শুনেছি প্লেনে নাকি ব্ল্যাক বক্স নামে একটি বস্তু থাকে যার সাহায্যে প্লেন দুর্ঘটনার কারণ জানা যায়। এও শুনতে পাচ্ছি প্লেনের নিহত যাত্রীদের মধ্যে অনেক ব্রিটিশ নাগরিক থাকার জন্য ব্রিটেনের সংস্থা নাকি এই দুর্ঘটনার অনুসন্ধানে যোগ দেবে। এসবই হচ্ছে বাস্তবিক দায় কার বা কাদের ছিল সেটা খুঁজে বের করার এবং তাদের শাস্তিদানের প্রক্রিয়া। কিন্তু এর বাইরেও আরেকটা দায় থেকে যায়, “নৈতিক দায়”।
যারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সেই জনপ্রতিনিধি বা জনসেবক উচ্চপদাধিকারীরা সেই নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করবেন বা অপসারিত হবেন এইটুকু ব্যবস্থা সভ্য দেশের জনসাধারণ প্রত্যাশা করেন, এটা তাদের একটা অধিকারের মধ্যে পরে। কিন্তু আমাদের দেশে ওসবের বালাই নেই। সন্ত্রাসবাদীদের হাতে নাগরিকদের মৃত্যুর পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বা ট্রেন দুর্ঘটনায় শতাধিক যাত্রী এর মৃত্যুর পরে, ট্রেনমন্ত্রী বা শিশু মৃত্যুর মিছিলের পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী – এদের পদত্যাগ তো অনেক দূরের কথা, শহরে ম্যানহোলে কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকের মৃত্যু হলে পৌর প্রধান বা গ্রামে বিষ মদে মৃত্যু হলে পঞ্চায়েত প্রধান অবধি কেউ কোনোদিন পদত্যাগ করেছেন বলে মনে পড়ছে না।
আসলে নীতি নৈতিকতার বালাই নেই, রাজনীতিবিদদের অভিধানে ওই শব্দটাই নেই। থাকবে কি করে? অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে, অনেক কিছু ইনভেস্ট করে তবেই তো ওই সব পদে বসা যায়, পদত্যাগ করলে তো সে গুড়ে বালি। তাই এই ভাবেই চলবে। আমরাই চালাতে দিচ্ছি, বছরের পর বছর এদেরই নির্বাচিত করে। তাই দোষটা কেবল ওদের নয়, আমাদেরও।
আমাদেরও নৈতিক দায় থেকে যায়। ওদের পাল্টানোর আগে আমরা আমাদের মানসিকতা পাল্টাই আসুন।











,😔