Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

সুন্দরবন ও নিবারণদের বারমাস্যা

mangrove
Somnath Mukhopadhyay

Somnath Mukhopadhyay

Retired school teacher, Writer
My Other Posts
  • October 31, 2025
  • 8:11 am
  • 4 Comments

এবার নিবারণরা এসেছিল পাড়ার কালী পুজোয় তাদের চড়বড়ি তাসা পার্টি নিয়ে সেই ‘সোদরবন’ থেকে। দলে ওরা মোট পাঁচজন – নিবারণ, নিরাপদ, নিখিল, নিরঞ্জন আর নিরাপদর ছেলে নীলাম্বর। দন্ত্য ‘ন’ এর এমন দীর্ঘ নাম তালিকা শুনে যার পর নাই পুলকিত হয়ে হেতু জিজ্ঞাসা করতেই একগাল হেসে নিবারণ বলেন, “কি যে বলেন বাবু! আমরা হলাম এক জ্ঞাতি পরিবারের মেম্বার। তাই নামের এমন বাহার! আর কুনো রহ‌ইস্য নাই।” সুন্দরবন এলাকার মানুষ শুনে নিজের আগ্রহেই আলাপ জমালাম তার সঙ্গে। জানতে চাইলাম তাদের সুখ দুখের বারমাস্যার কথা। মাটির কাছাকাছি থাকা এইসব মানুষেরা কথা ক‌ইবার জন্য একেবারে মুখিয়ে থাকেন। তাই টোকা দিতেই বনবনিয়ে রেকর্ড ঘুরতে থাকে। শুরু হয় নিবারণের কথকতা।

–” আমাদের কথা আর কী শোনবেন? সারা বছর যতেক শঙ্কা নিয়ে বাস আমাদের। এই ঝড় তো ওই প্লাবন। লোনা মাটিতে চাষবাসের সুযোগ তেমন নাই। বাড়ি থেকে দুই পা বাড়াইলেই জঙ্গল, আর বড়ো গাঙের দাবড়ানি। জলের কুমির আর জঙ্গলের বাঘ নিয়া থাকি আমরা। সমুদ্দুরের জল গাঙ পথে বাইয়া আইস্যা হাজির হয় আমাগো দুয়ারে, জলের পসরা সাজাইয়া তার কৃপাতেই কষ্টে সৃষ্টে দিন কাইটা যায় আমাগো। পুজো পাব্বণে এই চড়বড়ি কাঁধে ঝুলায়ে বাইড়াইয়া পড়ি – দুগ্গা পুজো , লক্ষ্মী পুজো,কালী পুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো,কাত্তিক পুজা, রাসের পব্ব মিটায়ে বাড়ি ফিইরা যাইতে সেই অঘানি মাস। এতোগুলা দিন বাড়িঘর ছাইড়া যাযাবরের মতো এইদেশ থিকা ওই দেশ পাড়ি দিয়া ফেরা। এইসব হ‌ইলো ওই নড়বড়ে জীবনটারে একটু থিতু করনের চেষ্টা।” কথা শেষ করেন নিবারণ।সুন্দরবনের নিবারণ। নিবারণের সুন্দরবন। প্রতিবেশী দুই দেশ – ভারতবর্ষ ও বাংলাদেশের ১০০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট বা লবণাম্বু উদ্ভিদের বনভূমি এই সুন্দরবন। উপমহাদেশের তিনটি প্রধান জলধারা গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর বিপুল পরিমাণ পলি মোহনায় তিলতিল করে সঞ্চিত হয়ে গড়ে উঠেছে পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ। রয়েল বেঙ্গল টাইগার,চিতল হরিণ,মিঠা জলের কুমির,মেছো বিড়াল , গোসাপ বা মনিটর লিজার্ড সহ আরও অগণিত সংখ‌্যক পাখপাখালি আর মাছেদের আবাসভূমি হলো গোটা এলাকা।

