মারাঠি চাইছে মহারাষ্ট্র,
কর্নাটকের দাবী কন্নড়, জেগে উঠছে তমীঢ় আর তেলুগু-পন্থীরাও,
সকলেরই দাবী এক.. থাকতে চাইলে ভাষাখানা শিখে নাও।
অবস্থা এমনই আজ , বাইশটা স্বীকৃত ভাষার
বাকিরাও বাধ্য হবে ধরতে সে পথ,
গুজরাটিকে মহারাষ্ট্রে মারাঠি বলতে হলে,
গুজরাটের মারাঠিদের গুজরাটি বলার পক্ষে হবে জনমত,
কলকাতার কান্নাডিগাকে কোনো না কোনো বাঙালি জোর করবে বাংলা বলতে,
বোমগুলো বাঁধা হয়ে গেছে,
তুচ্ছ কোনো চকমকি ঘটনায় দুম করে ধরে যাবে সলতে।
অথচ ভাবতে গেলে, ভাষা-পন্থীরাও পুরোপুরি নন অযৌক্তিক,
ভাষাই তো কথোপকথনের আঞ্চলিক বাহন,
না শিখলে বাধ্যবাধক হতে হয় অসামাজিক,
নিজের ভাষাভাষীর সাথে ঘেঁষাঘেষি করে ঘেটো বানিয়ে থাকেন যে সব অন্য-অঞ্চলবাসী,
তাঁরাই বা কেন বোঝেন না,
রোজকার জীবন ছোঁয়া মানুষগুলো মাতৃভাষার শ্রবণ-প্রত্যাশী?
তবুও কাঁটাতার আর পরিখাগুলো একবার তৈরী হলে,
সেটা বাইশে থামবে না , আরো আরো আরো
বিভাজন হয়ে যাবে তার
ভারতে মাতৃভাষার সংখ্যা সাড়ে উনিশ হাজার,
একবার স্রোত এলে সে বান সামলাতে দেশ হবে জেরবার,
হিন্দি আগ্রাসনের মতো এটাকেও থামানো নিতান্ত দরকার।
তাহলে উপায়? ইংরাজি হিন্দি ও মাতৃভাষার সাথে আরো ভাষা করা যোগ ?
ফোর্থ ফিফথ করে কতগুলো ভাষা শেখালে কাটবে
এই প্রাদেশিক পরিখার দুর্ভোগ ?
শেখাবেও যদি, কোনটা শেখাবে, কোনটা ছাড়বে
সেটা স্থির করে দেবে কে?
‘বিবিধের মাঝে মিলন মহান’
সে কবি এখন রোজ গালি খান,
সেখানে সবার হৃদয়ে কে দেবে দেশ বলে ছবি এঁকে?
ভেবে দেখো তুমি, যে কোনো ভাষায় ঠিক কী কী কথা হয়..
এই আমার নাম, কী তোমার নাম, সেইভাবে পরিচয়।
এ জায়গা যাওয়া যাবে কোনভাবে, ভাড়া ও দামটা কত,
আঞ্চলিকেই না জানলে সেটা খেতে হবে থতমত।
এরকমই আরো দশ বা বারোটা প্রশ্ন ও উত্তরে,
মানুষ এবং মানুষের মাঝে আলাপেরা ঘোরে ফেরে।
তিন ভাষা বাদে উনিশ ভাষার দশটা এমন বাক্য শেখানো বই,
সিলেবাসে যোগ করা যদি যায়, ফাইভের থেকে টেনে,
হয়তো তাহলে আর ঘটবে না ভাষা নিয়ে হইচই,
উপরি পাওনা,
প্রতিটি প্রদেশে ছোটো থেকে শিশু ভারতকে তবে চেনে।
বিবিধের মাঝে শেখাবে মিলন সে একশো নব্বই,
কিন্তু ভাগেই যারা লাভবান, তারা কি নেবে তা মেনে?









