Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

মেন্ডেল পুনরাবিষ্কার

images (4)
Dr. Bishan Basu

Dr. Bishan Basu

Cancer specialist
My Other Posts
  • July 23, 2021
  • 8:45 am
  • One Comment

দ্বিশতবার্ষিকীতে ফিরে দেখা প্রসঙ্গে মেন্ডেলকে নিয়ে একখানা লেখা পোস্ট করেছিলাম।

যথেষ্ট বড় সে লেখা। ফেসবুকের নিরিখে অতিদীর্ঘ, সম্ভবত।

কিন্তু, এও অনস্বীকার্য, গ্রেগর যোহান মেন্ডেল বা তাঁর তত্ত্ব জীবদ্দশায় ন্যূনতম স্বীকৃতিও পাননি। মৃত্যুর কয়েক দশক বাদে সেই স্বীকৃতি এলো কোন পথে, সেই গল্প জানার সাথে আধুনিক জীবনবিজ্ঞানের সূচনালগ্ন বা ধারাবদলের ইতিহাস অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত।

তাই, সেই অংশও জুড়ে দিলাম। পৃথক পোস্ট হিসেবে।

মেন্ডেল পুনরাবিষ্কার

মেন্ডেলের গবেষণা অনাবিষ্কৃত থেকে যাওয়াটা যুগপৎ আশ্চর্যের এবং দুর্ভাগ্যজনক। আশ্চর্যের, কেননা ১৮৫৮ সালেই চার্লস ডারউইন প্রকাশ্যে এনেছেন তাঁর বিবর্তনের তত্ত্ব – ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত হয়েছে জীববিদ্যার ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বই, অন দ্য ওরিজিন অফ স্পিসিস বাই মিনস অফ ন্যাচারাল সিলেকশন। প্রজাতির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ঠিক কেমন করে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সংবাহিত হয়, বিশেষত প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে কীভাবে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য রক্ষিত হয়, সে বিষয়ে ধারণা না করা গেলে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য রক্ষা করতে করতেই একটি প্রজাতি দীর্ঘসময় অতিক্রম করে কেমন করে আরেকটি প্রজাতিতে বিবর্তিত হয়, সে তত্ত্ব দাঁড় করানো মুশকিল। নিজের তত্ত্বের এই অসম্পূর্ণতা বিষয়ে ডারউইন স্বয়ং ওয়াকিবহাল ছিলেন না, এমন নয় – কিন্তু, তত্ত্বের সে খামতি তিনি মেটাতে পারেননি। অথচ, মেন্ডেল-বর্ণিত বংশগতির সূত্রের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল সমাধান – আরো আশ্চর্যের বিষয়, ডারউইনের লাইব্রেরিতেই ছিল জার্নালের সেই সংখ্যা, যার মধ্যে মেন্ডেলের গবেষণাপত্রটি – কিন্তু সেই জার্নালে মেন্ডেলের গবেষণাপত্রের আগের এবং পরের আর্টিকলগুলো পড়ে দেখলেও ডারউইন মেন্ডেলের লেখাটি পড়ে দেখেছিলেন, এমন প্রমাণ নেই।