এই বনভূমিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে বিপুল সংখ্যক মানুষের বসতি। নিবারণের কথা থেকেই জেনেছি তাদের মতো সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের কথা। এই ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এখানকার মানুষের বারংবার ভূমি থেকে উৎখাত হ‌ওয়া, নতুন করে দেশান্তরী হ‌ওয়া, জলবায়ুর খামখেয়ালিপনার কারণে বসতিচ্যূত হয়ে এক অনিশ্চিত জীবনের পথ বেছে নেওয়া। প্রকৃতি পরিবেশের সাথে তাদের নিরন্তর খাপ খাইয়ে নিতে হয়েছে এখানকার মানুষদের। নিবারণের কথায় তারা একে অপরের পরিপূরক। তারা বিশ্বাস করেন – প্রকৃতি তাদের যা দিয়েছেন, তাকে রক্ষা করাই তাদের একমাত্র কর্তব্য।তবে সবাই তো আর এমন সহাবস্থানের আদর্শকে আঁকড়ে ধরে থাকে না। আসলে বনভূমির প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটেছে নানা সময়ে। এককালে অরণ্যের সুনিবিড় ছায়াঘন পরিবেশের পটভূমিতে স্থাপন করা হয়েছিল ভারতবর্ষের গুরুকুল শিক্ষার গৌরবময় পরম্পরা। আশ্রমিক শিক্ষা যাপন ছিল ভারতীয় প্রজ্ঞা ও জ্ঞান চর্চার পীঠভূমি। আজ সেই অরণ্যকেই যথেচ্ছ সম্পদ আহরণের ক্ষেত্রে পরিবর্তিত করেছি আমরা। উজাড় হয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর সবুজ ছাউনি। চরিত্রগতভাবে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র হলেও মানুষের হাত থেকে রক্ষা পায়নি সুন্দরবন। এমনিতেই দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় অনেকটাই নবীন এই এলাকা। বনভূমির স্থাপনা আরও খানিকটা সময় পরে কিন্তু, তাতে করে এই এলাকায় মানুষের বসতি স্থাপনের কাজ থেমে থাকেনি। মানুষের বসতি যত বেড়েছে, সমান্তরাল ভাবে তত‌ই বেড়েছে বনভূমির সংকোচনের পরিমাণ। মোগল আমল থেকে শুরু করে পর্তুগিজ জলদস্যুদের দস্যিপনার দৌরাত্ম্যকাল পার হয়ে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর আমল পর্যন্ত সমানে চলেছে বনসংহার পর্ব। অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকে ইংরেজ শাসনকালে সুন্দরবনের বাদাবন কেটে সাফ করে কৃষি জমির পত্তন শুরু হয়। এই বনাঞ্চলের মূল্যবান বনজ সম্পদ তথা কাঠের প্রয়োজনে কাটা হতে থাকে গাছপালা। এইসব কাজকর্মের অনিবার্য প্রভাব পড়ে এই অঞ্চলের সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্রের ওপর। সেই ট্রাডিশন সমানে চলেছে। বদলে যাওয়া জলবায়ু, সমুদ্রের জলস্তর সীমায় ব্যাপক পরিবর্তন, ইকো ট্যুরিজমের নামে যথেচ্ছভাবে কংক্রিটের বাড়িঘর তৈরি, জঙ্গল কেটে অবৈধভাবে মাছের ভেড়ি নির্মাণ – এসবের ফলে সুন্দরবন আজ এক গভীর অনিশ্চয়তার শিকার।