Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

হাতে কলমে নদী পুনর্জীবন উদ্যোগ: প্রকৃত গঠনমূলক উন্নয়নের এক মহান কর্মযজ্ঞ

Screenshot_2026-02-06-23-50-28-32_680d03679600f7af0b4c700c6b270fe7
Bappaditya Roy

Bappaditya Roy

Doctor and Essayist
My Other Posts
  • February 7, 2026
  • 8:24 am
  • No Comments

কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ কিংবা শিল্পভিত্তিক নগরকেন্দ্রিক – বিশ্বের যে কোন সভ্যতা কোন না কোন নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। আবার কোন কারণে সেই নদী মাতৃকা শুকিয়ে মৃতা হয়ে গেলে অথবা তাঁকে শুকিয়ে বুজিয়ে ফেলে তাঁর মৃত্যু ঘটালে সংশ্লিষ্ট সভ্যতাও মৃতবৎসা অর্থাৎ সেটির বিনাশ ঘটে গিয়েছে। আমাদের দেশ ভারতের সুপ্রাচীন সভ্যতা গড়ে উঠেছিল সিন্ধু-গঙ্গা-যমুনা-ব্রহ্মপুত্র-নর্মদা-গোদাবরী-কৃষ্ণা-কাবেরী অববাহিকা জুড়ে বিস্তীর্ণ সমভূমিতে। আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের সভ্যতার বিস্তারও তিস্তা-মহানন্দা এবং ভাগীরথী-দামোদর অববাহিকা জুড়ে।

মানুষ কর্তৃক অন্তহীন লোভ ও ভোগ চরিতার্থ করতে ক্রমাগত সর্বব্যাপী পরিবেশ দূষণ (Extensive Environmental Pollution); মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন, রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ভারত, ইরান, ইজরায়েল, উত্তর কোরিয়া, পাকিস্তান সহ শক্তিধর শিল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলির লাগামহীন শিল্পৎপাদন, যুদ্ধাস্ত্র তৈরি, পারমাণবিক কর্মসূচি; দুনিয়া জুড়ে একের পর এক যুদ্ধ সংগঠন; জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuels) পোড়ানো বিমান – জাহাজ – যানবাহনের প্রয়োজনাতিরিক্ত ব্যবহার ইত্যাদি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) ও জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate Change) অন্যতম কারণ। ফলে বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর (Ozone Layer) ছিদ্র হয়ে অতিবেগুনি রশ্মি ও ভূপৃষ্ঠের বিষাক্ত গ্যাসগুলির (Greenhouse Gases) অতিরিক্ত নিঃসরণ এবং তাদের কুপ্রভাব ছাড়াও প্রকৃতিতে বরফ, জল ও বাষ্পের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মেরু বরফ গলে সমুদ্রতল বেড়ে যাচ্ছে, ঘটছে আল-নিনো (El – nino) সহ মারাত্মক সব ঘূর্ণিঝড়, সুনামি কিংবা মেরু ঘূর্ণাবর্ত (Polar Vortex), মারাত্মক সব তুষার ঝড়। আবার পাহাড় চূড়ার বরফ গলে, মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টি (Cloud Burst) হয়ে হড়কা বান (Flash Flood) সৃষ্টি হয়ে একদিকে যেমনি সব তছনছ করে দিচ্ছে, অন্যদিকে নদীগুলি শুকিয়ে গিয়ে মানুষের বাঁচার ন্যূনতম মিষ্টি জলটুকুরও (Fresh Water) অভাব ঘটছে। এর উপর আছে অতি উৎপাদন, অতি মুনাফা ইত্যাদির লক্ষ্যে নির্মাণ ও কুলাক লবি এবং বৃহৎ পুঁজি ও কর্পোরেটদের চাপে যত্রতত্র কংক্রিটের বিশাল, মাঝারি, ছোট – বাঁধ, ব্যারেজ, ব্রিজ, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি করে নদী গুলির স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ করা। ইচ্ছেমত পথ আগলিয়ে, খাল কেটে বা পাম্পে করে নদীগুলির স্বাভাবিক জলস্রোত সরিয়ে নিয়ে কৃষি, শিল্প, ভেড়ি, ইট ভাটা ইত্যাদি তৈরি। ইচ্ছেমত নদীর বুক থেকে বালি, পাথর তুলে নেওয়া। নদীর দুপাশের প্লাবন ভূমি (Catchment Area) ও বনাঞ্চল গ্রাস করে চাষ, নির্মাণ, নগরায়ন, খনি। নদীগুলিতে যাবতীয় বর্জ্য ফেলে দেওয়া। কোথাও কোথাও নির্মাণ ইত্যাদির স্বার্থে সম্পূর্ণ নদীগুলিকেই বুজিয়ে দেওয়া। পাশাপাশি বৃষ্টির মূল্যবান মিষ্টি জল ধরে না রেখে শুখা মরশুমে শক্তিশালী পাম্প দিয়ে অতি মূল্যবান সঞ্চিত ভূগর্ভস্থ জলটুকু (Ground Water) তুলে নিয়ে ভূ-জলস্তর (Water Table) ও ভূ-জলভাণ্ডার (Aquifer) ধ্বংস করে ফেলা। এরসঙ্গে অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়ন এবং প্রোমোটার – বিল্ডার – অসাধু রাজনীতিক দের যাবতীয় ছোট বড় প্রাকৃতিক জলাভূমি ও খাল গুলি বুজিয়ে ফেলে লাভজনক নির্মাণ।

