তার পাঁচ হাজার সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধু.
কুড়ি হাজার কত যেন ফলোয়ার্স,
পনেরোটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ,
আর আত্মীয় প্রতিবেশী পরিচিত মিলিয়ে.. জনা পঞ্চাশ।
প্রথম যেদিন ‘ অমুক তমুক’ থেকে সে হলো লাশ,
সেদিন কি হইচই!
সকলেই সকলকে খবর পাঠাচ্ছে,
‘এই শুনেছিস, শুনেছো, শুনেছেন?’
জীবিত অবস্থায় তাকে যারা চিনতো না,
তারাও মৃতকে চিনে RIP, ওঁ শান্তি বা অমর রহে লিখে গেছে
আপলোড করা স্মৃতিভারাতুর ফটোর নিচে,
সোশ্যাল মিডিয়া খুঁড়ে ছবি আর কথা দিয়ে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে প্রিয়জনেরা যে কোলাজ তৈরি করেছেন,
তা দেখে সকলেই স্বীকার করেছে,
চোখের জন বাঁধ মানেনি,
কত মানুষ বলেছে,
‘না চিনলেও মনে হচ্ছে যেন কতকাল ধরে ওকে চিনি!’
তারপরে দিন এগিয়েছে..
দুটো সূর্যোদয়ের মাঝে হাজার হাজার পোস্ট হয়ে গেছে,
দেশের শ্রেষ্ঠ শ্রেষ্ঠীর ছেলের প্রাকবিবাহ,
রাজনৈতিক চাপান উতোর ,
শ’ খানেক কবিতা
আর অগুন্তি রিলের চাপে,
তার শরীর থেকে স্মৃতি হওয়ার শোক-সংলাপগুলো
ভিড়বাসে বই-পড়ুয়ার সংখ্যার মতোই ক্রমশ বিরল হয়ে গেছে,
তারপর আরো একবার সূর্যের উদয় ও অস্ত,
আরো এক,
আরো এক..
সপ্তাহ যেতে না যেতেই তার নাম আর প্রায় নেই,
সকলে পেয়েছে ফেরত
যার যার নিজস্ব ডিজিটাল জীবনের খেই।
তার স্মরণসভা’র দিন ঠিক হয়েছে সবার সুবিধামতো,
রবিবার।
‘ছুটির দিন’ ,
কাজেই পাঁচ হাজার ফেসবুক-বন্ধু,
কুড়ি হাজার সামথিং ফলোয়ার
পনেরোখানা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আর
জনা পঞ্চাশ ‘কাছের লোক’
প্রতি পঞ্চাশজনে একজন এলেও আড়াইশো সিটের হলে জায়গা পাওয়া মুশকিল।
তার জনা দশেক স্নেহান্ধ বেহিসেবী বিশ্বাসী বন্ধুর
হিসেব ছিলো সেটাই।
কী মনে হয়? হল ভরবে?
পুরো না হলেও অর্ধেক?
অর্ধেক না হলে এক তৃতীয়াংশ?
পঞ্চাশে ঊনপঞ্চাশ জনের বিশেষ কাজ, ব্যস্ততা, নিমন্ত্রণ , অসুস্থতা ইত্যাদি থাকলেও,
একজন, অন্তত একজন তো ভাববে ‘ আজ যাই?’
ধুর মশাই!
ডিজিটাল যুগ এটা, মনে রাখা চাই!
তার নাম যাই হোক, সে আশায় পড়বেই একরাশ ছাই।
আকবর বাদশা বা হরিপদ কেরানি, আসলে এক আর শূন্যের খেলা, ভ্রম পুরোটাই।