প্রকৃতি পরিবেশের ভারসাম্য দোলাচলে থাকলে আবাসিক মানুষের জীবন যাপনের মূল সংস্থানগুলিও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সুন্দরবনের জনগোষ্ঠীর সংখ্যাগুরু অংশ গঠিত হয়েছে তথাকথিত দলিত ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষদের সমন্বয়ে। নিবারণ বলছিলেন, কীভাবে কয়েকশত বছর আগে ছোটনাগপুর মালভূমির আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষজনকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল কায়িক শ্রমসঙ্কুল কাজের জন্য। নিবারণদের পূর্বপুরুষেরা এসেছিলেন অবিভক্ত বাংলার পূর্বোত্তর জেলাগুলো থেকে। এদের জীবনে বারংবার টানাপোড়েন চলেছে – কখনো প্রকৃতির রুদ্র রোষের কারণে, আবার কখনো মানুষের চরম অমানবিক নির্যাতনের দরুণ। অজানা অচেনা পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েই ধীরে ধীরে প্রধানত এই দুই জনগোষ্ঠীর মানুষেরা নিজেদের অবস্থানকে স্থায়ী ঠিকানা দিতে পেরেছে। বাদাবনের এইসব লড়াকু মানুষদের জীবন তাই অনেক রোমাঞ্চ আর লড়াইয়ের কাহিনি নিয়ে গড়া। সুন্দরবনের এমন সব মানুষের জীবন জোয়ার ভাটার জলের মতো নিয়ত ছুঁয়ে যাওয়া সুখ- দুঃখ, আনন্দ – বেদনা, উল্লাস- হাহাকার, স্বপ্ন আর দুঃস্বপ্নের হাজারো কাহিনিতে ভরপুর। এই সবকিছুকে এড়িয়ে গিয়ে এই অঞ্চলের প্রায় ৭২০০০০০ মানুষের জীবন যাপনের পূর্ণাঙ্গ ইতিবৃত্ত রচনা করা কোনো মতেই সম্ভব নয়। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করতে করতেই মানুষকে এগোতে হয়েছে, গড়ে তুলতে হয়েছে এক নিবিড় বোঝাপড়ার সম্পর্ক। সুন্দরবনের নিবারণদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। তবে সমুদ্র সীমান্তে অবস্থানের কারণে ঝড়, বন্যার পাশাপাশি নতুন করে যুক্ত হয়েছে সমুদ্র তলের উচ্চতা বৃদ্ধির সমস্যা। সারা পৃথিবী জুড়েই এই মুহূর্তে এইটি ভয়ঙ্কর এক অশনিসংকেত বয়ে নিয়ে এসেছে। সমুদ্র জলের আগ্রাসনের ফলে বাড়ছে মাটির লবণাক্ততা, চাষবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে কৃষি জমি। এক গভীর অনিশ্চয়তায় ভরে উঠছে নিবারণদের জীবন। বদলে যাওয়া জলবায়ু থাবা বসাচ্ছে এই অঞ্চলের আবাসিক মানুষদের জীবনযাপনের ওপর।সুন্দরবনের মানুষদের জীবিকার তিনটি প্রধান ক্ষেত্র হলো কৃষি, মাছধরা এবং বন থেকে বিভিন্ন বনজ সম্পদ আহরণ। বদলে যাওয়া জলবায়ুর কারণে আজকে এই তিনটি ক্ষেত্রেই সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। সমুদ্র জলের উচ্চতা বৃদ্ধিতে নতুন করে বানভাসি হবার আশঙ্কা রয়েছে। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী মৎস্যজীবী মহল্লায় কান পাতলেই শোনা যাবে ভিটেমাটি চাটি হয়ে যাবার করুণ পরিণতির কথা। ২০২০ সালের পর থেকে নিবারণের জ্ঞাতিদের অর্দ্ধেকের বেশি জমিজমা আগ্রাসী সমুদ্রের গহ্বরে হারিয়ে গেছে, ফলে ভিটে ছাড়া হয়ে তারা এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথচারী। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৬০ এর দশকের পরবর্তী সময়ে সুন্দরবনের ২১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা লোপাট হয়ে গেছে সমুদ্রগর্ভে। এর পরিমাণ বাড়ছে।এমনিতেই এদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ ভূমিহীন কৃষিজীবী, তার ওপর প্রাকৃতিক কারণে এভাবে জমি হারিয়ে বহু মানুষ আজ অস্তিত্বের প্রান্ত সীমায় এসে পৌঁছেছে। নিজেদের জীবনের বিনিময়ে তাদের লড়তে হচ্ছে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।