সবমিলিয়ে নদী ও জলাশয় গুলি সব শুকিয়ে বা বুজে যাচ্ছে। মানুষ হারিয়ে ফেলছে বেঁচে থাকার প্রধান রসদ জল (মিষ্টি জল বা Fresh Water)। জলই যে জীবন। এর সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে সুপ্রাচীন উন্নত সুস্থায়ী পরিবেশ ও সমাজ বান্ধব কৃষি (Time tested, Sustainable, Environment – friendly, Inclusive Agriculture) এবং তাকে ঘিরে বৃহত্তর সামাজিক অর্থনীতি ও জীবনচক্র। হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের গ্রাম, শহর, সভ্যতা সব কিছু। শস্য শ্যামলা উপত্যকা হয়ে যাচ্ছে অনাবাদী ঊষর মরুভূমি (Inhabitable Arid Deserts)। পূর্ব পুরুষের ভিটে মাটি ছেড়ে মানুষকে হতে হচ্ছে পরিযায়ী এবং যাযাবর।

এই ভয়ঙ্কর বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে সমস্ত মানুষকে তাদের সুস্থ জীবন, পরিবেশ, সভ্যতা এবং সেগুলির কেন্দ্রে থাকা নদী আর মিষ্টি জলের অফুরান যোগান কে ফিরিয়ে দিতে কিছু মানুষ জান কবুল করে আশপাশের মানুষকে সংগঠিত করে নেমে পড়েছেন, হাজার বাধা ধাক্কা আক্রমণ ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতিকে অতিক্রম করে এগিয়ে চলেছেন। কিন্তু সংবাদ ও সমাজ মাধ্যমে তাঁরা উপেক্ষিত। আসুন আজ তাঁদের দুএকটি সংক্ষিপ্ত কাহিনী শুনি।

