সত্যজিৎ রায়ের তিনটি ছবিকে “ক্যালকাটা ট্রিলজি” হিসেবে অভিহিত করেছিলেন তৎকালীন ফিল্ম সমালোচকেরা — প্রতিদ্বন্দ্বী(১৯৭০), সীমাবদ্ধ(১৯৭১) এবং জন অরণ্য(১৯৭৬)।
আজ ইউ টিউবে তিনটি ছবি ফিরে দেখলাম। আমি সমালোচক নই, বিদগ্ধ দর্শকও নই — নিতান্ত মধ্যমেধার সাধারণ সত্যজিৎ অনুরাগী হিসেবে কয়েকটা কথা মনে হলো। লিখছি। বন্ধুদের মতামত পেলে ভাল লাগবে।
ছবি হিসেবে সবচেয়ে শক্তিশালী লেগেছে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’কে। নির্মেদ, নিরাবেগ, যথাযথ। অস্থির সময়ে মেধাবী, মধ্যবিত্ত নাগরিকের অসহায়তা, সিস্টেমের নাগপাশে বন্দি হয়ে থাকা চাকরির বাজার, তার নিয়ামকদের ক্লিশে চিন্তাভাবনা আর নগরজীবনের সাধারণ মূল্যবোধের শিকড়ে প্রথম পচন ধরার নির্ভুল দুর্গন্ধ ছড়িয়ে রয়েছে সারা ছবিতে।

এই ২০২৫ সালে বসে ‘সীমাবদ্ধ’ ছবির কর্পোরেট শয়তানি, লোভের পায়ে উজ্জ্বল নায়কের ‘বিকিয়ে যাওয়া’ ততটা দাগ কাটে না আর — আরও সূক্ষ্ম, আরও subtle, আরও বিচিত্র নষ্টামি দেখতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি বাজার অর্থনীতিতে।

‘জন অরণ্য’ গল্প হিসেবে দুর্বল লেগেছে চিরকালই। তবু, অভিনয়ের জোরে বসে থাকতে হয়, দেখতে হয় শেষ পর্যন্ত।

অবাক লাগে, ‘ক্যালকাটা ট্রিলজি’ হিসেবে কেবল এই তিনটি ছবির অন্তর্ভুক্তি নিয়ে। কেন এই তিনটি? এই তিনটিই? Essentially urban বলে? গ্র্যাণ্ড, রেসকোর্স, কলেজ স্ট্রিট আর বালিগঞ্জ পাড়া দেখানো হয়েছে বলে?
‘পরশপাথরে’র কলকাতা তাই সমালোচকের চোখে ব্রাত্য?
বেশ, তা না হয় হলো।
এই তিনটি ছবির চেয়ে শতগুণে বেশি ভাললাগা ছবিটি কি দোষ করল? ‘মহানগর’?
শুধুই একজন মেয়ের identity, আত্মবিশ্বাস খুঁজে পাওয়ার কাহিনী সেটা? কলকাতা সেখানে অন্যতম চরিত্র নয় বুঝি?
অবিশ্যি আমি গোদা মধ্যমেধার দর্শক মাত্র, আমি কতটুকুই বা বুঝি? বুঝবেন অ্যাণ্ড্রু রবিনসনের মতো বাঘা ফিল্ম ক্রিটিকরা — সত্যজিৎবাবুর ছবির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার করা যাঁর বই The inner eye তে ‘গুগাবাবা’ আর ‘হীরক রাজার দেশে’ ছবির আলোচনামূলক পরিচ্ছেদটির নাম – The musicals!












আমি রোজ পড়ি ডক্টরস ডায়মন্ড আজও পড়লাম তিনটি ছবির নাম দেখেই মহানগরীর কথা মনে পড়লো ।তার পরেই চোখে পড়লো আপনিও লিখেছেন মহানগরীর নাম নেই কেন । মহানগরীর যত বারই দেখি কোথাও যেন নিজেকে খুঁজে পাই। সাধারণ থেকে ঘোসেমেজে নিজেকে তৈরি করেছি।মাল্ট লেভেল মার্কেটিং আছি।আপনার লেখা খুব ভালো লাগল