
কিশোর বেলায় আমরা যে মাঠে দাপিয়ে বেড়াতাম সেই ধাড়া বাবুর মাঠ’ এর পশ্চিম প্রান্ত ঘেঁষে এক পেল্লায় লম্বা একঠেঙে তালগাছ ছিল। সেই গাছের ঝাঁকড়া মাথা থেকে উল্টনো কলসির মতো দেখতে বাবুই পাখির বাসা দুলতো বাতাসের দোদুলছন্দে। খেলায় মেতে থাকার অবসরে আমরা সবাই ঘাড় উঁচু করে ওইসব বাসার উড়ন্ত আবাসিকদের নজরবন্দি করার চেষ্টা করতাম । গাছটা এতটাই উঁচু ছিল যে আমাদের কচি চোখে তা ঠিক ঠাহর করতে পারতাম না। এভাবেই চলছিল দিনগুলো।
বর্ষায় তেমন একটা সম্ভাবনা থাকলেও, শীতকালে সেই সম্ভাবনা যে নেই সেকথা তাঁকে বুঝিয়ে পারা যেত না। তালগাছের সঙ্গে বাবুই পাখি ও বজ্রপাতের একটা নিগূঢ় সম্পর্ক রয়েছে তা তখন থেকেই মাথায় যেন জেঁকে বসেছিল। তালগাছ ( Borassus flabellifer ) যে এক কার্যকর প্রাকৃতিক বজ্র শোষক সেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রথম পর্বের এই পরীক্ষামূলক পাইলট প্রজেক্টের জন্য অত্যন্ত বজ্রপাতপ্রবণ তিনটি জেলাকে বেছে নিয়ে স্কুল কলেজ হাসপাতালের আশপাশের এলাকাগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এই সব অঞ্চলে জনসমাগম বেশি হয় বলেই বিপদের ঝুঁকি অনেকাংশে বেশি। প্রাথমিকভাবে সাফল্য অর্জন করলে পরবর্তীতে এই কাজ রাজ্যের অন্যান্য বজ্রপাত প্রবণ এলাকাতেও সম্প্রসারিত করা হবে। প্রায় ১০০ ফিট উঁচু একটি তালগাছ তার শিকড় ছড়িয়ে দেয় অনেক দূর পর্যন্ত। এই কারণেই তা প্রাকৃতিক আর্থিং এর কাজ অন্যান্য গাছেদের থেকে অনেক ভালোভাবে করতে পারে। এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যের জন্য,তালগাছ বজ্রপাতের প্রাথমিক ধাক্কাটা অন্যদের থেকে আগেই সামলে নিয়ে কাছাকাছি থাকা মানুষের জীবনকে সুরক্ষিত রাখতে পারে। উপরন্তু তালগাছের শরীরে থাকা জল এবং রস ( sap ) বৈদ্যুতিক মোক্ষণকে (charge) দ্রুততার সঙ্গে মাটির গভীরে পাঠিয়ে দিতে পারে। এই বিশেষ গুণের অধিকারী বলেই তালগাছ নিয়ে তালমাতাল সকলেই।
এই ঘটনা কমানোর জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে খুব সুরাহা মিলবে না। চাই সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা।
তালগাছ লাগিয়ে এই সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা সাধুবাদ যোগ্য । অন্যের কথায় নেচে উচ্চমূল্যের প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা না ভেবে সরকার প্রাকৃতিক উপায়ে প্রাকৃতিক ঘটনাকে প্রশমিত করার কথা ভাবছেন। এই গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ খুব জরুরি। আগামী দিনে এই গাছগুলো যখন পূর্ণ বয়স্ক হবে তখন বজ্রপাতের ঘটনাকে নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি খুলে যাবে অনেক অনেক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। আমরা সবাই সেই সুদিনের অপেক্ষায় থাকবো।
নভেম্বর ২৫. ২০২৫













এমন বিষয় নিয়ে ডাক্তারবাবুদের পত্রিকার লেখালেখি হবে ভাবিনি। এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই। বিষয় ভাবনার বিচারেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি লেখা। ধন্যবাদ সকলকে।
ধন্যবাদ। মতামত জানানোর জন্য। তালগাছের গুণ কীর্তন করায় অবাক হবার কিছু নেই। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অথচ এককথায় উপেক্ষিত। তালগাছ ব্যয়বহুল যান্ত্রিক বজ্রশোষকের তুলনায় কোনো অংশেই কম কার্যকর হবেনা বলেই আমার বিশ্বাস।
Otyonto proyojon eii prokolpo!
Sarkarer eii shiddhanto ke shadhubad janai.