তার আগে বলা প্রয়োজন (১) গঙ্গা সংস্কারে রাজীব গান্ধীর সময়কার Ganga Action Plan থেকে নরেন্দ্র মোদীর সময়কার Namami Gange Programme, (২) পাঞ্জাব সরকারের পঞ্চনদ ও বুদ্ধ নালা সংস্কার, (৩) গুজরাট সরকারের ভাগভ ও সবরমতী সংস্কারের ‘সুজলং সুফলং জল সঞ্চয় অভিযান’, (৪) পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ প্রমুখ বিশাল বাজেটের অতিবৃহৎ এবং অবশ্যই বিতর্কিত সরকারি প্রকল্পগুলি নিয়ে আলোচনা থেকে এখানে বিরত থাকছি। আমরা তুলে ধরছি জন উদ্যোগের মাধ্যমে কয়েকটি সফল নদী পুনর্জন্ম বা পুনরসনজীবন আন্দোলনকে (People’s River Rejuvenation Movements)। হ্যাঁ এটি ঠিক যে কেরল সহ বহু জায়গায় একটি পর্যায়ের পর বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (NGOs) এবং সরকারি বিভাগ গুলিও এই উদ্যোগ গুলির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে এগুলিকে বড় মাত্রা দিতে পেরেছে। কারণ আধুনিক Large Excavator যন্ত্র, উপগ্রহ চিত্র, রিমোট সেনসিং ব্যবস্থা ইত্যাদি সাধারণের হাতে নেই, যেগুলি দীর্ঘ পথ পরিক্রমা করা নদীগুলির সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে সঙ্গে স্মরণ করব গৌরা দেবী, সুন্দরলাল বহুগুণা, চন্ডি প্রসাদ ভাট প্রমুখের নেতৃত্বে কুমায়ুন ও গারোয়ালের ‘চিপকো আন্দোলন’ , মেধা পাটেকর, বাবা আমতে প্রমুখের নেতৃত্বে ‘নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন’ প্রমুখ পথিকৃৎ পরিবেশ ও নদী আন্দোলনগুলিকে যেগুলি সম্পূর্ণ সফল না হলেও পরবর্তী আন্দোলন ও উদ্যোগ গুলিকে দিশা দেখিয়েছে, উদ্দীপনা সঞ্চার করেছে।

মরু রাজ্য রাজস্থান দিয়েই শুরু করি। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনে এবং স্বাধীন ভারতে আবহমানকাল ধরে বৃষ্টির জল ধরে রাখার জলাশয়গুলি (জোহাদ) ধ্বংস করে, প্রাচীন আরাবল্লী পাহাড় ও বনভূমি আচ্ছাদিত অঞ্চলগুলিকে ন্যাড়া করে, যথেচ্ছ খনি – খাদান তৈরি করে, আধুনিক বিদেশি প্রযুক্তির নামে ব্যয়বহুল ডিপ টিউবওয়েল বসিয়ে ভূগর্ভের জল নিঃশেষ করে, সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্র (Eco System) নষ্ট করে, থর মরুভূমির নিকটবর্তী এই অঞ্চলগুলিকে রুক্ষ ঊষর জলহীন করে তোলা হয়েছিল। দৈনন্দিন প্রয়োজনের সামান্য জলটুকুর জন্য গ্রামের মহিলাদের মাথা খুঁড়তে হত, দূর দূরান্তে যেতে হত। এখানকারই আলোয়ার জেলায় অর্বরী, রুপারেল, সারসা, ভাগানী, জাহাজয়ালী প্রমুখ ছোট নদীগুলিরও মৃত্যু ঘটানো হয়েছিল। প্রায় ৬০ বছর বাদে গ্রামবাসীদের ১০-১২ বছরের ধারাবাহিক চেষ্টায় সেগুলি পুনরায় জীবন ফিরে পায়। নতুন করে নদী গুলিতে জলস্রোত প্রবাহিত হতে থাকে। জেগে ওঠে তাদের অববাহিকা ও আশপাশের অঞ্চলের জীবন প্রাণ।

পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের ধনী কৃষকের কিশোর পুত্রের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেয় গৃহে আসা গান্ধীবাদী সমাজকর্মী রমেশ শর্মা। তিনি যতদিন গ্রামে ছিলেন গ্রাম পরিস্কার করে, গ্রামে লাইব্রেরি তৈরি করে, গ্রাম্য বিবাদগুলি মিটিয়ে দিয়ে গেছেন। এবং স্কুল শিক্ষক প্রতাপ সিং যিনি জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে জনজাগরণের ভূমিকা তুলে ধরতেন। তারপর সেই কিশোর যুবক হয়ে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে ১৯৮০ তে রাজস্থানে চলে যান। সেখানে শিক্ষা দপ্তরের পরিদর্শকের কাজের সঙ্গে ১৯৭৫ এ প্রতিষ্ঠিত ‘তরুণ ভারত সংঘে’ যোগ দিয়ে বিভিন্ন সামাজিক কাজে যুক্ত থাকেন। ১৯৮৩ তে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে উপর থেকে দান ও তাৎক্ষণিক কিছু পরিষেবার শহুরে মধ্যবিত্তসুলভ চিন্তা-অনুশীলনের পরিবর্তে গ্রামাঞ্চলে মৌলিক গঠনমূলক কাজের দিশা দেখান। ১৯৮৪ তে রাজস্থানের প্রায় হারিয়ে যাওয়া এক যাযাবর কর্মকার সম্প্রদায়ের সঙ্গে দীর্ঘ যাত্রায় সামিল হয়ে আঞ্চলিক সমাজ জীবনের আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি উপলব্ধি করেন। তারপর ঐ বছরেই চাকরি ও সবকিছু ছেড়ে চারজন সঙ্গীকে নিয়ে একটি বাসে চেপে সেটির শেষ স্টপ আলোয়ার জেলার থানাগাজি তহশিলে পৌঁছন। ক্রমে গ্রামবাসীদের আস্থা অর্জন করে কিশোরি গ্রামে থেকে আয়ুর্বেদ চিকিৎসা ও শিক্ষাদানের কাজ চালিয়ে যান। প্রবীণ সমাজকর্মী মঙ্গুলাল মিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ আবার জীবনে বদল আনে। মঙ্গুলাল তাঁকে বোঝান গ্রামীণ রাজস্থানে জলাভাব প্রধান সমস্যা এবং তাঁকে হাতে করে মাটি দিয়ে জোহাদ নির্মাণের কৌশল শেখান। এবার সেই যুবক গ্রামবাসীদের উদ্বুদ্ধ করে হাতে কলমে একের পর এক জোগাদ নির্মাণে নেমে পড়েন। এই ধরনের কাদামাটি ঘাটা দৈহিক শ্রমের কাজে তাঁর চার বন্ধুও তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এরপর অঞ্চলের প্রায় এক হাজার গ্রামের গ্রামবাসীদের শ্রমদানের ভিত্তিতে ৮,৬০০ টি জোহাদ এবং অসংখ্য ছোট ছোট চেক বাঁধ নির্মিত হয়ে বৃষ্টির জল ধরে রেখে এবং ভূগর্ভস্থ জলস্তর সিঞ্চিত করে পানীয় জল ও জলসেচের সমস্যা দূর হয়, কৃষি ও অর্থনীতির উন্নতি ঘটে, সবুজায়ন ঘটে এবং হারিয়ে যাওয়া অর্বরী, রুপারেল, সারসা, ভাগানী, জাহাজয়ালী নদী জেগে ওঠে। এরপরও তাঁর নেতৃত্বে বহু জায়গায় পদযাত্রা, গ্রাম সভা, পানি পঞ্চায়েত ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়। সামাজিক ও আইনি লড়াইয়ে খনন ও বড় বাঁধ তৈরি বন্ধ হয়। অর্বরী নদীর উৎসে ‘ভৈরবদেব লোক বনজীব অভয়ারণ্য’ গড়ে ওঠে। জনগণের নিজস্ব জল পরিচালনা আন্দোলন রাজস্থানের অন্যান্য জেলা এবং পাশ্ববর্তী মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাটে ছড়িয়ে পড়ে। স্টকহোম ওয়াটার প্রাইজ, ম্যাগসাইসাই, যমুনালাল বাজাজ প্রমুখ সম্মাননায় ভূষিত ঐ ব্যক্তির নাম রাজেন্দ্র সিং (জন্ম ১৯৫৯)।

