ibid, p. 163.

[29] প্রাগুক্ত, পৃঃ ১৬৬।

[30] S. N. Dasgupta, A History of Indian Philosophy, vol. 2, 1991, p. 317.

[31] For further dscusson see, Silviniya Anitharaj Fernandes et al, “Gulma in Ayurveda and Contemporary Science”, RJAS 2021, 8 (2): 13-20.

[32] Meulenbeld, HIML, IA, p. 19.

[33] Ibid, p. 19.

PrevPreviousপ্রকৃতি, তিনটি বৃক্ষ ও বুদ্ধ
Nextস্কুলের গল্প: ঐতিহাসিক ইতিহাস পরীক্ষাNext
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
2 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
বর্ণালী দত্ত
বর্ণালী দত্ত
11 months ago

তথ্যসূত্র সহকারে সমৃদ্ধ একটি লেখা। উপস্থাপনা অসাধারণ। ভাবনার তীক্ষ্ণতা স্পষ্ট। লেখার ধরনে ও তথ্যের বিশ্লেষণ বিষয়ের গভীরতা সুস্পষ্ট ভাবে প্রকাশিত।

0
Reply
সুকুমার ভট্টাচার্য‍্য
সুকুমার ভট্টাচার্য‍্য
11 months ago

ডঃ জয়ন্ত ভট্টাচার্য যথারীতি আর একটি তথ‍্যবহুল লেখা উপহার দিয়েছেন আয়ুর্বেদ চিকিৎসার ইতিহাস নিয়ে।
তৎকালীন অনেক তথ‍্য, যেমন বিভিন্ন রকমের ধান ও তার উপকারিতার প্রকারভেদ, বিভিন্ন রকমের মাংস ভক্ষণের পরামর্শ, ইত‍্যাদি। আজকের দিনেও এ‍্যালোপাথিক চিকিৎসকরাও এই সব খাদ‍্যের বিধান দিতে হাজারবার ভাববেন কারণ সংস্কার মানুষকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।
অভিনন্দন, ডঃ জয়ন্ত। আপনার লেখা পড়লে সমৃদ্ধ হই।

0
Reply

সম্পর্কিত পোস্ট

কলেজ নির্বাচনের স্মৃতি

April 15, 2026 No Comments

সালটা ২০১১, আমরা মেডিক্যাল কলেজে তখন সদ্য পা দিয়েছি। গল্পটা শুরু হয়েছিল তারও আগে, রেজাল্ট বেরোনোর পরপরই। বিভিন্ন দাদা দিদিরা বাড়ি বয়ে একদম ভর্তির সমস্ত

এসো হে বৈশাখ…এসো বাংলায়

April 15, 2026 No Comments

SIR এবং আমাদের পশ্চিমবঙ্গের মানুষ

April 15, 2026 3 Comments

ভোটের দোরগোড়ায় পশ্চিমবঙ্গবাসী। ইতিমধ্যে SIR তথা Special Intensive Revision (বিশেষ নিবিড় সংশোধন)-এর কল্যাণে এবং প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সহজ কথায়,

What Does it Mean to Be a Revolutionary Doctor Today? (Part 3)

April 14, 2026 1 Comment

Micro-Institutions in Practice: A Workers’ Health Model In the earlier parts, I tried to touch upon the dilemmas faced by young professionals and the broader

।।অভয়া আন্দোলন দ্রোহের দলিলঃ একটি প্রতিবেদন।।

April 14, 2026 No Comments

ডাঃ পুণ্যব্রত  গুণ সম্পাদিত “অভয়া আন্দোলন দ্রোহের দলিল” বা ডক্টরস ডায়লগ সংকলন এক কথায় এই দশকের প্রতিষ্ঠান বিরোধী গণ আন্দোলনের যে ধারাবাহিকতা বা দুর্নীতিপরায়ণ শাসকের

সাম্প্রতিক পোস্ট

কলেজ নির্বাচনের স্মৃতি

Dr. Subhanshu Pal April 15, 2026

এসো হে বৈশাখ…এসো বাংলায়

Abhaya Mancha April 15, 2026

SIR এবং আমাদের পশ্চিমবঙ্গের মানুষ

Dr. Jayanta Bhattacharya April 15, 2026

What Does it Mean to Be a Revolutionary Doctor Today? (Part 3)

Dr. Avani Unni April 14, 2026

।।অভয়া আন্দোলন দ্রোহের দলিলঃ একটি প্রতিবেদন।।

Shila Chakraborty April 14, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

617811
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]