আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, বিপদের দিনে যে মানুষগুলো পাশে এসে দাঁড়ায় তাঁরা ধোপদুরস্ত গোছানো উচ্চপ্রতিষ্ঠিত মানুষ কমই হয়। তারা ঈষৎ আবেগপ্রবণ, জেদী, ঈষৎ তারকাটা হয়। প্রলয় ছিলো এরকম একজন মানুষ।
বাংলার গোয়েন্দাদের ওপর একটি মোটা বই লিখেছিল। ডাক্তারদের আন্দোলন বা অভয়া আন্দোলনে কোন কর্মসূচি মিস করতো না।
অন্যায়ের অবিচারের প্রতিবাদে সবার আগে এগিয়ে। নিজের স্বাস্থ্যের খোঁজ যে রাখতো না সেতো বোঝাই যাচ্ছে।
এই লেখাটা প্রলয় লিখেছিলো
হাসপাতাল বন্ধ নেই,
নবজাতকের কাছে আছে আমাদের অঙ্গীকার
———————————————————–
“প্রাণ আছে, প্রাণ আছে, এখনো আশা আছে”
হ্যাঁ, এখনো প্রাণ আছে।
এখনো লড়াই আছে।
এখনো বেঁচে আছি।
না, এ লড়াই কোন ৯২০ গ্রামের নবজাতকের বিরুদ্ধে নয়,
এ লড়াই কোন শিশুর বিরুদ্ধে নয়,
এ লড়াই কোন রোগীর বিরুদ্ধেই নয়।
এ লড়াই, মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে।
এ লড়াই, অপশাসনের বিরুদ্ধে।
এ লড়াই, অপ্রতুলতার বিরুদ্ধে।
এ লড়াই, সুরক্ষার জন্যে।
এ লড়াই, স্বাস্থ্যের জন্যে।
এ লড়াই, সমাজের জন্যে।

এই যে বাচ্চাটার ছবিটা, সে ভর্তি হয়েছে আমাদের ‘ছুটি’র সময়। এই লড়াইয়ে সামিল এই শিশুটিও।
কেন এই অপ্রতুলতার মধ্যে তাকে লড়াই করতে হবে?
কেন বেঁচে থাকার জন্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি পাওয়া যাবে না?
কেন তাকে অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হবে?
ভগবান আমরা নই।
ভগবান হতে চাইও না।
আমরা মানুষ হিসাবে বেঁচে থাকার অধিকারটুকু চাই।
_______________________________________
প্রলয় চলে গেছে আমাদের ছেড়ে।♦
পাশে দাঁড়ানোর আরেকজন মানুষ চলে গেলো










