Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

গুণ্ডামি অথবা ‘অভয়া’ ধর্ষণ: বিজেপি-র কাছে সুবিচার আশা করা যায় তো!

naxal-2025-03-1872a4381fc4d2dece6c37e0ccb4af80-16x9
Dipak Piplai

Dipak Piplai

Retired government employee and social worker.
My Other Posts
  • October 6, 2026
  • 6:57 am
  • No Comments

(এক)

সংসদবাদী রাজনীতির জগতে এক অদ্ভুত হাস্যকর কারবার চলছে! যুগযুগ ধরে যে অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক অবস্থার জন্য বাংলায় তথা ভারতবর্ষে সবরকম সমস্যার জন্ম ও বৃদ্ধি, সেই একই ব্যবস্থাকে জোরদার করেই ‘সোনার বাংলা’ তৈরির গল্প শোনানো হচ্ছে।
এখন পশ্চিমবাংলায় ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। ইউনিয়ন সরকার ও রাজ্য সরকার, দুটোই একসঙ্গে চালাচ্ছে বিজেপি। পশ্চিমবাংলা পিছনদিকে ‘এগিয়ে’ চলেছে দুরন্ত গতিতে! যাকিছু আধুনিক ও প্রগতিশীল, তাকে একে একে বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। ‘গরুর দুধে সোনা’ খুঁজে পাওয়া নেতা এখন মাতব্বর মন্ত্রী। নানারকম হৈ-হট্টগোল চালিয়ে, বাঙালি জাতির পশ্চাদগতি আড়াল করার চেষ্টা চলছে।
প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাঙালি জাতির সর্বনাশ শুরু হয়েছিলো ১৯৪৭ সালের ২০ জুন। যেদিন শতশত বছরের প্রতিবেশী ‘হিন্দু’ ও ‘মুসলমান’ সম্প্রদায়ের মধ্যে পাকাপাকিভাবে বিচ্ছেদ, বিভেদ ও সংঘাতের ভিতকে সচেতনভাবে তৈরি করে, অবিভক্ত বাংলাকে ভাঙা হয়েছিলো। এব্যাপারে মূল নায়ক ছিলো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি; আর সরাসরি তাদের তাঁবেদার হিসাবে কাজ করেছিলো কংগ্রেস আর হিন্দু মহাসভা। তাদের এই বাঙালি-বিরোধী অবাঞ্ছিত কাজে সেদিন বিস্ময়করভাবে মদত যুগিয়েছিলো বিভ্রান্ত কমিউনিস্ট পার্টির নেতারাও! ফলাফল, ধর্ম বর্ণ জাত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতির দুরন্ত সম্ভাবনাময় বিকাশের সমাধি। ‘মহাত্মা’ গান্ধী, জহরলাল নেহরু, বল্লভভাই প্যাটেল, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ইত্যাদি উগ্র হিন্দুদের মনোবাসনাই সেদিন পূর্ণ হয়েছিলো! সময়ের সাথেসাথে, অবিভক্ত বাংলা ভেঙে ‘হিন্দু পশ্চিমবাংলা’ আর ‘মুসলমান বাংলাদেশ’ গড়ে ওঠার বেদনাদায়ক ঘটনাবলীতে তাদের খুশি হবারই কথা। দার্শনিক, জনতাত্ত্বিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক ইত্যাদি সহ ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতির যে অতুলনীয় মেধা-ভাণ্ডার, তার ভিত্তিতে অবিভক্ত বাংলার বিকাশ কোন স্তরে যেতে পারে, তা চিন্তা করার ক্ষমতাও সেদিন বাংলাভাগের মদতদাতাদের ছিলো না। আজও নেই‌।

