আমাদের ভাই-বোনেরা (আমি তাদের জুনিয়র বলতে রাজি নই) যা করে দেখাল, তা আমাদের এবং আমাদের আগের প্রজন্ম কোনোদিন ভাবতেও পারে নি।তার একটা বিরাট কারণ সারা রাজ্যজুড়ে জনসমর্থন। আগে ডাক্তারদের কোনো আন্দোলন যা পায় নি। পাওয়ার কথাও হয়ত ছিল না। আর তাছাড়া এই আন্দোলন থেকে কারও ব্যক্তিগত কিছু পাওয়ার ছিল না।এটা কোনো মাইনে, স্টাইপেন্ড বা ফী বৃদ্ধির আন্দোলন নয়। এটা এক নিহত নির্যাতিত সহকর্মী বোনের বিচার পাওয়ার আশায় ও দাবীতে আন্দোলন। আমাদের সন্তানতুল্য কয়েক হাজার ছেলে-মেয়ে দিনের পর দিন নিজেদের ক্যারিয়ার ও সবকিছু বাজী রেখে বৃষ্টিতে-রোদে-ঝড়ে রাস্তায় পড়ে থেকে যে অসম লড়াই লড়ছে- এই দেশে হয়ত তার কোনো তুলনা নেই। যেভাবে তারা ঠান্ডা মাথায় শিরদাঁড়া সোজা রেখে, কোনো রাজনৈতিক রং এড়িয়ে, শহরের সর্বোচ্চ পুলিশ এবং রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসকের চোখে চোখ রেখে দাবি আদায় করে ছেড়েছে- তাদেরকে কুর্নিশ।
কিন্তু অনেক রাস্তা এখনো পার হওয়া বাকি। রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রশাসনে, হাসপাতালে- হাসপাতালে, মেডিক্যাল কলেজ গুলোতে এবং ডাক্তারদের কিছু সংগঠনে এখনও অপরাধীদের পুরনো কাছের লোকেরা চুপচাপ লুকিয়ে আছে। অনেক-কেই পরিস্থিতির চাপে প্রতিবাদের মিছিলে প্রথম সারিতে ব্যানার ধরে চেঁচিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যাচ্ছে (অনেকটা সেই পকেটমারের পাবলিকের ভিড়ে মিশে গিয়ে ‘পকেটমার-পকেটমার’ বলে চেঁচানোর মত)। এরা হয়ত আজ কোণঠাসা। এরা আজ নামহীন, প্রমাণহীন। কিন্তু এটা নিশ্চিত যে ভবিষ্যতে সুযোগ পাওয়ামাত্র এরা মাথা তুলবে। তাই এদেরকে ভুললে চলবে না। চিনে রাখতে হবে। এতবড় যুগোত্তীর্ণ আন্দোলনের দীর্ঘকালীন সাফল্য তার উপরেও অনেকটা নির্ভর করবে।