নিরাপদ বলছিলেন – “চাষাবাদ করুম ক্যামনে? বাপ জ্যেঠাগো মুখে শুনছি, আগেও চাষাবাদ করা কঠিন আছিল, কিন্তু সম্বৎসরের খোরাকিতে তেমন টান পড়তো না। ধানের লগে লগে শীত গিষ্যের হরেক রকমের সব্জি, মুগ ডাল – আমাগো দিব্যি চ‌ইলা যাইতো। গরমের খেত জুইড়্যা থাকতো নাদুসনুদুস গড়নের তরমুজ, ফুটি,বাঙ্গি । ক‌ইলকাতা থিকা পাইকাররা আসতো এইগুলি কিনতে। আমাগো পকেটে দুইটা পয়সা আসতো। আর এখন? আমাগো এতোদিনের চেনা চাষবাসের ছন্দটাই বিলকুল বদলাইয়া গেছে। মাটির সোয়াদ এখন লোনা। লোনা জমিতে চাষ হয়? চাষ না হ‌ইলে খামু কী ? ঢাক বাজাইয়া তো আর সারা বছর চলেনা!”আমি শহুরে মানুষ। দু – পাতা ব‌ই মুখস্থ করা ছাড়া মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষের প্রতিদিনের লড়াই সম্পর্কে ধারণা নেই। উপকূলীয় বসতি এলাকাগুলোকে জোয়ারের দাপট থেকে বাঁচাতে সেই ইংরেজ আমল থেকেই বাঁধ দিয়ে ঘিরে রাখার ব্যবস্থা চালু আছে। তবে কালের নিয়মে সেই সব মাটির বাঁধগুলো ক্রমশই জীর্ণ, ভঙ্গুর হয়ে গেছে।এর ফলে কটালের জোয়ারের জল এই বাঁধ টপকে ঢুকে পড়ছে গ্রামের ভিতরে – নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কৃষিজমি,অব্যবহার্য হয়ে পড়েছে মিঠা জলের পুকুরগুলো। আয়লা থেকে আমফান ঝড় আর জলের আঘাতে ভেঙে গেছে প্রায় ৮০০ কিলোমিটারের বেশি নদী বাঁধ। আর এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রবল সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস। দুর্যোগের মাত্রা যত বাড়ছে ততই বাড়ছে গোটা এলাকা জুড়ে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের দুর্দশা। প্রাকৃতিক সম্পদের বিণাশ মানুষের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এইসব প্রতিকুলতার সঙ্গে নিয়ত লড়াই করে টিকে থাকতে হচ্ছে নিবারণ,নিরাপদ, নিখিল, নিরঞ্জনদের।‘মৎস্য ধরিয়া রহিব সুখে’র দিন‌ও অস্তমিত হওয়ার মুখে। সুন্দরবন এলাকায় প্রায় ৩০০ রকমের মাছ পাওয়া যায়।  প্রতি বছরই কৃষিজমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ায় এলাকার মানুষজনের একাংশ এখন মাছ ধরার কাজকে নিজেদের জীবিকার অন্যতম অবলম্বন হিসেবে বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু সমস্যা এখানেও বাড়ছে। মাছের টানে ট্রলার হাঁকিয়ে প্রতিদিন হাজির হচ্ছে ক্ষমতাশালী বড়ো বড়ো মাছ মারা মানুষেরা। তাদের দাপটে ক্রমশই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে প্রান্তিক পরিবারগুলো। সরকারি মৎস্য বিভাগের আধিকারিকরা এখানে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের প্রশিক্ষণ দেবার ব্যবস্থা করলেও তা খুব ফলদায়ী হয়ে উঠতে পারেনি। তবে সমবায় সমিতির উদ্যোগে এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চলছে। একসময় দিন পিছু প্রায় ১০০ কিলোগ্রাম মাছ ধরা পড়লেও, এখন তা গল্পকথার মতো মনে হয় নিবারণদের। ভাগিদারের সংখ্যা যত বাড়ছে ততই কমছে জলের ফসলের জোগান। বাড়ছে নিবারণ নিরাপদদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। নিবারণরা জানে প্রকৃতি তাদের জন্য অনেক আয়োজন করেছে। এই আয়োজনের ফলেই এখনও বেঁচে বর্তে আছে তারা। তাই প্রকৃতি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে তাদের প্রচেষ্টায় কোনো ঘাটতি নেই। আজ টিকে থাকতে হলে চাই সমবেত প্রয়াস, যৌথ উদ্যোগ। সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। আর তাই মিলেমিশে কাজ করার তাগিদ বাড়ছে।নিবারণ , নিরাপদদের সঙ্গে অনেক কথা হলো। এই মেলামেশা, আলাপচারিতাই উৎসবের পরম পাওয়া।  দেবীর আরতি শুরু হয়েছে। নিজেদের বাজনা নিয়ে তৈরি হয় নিবারণরা। পুরোহিত ঠাকুরের হাতের ঘন্টা বাজতেই বেজে ওঠে নিবারণদের চড়বড়ি। প্রবল উৎসাহে বাদ্যি বাজাতে থাকে “পঞ্চ ন”। সেই শব্দে যেন বাণীময় হয়ে ওঠে ওদের মনকথা। সুর হয়ে বেজে ওঠে ওদের আকুল প্রার্থনা —

