এখন শরতের রোদ বড়ো কোমল। মায়ের স্পর্শের মতো মৃদু।
বয়ে চলছে সময়,
পাখি,আকাশ নদী
আর মানুষ
এক মন্ডপ থেকে
অন্য এক মন্ডপে।
তবুও ভালো তো লাগে না কেন কিছুই?
আগেই তো ভালো ছিলাম। নতমুখে মেনে নিতাম। সব কিছু-ন্যায় অন্যায়। প্রশ্নহীন আতঙ্কের আনুগত্যে।
এ আমার কী হোলো?
সব সময় এতো প্রশ্ন কেন জাগে?
মা তোকে লক্ষ কোটি টাকার সোনার গয়নায় সাজাচ্ছি।
আমার ঘরে কি একটা টুকরো সোনা নিয়ে যাবো? আমার মায়ের গায়ে যে একটুও সোনা নেই।
একটা মস্তো বড়ো মন্ডপের সামনে দাঁড়াই। সমগ্র আকাশ জুড়ে তারা হয়ে আছিস। আকাশ জুড়ে তোর নিঃশব্দ তর্জনি কেন মা?
সকালের সবজিওয়ালাটার কথা ভেবে? দু হাজার টাকা চাঁদা ‘কেটেছে’। নৈলে দোকান তুলে দেবে। চাঁদা তুললেও বুঝি কমিশন আছে?
নিজেকে আদিগন্ত রোদ্দুরে মেলে ধরেছি, এখন আর পুড়ে যাওয়ার ভয় নেই। বিরহিত দগ্ধতায় পুড়েছে আমার মা,আমার সন্তান।
বড়ো মন্ডপের রঙিন আলোর মধ্যেও আকাশের ঐ একটা তারা উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে। এক বৃদ্ধ বসে আছে মাটির মূর্তির সামনে।
এবার আবার কী বলে ঐ নিঃশব্দ তর্জনী?
কান পেতে শুনি।
সকল আলোর ঝাড়বাতি থেকে উৎসারিত হয় কৃষ্ণবর্ণ অন্ধকারময় আলো। এ পুজো কি লুকোনো সম্পদের, কালো টাকার?
তাই এ আলো এতোটাই কালো?
বৃদ্ধটির গেছে বুঝি সর্বস্ব
চুরি কারো হাতে-
তারই উচ্ছিষ্ট দিয়ে বুঝি এই পুজো? তাই এই তর্জনী এই রাতে ?
কোথায় পাবো ভালবাসায় গমগম করা সেই পুজো?
এখন এক নক্ষত্ররমণীর ঝরে পড়া অশ্রু রক্ত বুঝি শিশির হয়ে উঠেছে শরতের সবুজ ঘাসে?
সবুজ বুঝি এতোটাই রক্তলাল হয়ে ওঠে?
রক্তের আলতা পরে রক্ত অলক্তক মা বুঝি এ পথে আসতে পারে?
হে নক্ষত্ররমণী, হে শূন্যতা শাসিত বাতাস চলো প্রতিটি অন্ধকারে জ্বালি মাটির প্রদীপ।
এসো খুঁজি সেই নিভৃত পুজোর অঙ্গন-তিলোত্তমা মা নিঃশব্দ চরণে যেখানে আসবে।পবিত্র সে প্রসাদের জন্য তেরো নদী পার হয়েছি। এবার তাকে পেতেই হবে।
হাত যদি রাখো হাতে
আমি আর ভয় পাবো না।
খুঁজতে চলে যাবো সেই পুজো,
যেখানে একটা গাছ কিম্বা পাখিও বলবে জীবনের গল্প।











