“চেতাবনি ছিল ঠিক, তুমি-আমি লক্ষ্যই করিনি
কার ছিল কতখানি দায়
আমরা সময় বুঝে ঝোপে ঝোপে সরে গেছি শৃগালের মতো
আত্মপতনের বীজ লক্ষ্যই করিনি…
লোকে ভুলে যতে চায়, সহজেই ভোলে।” (“আরুণি উদ্দালক”, শঙ্খ ঘোষ)
৯ আগস্ট সকালের আলো ফোটার অপেক্ষায়। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে জীবন একইরকম হয়না। ৩১ বছর বয়সী এক ডাক্তারি পড়ুয়া তরুণীরও হয়নি। ও সারাদিনের ডিউটির শেষে রাতের খাবার খেয়ে চেস্ট ডিপার্টমেন্টের সেমিনার রুমে বিশ্রামের জন্য একাই শুয়েছিল। সম্ভবত ৩ থেকে ৪ জন পশু (৫ জনও হতে পারে, এমনকি যে দলে আরেকজন নারী চিকিৎসকও থাকতে পারে) ওকে গণধর্ষণ করে তারপরে বর্ণনাতীত হিংস্রতায় হত্যা করে। যেরকম নৃশংসভাবে ২য় বর্ষের পোস্টগ্র্যাজুয়েট এই তরুণীকে হাসপাতালের মধ্যে শেষ রাতে গণধর্ষণ করে চরমতম বীভৎসতার সাথে হত্যা করা হয়েছে সে ঘটনা সম্ভবত এক অর্থে “নির্ভয়া” বা “হাথরাস”-এর ঘটনাকেও ছাপিয়ে গেছে। কলকাতা শহরের বুকে একটি প্রথমসারির হাসপাতালের মধ্যে যে এ ঘটনা যে ঘটতে পারে, সম্ভবত ভারতের ইতিহাসেও বিরল – অন্তত আমার জানা নেই। কারণ? মোটিভ কী? ও কী কলেজের এমন কিছু নারকীয় কার্যকলাপ জেনে ফেলেছিল যে জন্য এই পরিণতি?
অনুসন্ধান চলছে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ডিভিশন বেঞ্চ কয়েকদিন কেটে যাবার পরে তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে দিয়েছে। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে – কলকাতা পুলিসের তরফে তদন্ত চলাকালীন – কী কী প্রমাণ মুছে গেছে তার হদিশ পাওয়া মুশকিল। তবে আজ (১৬.০৮.২০২৪) ঘটনার দিন আরজি কর-এর যিনি প্রিন্সিপাল ছিলেন সন্দীপ ঘোষকে (যেসব মারাত্মক, ঘৃণ্য ও ন্যক্কারজনক কার্যকলাপের অন্যতম চক্রী হিসেবে জড়িত এই ব্যক্তির নামের আগে ডঃ শব্দটি ইচ্ছে করেই লিখলাম না, পাছে স্বয়ং হিপোক্রেটিস বমি করে ফেলেন!) সল্ট লেকের রাস্তা থেকে সিবিআই-এর তদন্তকারী অফিসারেরা ঘাড় ধরে তাদের ফেফাজতে নিয়ে গেছেন।
বড়ো পাপী হে আমরা!
নিহত মেয়েটি হয়তো আমাদের বলছে – “বড়ো পাপী হে আমরা!” বিভিন্ন সূত্র থেকে যতটুকু জানা যাচ্ছে, হাসপাতালের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মৌরসিপাট্টা গেড়ে বসা ওষুধ-মাদক-সেক্স র্যাকেট-পয়সার বিনিময়ে পাস করানো বা ইন্টার্নশিপ শেষের সার্টিফিকেট দেওয়ার যে মধুচক্র গড়ে উঠেছিল (যাতে আশঙ্কা করা যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং ছাত্রছাত্রীদের একটি অতি ক্ষুদ্রাংশ যুক্ত ছিল) এই তরুণী চিকিৎসক সেটা জানতে পারে এবং হয়তো বা প্রতিবাদও করেছিল। এর পুরষ্কার হিসেবে সে পেয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত নিজের গাড়ি, গণধর্ষণ এবং মানুষের জীবনের সর্বাধিক-কাঙ্খিত বেঁচে থাকার অধিকার হারানো।
নির্ভয়া, কাশ্মীমেরর বাচ্চা মেয়ে আসিফা, হাথরাস, তারও আগে ২০০৪ সালে মণিপুরের মনোরমা – ধর্ষণ এবং নৃশংসভাবে খুন হবার মিছিল চলছে। এখন অব্দি সর্বশেষ সংযোজন আর জি করের ডাক্তার মেয়েটি। আমাদের বিবশ হয়ে যাওয়া সামাজিক বোধকে এই মৃতদের অনুক্ত প্রশ্ন একবারও বিদ্ধ করছেনা –
কেন নারী হবার জন্য আমাকে অতিরিক্ত সুরক্ষা দিতে হবে? কিসের সুরক্ষা? আমার দেহের এবং জীবনের সুরক্ষা?