এবার আমরা চলে যাব দক্ষিণের তামিলনাড়ুতে। সেখানকার ভেলোর জেলার কাম্মাভানপেত্তি গ্রামের ২০ হাজার মহিলা এক অভিনব ঘটনা ঘটালেন। তীব্র ও দীর্ঘ জলাভাব, প্রশাসনের অবহেলা এবং পুরুষকূলের অলসতা হটিয়ে দিয়ে স্বেচ্ছা শ্রমদান করে তাঁরা হারিয়ে যাওয়া নাগানাধী নদীটিকে ফিরিয়ে আনলেন। কর্নাটকে বেঙ্গালুরুর সন্নিকটে কুমুদবথী নদীটিকে ড. লিঙ্গরাজ ইয়ালের নেতৃত্বে স্থানীয়রা ফিরিয়ে আনলেন। ‘জল জাগৃতি অভিযান’ এর উদ্যোগে প্রবল জলাভাবের কষ্টে বসবাসকারী বিদর্ভের লাতুর অঞ্চলের মানুষ স্বেচ্ছা শ্রমদানে মঞ্জিরা নদীটির পুনর্জন্ম ঘটালেন। মহারাষ্ট্রেরই মারাঠাওয়াড়া অঞ্চলের ছত্রপতি শম্ভুজী নগরের (আওরঙ্গবাদ) খাম নদীটিকেও ফিরিয়ে আনা হল। পুরসভা এখানে বড় অবদান রাখল। এভাবেই প্রধানত জনউদ্যোগে এবং পরে প্রশাসনের অংশ গ্রহণে উত্তরপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ডের নুন নদী এবং বরাবাঁকির কল্যাণী নদী দুটিকে ফিরিয়ে আনা গেল। স্থানীয় গ্রামবাসীদের শ্রমদানে এবং এনজিও ও সরকারি সহযোগিতায় ফিরিয়ে আনা গেল অন্ধ্রের শ্রীকাকুলামের নাগাভালী নদী ছাড়াও পেন্না ও পাপাগানি নদী দুটিকে।

কেরলের আল্লাপুজা জেলার পবিত্র পেম্বা ও মনিমালা নদীর সংযোগকারী ভারাত্তার নদী এবং আধি পম্মা নদীর পুনরসনজীবন অভিযান তো পত্থানামত্থীট্টা প্রভৃতি অঞ্চলে প্রবল আনন্দ এবং জনউৎসবের চেহারা নেয়। এরপর একে একে কুন্নুর জেলার কানামপুজা নদী, তারপর কারানামা নদী, কিল্লিয়ার নদী, ভামানাপুরম নদী, বাভেলি নদী গুলিকে ফিরিয়ে আনা হয়।

পশ্চিমবঙ্গেও বহুবছর ধরে বহু সমাজসেবী, সমাজসেবা মূলক সংগঠন, পরিবেশবিদ, মৎস্যজীবী সমিতি প্রমুখ এই প্রচেষ্টায় রত। এদের মধ্যে বিপ্লবী কমিউনিস্ট দলের (RCPI) নেতা এবং জেশপ ও বসিরহাট সশস্ত্র উত্থানের উদ্গাতা এবং পরে হিংসা ও নৈরাজ্য ত্যাগ করে রবীন্দ্র ও গান্ধী অনুগামী গ্রাম সংগঠক পান্নালাল দাশগুপ্ত উল্লেখযোগ্য। পূর্ব কলকাতার অমূল্য জলাভূমি সংরক্ষণে প্রযুক্তিবিদ পরিবর্তিত পরিবেশ সংরক্ষক ধ্রুবজ্যোতি ঘোষের অবদান কখনও ভোলবার নয়। জলাভূমি সংরক্ষণে এই রাজ্যে তপন দত্তের মত বেশকিছু পরিবেশকর্মী শহীদ হয়েছেন। বেশ কিছু সমাজ কর্মী, পরিবেশ ও বিজ্ঞান সংগঠন, মৎস্যজীবী সংগঠন মুজনাই, মহানন্দা, আত্রেয়ী, জলঙ্গি, মাথাভাঙ্গা, চূর্ণী, ইছামতী, অঞ্জনা, যমুনা, সরস্বতী, বিদ্যাধরী, টলি নালা, ভাগীরথী প্রভৃতি নদী বাঁচানোর আন্দোলন করে চলেছেন বহু বছর ধরে। পরিবেশ সংগঠক নব দত্তের নেতৃত্বে ‘সবুজ মঞ্চ’ তাঁদের মাথার উপর ছাতা মেলে ধরেছেন। সম্প্রতি নদীয়ার চকদহের বুড়ি গঙ্গা নদী সংস্কারে কিছুটা সাফল্য এসেছে।