বিবর্তন ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত বংশগতির ধারাকে ব্যাখ্যা করতে ডারউইন আনেন জেমিউলস-এর ধারণা। জেমিউলস, যা কিনা শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে উৎসারিত নির্যাসের মতো বস্তু এবং যে নির্যাস রূপান্তরিত হবে শুক্রে – অনুরূপ জেমিউলস থাকবে নারীর ক্ষেত্রেও – অপত্যের দেহে সংবাহিত হবে দুই জেমিউলস-এর মিলনের ফলে উৎপন্ন মাঝামাঝি বৈশিষ্ট্যাবলী। বংশগতি বিষয়ে ডারউইন তাঁর তত্ত্ব প্রকাশ্যে আনেন ১৮৬৭ সালে – মনে করিয়ে দিই, মেন্ডেল মটরগাছের ‘পরে পরীক্ষা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছান এর দুবছর আগেই এবং মেন্ডেল পরীক্ষা করে জানিয়েছিলেন, অপত্যের ক্ষেত্রে মাঝামাঝি বৈশিষ্ট্য সংবাহিত হয়, এমন নয়। বংশগতির ক্ষেত্রে, ডারউইনের তত্ত্ব মেনে, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য রক্ষিত হওয়ার কোনো ব্যবস্থা যদি না-ই থাকে – এমন করে পরবর্তী প্রজন্ম পিতা-মাতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মাঝামাঝি ধর্ম পেতে থাকলে – কয়েকটি প্রজন্ম বাদে বংশগত বৈশিষ্ট্য, এবং অতএব জীবজগতের বৈচিত্র‍্যও, সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক – এবং দুনিয়াজুড়ে একই প্রজাতির ক্ষেত্রে সম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই সর্বময় হয়ে দাঁড়াবে, তাই না? অথচ তেমনটি তো হয় না। তাহলে?

বিষয়টা নিয়ে ভাবছিলেন ডারউইনের অনুগামী ওলন্দাজ উদ্ভিদবিজ্ঞানী, হুগো দি ভ্রিস-ও। তিনি বেছে নিলেন বিভিন্ন উদ্ভিদের কিছু কিছু আজব ও ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যকে – অর্থাৎ এমন কিছু বৈশিষ্ট্য, যা কিনা সেই প্রজাতির উদ্ভিদে খুব একটা পাওয়া যায় না। এবার সেই ব্যতিক্রমী গুণাবলী-সম্পন্ন উদ্ভিদের সাথে সাধারণ ও স্বাভাবিক আরেকটি গাছের প্রজনন ঘটালেন। দেখা গেল, ব্যতিক্রমী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো মোটেই মিলেমিশে লঘু আকারে পরের প্রজন্মে প্রকাশিত হচ্ছে না – হয় পুরোপুরি প্রকাশিত হচ্ছে, নচেৎ একেবারেই হারিয়ে যাচ্ছে। ১৮৯৭ সালে ডি ভ্রিস বিশ্বকে জানালেন তাঁর তত্ত্ব – প্রজাতির একেকটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণ, কোষে থাকা একটি ক্ষুদ্র কণা – ডি ভ্রিস যার নাম দিলেন প্যানজিন। একেকটি বৈশিষ্ট্যের জন্যে দায়ী একেকটি প্যানজিন – অর্থাৎ একজোড়া প্যানজিন – কেননা, একটি বৈশিষ্ট্যের জন্যে প্রতি কোষে থাকে দুটি প্যানজিন, একটি আসে বাবার কাছ থেকে, আরেকটি মায়ের সুবাদে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বৈশিষ্ট্য মিলেমিশে যায় না – এবং প্রকাশ পাক বা না পাক, বংশগতির সুবাদে প্রবাহিত তথ্য হারিয়ে যায় না কখনোই। প্যানজিন নামকরণের অংশ বাদ দিলে এই তত্ত্ব একেবারেই মেন্ডেলের তত্ত্বের পুনরাবিষ্কার – এবং সত্যিসত্যিই ডি ভ্রিস, সেই সময় অব্দি, মেন্ডেল বিষয়ে কিছুই জানতেন না। জানতে জানতে গড়িয়ে যাবে আরো কয়েকটা বছর।