কেন এই “পবিত্র” পুরুষ-নিয়ন্ত্রিত সমাজ আমার সুরক্ষা সুরক্ষিত করতে ব্যর্থ হবে বারংবার?
উত্তর দিতে হবে, কেন আমাদের বেলাতেই কেবল সুরক্ষার প্রসঙ্গ আসবে?
কেন আমাদের সামাজিক মানসিকতা আমাকে নিজের চারিত্র্যলক্ষ্মণ নিয়ে বাঁচা একজন “মানুষ” হিসেবে গ্রহণ করবেনা? কেন?
আর কত ধর্ষণ, হত্যা, রক্তাক্ত শরীর আর ছিন্নভিন্ন দেহ দেখতে চায় “সমাজ”? ঠিক কতটা দেখলে তৃপ্তি হবে সমাজের চোখের, মনের, ধর্ষকামিতার?
আপনারা “ফাঁসী” কিংবা “এনকাউন্টার” কিংবা “রাজনৈতিক যোগ” নিয়ে কথা বলুন, বলতে থাকুন। কিন্তু এ প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবেন না? এই “ইতরের দেশ” কী সভ্য হবে? উত্তর কী কেবল বাতাসেই ভেসে বেড়াবে?
আমরা যে বুকভরে বাতাসও নিতে পারিনা মরে যাবার সময়ে। আমাদের কথা ৩৬৫ দিনে একবার ভাবুন – কারো ফুটফুটে মেয়ে, সক্ষম যুবতী কিংবা গৃহবধু, কামদুনির পড়ুয়া মেয়েটি কিংবা পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডের যুবতী।
অন্য কারো পরিচয়ে আমাদের চিনবেন না। আমাদের পরিচয়ে আমাদের চিনতে হবে। চিনতেই হবে।
“অগ্নিবর্ণ সংগ্রামের পথে প্রতীক্ষায়
এক দ্বিতীয় বসন্ত। আর
গলিতনখ পৃথিবীতে আমরা রেখে যাব সংক্রামক স্বাস্থ্যের উল্লাস।
ততদিন আত্মরক্ষার প্রাচীর হোক
প্রত্যেক শরীরের ভগাংশ।” (নির্বাচনিক”, সুভাষ মুখোপাধ্যায়)
পরের ঘটনাপ্রবাহ
আন্দোলন লাগাতার চলছে – চলবেও। চিচার-চাওয়া জুনিয়র ডাক্তাররা এবং এ রাজ্য সহ সমগ্র দেশের ডাক্তার সমাজ যতদিন না দেখতে পায় সন্দীপ ঘোষ এবং অন্যান্যদের নিয়ে সিবিআই-এর চোর-পুলিশ বা কানামাছি ভোঁ ভোঁ খেলার বাইরে অন্য কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত না এ দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি গ্রহণের পরে কোন নির্দিষ্ট রূপোলি রেখা আমাদের সামনে রাখতে পারছেন।
এ দেশ ছাড়িয়ে এ প্রতিবাদের ঢেউ পৌঁছচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে – অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড থেকে আমেরিকা এবং অন্যান্য দেশেও। এমনকি গার্ডিয়ান বা বিবিসি-র মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও এসমস্ত খবর প্রকাশ করেছে। ফলে আমি নতুন কথা এখনো অব্দি কিছু বলিনি – শুধু ইতিহাসকে আরেকবার স্মরণ করানো ছাড়া। তবে গতকালের (১৫.০৮.২০২৪) নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর মতো প্রভাবশালী সংবাদপত্রের খবরটি নজরে আসার মতো – “Medic’s Killing Fuels Protests and Walkouts in India”। এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে – “Outrage among doctors has also continued to build, with many government hospitals suspending all but emergency treatment as medical workers protest to demand better protection from such violence.” হ্যাঁ, এটাই ঘটছে।
ল্যান্সেট-এর মতো মান্য মেডিক্যাল জার্নাল-এ ২৪ আগস্ট, ২০২৪-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে “Rape and murder of doctor sparks outrage in India” শিরোনামে। এরকম আন্তর্জাতিক চাপের একটা দেশীয় প্রভাব তো থাকবেই। ফলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং সিবিআই তদন্ত এখন অব্দি মুখরক্ষার পর্যায়ে আছে। এতদিন পরেও সিবিআই তদন্ত কোন সুনির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছুতে পারলো না – আমরা খালি চোখে অসহায়ভাবে দেখছি। কোথায় যাবে ‘তিলোত্তমা’-র সাথীরা? কার কাছে বিচার চাইবে? কোথায় যাবে সাধারণ মানুষ – কার কাছে সমাধান খুঁজবে? এরকম সময়ে জলকে ঘোলা করে রাজনৈতিক মুনাফার মাছ ধরার খেলা শুরু হয়েছে।
