উন্নয়নের কোনো সংজ্ঞা হয় না।
আগে যা ছিলো, তার থেকে ভালো থাকলেই সেটাকে উন্নয়ন বলা যায়।
যে ভিখারির দৈনিক রোজগার দশ টাকা ছিলো,
এখন যদি সেটা পনেরো হয়, সেটা উন্নয়ন,
থোড়-বড়ি-খাড়ার নিরানন্দ নিরামিষে ডিম জুটে গেলে সেটা উন্নয়ন,
এবড়োখেবড়ো রাস্তা দুরমুশ করা টুকরো ইঁটে সমান করে দিলে সেটা উন্নয়ন,
সঠিক হাতে ‘চায়পানি’ দিলে আগে যে কাজ এক সপ্তাহ লাগতো,
ওই একই ঘুষে সেটা তিনদিনে হলে সেটাও উন্নয়ন।
অথচ ভিক্ষা, ডিম, ভাঙা ইঁটের রাস্তা বা ঘুষ,
কোনোটাকেই ‘উন্নয়ন’ বলা যায় কি?
উন্নয়নের কোনো সংজ্ঞা হয় না।
কোথাও অরণ্যের হত্যা হলে, পরিবেশবিদের কাছে সেটা অবনমন,
অথচ শিল্পপতির কাছে অগ্রগতি।
ওই বনের ওপর বেঁচে থাকা আদিবাসীদের কাছে সেটা রুজি হারানোর ভয়,
আর কাছের শহরতলির শ্রমিকের কাছে দৈনিক রুটির হাতছানি,
উন্নয়নের ব্যাখ্যায় কখনো এক পাতায় থাকবেন না মেধা পাটকর এবং মুকেশ আম্বানি।
উন্নয়নের কোনো সংজ্ঞা হয় না।
এলাকার দুটো সরকারি বিদ্যালয় উঠে গিয়ে বদলে পাঁচটা
প্রাইভেট স্কুল গজানোকে উন্নয়ন বলবে না অবনমন,
তা জানার জন্য দু-তিনটে প্রজন্ম অপেক্ষা করতে হবে,
হয়তো কোনোদিন জানতেও পারবে না ।
মদের দোকানের সংখ্যা বাড়লে সেটা আবগারি রাজস্বের লক্ষ্মীলাভ নাকি ঘরে ঘরে অলক্ষ্মীর নিমন্ত্রণ,
কোনটা প্রাধান্য পাবে তার ওপর নির্ভর করছে
সেটা উন্নয়ন না সর্বনাশ।
পাড়ার মুদির দোকানটা ‘পাঁচ মিনিটের ডেলিভারি’ অ্যাপের কাছে হেরে গিয়ে উঠে গেলো,
ইলেক্ট্রিক আর কলের মিস্ত্রির নম্বরগুলো বাবার কাছে থাকতো,
তোমার ফোনের ইউটিলিটি অ্যাপ এখন সেসব জোগান দেয়,
ফিটফাট উর্দি পরে যারা বাড়ি আসে,
তুমি তাদের কাউকে চেনো না,
এই পরিবর্তনকে উন্নয়ন বলবে না অবনমন,
সেটা নির্ভর করছে প্রশ্নটা কাকে করা হচ্ছে,
তোমাকে, না তোমার বাবাকে।
তোমার বাবা ফিক্সড ডিপোজিট করে দশবারো শতাংশ সুদ পেয়ে
রাত্রে শান্তিতে ঘুমোতেন,
তুমি এখন ‘সাবজেক্ট টু মার্কেট রিস্ক’এ লগ্নী করে ঘুমের মধ্যেও সেনসেক্সের অংক কষো,
এটা কি উন্নয়ন না অবনমন?
উন্নয়নের কোনো সংজ্ঞা হয় না ।
আজ যদি তোমার রাস্তাঘাট সব ঠিক করে দেয় কেউ,
তোমার নাগরিক সুবিধাগুলো বিনা ঘুষে পেয়ে যাও,
রোজকার অন্ন পেতে অন্য রোজগার খুঁজতে হয় না আর,
তাহলে সেটা উন্নয়ন হবে নিশ্চিত,
কিন্তু আগামীর রাজনীতিকে সমস্যায় ফেলবে,
কারণ তখন পাঁচ টাকা ভিক্ষা বৃদ্ধি,
ভাঙা ইঁটের রাস্তা, দৈনিক একটা ডিম,
আর কিঞ্চিৎ বেশি কার্যকরী ঘুষ-কে উন্নয়ন বলে চালানো যাবে না,
নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধে হলে, একটা জানলা খুলে দেওয়াকেই উন্নয়ন বলে চালানো যায়।
উন্নয়নের কোনো সংজ্ঞা হয় না,
তাই কখনো কোনো দায় লাগে না রাজনীতিবিদদের
গা’য়।
দিশাহীন স্বপ্নরা খোঁড়াতেই থাকে, অজস্র ভাঙা ইঁট ভরা অসমান আগামীর নেই-রাস্তায়।