১৯০০ সালে ডি ভ্রিস-এর বন্ধু তাঁকে একখানা চিঠি পাঠালেন, সাথে সাড়ে তিন দশক প্রাচীন এক গবেষণাপত্র – চিঠিতে লেখা, তুমি তো গাছপালার প্রজনন বংশগতি নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করছ, দ্যাখো, জনৈক মেন্ডেলের এই পেপারখানা যদি ইন্টারেস্টিং বলে মনে হয়। ইন্টারেস্টিং!!! একেবারে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন ডি ভ্রিস। তবে, তাঁর নিজেরই ভাষায়, বিনয় বা সৌজন্য খুবই ভালো গুণ, কিন্তু ওই গুণ না থাকলে জীবনে বেশী উন্নতি করা যায়। অতএব, ওই ১৯০০ সালেই ডি ভ্রিস-এর যে পেপারটি প্রকাশিত হলো, সেখানে জনৈক মেন্ডেলের প্রসঙ্গ অনুল্লেখিত রইল।

স্বাভাবিকভাবেই, গ্রেগর জোহান মেন্ডেল নাম হিসেবে অনাবিষ্কৃতই রয়ে যেতেন – কিন্তু ডি ভ্রিস-এর গবেষণা মেন্ডেলের পরীক্ষালব্ধ সূত্রগুলিকে পুনরায় আলোচনায় এনে ফেলল। একইসময়, প্রায় কাকতালীয়ভাবেই, মেন্ডেলের গবেষণা ইউরোপে আরো তিনজন বিজ্ঞানীর চোখে পড়ল। তাঁরাও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কীভাবে এক প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্মে প্রবাহিত হয়, সে নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করছিলেন এবং পুরোনো গবেষণার খবর খুঁজতে খুঁজতে মেন্ডেলের পরীক্ষার হদিশ পেয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে একজন, কার্ল করেন্স, ছিলেন বিখ্যাত সুইস উদ্ভিদবিজ্ঞানী কার্ল ভন নাগেলির ছাত্র। হ্যাঁ, সেই কার্ল ভন নাগেলি, যাঁকে কিনা মেন্ডেল নিজের গবেষণাপত্রটি পাঠিয়ে মতামত জানতে চেয়েছিলেন, কিন্তু যিনি একেবারেই পাত্তা দেননি। স্বাভাবিকভাবেই, নাগেলি নিজের ছাত্রের কাছেও মেন্ডেলের কথা জানানোর প্রয়োজনবোধ করেননি। করেন্স মটরগাছ ও ভুট্টাগাছের প্রজনন ও সঙ্কর বিষয়ে নিজের গবেষণার সুবাদে, প্রায় আচমকাই, জানতে পেরেছিলেন মেন্ডেলের পরীক্ষা ও সিদ্ধান্তের কথা। অতএব, কার্ল করেন্স যখন জানতে পারলেন ডি ভ্রিস-এর গবেষণার খবর – যে গবেষণা ও তার ফলাফল সাড়ে তিন দশক আগেকার মেন্ডেলের পরীক্ষার প্রায় অনুরূপ, অথচ রেফারেন্স হিসেবে মেন্ডেলের গবেষণাপত্রের উল্লেখটুকুও নেই – তখন তিনি আর চুপ থাকতে পারলেন না। রীতিমতো শ্লেষের সাথে বললেন, খুবই আশ্চর্য সমাপতন বলতে হবে, ডি ভ্রিস-এর গবেষণাপত্রে মেন্ডেলের বিষয় তো বটেই, তাঁর ভাষার ছায়াটি অব্দি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু তাঁর নামটি অনুপস্থিত!! ডি ভ্রিস অবশ্য বিজ্ঞানী হিসেবে অসৎ ছিলেন না – একথা মাথায় রাখতে হবে, তিনি রীতিমতো পরীক্ষানিরীক্ষার শেষে যখন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন, তখনও অব্দি তিনি মেন্ডেলের নামটুকুও শোনেননি। গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের গবেষণাপত্র তাঁর হাতে আসে তার পরে। এবং এত বছরের শ্রমের শেষে নিজের মতো করে পাওয়া সিদ্ধান্তের কৃতিত্বের ভাগ বিগত যুগের এক অপরিচিত নিভৃতবাসী সন্ন্যাসীকে দিতে তাঁর মন চায়নি। কিন্তু, করেন্স-এর বাক্যবাণে তাঁরও বোধোদয় হলো – পরের সংস্করণে গবেষণাপত্রের রেফারেন্সে তিনি মেন্ডেলের নাম জুড়ে নিলেন।