১৯৯১ সালে ভারতবর্ষ যে উদারীকরণ, বেসরকারীকরণ ও বিশ্বায়নের নয়া-পুঁজিবাদী রাস্তায় হাঁটতে শুরু করেছিলো, পশ্চিমবাংলায় তা কার্যত শুরু হয়েছিলো দুবছর আগেই – ১৯৮৯ সালে। বিলেতী ঘরানার কমিউনিস্ট নেতা জ্যোতি বসু তখন বিভিন্ন বামপন্থী দলের, পার্টির মধ্যেকার, এমনকি পলিট ব্যুরোতে তীব্র আপত্তিও অগ্রাহ্য করে, একবগ্গাভাবে কর্মসংস্থানের রাস্তা হিসাবে ‘বেসরকারি পুঁজি ও বিদেশি বিনিয়োগ’-এর পথে চলতে শুরু করেছিলেন। সেইজন্যেই ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানিকে ইংল্যান্ডের হাত থেকে সরকার নিজে না নিয়ে, ভারতের ‘টেকওভার কিং’ রমা প্রসাদ গোয়েঙ্কার হাতে তুলে দেবার ব্যবস্থা করেছিলেন। জ্যোতি বসু ও মনমোহন সিং-এর দেখানো সেই পথেই বর্তমানে একেএকে সব রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রকে বেসরকারি মালিকানার হাতে তুলে দিচ্ছে বিজেপি সরকার; আরও তীব্রতার সঙ্গে। বাংলার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিয়ে না ‘বামফ্রন্ট’ সরকারের কোনও মাথাব্যথা ছিলো, না তৃণমূল আমলে কোনও মাথাব্যথা দেখা গেছে, না বিজেপি সরকারের মাথাব্যথা আছে। বেনিয়াদের ও সরকারের স্বার্থই দলমতনির্বিশেষে সব ‘নির্বাচিত’ সরকারের কাছে প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বাংলা ভাগের সময়ে, অহিংস আন্দোলনের পথিক কংগ্রেসীদের ছিলো শুধু ব্রিটিশ-বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে সশস্ত্র বিপ্লবী পথের দুই প্রধান শক্তি বাঙালি ও পাঞ্জাবি জাতির সর্বনাশের বিনিময়ে, তড়িঘড়ি দেশের শাসনক্ষমতা পাবার লোভ। আজ, স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে সহস্রযোজন দূরে থাকা বিজেপির আছে ইউনিয়ন সরকারে আর বিভিন্ন রাজ্যে (সংবিধানের ভাষায় ‘স্টেট’)-এর শাসনক্ষমতা ধরে রাখার লালসা।

বিশ্ব মনিষীদের ছবি ও নাম; বাঙালি মনিষীদের রচনা ও শিল্পসৃষ্টি; প্রকৃত ইতিহাসের যথাযথ বিবরণ; স্বাধীনতা সংগ্রামে অমর শহীদদের অবদান; – সবকিছুর উপরেই গেরুয়া ধ্বজাধারী ‘দেশভক্ত’-দের আক্রমণ নেমে আসছে। পশ্চিমবাংলার বুকে শিক্ষায়তনে এবং অন্যত্র ভেঙে-পুড়িয়ে-মেরে ‘দেশভক্ত’ লুম্পেনদের গুণ্ডামি; নেংটিধারী সাধুদের নৃত্য; নিয়মিত হুমকি ও ধমকি; ‘সনাতনী ধর্ম’-র নামে কদর্য জাতঘৃণার গাইডলাইন মনুস্মৃতিকে লাগু করার অপচেষ্টা; – এইগুলোই হচ্ছে গেরুয়াধারী জাতীয়তাবাদীদের পছন্দসই কর্মসূচি। ব্যতিক্রমী নজির ছাড়া, এরা ‘একে মুখ্যু, তায় বদ’। যেখানে যতখানি সম্ভব, মুসলমান-বিরোধী ও দলিত-বিরোধী ঘৃণার চাষ চালাচ্ছে এরা। যদি তারা সমাজকে পিছন দিকে নিয়ে যাবার এই অবাঞ্ছিত কর্মসূচিতে সফল হয়, তবে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক বাংলা তথা ভারতবর্ষ পিছোতে পিছোতে কোন আদিম কালে ফিরে যাবে, কেউ জানে না! ঘৃণা ও হিংসার ক্লেদ সমাজকে গভীর অন্ধকারে নিয়ে গিয়ে ফেলবে।

প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগে, প্রাচীন বৈদিক যুগে, যে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিলো বর্তমান ‘ভারতবর্ষ’ নামের ভূখণ্ডে, জনগণ যদি সেই ‘সভা’, ‘সমিতি’, ‘গণ’ ইত্যাদির প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারে, তবে আধুনিক ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতাবাদী ও স্বৈরাচারী শক্তিগুলো পালানোর পথ পাবে না। ‘সনাতনী’ নিয়ে সবরকম বাচালতা ঘুঁচে যাবে তখন। তাই ইতিহাস-বিকৃতির কাজে তাদের এতো আগ্রহ। সাদাকে কালো, কালোকে সাদা প্রমাণ করার জন্য তারা এতো মরিয়া‌।

(দুই)

‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার পশ্চিমবাংলা আগেও দেখেছে। কংগ্রেসী আমলে, ১৯৪৭-১৯৬৭ বছরগুলোতে। ১৯৬৯-১৯৭৭ সময়ের অনেকটাও। তখন ইউনিয়ন ও পশ্চিমবাংলা, দুই সরকারেই ছিলো কংগ্রেস। আজকাল ‘শিল্প’ নিয়ে যে আদিখ্যেতা শুরু করেছে ‘বাম’-ডান নানা রাজনৈতিক দল, সেই ‘শিল্প’ কংগ্রেসী আমলে অনেক গড়ে উঠেছিলো। আজকালকার রাজনীতির পছন্দসই ভাষায় বলা যায়, ‘শিল্পের বিকাশ’ ঘটেছিলো! সেইসব শিল্পে কিছু মানুষের চাকরি হতো; ‘অনুসারী’ অর্থনৈতিক উদ্যোগ – চা-চপ-বেগুনি-ঘুগনির দোকান, বাদাম-ছোলা বিক্রির কাজ, কারখানার আশেপাশে রিক্সা চালানো ইত্যাদিও করতেন অনেকে। কিন্তু মূল যে কাজটা এইসব ‘শিল্পে’ হতো তাহলো, অবাঙালি (বিড়লা, টাটা, শ্রীরাম ইত্যাদি) মালিকের শত সহস্র কোটি টাকার মুনাফা। কিন্তু যাঁদের শ্রমের ফলে মালিকদের এই বিপুল লাভ হতো, বাংলার সেই শ্রমিকরা যদি কখনও মালিকের কোনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতেন, তাহলেই মালিকের পোষা গুণ্ডাদের আর মালিকের সেবাদাস সরকারের পুলিশ ঝাঁপিয়ে পড়তো শ্রমিকদের উপর। লাঠি, কাঁদানে গ্যাস, গুলি সবই চলতো প্রয়োজনমতো। কংগ্রেসী ‘ডবল ইঞ্জিন’ চলা সময়ে সারা পশ্চিমবাংলা জুড়ে, জেলের বাইরে ও ভিতরে, কতো হাজার কৃষক, শ্রমিক, নারী, ছাত্র-যুব, রাজনৈতিক কর্মী খুন হয়েছে সরকারি হামলায়, তার সঠিক হিসাব কোনোদিনই পাওয়া যাবে না।