                আমাদের স্বস্তি দিও মা

                দূর করো দুঃখ কষ্টগুলো,

                সুন্দরবনকে রক্ষা করো

                বাঁচিয়ে রেখো পরিবেশকে।

এ’তো আমাদের‌ও প্রার্থনা।।

ঋণ স্বীকার: Dialogue earth.

অক্টোবর ৩০,২০২৫.

PrevPreviousসরকার মানুষের স্বার্থে আমাদের দাবিগুলো পূরণের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ দ্রুত নিক।
Next“অমিতাভ – অ্যাংরি ইয়ং ম্যান” – পর্ব ১Next
5 2 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
4 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
সুমন
সুমন
5 months ago

খুব সুন্দর ভাবে সমস্যা গুলো তুলে ধরা হয়েছে

0
Reply
Somnath Mukhopadhyay
Somnath Mukhopadhyay
Reply to  সুমন
5 months ago

ধন্যবাদ সুমন। সমস্যা এখানেই শেষ নয়। আগামীদিনে সমস্যা আরও বাড়বে। ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল নষ্ট হয়ে গেলে কলকাতাকে তার খেসারত দিতে হবে।

0
Reply
Ritabrata Gupta
Ritabrata Gupta
5 months ago

Kobey jey eder shomoshyar shamadhan hobey! Ar Kobeyi ba jangol bedey prokritir bharshamyo firey ashbey ! Jani na ta dekhey jetey parbo ki na.

0
Reply
Somnath Mukhopadhyay
Somnath Mukhopadhyay
Reply to  Ritabrata Gupta
5 months ago

হাল ছেড়ো না বন্ধু, থাকবো ধৈর্য্য ধরে
দেখা হবে সবুজ ভরা মাতলা নদীর চরে।
আছে দুঃখ, আসবে সুখ,
লেখার মাঝে মন মজুক।

ভালো থেকো সকলেই। দুঃখ পেয়োনা।

0
Reply

সম্পর্কিত পোস্ট

কলেজ নির্বাচনের স্মৃতি

April 15, 2026 No Comments

সালটা ২০১১, আমরা মেডিক্যাল কলেজে তখন সদ্য পা দিয়েছি। গল্পটা শুরু হয়েছিল তারও আগে, রেজাল্ট বেরোনোর পরপরই। বিভিন্ন দাদা দিদিরা বাড়ি বয়ে একদম ভর্তির সমস্ত

এসো হে বৈশাখ…এসো বাংলায়

April 15, 2026 No Comments

SIR এবং আমাদের পশ্চিমবঙ্গের মানুষ

April 15, 2026 2 Comments

ভোটের দোরগোড়ায় পশ্চিমবঙ্গবাসী। ইতিমধ্যে SIR তথা Special Intensive Revision (বিশেষ নিবিড় সংশোধন)-এর কল্যাণে এবং প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সহজ কথায়,

What Does it Mean to Be a Revolutionary Doctor Today? (Part 3)

April 14, 2026 1 Comment

Micro-Institutions in Practice: A Workers’ Health Model In the earlier parts, I tried to touch upon the dilemmas faced by young professionals and the broader

।।অভয়া আন্দোলন দ্রোহের দলিলঃ একটি প্রতিবেদন।।

April 14, 2026 No Comments

ডাঃ পুণ্যব্রত  গুণ সম্পাদিত “অভয়া আন্দোলন দ্রোহের দলিল” বা ডক্টরস ডায়লগ সংকলন এক কথায় এই দশকের প্রতিষ্ঠান বিরোধী গণ আন্দোলনের যে ধারাবাহিকতা বা দুর্নীতিপরায়ণ শাসকের

সাম্প্রতিক পোস্ট

কলেজ নির্বাচনের স্মৃতি

Dr. Subhanshu Pal April 15, 2026

এসো হে বৈশাখ…এসো বাংলায়

Abhaya Mancha April 15, 2026

SIR এবং আমাদের পশ্চিমবঙ্গের মানুষ

Dr. Jayanta Bhattacharya April 15, 2026

What Does it Mean to Be a Revolutionary Doctor Today? (Part 3)

Dr. Avani Unni April 14, 2026

।।অভয়া আন্দোলন দ্রোহের দলিলঃ একটি প্রতিবেদন।।

Shila Chakraborty April 14, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

617734
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]