গ্রিক পুরাণে মিউজ নামের একজনের কথা আছে। এক দেবী তিনি।
মিউজ আসলেই খুব দরকারি অস্তিত্ব। খালি শিল্পীর বা লেখকের জন্য নয়। সবারই। বাঁচবার জন্যেই দরকার।
আমার মিউজ কিন্তু তৃষ্ণার জল নন। উনি হচ্ছেন খুব ঠিক ভাবে বললে এক মরুতৃষা। উনি ক’জন? তিন বা নয়এ আবদ্ধ নন। অসংখ্য।
তৃষ্ণার জল তো আমার শ্রীমতী। নিয়ত আদরে ও যত্নে টিকিয়ে রাখেন আমাকে। না, আমিও শ্রীমতীর মিউজ নই। অন্য কেউ। আমরা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে বাঁচি বটে, তাকিয়ে থাকি কাছে না পাওয়া, দূর থেকে আরও দূরে সরে যাওয়া কারও দিকে।
যে পলাশের আগুনে পোড়াবার লোভ দেখায় পার্থিবদের, যে আলিঙ্গনের পেমেন্টে রাজি করায় বাউন্সারদের।
তিনি মরীচিকায় দেখা সমুদ্রে বালুতপ্ত অদ্বিতীয়া এক তরঙ্গ। যতবার অভিমুখে গেছি তিনি সরে সরে গেছেন। কখনও মরুপ্রিয় বাতাস, কখনও উটের চিবোনো উচ্ছিষ্টে থাকা নগ্নরূপ কাঁটা আমার মিউজ আর আমার মধ্যে এসে দাঁড়িয়েছে। অথবা এমনও হতে পারে, ভারি উচ্চাকাঙ্খী কেউ নিজেকে নিজেই মিউজ বলে চিহ্নিত করে এই কদর্যতাকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে।
অনসূয়াদি’কে বোলো, বলে দিয়ো,
–সাধ্য কী কারও? আমার মিউজকে ঢেকে দেবে!
আমার মিউজ যে, নানান মুখের কোলাজে স্বপ্রকাশ।
★