কংগ্রেস আমল থেকে শুরু করে ‘বাম’ আমল কিম্বা তৃণমূল কংগ্রেস আমল, ‘ভোটে নির্বাচিত’ কোনও সরকার শোষক-অত্যাচারী একজন মালিকের টিকিও কখনও ছোঁয় নি‌। কিন্তু শোষণ-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গেলেই নেমে এসেছে সরকারি হামলা। মুনাফালোভী এই মালিকরা হাজার হাজার মাইল দূর থেকে এখানে সস্তা শ্রম-শোষণের তাগিদে আর প্রাকৃতিক সম্পদের লোভে এসেছিলো। এখানে ওখানে কয়েক হাজার মানুষের চাকরি হয়েছে বটে, কিন্তু বাংলায় কর্মক্ষম লক্ষকোটি মানুষের বেকারত্ব কোনোদিনই ঘোঁচে নি। শ্রমিকের উপোস বা আত্মহত্যা, কোনও ‘নির্বাচিত’ সরকারের বিবেকে এতটুকুও দাগ কাটে নি! মৌখিক ভাষণে অথবা কেতাবি লেখায় সরকারি মোড়লরা যতটা জনদরদী, কাজের বেলায় ঠিক ততটাই মালিকের দালাল। এমনকি লালঝাণ্ডার শাসনে, মালিকের বিরুদ্ধে অনশন-আন্দোলনরত শ্রমিকদের উপরেও বারবার পুলিশের বর্বর হামলা কলঙ্কিত ইতিহাস তৈরি করেছে! ঝাণ্ডার রঙের ফারাক কখনোই মালিকের দালালিতে ফারাক করতে পারে না‌। বর্তমানে নতুন করে সেই শোষক, বাংলায় বহু মৃত্যু আর অভাব-অনটনের জন্য দায়ী ও মুনাফালোভী, সেই পার্সি টাটা আর মাড়োয়ারি বিড়লাদের নতুন করে তোষামোদ শুরু করেছে বিজেপি সরকার। উদীয়মান গুজরাটি টাইকূন আদানি বাবুকেও জমি দিয়ে ডেকে আনা হচ্ছে এখানে। গেরুয়া ঝাণ্ডাধারী সরকার পশ্চিমবাংলায় এসেছে মাত্র পাঁচ মাস। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেই যা যা হুমকি শুনছি আর কাজ দেখছি, তাতেই মনে পড়ছে “মর্নিং শোজ দ্য ডে”! তবে বিজেপি শাসিত বিভিন্ন ‘স্টেট’-এর অভিজ্ঞতা বড়ো সাঙ্ঘাতিক। চুরি, জালিয়াতি, হত্যা, দাঙ্গা, গণহত্যার ইতিহাস আমাদের খুবই আতঙ্কিত করে।
বিজেপি শাসনাধীন গুজরাটে ২০০২ সালে মুসলমান গণহত্যার বর্বরতম ইতিহাস রচিত হয়েছে। বিশেষ তদন্ত দল, বিভিন্ন আদালত ও সুপ্রীম কোর্ট, মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী-কে অবশ্য ‘ক্লিন চিট’ দেয়! সেই সময়ে বিলকিস বানো-কে ধর্ষণ এবং তার পরিবারের ৭-জনকে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত ১১-জন ধর্ষককেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। কিন্তু ২০২২ সালের ১৫ অগস্ট তাদের মুক্তি দেয় গুজরাট সরকার। সাজাপ্রাপ্ত ১১-জনকে মালা পরিয়ে সংবর্ধনা দেয় ‘বিশ্ব হিন্দু পরিষদ’-এর সদস্যরা। অপরাধীদের মুক্তি দেবার এই সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে যান বিলকিস। সওয়াল-জবাব চলাকালীন, সুপ্রীম কোর্টে দাঁড়িয়ে ইউনিয়ন সরকারের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস.ভি. রাজু বলেন, “ধর্ষকদের তার ঘনিষ্ঠরা মালা পরাতেই পারে‌। তাতে সমস্যা কোথায়?” প্রবীণ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং বলেন, “কিভাবে মুক্তির পর দোষীদের মালা পরিয়ে, মিষ্টি খাইয়ে অভিনন্দন জানানো হয়েছিলো এবং বিজেপির তরফ থেকে দাবি করা হয়েছিলো আসামীরা ব্রাহ্মণ, তারা কোনও অপরাধ করতেই পারে না।” (‘পিপলস্ রিপোর্টার’-এ অনিন্দিতা মাইতির লেখা, ৯ অগস্ট ২০২৩ দেখুন।) ‘এই সময় অনলাইন’-এ ২২ অগস্ট ২০২২ তারিখে প্রশান্ত ভট্টাচার্য লিখেছিলেন, “বিলকিস: ধর্ষকদের মুক্তি স্বাধীনতার ৭৫ বছরের কলঙ্ক”।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উত্তরপ্রদেশে হাথরাস জেলার বুলগড়িতে, ১৯ বছর বয়সী এক দলিত রমনীকে ধর্ষণ করা হয় এবং তাঁর জিভ কেটে নেওয়া হয়। চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়। যে চারজন এই বীভৎস অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছিলো তারা সকলেই উচ্চবর্ণের ঠাকুর। “গণধর্ষণে অভিযুক্তদের সমর্থনে বড়সড় সভার আয়োজন করেন স্থানীয় বিজেপি নেতা রাজবীর সিং পেহেলবান। যিনি কিনা একটা সময়ে বিজেপির টিকিটে বিধায়কও হয়েছেন।” (‘সংবাদ প্রতিদিন’ ডিজিটাল ডেস্ক, ৪ অক্টোবর ২০২০ দেখুন।) ‘একজন’-ই দায়ী, এই বিচারে তিনজন ঠাকুরকেই মুক্তি দেওয়া হয়! (‘গণশক্তি’, ই-পেপার, ২ মার্চ ২০২৩)

কলকাতায় সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার ‘অভয়া’-র ধর্ষণ ও খুনের বিষয়ে বর্তমান বিজেপি সরকারের কাজকর্ম দেখে ও প্রতিশ্রুতি শুনে আমাদের আশঙ্কা হয়! রাস্তায় নেমে লাখো লাখো জনতার পবিত্র ক্রোধ যথাযথ মর্যাদা পাবে কী! শাসক-ডাক্তার-আমলা-পুলিশ যোগে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ষণেও ‘একজন’-ই দায়ী হয়ে থাকবে না তো! গুজরাটের বিলকিস বানো অথবা উত্তরপ্রদেশে হাথরাসের দলিত রমনী, কোনও ধর্ষণ কাণ্ডের বিরুদ্ধেই আমরা বিজেপি নেতাদের কথা বলতে শুনি নি। তাই আমাদের আশঙ্কা! এঁদের উপর চিকিৎসক ‘অভয়া’-র ধর্ষণ ও খুনের সুবিচার আশা করা যায় তো!