আমাদের কাছে আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হল, গণধর্ষণ এবং বীভৎসতম খুনের মামলা সরে যাচ্ছে সন্দীপ ঘোষ অ্যান্ড কোম্পানির আর্থিক দুর্নীতির নিকৃষ্ট স্বরূপ উদ্ঘাটনের দিকে। মামলা এবং আমাদের দাবীর মূল ভরকেন্দ্র সরে যাচ্ছে। আমাদের দাবী তো খুব সরল – আমরা বিচার চাই (We Want Justice) এবং চাই নারীদের সামাজিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত হোক।
আর্থিক দুর্নীতি এবং পাপের পাহাড় নিয়ে তদন্ত চলুক। কিন্তু প্রথমে সমাধান হোক – ধর্ষণকারীরা কে কে, খুনি কে বা কারা?
আমাদের বেদনা
যেসব রোগিরা ফিরে যাচ্ছে বলে খবরের কাগজে ছবি এবং খবর বেরোচ্ছে, সেসব রোগিদের কাছে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু আমাদের তরফে জানানোর – জুনিয়র ডাক্তাররা কর্মবরিতিতে থাকলেও, আন্দোলন চালিয়ে গেলেও ইমার্জেন্সি এবং আউটডোর চালু আছে। ভর্তি হওয়া রোগিদের দেখছেন সিনিয়র ডাক্তাররা। জুনিয়র ডাক্তাররা কাজে যোগ না দিলেও বাইরে সমান্তরাল আউটডোর চলছে। ফলে সংবাদমাধ্যমের খবরের ওপরে নির্ভর না করে আপনারা নিজেরা অভিজ্ঞতা নিন।
আপনাদের আমরা কষ্ট বা যন্ত্রণা দিতে চাইনা। কিন্তু আপনাদের বাড়ির মেয়েটির দিকে তাকান। আমাদের অসহায় অবস্থা এবং আমাদের ওপরে লাগাতার নির্যাতনের কথা ভাবুন। আমরা আবার ফিরে আসছি – খুব শীগগিরই।
এখানে আরেকটি কথা বলা জরুরি। রাজনৈতিক দল এবং ঝান্ডা ছাড়া মানুষের বিশুদ্ধ আবেগ এবং পবিত্র ক্রোধকে রাষ্ট্র সবসময় ভয় পায়। চায়, একে বারংবার সহিংস হবার পথে ঠেলে দিতে। সফল না হলে একে প্রশমিত করার জন্য গণতন্ত্রের তথাকথিত চারটি স্তম্ভই কাজ করে – বিভিন্ন স্তরে, বিভিন্ন মাত্রায়। সে কাজ করা শুরু হয়েছে, এবং করবেও। আমাদের রাস্তা ধর্ণায় বসে থাকা, পথে নেমে বন্ধু এবং সাথীকে চিনে নেওয়া। নাগরিক সমাজের বিপুল অংশগ্রহণ আমাদের নতুন ‘Human Bondage’ তৈরি করেছে। অজানা অচেনা প্রত্যন্ত গ্রামের প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষ এ আন্দোলনের সাথে জুড়ে যাচ্ছে। আড়ে-বহরে ‘তিলোত্তমা’র জন্য বিচার চাওয়ার অবয়ব ক্রমাগত বড়ো হচ্ছে।, দীর্ঘ হচ্ছে।
এসব অজানা শিশু-কিশোর-কিশোরী-যুবক-যুবতী-মাস্টার মশাই-দিদিমণি-দাদা-বৌদি-ভাইদের আমরা জড়িয়ে ধরছি – যেন আরও বেঁধে বেঁধে থাকতে পারি আমরা।
বিশ্বখ্যাত সঙ্গীত Imagine-এর গায়ক এবং লেখক জন লেনন ১৯৬০-এর দশকের উত্তাল সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছিলেন – “When it gets down to having to use violence, then you are playing the system’s game. The establishment will irritate you – pull your beard, flick your face – to make you fight. Because once they’ve got you violent, then they know how to handle you. The only thing they don’t know how to handle is non-violence and humor.”
