২০২৪ এর ৯ আগস্ট বাংলার রাজনৈতিক এবং সামাজিক ইতিহাসে এক অমানিশা। নিবিড় তমিস্রা গ্রাস করেছিল সেদিন চরাচর, সব আলো নিভে গিয়েছিলএক অশুভ ইঙ্গিতে। অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি আর হুমকি সংস্কৃতির কাছে বাংলার মানুষের আত্মসমর্পণের প্রায়শ্চিত্ত করতে এগিয়ে এসেছিল নির্ভীক মেয়েটি ‘to defy power which seems omnipotent”। সেই রাতে মেয়েটিকে ঘিরে চলে কূট চক্রান্তের ক্লাইম্যাক্স – চক্রব্যূহে বন্দী বীর অভিমন্যুকে হত্যা করার দানবীয় উল্লাস ,শকুনির চালে অনাথবৎ পাঞ্চালীকে বিবস্ত্র করার পাশবিক উত্তেজনা, বিজিত নারীর শরীরকে ঘিরে ধর্ষকামী জিগীষা।
‘Hope may vanish, but can die not/ Truth be veiled, but still it burneth’ (P.B. Shelley, ‘Prometheus Unbound’ )
রাত্রি শেষে নিকষ কালো অন্ধকারে জ্বলে উঠেছিল প্রমিথিউসের আলো। জুনিয়র এবং সিনিয়র চিকিৎসকরা একজোট হতে শুরু করেন, মেডিক্যাল কলেজ গুলিতে শাসকের বিরুদ্ধে গড়ে উঠতে থাকে সংগ্রামী ঐক্য, নারী অধিকার কর্মীদের ডাকে ১৪ অগাস্ট সূচনা করে এক অভূতপূর্ব ইতিহাস। লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নামেন অভয়ার বিচার, সব নির্যাতিতার বিচার, স্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার বিরামহীন লড়াইয়ে।
গত ১৪ মাস ধরে চলছে এই অপরাজেয় আন্দোলন। প্রতিমাসের ৯ তারিখ নতুন করে শপথ নেবার দিন । ২০২৫ এর ৯ অগাস্ট জনসমুদ্র স্তব্ধ করে দিয়েছিল হাজরা মোড়। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ছবি গান কবিতায় প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সংহতি তৈরি হয়েছে রানুছায়া মঞ্চে। বিচারহীন ১৪ মাসে শতাধিক অনশনকারী (১১৮ জন) শ্যামবাজার মেট্রোর সামনে অবস্থানে বসেন। ২০২৪ এর ৫ অক্টোবর শুরু হওয়া জুনিয়র ডাক্তারদের মরণপণ অনশনকে সম্মান জানিয়ে গৃহীত হয় এই কর্মসূচি । অনশন অবস্থান মঞ্চে মেডিক্যাল ক্যাম্পে শুরু হয় এলাকার মানুষের জন্য বিনা মুল্যে চিকিৎসা পরিষেবা। এই প্রতিবাদী অবস্থানকে সফল করতে অসংখ্য মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এগিয়ে আসেন, সারা দিন রাত পাঁচ শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে প্রতিবাদে মুখরিত হয় অনশন অবস্থান। মেডিক্যাল ক্যাম্পে ওষুধ ও চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয় শতাধিক মানুষকে। উত্তর বঙ্গের বন্যাত্রাণের জন্য আর্থিক দান সংগ্রহ করা হয় এই অবস্থানে।
অনশন মঞ্চে বক্তব্য রাখেন ডঃ তমোনাশ চৌধুরী, ডাঃ মানস গুমটা, ডঃ অরিন্দম চক্রবর্তী, অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র,ডঃ শ্যামল চক্রবর্তী, অধ্যাপক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়, দিবাকর ভট্টাচার্য্, সন্দীপ রায়, স্বাতী চক্রবর্তী, সুনেত্রা সেনগুপ্ত, বিশ্ব রঞ্জন রায়, প্রমীলা রায়, প্রদীপ দত্্ সোমা মারিক, জিষ্ণু মুখার্জী, ধৃতিমান সেনগুপ্ত, শ্রীকান্ত মুখার্জি, বিপ্লব তিলক, কুশ বেহেরা, ডঃ শতাব্দী মিত্র এবং পাপিয়া চক্রবর্তী। অভয়া আন্দোলন নিয়ে অডিও ক্লিপ পরিবেশন করেন নীল।
স্পন্দন নাট্যগোষ্ঠী শ্রুতি নাটক পরিবেশনা করেন – ‘বাবা তুমি ঘুমিও না’। কবিতা গানে দৃপ্ত প্রতিবাদ ধ্বনিত হয় ডক্টর তরুণ কান্তি কর, স্বরজিৎ রায়, প্রলয় মৃধা, সুদীপ দস্তিদার , রূপকথা, ডঃ জয়দীপ দেব, সুদীপ দস্তিদার, দেবাশিস সিনহা, শমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অনিন্দিতা রাউথ, মেঘনা বড়ুয়া, সুতপা ভট্টাচার্য, নবারুণ, সন্তু সামন্ত, দেবজ্যোত্ দেবাশিস সিনহা, অর্কজিতা, নন্দিতা তিতলি, সুশান্ত সাহা, ডঃ শতাব্দী মিত্র, সাগরিকা, শ্রাবণী চ্যাটার্জী, দুলাল চ্যাটার্জী, দেবাশীষ মুখার্জি, শ্রীকান্ত মুখার্জি, অসিত চৌধুরী, শ্যামল চক্রবর্তী, চন্দ্রশেখর ভট্টাচার্য, ইন্দ্রনীল সরকার, প্রশান্ত রায় এবং ডঃ মানস গুমটার কণ্ঠে।