বিজেপি নেতা সুন্দরলাল পাটোয়া মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন (পরবর্তীকালের ছত্তিশগড়ে) শ্রমিকনেতা শংকর (ধীরেশ) গুহ নিয়োগীর নিষ্ঠুর হত্যা; উত্তরপ্রদেশে একের পর এক হত্যা ও দলিত নির্যাতনের ঘটনা; মধ্যপ্রদেশে ‘নকশালবিরোধী অভিযান’-এর নামে গ্রামে গ্রামে বর্বর হত্যালীলা ও সাধারণ গ্রামবাসীদের উপর অত্যাচার; – সন্দেহ নেই, পশ্চিমবাংলার প্রতিবাদী অধিবাসীদের আতঙ্কিত করে।
আমাদের আশঙ্কা, ‘সোনার বাংলা’-র প্রতিশ্রুতি কী দাঁড়াবে শেষপর্যন্ত, তাই নিয়ে!

PrevPreviousনেপালে চিকিৎসা ত্রাণে ২
Nextশামীম আহমেদের উপর হামলার অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতার চাই।Next
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট

শংকর গুহ নিয়োগী ও ছত্তিশগড় মুক্তি মোর্চার আন্দোলন নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণের সংগ্রাম

October 7, 2026 No Comments

৫ অক্টোবর ২০২৬ ফেসবুক লাইভে আলোচিত।

২০২৬-এ চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার অপ্টোজেনেটিক্স আবিষ্কার ও তজ্জনিত গবেষণার জন্য।

October 7, 2026 No Comments

অত্যাধুনিক যন্ত্র বা রোবটের ক্রিয়াকলাপের দুটো অংশ থাকে। সেনসর আর অ্যাকচুয়েটর। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির খবর আসে সেনসরের মাধ্যমে – আর যন্ত্র সেই খবর অনুযায়ী কাজ করে

স্বাস্থ্যব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, গণতন্ত্র ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হোক।

October 7, 2026 No Comments

লাল জামা, Shining টাক, Threat Culture নিপাত যাক’ অভয়া আন্দোলনের অন্যতম বহুল ব্যবহৃত স্লোগান হয়ে উঠেছিল এইটা, এর কেন্দ্রে ছিল কুখ্যাত থ্রেট সিন্ডিকেট এর অন্যতম

বিচার চাওয়া কোনো অপরাধ নয়

October 6, 2026 No Comments

আমরা কেন গিয়ে অনুনয় করব – “আমাদের মামলা তুলে নিন”? প্রথমেই একটা কথা পরিষ্কার করে বলা দরকার। অভয়ার ন্যায়বিচারের আন্দোলনে আমরা যে ক্ষুদ্র অংশটুকু নিতে

শামীম আহমেদের উপর হামলার অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতার চাই।

October 6, 2026 No Comments

কলকাতা হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মী শামীম আহমেদের উপর বিজেপি-আরএসএস গুন্ডাদের আক্রমণের তীব্র ধিক্কার জানাই। রাজ্যজুড়ে শাসকদলের গুন্ডারাজ ও ফ্যাসিবাদী কায়দায় হামলার বিরুদ্ধে

সাম্প্রতিক পোস্ট

শংকর গুহ নিয়োগী ও ছত্তিশগড় মুক্তি মোর্চার আন্দোলন নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণের সংগ্রাম

Doctors' Dialogue October 7, 2026

২০২৬-এ চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার অপ্টোজেনেটিক্স আবিষ্কার ও তজ্জনিত গবেষণার জন্য।

Dr. Bishan Basu October 7, 2026

স্বাস্থ্যব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, গণতন্ত্র ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হোক।

West Bengal Junior Doctors Front October 7, 2026

বিচার চাওয়া কোনো অপরাধ নয়

West Bengal Doctors Forum October 6, 2026

শামীম আহমেদের উপর হামলার অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতার চাই।

West Bengal Junior Doctors Front October 6, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

686529
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]