কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (CNMC&H) প্রথম বর্ষের ছাত্রীদের সাথে নিরাপত্তার অজুহাতে যে অত্যন্ত নিন্দনীয়, অমানবিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট’ তার তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নিরাপত্তা তল্লাশি ও তল্লাশির নামে নবাগত চিকিৎসাবিজ্ঞানের ছাত্রীদের অন্তর্বাস খুলতে বাধ্য করা হয়েছে, স্যানিটারি প্যাড খুলে তা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং শারীরিক স্পর্শের মাধ্যমে তাঁদের সীমারেখা ও গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা হয়েছে। এই ঘটনা শুধুমাত্র চিকিৎসার মতো একটি সংবেদনশীল আঙিনায় ঘটে যাওয়া কোনো প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটি একজন মানুষের শারীরিক স্বায়ত্তশাসন, মৌলিক অধিকার এবং নারী মর্যাদার ওপর এক কদর্য আক্রমণ।
যে প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকদের মানবিকতা ও রোগীর মর্যাদার পাঠ শেখানো হয়, সেখানে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে এহেন কুরুচিকর ও অপমানজনক আচরণ কীভাবে সম্ভব হলো? নিরাপত্তা বিধানের কোনো নির্দেশিকা বা প্রোটোকলেই একজন ছাত্রীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও শারীরিক মর্যাদাকে খর্ব করার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট সুস্পষ্টভাবে নিম্নলিখিত প্রশ্ন ও দাবিগুলো তুলে ধরছে:
১. দায় কার এবং কার নির্দেশে এই পদক্ষেপ?
কোন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বা কার অধীনে এই ধরনের মধ্যযুগীয় ও অমানবিক তল্লাশি চালানো হলো? ঘটনাটি কি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা দায়িত্বপ্রাপ্তদের অলক্ষ্যে ঘটেছে, নাকি এতে কারো মদত ছিল? অবিলম্বে তা প্রকাশ্যে আনতে হবে।
২. নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত:
কোনো আড়াল বা ঢেকে রাখার চেষ্টা না করে একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, সচ্ছল ও সময়ভিত্তিক তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে, যেখানে ছাত্রপ্রতিনিধি ও বহিরাগত স্বাধীন মানবাধিকার বা নারীসুরক্ষা বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি:
এই জঘন্য আচরণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এবং নির্দেশদাতা—প্রতিটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিকভাবে সর্বোচ্চ কঠোর এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন দুঃসাহস না দেখায়।
৪. মানসিক সহায়তা ও নিরাপদ পরিবেশ:
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের যে মানসিক আঘাত ও অপমানের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তার জন্য ইনস্টিটিউশনকে সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে এবং তাঁদের যথাযথ কাউন্সেলিং ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
৫. কঠোর ও সংবেদনশীল প্রোটোকল তৈরি:
রাজ্যের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজে অবিলম্বে নিরাপত্তা ও ফ্রিস্কিংয়ের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট, মানবোচিত এবং জেন্ডার-সেনসিটিভ (Gender-sensitive) প্রোটোকল চালু করতে হবে, যা মেনে চলা বাধ্যতামূলক হবে।
একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলা আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব। জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছে, এই ঘটনার শেষ দেখে ছাড়তে এবং ভুক্তভোগী বোনদের সুবিচার নিশ্চিত করতে আমরা কোনো আপস করব না। অবিলম্বে দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে রাজপথে ও চিকিৎসাঙ্গনে কঠোর আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট।
মেডিক্যাল কলেজে কোনো নির্যাতনকারীর স্থান নেই!
শিক্ষার্থীদের মর্যাদা ও সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে হবে!











