গত ৭ ই জুন সোদপুর ট্রাফিক মোড়ে অনুষ্ঠিত হল এক প্রতিবাদ সভা- ধ্বনিত হল ন্যায় বিচারের অগ্নি গর্জন। আর জি কর হাসপাতালে হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং নৃশংস হত্যার পর কেটে গেছে প্রায় দশ মাস।এখনও বিচার পেতে পেরোতে হবে ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার’। হতাশার মেঘ গ্রাস করছে রাজ্যের বহু মানুষ কে। এই আশাহীনতার অন্ধকারে রাতদখলের দিন ফিরিয়ে আনার জন্য ‘সোদপুর প্রতিবাদের উৎশব’ আয়োজন করেছিল এই প্রতিবাদী জমায়েত- গানে, কবিতায়, বক্তৃতায় মুখর হয়ে উঠল সোদপুরের সন্ধ্যা।
‘বাঁধ ভেঙ্গে দাও’ গানটি গেয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন মিতা চক্রবর্তী । বক্তব্য রাখেন ডঃ পুণ্যব্রত গুণ, ডঃ তমোনাশ চৌধুরী, ডঃ হীরালাল কোনার, আইনজীবী ফিরদৌস সামিম, শিক্ষিকা গার্গী রায়, অধ্যাপক চঞ্চল চক্রবর্তী, অধ্যাপিকা গোপা মুখার্জি এবং সোদপুর প্রতিবাদী ঐক্য মঞ্চের পক্ষ থেকে উমা।
বিচারের প্রহসন এর বিরুদ্ধে ডঃ তরুণ কান্তি কর পরিবেশন করেন ‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে এই জনতা ‘। প্রতিবাদের গান শোনান অর্ণব।
কবি শঙ্খ ঘোষের কাল জয়ী কবিতা ‘যমুনাবতী সরস্বতী’র সঙ্গীত রূপ পরিবেশন করেন অরিজিৎ- নিভন্ত এই চুল্লি তে মা এক্টু আগুন দে’ । সত্যি ই আগুন জ্বলে ওঠে ডঃ শতাব্দী মিত্রর অনন্য আবৃত্তি পরিবেশনায়। কাজী নজ্রুল ইসলামের বহুশ্রুত ‘আমার কৈফিয়ৎ’ কবিতার শেষে আবৃত্তিকার যখন বলেন- ‘যারা কেড়ে খায় তেত্রিশকোটি মুখের গ্রাস/ যেন লেখা হয় আমার রক্ত-লেখায় তাদের সর্বনাশ’, উপস্থিত শ্রোতাদের শিহরণ লাগে, সকলের সম্মিলিত ক্রোধে অগ্নি আখরে লেখা হয় সমস্ত অভয়া র ধর্ষক ও খুনি দের সর্বনাশ ।
এই অনুষ্ঠানে বিগত ১০ মাসের আন্দোলন নিয়ে দুটি ভিডিও দেখানো হয়।
প্রথম ভিডিও কলকাতার আন্দোলন আর দ্বিতীয় ভিডিও পানিহাটি এবং সোদপুর সংলগ্ন অঞ্চলের আন্দোলন নিয়ে।
২৫ জন অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় খাতা, বোর্ড এবং পেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ৩০ মিনিট এর জন্য সোদপুর ট্রাফিক মোড়ে রাস্তা দখল করে সিবিআই এর কুশপুত্তলিকা দহন করা হয়।
অন্য সব অনুষ্ঠানের মত শ্লোগানে মুখর ছিল এই প্রতিবাদ সভা। অভয়া মঞ্চের অন্যতম আহবায়ক মণীষা আদকের নেতৃত্বে শ্লোগানে অংশ গ্রহণ করেন স্থানীয় মানুষ এবং অভয়া মঞ্চের সদস্যরা।