হ্যাঁ, রাষ্ট্র হিংস্রতাবর্জিত মাটি কামড়ে পড়ে থাকা আন্দোলনের যথেষ্ট মোকাবিলা করা এখনও শেখেনি – পুলিস, গুণ্ডা, বুলেট এবং লাঠির ব্যবহার ছাড়া। এরা কৌতুকও গ্রহণ করতে পারেনা। এখানে আমরা চার্লি চ্যাপলিনকে স্মরণ করে কৌতুকে পর্যুদস্ত করার কাজ শুরু করতে পারি। দাবী না মেটা পর্যন্ত আমাদের ফিরে আসার জন্য পাড়ে কোন নৌকো বাঁধা নেই – No Boat to Return।
আপনারা সবাই আসুন আমাদের ফিরে আসতে সাহায্য করার জন্য।











জয়ন্তদা আমি সহমত। এ বিষয়ে বক্তব্যে ও লেখায় আছি।
চিরকাল শাসক(রা) তদন্তের অভিমুখ বদলে দিয়েছে।
Khub valo laglo sir🙏🏼
আসাধারন লেখা । পড়ে খুবিই ভালো লাগলো 🙏🙏🙏
অত্যন্ত সঠিক ও সময়োপযোগী লেখা 🙏🏼
কেউ না, কারো কোমরে দম নেই, সবাই ঢোরা সাপ । বিষহীন । গরম চাটু তে সবাই দলীয় রুটি সেঁকতে লেগে পরেছে । সব লাল রঙের বাম, কমলা রঙের রাম । প্রতিবাদ আজ থেকে বন্ধ । আরে বাবা তোমরা সবাই দলের ঝান্ডা ছেড়ে দিয়ে কি আসতে পারতে না । আমরা সাধারণ মানুষের তো ঝান্ডা ছিল না থাকবেও না । আমাদের প্রতিবাদকে এভাবে আরেকবার ধর্ষিত হতে হলো ।
এই আই শিফটিং মিডিয়াতাড়িত। যাতে অপরাধের বীভৎসতা থেকে জনমনস্তত্ত্বের ভরকেন্দ্র একটু একটু করে ঘোরানো যায়। সেই সঙ্গে রাজনীতির এতদিনকার তৈরি করা বাইনারির চেনা খোপে একে এঁটে ফেলা যায়।
Well stated Jayanta!! It is indeed unfortunate, while we have lost a young girl in a most horrific and barbaric manner, who had a dream in her life just like any of us,but political outrage that has generated from this gory murder has put the main demand of the public and the parents to the back burner.
I hope political leadership of all parties come out from their political interests sooner and help the agencies to address the issue so that culprits are given exemplary punishment. At the same time our society needs to come out from its patriarchal mindset. which has to start from the homes.
Khub bhalo lekha,er madhyome protirodh chorie poruk.
Nicely chronicled. With the “Raat Dakhal” on 14th Aug, the Junior Doctors movement spread to become the people’s movement encompassing all strata and all geographical areas of the state. The Government support to criminals and syndicate is discussed at tea shops and gatherings. Youth and school children have taken to the streets.
Preparations required for a protracted movement along with planning steps to reduce distress to patients.
A more protracted struggle needs to be planned to address the patriarchal attitude within each of us.
Apnader protiti lorai te amra apnader pase achi sob samay. R apnara je ovinaba pratibad er uapai bar korechen tar janya 🙏🏼❤️ salute
খুব ইচ্ছে করছে আপনাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ময়দানে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ে সামিল হতে। দূরে থেকেও তাই মানসিক ভাবে পৌঁছে যাচ্ছি। আপনি ও আপনার সকল ঋজু সহকর্মীরা এখন সমাজের অসুখ সারাচ্ছেন। এটা কঠিন কিন্তু ভীষণ দরকারি। আপনারা আমাদের রোল মডেল … ভালো থাকবেন দাদা। 🙏🙏