তোমার পূজারী যারা,
প্যান্ডেল বেঁধে দিয়ে
এখন গিয়েছে নিতে ঘরে বিশ্রাম।
রোজকার রোজগারে ময়লা নোটের গায়ে লাগে যার ঘাম,
সে তোমার ঠিক উপাসক।
কদাচিত পেট দেয় ছুটি,
শেষ নাট-বল্টু লাগিয়ে খদ্দের ছেড়ে দিয়ে
কালি মাখা হাতে ছেঁড়ে তড়িঘড়ি রুটি,
তখনো গুছানো বাকি,
বাড়ি যেতে যেতে ঘড়ি মাঝরাত ছোঁবে,
আবার আকাশ-লাল-সকালে বেরোবে,
তোমার পূজারী যারা,
দিন থেকে রাত আর রাত থেকে দিন,
কাজ করে, কাজ করে, কাজ করে তারা,
উৎসব ও ব্যসনেও বিশ্রামহীন।
অনেকে গিয়েছে তারা অন্যপ্রদেশে,
ভিন্নভাষার গালি খেয়ে চুপ থাকে,
সন্ধের অবসরে সস্তা মোবাইল থেকে ফোন করে মা’কে,
সেটুকুই যোগাযোগ শেকড়ের সাথে,
দশ বাই দশ কোনো ঝুপড়ির ঘরে শোয় দশজনে করে ঘেঁষাঘেষি,
পান থেকে চুন খসে গেলে ভূমির পুতের খোঁচা ‘ব্যাটা
বাংলাদেশি’,
প্রতিবাদ করলে কী হতে পারে জেনে তারা মাথা নিচু থাকে নিশ্চুপ,
জীবনানন্দ দূর, ওরা কেউ কারোরই কবিতা পড়েনি,
তাও মনে জাগরুক বাংলার রূপ,
জপে যায় মনে মনে
জেনারেল কামরায় গাদাগাদি করে কী তারিখ ছুটি পেয়ে ক’টা দিন বাড়ি..
তোমার পুজোর দিনে,
কেরালা কর্নাটক গুজরাট রাজস্থানে নিরলস কাজ করে তোমার পূজারী।
‘ওরে মদপুজো!’ বলে শীতাতপ-কন্ট্রোল ঘর-গাড়ি থেকে যত টিটকিরি মারি,
মনে মনে সকলেই জানি,
তোমার পূজারী যারা,
তাদের জন্যে চলে এদেশের নাড়ি।