মেন্ডেলের পথ ধরে মেন্ডেলের সিদ্ধান্তে পৌঁছালেও, ডি ভ্রিস তাঁর পরবর্তী গবেষণায় মেন্ডেলকে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছিলেন। চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বংশগতির ধারা মেনে কীভাবে পরবর্তী প্রজন্মে সংবাহিত হয়, সেই প্রশ্নের সাথে সাথে তিনি তুলেছিলেন আরো বুনিয়াদি একটি প্রশ্ন। যে বৈশিষ্ট্যটি পরের প্রজন্মে সংবাহিত হবে কি হবে না, সে নিয়ে আমরা এত ভাবছি – কিন্তু, সেই নতুন বা ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য প্রজাতির মধ্যে এলো কী করে? একই প্রজাতির মধ্যে কোনো গাছ লম্বা আর কোনো গাছ বেঁটে, কোনো গাছের ফুল সাদা আর কোনোটির রঙ বেগুনি – এবং এই প্রতিটি ধর্মই পরবর্তী প্রজন্মে সংবহনযোগ্য – এই বিভিন্নতা এলো কোন পথে? আর সব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই যে প্রজাতি আদিকাল থেকেই পেয়ে আসে, এমনও তো নয়। সময়ের সাথে সাথে নিত্যনতুন বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয়, যে বৈশিষ্ট্য ক্ষেত্রবিশেষে পরবর্তী প্রজন্মে সংবাহিতও হয়। ব্যতিক্রমী বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য দীর্ঘসময় যাবৎ পর্যবেক্ষণ করে ডি ভ্রিস সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন – প্রাকৃতিক নিয়মেই এমন বৈশিষ্ট্য প্রজাতি অর্জন করতে পারছে। এমন বৈশিষ্ট্যের তিনি নাম দিলেন – মিউট্যান্ট – অর্থাৎ পরিবর্তিত। এই একটি পর্যবেক্ষণের মধ্যে দিয়েই ডি ভ্রিস জিনতত্ত্ব এবং ডারউইনের বিবর্তনবাদকে একই সূত্রে বেঁধে ফেললেন। সময়ের সাথে সাথে প্রকৃতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার স্বার্থে, নিজের উত্তরাধিকার পরবর্তী প্রজন্মে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখতে বংশগতির যে মূল বাহক, তার মধ্যে পরিবর্তন আসে – পরবর্তী গবেষণা আমাদের জানাবে, এই বদল ঘটে প্রজাতির জিনগত গঠনে, অর্থাৎ জিনোটাইপে – তারই নাম মিউটেশন। না, বিবর্তনের নিয়ম বিশেষ কিছু জিন-কে আলাদা করে সুনজরে দেখে, এমন নয় – বিবর্তনের ধারা বাছে বিশেষ কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বা প্রজাতির বহিরঙ্গের বিশেষ কিছু ধর্ম – অর্থাৎ, ফেনোটাইপ। ফেনোটাইপের পেছনে পরিবেশ এবং অন্যান্য বিষয়ের সাথে সাথে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব প্রজাতির জিনগত গঠনের – অর্থাৎ জিনোটাইপের। অতএব, বিশেষ ফেনোটাইপ নির্বাচিত হওয়ার পথেই বিশেষ জিনের নির্বাচন ঘটে যায়। এমন করেই প্রজাতি নিজের জিনোটাইপে বদল এনে ফেলে – ঘটতে থাকে মিউটেশন। ডি ভ্রিস-এর সময়ে এত কথা জানার সুযোগ ছিল না। কিন্তু, বিবর্তনবাদের মূলে যে প্রজাতির ক্রমবিবর্তন এবং সেই ক্রমবিবর্তনের কারণ যে প্রজাতির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্রমিক বদল, যে বদল সংবাহিত হতে পারবে পরবর্তী প্রজন্মে – প্রকৃতির নিয়মেই ঘটতে থাকে মিউটেশন, আর ঠিক সেই মিউটেশনগুলিই নির্বাচিত হয়ে পরবর্তী প্রজন্মে সংবাহিত হবে, যেগুলো প্রজাতিটিকে আরো বেশী টিকে থাকার উপযুক্ত করে তুলতে পারবে। মিউটেশনের ধারণার সাহায্যে ডি ভ্রিস বিবর্তনবাদকে আরো দৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠা করে ফেললেন।

