একটি মেয়ের ধর্ষণ হলো।
কবি আঁতকে উঠে কলম ধরলেন,
প্রতিবাদ ফুলকির মতো শব্দ তৈরি শুরু করলো। এরপর মশাল, তারপর দাবানল..
কবির স্বপ্নের খোয়ারি ক্রীইইইং করে ভাঙালো একটা ফোনকল,
যিনি করেছেন তাঁর দল দেশের শাসক,
নামকরা বিরোধীনাশক,
হ্যালো বলার পরেই চেনা বাজখাঁই গলা শোনা গেলো,
‘নির্ঘাত ঘটনাটা নিয়ে লিখছিলে,
খবর আছে তুমি যাবে বলেছো মিছিলে..’
‘আজ্ঞে? ‘
কবি কাঁপা বললেন কম্পিত স্বরে,
মানে আপনি কী করে…
হো হো হেসে বাজখাঁই বললেন, ‘সবই রাখি হে নজরে, যাক গে শোনো, ব্যাপারটা নিয়ে করলে জল ঘোলা,
বিরোধীরা খাল পাবে খোলা,
নিশ্চিত চাও না দেখি তোমাকে সে কুমীরের ভিড়ে?
জানোই তো, কবিতা বুলেটের মতো,
একবার বের হলে আসবে না ফিরে,
ওদের শ্লোগান আর গানে সেটা বারুদের জোগান দেবে..
তাই যা করছো কোরো ভেবে,
পাকা হওয়া দরকার এসব হিসেবে।’
কলমের সামনে খোলা খাতা,
আর ফোনে বকলমে ভাতা-দাতা,
হৃদয় বনাম মাথা দ্বৈরথে কে জিতলো, বলাই বাহুল্য,
কলম ধর্ষিতাকে ভুললো,
তার বদলে তৈরি হলো
বৃষ্টিকালীন বিরহের চমৎকার বর্ষামঙ্গল কাব্য,
বড় ও বিখ্যাত তিনখানা পত্রিকা হামলে পড়ে বললো,
‘ছাপবো!’
কবি সে বছর সেরা কবির সরকারি শিরোপা পেলেন।
মঞ্চে যখন সেই পুরস্কারের চেক নিচ্ছিলেন,
তখন সামনের আঁধার থেকে কে যেন
‘ছিঃ’ বলে চেঁচিয়ে উঠলো বেশ জোরে।
আর অমনি স্টেজের ওপর রাখা মস্ত রবীন্দ্রনাথের ছবিটি পড়ে গেলো দুম করে,
একটা কাচের টুকরো ছিটকে কবি’র হাতে বিঁধে গেলো..
ঠিক লেখার হাতটার বুড়ো আঙুলের ওপরে।











