মেসি অনেক বড় ফুটবলার, সারা দুনিয়ায় কোটি কোটি তার ভক্ত, রোজগার আকাশ ছোঁয়া। Sportsperson বা খেলোয়াড় হিসাবে রোজগারে সম্ভবতঃ বিশ্বের সর্বকালের ইতিহাসে প্রথম পাঁচজনের মধ্যে থাকবে, সেদিক থেকে মারাদোনা অনেক পিছিয়ে। কিন্তু, মারাদোনা আলাদা জিনিস।
মারাদোনা তো শুধু খেলোয়াড় নয়, এক বিশাল মাপের মানুষ যে কোনো কিছুর বিনিময়েই নিজের বিশ্বাস ও অবস্থানকে পাল্টায় নি। আর্জেন্টিনার প্রায় বস্তি থেকে উঠে এসে খ্যাতির চূড়ান্ত পর্যায়েও ভোলেননি নিজের প্রাথমিক অবস্থাকে। পোপ দ্বিতীয় জন পলকে সরাসরি বলেছিলেন, ভ্যাটিকানের স্বর্ণময় সিলিং কী কাজে লাগে, বরং এগুলো বিক্রি করে দিয়ে গরিব শিশুদের খাদ্য দিলে, অনেক বেশি কাজে লাগতো। প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছেন ইরাক আক্রমণ, ফকল্যান্ডে ব্রিটিশ ভূমিকার। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মার্কিনী ভূমিকা সম্বন্ধে কথা বলেছেন চাঁচাছোলা ভাষায়, কোনো রকম ভনিতা না করেই।
ল্যাটিন অ্যামেরিকায় তার অতি প্রিয় চরিত্র ছিল ফিদেল কাস্ত্রো, চ্যাভেজ, ইভো মোরালেস। কিন্তু তা কোনো ক্ষমতা, সুবিধা বা অর্থকরী লাভের জন্য নয়। ফিদেলের ভাষ্যেই, “…… maintained a friendship with Cuba to no material gain of his own.” শরীরে ট্যাটু ছিল ফিদেল ও চে, দুজনেরই। এই নিয়ে কোনো রাখঢাকের প্রয়োজন বোধ করেননি । ব্যক্তিগত জীবনে চূড়ান্ত শৃঙ্খলাহীন, পানাসক্ত, মাদক আসক্ত, এ সব সত্ত্বেও দিয়েগো আলাদা জিনিস।
কোনোদিন ভাবা যাবে, মহা দম্ভভরে একজন ঘোষণা করছে পৃথিবীর কোন কোন অঞ্চল দখল করা হবে, কিছুদিনের মধ্যেই কিউবা চলবে তার অঙ্গুলিহেলনে; আর, মারাদোনা সেখানে দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছে!!! কোনও দুঃস্বপ্নেও সম্ভব???
মেসি, আপনি অনেক বড় খেলোয়াড়। কিন্তু, মারাদোনার ধারেকাছে কেন যোজন দূরত্বেও আপনার পৌঁছানো সম্ভব নয়। আপনার প্রতিভা ও দক্ষতা অসাধারণ, ভক্তগণ আপনার জয়ধ্বনি করবে। কিন্তু মারাদোনা থাকবেন মানুষের হৃদয়ে, ল্যাটিন অ্যামেরিকার এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নে,ক্ষমতার সামনে মাথা সোজা রাখার স্পর্ধায়………