রাজনৈতিক দলগুলির নৌটঙ্কি, আমলাতন্ত্রের অবহেলা ও লাল ফিতে, পুলিশ প্রশাসনের নিস্পৃহতা, জমি ও নির্মাণ মাফিযয়াদের ভীতি প্রদর্শন, সমাজ মাধ্যমের মিথ্যা মায়ার জগৎ, রোমান্টিক বিপ্লবীদের আজগুবি আপ্তবাক্য, বিচ্ছিন্ন স্বার্থপর কূপমন্ডুক জীবনযাত্রা প্রভৃতির বন্ধনকে ছিন্ন করে আপনারাও এগিয়ে আসুন। হারিয়ে যাওয়া নদী ও জলাশয়গুলির পুনর্জন্মের এই প্রকৃত গঠনমূলক উন্নয়নের হাতে কলমের কাজে অংশ নিন। আমাদের দেশ, রাজ্য, এখানকার প্রকৃতি – পরিবেশ – সমাজ – অর্থনীতি – জীবনচক্র – সংস্কৃতি কে বাঁচান এবং বিকশিত করুন। ধন্যবাদ।

০৩.০২.২০২৬

PrevPreviousনিজেকে আমার অন্তত এখনও বৃদ্ধ মনে হয় না…
Nextমহল্লায় মহল্লায় অভয়া মঞ্চ গড়ে উঠুক…Next
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট

।। লক্ষ মানুষের নিষ্ফল বেদনা।।

April 27, 2026 No Comments

একজন বৈধ নাগরিক, রাষ্ট্রের মর্জি অনুযায়ী কোনো একটা নির্বাচনে ভোট দেবে আবার কোনোটাতে ভোট দিতে পারবে না, এটা হতে পারে? লক্ষ লক্ষ নাগরিক যাদের আচমকা

খরতাপ ও কিছু গভীর আশঙ্কা

April 27, 2026 No Comments

যাব, যাব করেও আর যাওয়া হয়ে উঠছিল না। রোজ‌ই একটা না একটা ছুতোয় নিজেকে গুটিয়ে রাখছিলাম ইচ্ছে করেই। মনের এই দোনোমনা ভাবটা আগাম আঁচ করতে

​ Formal Statement of Protest and Ultimatum

April 27, 2026 No Comments

​April 25, 2026 Formal Protest against the malicious, defamatory, and politically motivated actions of Dr. Tapas Pramanick. ​The Joint Platform of Doctors (JPD), WB representing

নিজের ভোটটা নিজের পছন্দের দল/প্রার্থীকে দিন।

April 26, 2026 No Comments

এই যে বয়ানটা, অমুককে ভোট দিয়ে লাভ নেই, তাহলে তমুক জিতবে, এটার মতো ভাটের কথা কমই শোনা যায়। আপনার যেহেতু কোনও অলৌকিক দিব্যজ্ঞান নেই, এবং

বন্ধু

April 26, 2026 No Comments

বিচ্ছিরি গরমে ঘামতে ঘামতে রোগী দেখছিলাম। ছোট্ট একটা খুপরি। জানলা নেই। একপাশে শুধু রোগী ঢোকার দরজা। যা হাওয়া বাতাস আসে ওই দরজা দিয়েই আসে। দেয়ালে

সাম্প্রতিক পোস্ট

।। লক্ষ মানুষের নিষ্ফল বেদনা।।

Pallab Kirtania April 27, 2026

খরতাপ ও কিছু গভীর আশঙ্কা

Somnath Mukhopadhyay April 27, 2026

​ Formal Statement of Protest and Ultimatum

The Joint Platform of Doctors West Bengal April 27, 2026

নিজের ভোটটা নিজের পছন্দের দল/প্রার্থীকে দিন।

Dr. Bishan Basu April 26, 2026

বন্ধু

Dr. Aindril Bhowmik April 26, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

619748
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]