কিন্তু, আমরা তো মেন্ডেলের পরীক্ষানিরীক্ষার পুনরাবিষ্কারের কথা বলছিলাম। ১৯০০ সালের কাছাকাছি সময়ে একইসাথে তিনচারজন গবেষক নিজ নিজ পরীক্ষার মাধ্যমে মেন্ডেল-উপনীত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন, এবং তাঁদের গবেষণা ও সিদ্ধান্তের পেছনে রেফারেন্স ঘাঁটতে গিয়ে একটি দুষ্প্রাপ্য জার্নালে মেন্ডেলকে খুঁজে পেয়েছিলেন। তবু, মেন্ডেলের তত্ত্বের বিশ্বব্যাপী পুনরুত্থানের পেছনে কোনো একজনের নাম করতে হলে, সে মানুষটি কার্ল করেন্স বা ডি ভ্রিস নন – তিনি ব্রিটিশ বায়োলজিস্ট উইলিয়াম বেটসন।

লন্ডনে রয়াল হর্টিকালচারাল সোসাইটিতে বক্তৃতা দিতে যাওয়ার পথে ট্রেনে বসে তিনি পড়েন ডি ভ্রিস-এর পেপারটি (যে সংস্করণে মেন্ডেলের নাম রেফারেন্স হিসেবে ছিল)। সেদিনই বক্তৃতা দিতে গিয়ে এই তত্ত্বের কথা বারবার উল্লেখ করেন। গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেন, বংশগতির এই নবলব্ধ সূত্রের তাৎপর্য যে কতোখানি, সেটা এখুনি আমরা উপলব্ধিই করে উঠতে পারছি না। এই বক্তৃতার মাসতিনেকের মাথায়, ১৯০০ সালের অগাস্ট মাসে, তিনি বন্ধু ফ্রান্সিস গ্যালটন-কে চিঠি লিখে মেন্ডেলের পেপারটি পড়ে দেখতে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন। বলেন, বংশগতি বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু চিন্তার মধ্যে পড়বে এই গবেষণা এবং এ প্রায় অবিশ্বাস্য, যে, এমন একখানা গবেষণার কথা এত বছর ধামাচাপা পড়ে ছিল!! প্রসঙ্গক্রমে জানিয়ে রাখা যাক, এই ফ্রান্সিস গ্যালটন সম্পর্কে ছিলেন চার্লস ডারউইনের ভাই এবং এককথায় বহুমুখী জিনিয়াস। ইউজেনিক্স তথা বংশানুক্রমিক জাতিগত শ্রেষ্ঠতা, জিনগত উচ্চাবচ বিভাজনের তত্ত্বের (যে তত্ত্বের পথ ধরেই আসবে নাৎসি কনসেনট্রেশান ক্যাম্প ইহুদি-নিধন ইত্যাদি) অন্যতম প্রচারক হিসেবে তিনি কুখ্যাত হয়ে গেলেও রাশিবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক অবদান ছিল তাঁর – এমনকি ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেখে অপরাধী ধরার কার্যকরী ভাবনাটিও গ্যালটনের। কিন্তু, গ্যালটনকে আপাতত সরিয়ে রেখে বেটসনে ফিরি।

ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি তো বটেই, সাগর পার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েও উইলিয়াম বেটসন বক্তৃতা দিয়েছিলেন মেন্ডেলের তত্ত্ব ও বংশগতির ধারা নিয়ে। বিশ্বের দরবারে এক ভুলে যাওয়া অস্ট্রিয়ান সন্ন্যাসীর লুপ্ত মর্যাদা ফিরিয়ে দিলেন তিনি। বেটসন বুঝেছিলেন এই তত্ত্বের গুরুত্ব। কিন্তু, তত্ত্বটিকে জনপ্রিয় করতে হলে একখানা যুৎসই নাম তো জরুরী। ডি ভ্রিস-এর প্যানজিন ধরে নাম দেওয়াই যেত, প্যানজেনেটিক্স। কিন্তু, বেটসনের মনে ধরল না। অতএব, গ্রীক জেন্নো (genno), যার শব্দার্থ জন্ম দেওয়া, সেখান থেকে শব্দটি নিয়ে উইলিয়াম বেটসন জীববিদ্যার বংশগতি-চর্চার এই ধারার নাম দিলেন – জেনেটিক্স।

PrevPreviousহারাধনের পাঁচটি মেয়ে
Nextধুত্তেরিNext
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Partha Das
Partha Das
4 years ago

দারুন, দারুন লেখা।

0
Reply

সম্পর্কিত পোস্ট

বহ্নিশিখা প্রীতিলতা

May 5, 2026 No Comments

★বহ্নিশিখা প্রীতিলতা★ সুস্মিতা গুহ মজুমদার পৃষ্ঠা ৯৬ হার্ড বাইন্ডিং মূল্য ৯০ টাকা। ছাড় দিয়ে ৭০টাকা প্রণতি প্রকাশনী নতুন বছরে ছোটোদের হাতে তুলে দিন সবচেয়ে মূল্যবান

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর

May 5, 2026 1 Comment

যেহেতু পেশাপরিচয়ে আমি চিকিৎসক – এবং এমন চিকিৎসক যে সরকারী কর্মীও – তাই সরকারী স্বাস্থ্যপরিস্থিতিটাই সর্বপ্রথম নজরে আসে। দেখে যারপরনাই খুশী হলাম যে মাননীয়া মন্ত্রী

বাংলায় পালা বদল

May 5, 2026 No Comments

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলো। ১৫ বছরের মাথায় তৃণমূল কংগ্রেসকে সরিয়ে সরকার গঠনের দিকে এগোচ্ছে বিজেপি। বেশ কিছু সংস্থার এক্সিট পোলে বিশেষজ্ঞরা আগাম বার্তা দিলেও তাদের

লাখো সূর্য

May 4, 2026 No Comments

যতই কেন সমস্যাতে জর্জরিত হই তোমার কাছে জানু পেতে বসতে রাজি নই!! স্থির নিশ্চিত দৃপ্ত সূর্য আছে বুকের মাঝে তাহলে আর জানু পেতে ভিক্ষা কার

মহালয়া ২০৩০

May 4, 2026 No Comments

পুরোনো লেখা চুনকাম করা সাদামাটা দেওয়ালটার এবড়ো খেবড়ো গায়ে একটা ক্যালেন্ডারও দুলছে না। অবশ্য দোলবার মতো তেমন হাওয়াবাতাসও খেলে না এই বিশ ফুট বাই বিশ

সাম্প্রতিক পোস্ট

বহ্নিশিখা প্রীতিলতা

Dr. Aindril Bhowmik May 5, 2026

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর

Dr. Bishan Basu May 5, 2026

বাংলায় পালা বদল

Piyali Dey Biswas May 5, 2026

লাখো সূর্য

Shila Chakraborty May 4, 2026

মহালয়া ২০৩০

Dr. Sukanya Bandopadhyay May 4, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

620845
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]