আমরা কি অতিমাত্রায় অসহিষ্ণু হয়ে পড়ছি? প্রতিবেশীর ভাল থাকা, আত্মীয়-পরিজনের উন্নতি, বন্ধুবান্ধবের আনন্দের মুহূর্তযাপনের ছবি — কিছুই সহ্য হচ্ছে না?
নাকি আমরা অতিমাত্রায় সহনশীল হয়ে উঠছি? প্রশাসনিক নৈরাজ্য, ধর্মের নামে হানাহানি, মূল্যবোধের নিত্য অবক্ষয় কিছুই তেমন আঁচড় কাটতে পারছে না আমাদের মনে? ‘ও তো হবেই — সময়ের ফসল’, এইসব ন্যাকা লব্জ আউড়ে, বিবেককে ট্রাংকুলাইজার দিয়ে শান্তির ঘুম পাড়িয়ে,’সিস্টেম’ নামক একটা সর্বঘটের বিল্বপত্রকে চাঁদমারি করে যথেচ্ছ তোপ দাগছি — সে-ই নাকি দোষী, তার জন্যই এত সার্বিক অধঃপতন — দেশের, জাতির, জননেতার, সাধারণ নাগরিকের।
কে জানে, কোনটা সত্যি!
আজ দু’টি অভাবনীয় মৃত্যুর সংবাদ এসে আছড়ে পড়েছে চৌকাঠে। প্রথমজন আমার সমাজমাধ্যমের এক অদেখা বান্ধবীর স্বামী। মাত্র সপ্তাহ তিন-চারের অসুস্থতার শেষে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফেরার পরে আচমকা লড়াই থামিয়ে অনন্তযাত্রাপথে পাড়ি জমিয়েছেন সব ফেলে।
দ্বিতীয় জন সমপেশার এক আপসহীন সৈনিক — নামে চিনতাম তাঁকে। হঠাৎই (কিংবা তত হঠাৎ নয়) যাঁর বাঁচতে আর ভাল লাগেনি — তাই মাঝপথেই নেমে পড়েছেন ট্রেন থেকে, নির্দিষ্ট গন্তব্যের ঢের আগে — স্বেচ্ছায়।
আমার আকাশ রোজ একটু একটু করে কৃষ্ণতর হয়ে ওঠে। অর্থহীন শব্দেরা মাছির মতো ভনভন করে চারপাশে। কীর্তিনাশা জীবননদী স্বস্তি, আরোগ্য সব গ্রাস করে আপন ছন্দে ছুটে চলে দিগন্তহীন, সর্বনাশা কালসমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়বে বলে।
আমার শুধু মনে হতে থাকে, অনেক তো হলো পক্ষ তৈরি করে করে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা — এবার ক্ষান্ত দিক না মানুষ!
সক্কলের দোষ ধরতে ধরতে, সবসময় অন্যের সঙ্গে তুলনা করতে করতে, উচ্চতম তল বিহীন গজদন্তমিনারে অক্লান্তভাবে চড়তে চড়তে শ্রান্তি আসে না, মানুষ?
চাওয়া, আরও চাওয়া, আরও আরও পাওয়া — তোমার সন্তুষ্টি নেই, মানুষ?









